যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার বর্ষপূর্তি আজ, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটনে সর্বোচ্চ সতর্কতা
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে আজ পালিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলার দশম বার্ষিকী। তবে নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। ওদিকে আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের উত্তরসূরি আয়মান আল জাওয়াহিরি (৬০) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আমি আমার মতো করে একটি ৯/১১ পরিস্থিতির জন্ম দিতে চাই। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র এক কর্মকর্তা জেনিস ফেডারিক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোন তারিখ বা বার্ষিকীতে আল কায়েদা সক্রিয় হয়ে উঠে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এটা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, নতুন হামলা পরিচালনার ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন সান জানিয়েছে, জাওয়াহিরি আমেরিকাতে আবারও একই ধাঁচে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা। আর সে কারণেই এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী এক দশক আগে ৯/১১-এর এই দিনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩ হাজার মানুষের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সবাই যখন নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভেনিয়ায় জড়ো হবেন। তখনই ভয়াবহ হামলা চালানো হতে পারে। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, শক্তিশালী বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ বা টানেল উড়িয়ে দেয়া হতে পারে। ওদিকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সন্দেহভাজন ৩ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালাচ্ছে। এদের মধ্যে একজন মার্কিনিও রয়েছে। সমপ্রতি তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। ট্রেনগুলোতেও নেয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা। অবৈধভাবে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা গাড়িগুলোকেও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বলেছেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় আমরা সবচেয়ে ভালো যে কাজটি করতে পারি, তা হলো আতঙ্কিত হয়ে না পড়া। তিনি আরও বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ৯/১১-এর দশম বার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। মানবজমিন
শহীদুল ইসলাম: নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যান-হাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার টুইন টাওয়ারে হামলার দশম বার্ষিকীতে এসে আবারো সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার হামলার হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র। এবার আকাশপথে নয়, সড়কপথে হামলার হুমকি দিয়েছে ঐ সংগঠন। তাদের লক্ষ্য যুক্ত-রাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ও বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক। আর এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসন।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে এই হামলার হুমকি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে খবর রয়েছে, ইতিমধ্যে আল-কায়েদার তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী মার্কিন মুল্লুকে ঢুকে পড়েছে এবং তারা বিভিন্নস্থানে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
দশম বার্ষিকীতে আল-কায়েদার হামলার হুমকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর এই নিরাপত্তা জোরদার করতে গিয়ে শুক্রবার সারাদিন প্রায় অচল (লক ডাউন) হয়ে পড়েছিল নিউইয়র্ক সিটির জীবনযাত্রা। ব্যস্ততম ম্যানহাটন পরিণত হয়েছিল যেন এক অবরুদ্ধ নগরীতে। সকাল থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা চিরুনি অভিযান চালিয়েছে নগরীতে। প্রায় প্রতিটি যানবাহনে তল্লাশি চালায় তারা। নিউইয়র্কের পাতাল রেলেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। গণতল্লাশি করা হয় যাত্রীদের তল্পিতল্পা। পুলিশের চেকপোস্ট কার্যক্রমে পাল্টে যায় নিউইয়র্ক সিটির দৃশ্যপট। অধিকাংশ সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট যা কোথাও কোথাও নজিরবিহীন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আত্মঘাতি সন্ত্রাসীরা বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের দ্বারা হামলা চালিয়ে বিশ্বের রাজধানী নিউইয়র্কের সুউচ্চ অট্টালিকা টুইন টাওয়ারকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সন্ত্রাসী হামলায় ১১ জন বাংলাদেশীসহ ৯৬টি দেশের প্রায় ৩ হাজার লোক প্রাণ হারায়।
আজ গ্রাউন্ড জিরোর সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারো মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে চলেছে এর নির্মাণকাজ। সেখানে নাইন ইলেভেনে নিহতদের স্মরণে নির্মাণ করা হচ্ছে স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর। প্রতিদিনই সেখানে আসছে বিম, কলাম, পাইপ ও কনক্রিটের নানা নির্মাণসামগ্রী। এই নির্মাণকাজে অংশ নিচ্ছে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক, যারা ছুটির দিনগুলোতেও কাজ করছেন। নিমার্ণ শ্রমিকের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।
নিউইয়র্কে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও এখন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে এই গ্রাউন্ড জিরো। দু’বছর আগেও গ্রাউন্ড জিরোতে ৮ একর এলাকাজুড়ে নির্মীয়মাণ স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের বিষয়টি ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ, যারা এই ট্রেড সেন্টারের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। দশম বার্ষিকীতে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পরদিন থেকে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা। যে স্থানে টুইন টাওয়ার ছিল সেখানে ‘গ্রেট স্কয়ার’ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্রিডম টাওয়ার’ নামে ১০৫তলা বিশিষ্ট নিউইয়র্কের সুউচ্চ ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ২, ৩, ৪ ও ৭ নামে আরো চারটি ভবনের ভিত্তি নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। একটি বিশাল জলপ্রপাত তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে, যা হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কৃত্রিম ঝর্ণা। এছাড়া ১৬টি সাদা ওক গাছ রোপণ করা হয়েছে প্লাজার চারদিকে। সেখানে আরো চারশ’ গাছ লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। নাইন ইলেভেনের হামলায় নিহত ২ হাজার ৯৮২ জনের নামসম্বলিত স্মৃতিফলক নির্মাণের কাজ দেয়া হয়েছে নিউজার্সির একজন ব্রোঞ্জ শিল্পীকে।
১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবছরের মত এবারো যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা হবে টুইন টাওয়ার হামলায় নিহতদের। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দশম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে আল-কায়েদা হামলার হুমকির মুখে প্রেসিডেন্ট ওবামার এই কর্মসূচি বাতিল হতে পারে।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








