Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে কাল থেকে শুরু মাহে রমজান

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 96 বার

প্রকাশিত: June 28, 2014 | 9:12 PM

যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ জুন রোববার থেকে রোজা শুরু হবে। এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র। আজ থেকে  ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবির নামাজ আদায় শুরু করবেন এবং রাতে সেহ্‌রি খাবেন নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে ইফতারের বিশেষ আয়োজন পরিলক্ষিত হচ্ছে ঘরে ঘরে। একইভাবে মসজিদগুলোতে তারাবি এবং ইফতারি বিতরণের প্রস্তুতিও চলছে ব্যাপকভাবে।

এদিকে, বাংলাদেশের আকাশে গতকাল পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে হিসাবে আগামীকাল থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু হবে। আজ থেকে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবির নামাজ আদায় শুরু করবেন এবং রাতে সেহ্‌রি খাবেন। গতকাল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ওদিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে আজ থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। তবে দিন-রাতের সময়ের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একদিন পর চান্দ্র মাস গণনা শুরু হয়। সে হিসাবে মুসলমানদের বৃহৎ দুই উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর হয়ে থাকে।

রোজায় চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তি
 
অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

রোগী কোন অবস্থায় রোজা রাখতে পারবেন, কখন পারবেন না এ বিষয়ে ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা থাকলেও অসুস্থ অবস্থায় যারা রোজা রাখতে চান তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ প্রয়োগ নিয়ে অনেকের মাঝেই নানা রকম বিভ্রান্তি রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় অনেকেই রোজা রাখতে আগ্রহী হন কিন্তু ওষুধ গ্রহণ বিষয়ে সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে অনেকেই রোজা রাখতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হন। আবার এমন রোগীও আছেন যারা বলেন, যা হওয়ার হবে, তবুও রোজা ছাড়ব না। এ নিয়ে ডাক্তাররাও অনেক সময় অসুবিধায় পড়েন। 

রোজা থাকাকালীন কোনটি উচিত, কোনটি অনুচিত তা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেন না। এ সব বিভ্রান্তি দূর করার জন্য ১৯৯৭ সালের জুন মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত নবম ফিকাহ-চিকিৎসা সম্মেলন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সম্মেলনে জেদ্দা ইসলামিক ফিকাহ একাডেমি, আল আজহার ইউনিভার্সিটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আলেকজান্দ্রিয়া, মিসর এবং ইসলামিক শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (আইএসইএসসিও) প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয় ছিল- রোজা অবস্থায় যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ প্রয়োগে রোজা নষ্ট হবে না সে বিষয়ে একটা সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া।  

এ লক্ষ্যে ইসলামিক চিন্তাবিদরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও গবেষণা করে রোজা অবস্থায় ওষুধ প্রয়োগ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে সুচিন্তিত তথ্য উপস্থাপন করেন যা ২০০৪ সালে বিখ্যাত ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে (বিএমজে) বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় যেসব ওষুধ গ্রহণে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না বলে মত দেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরা হলো- * রোজা অবস্থায় চোখ, নাক ও কানের ড্রপ, স্প্রে, ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে। হার্টের এনজাইনার সমস্যার জন্য বুক ব্যথা উঠলে ব্যবহৃত নাইট্রোগি্লসারিন ট্যাবলেট বা স্প্রে জিহ্বার নিচে ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। * শিরাপথে খাদ্য উপাদান ছাড়া কোনো ওষুধ ত্বক, মাংসপেশি, হাড়ের জোড়ায় ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রোজা রাখা অবস্থায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ জাতীয় কোনো তরল শিরাপথে গ্রহণ করা যাবে না। 

* চিকিৎসার প্রয়োজনে রোজা রেখে অক্সিজেন কিংবা চেতনা নাশক গ্যাস গ্রহণে রোজা নষ্ট হবে না। এছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার ইত্যাদি ব্যবহার করলে এবং এসব উপাদান ত্বকের গভীরে প্রবেশ করলেও রোজার কোনো সমস্যা হবে না। * রোজা রেখে দাঁত পরিষ্কারের সময় অসাবধানতাবশত কোনো কিছু গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হবে না। রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে এবং কাউকে রক্ত দানেও কোনো বাধা নেই। একই সঙ্গে রক্ত গ্রহণ করতেও বাধা নেই রোজা রেখে। * রোজা রেখে চিকিৎসার জন্য যোনিপথে ট্যাবলেট কিংবা পায়ুপথে সাপোজিটরি ব্যবহারে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যোনিপথ কিংবা পায়ুপথে চিকিৎসক বা ধাত্রী আঙ্গুল প্রবেশ করালেও রোজা নষ্ট হবে না। এছাড়া রোজা রেখে জরায়ু পরীক্ষার জন্য হিস্টোরোস্কোপি এবং আইইউসিডি ব্যবহার করা যাবে। * হার্ট কিংবা অন্য কোনো অঙ্গের এনজিওগ্রাফি করার জন্য কোনো রোগ নির্ণয়ক দ্রবণ শরীরে প্রবেশ করানো হয় তাতেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। একইভাবে কোনো অঙ্গের অভ্যন্তরীণ চিত্রধারণের জন্য সেই অঙ্গের প্রবেশ পথে কোনো ক্যাথেটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তরল রঞ্জক প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হবে না। * এন্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করলেও রোজা নষ্ট হয় না। এন্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করার সময় ভিতরে তরল কিংবা অন্য কিছু প্রবেশ করানো যাবে না যার খাদ্যগুণ রয়েছে। 

লেখক : ডিন, মেডিসিন ফ্যাকাল্টি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV