যে ফোনকলের সূত্র ধরে ওসামাকে হত্যা করা হয়

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: আবু আহমেদ আল কুয়েতি ছদ্মনামধারীর ফোনকলের সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন বিরোধী অভিযান চালায়। সেই ফোনকলে কি ছিল। কি কথোপকথন হয়েছিল, তারই একটি চিত্র গতকাল ফুটিয়ে তুলেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এতে ‘ডেথ অব ওসামা বিন লাদেন : ফোন কল পয়েন্টেড ইউএস টু কম্পাউন্ড- অ্যান্ড টু দ্য পেসার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি লিখেছেন বব উডওয়ার্থ। তিনি লিখেছেন, গত বছরে আবু আহমেদ আল-কুয়েতি নামের এক ছদ্মনামী পাকিস্তানির ফোন কল শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। আবু আহমেদকে পুরনো এক বন্ধু ফোন করেছিলেন। তাতে তিনি আবু আহমেদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- তুমি কোথায়? আমরা তোমাকে খুব মিস করছি। তোমার দিনকাল কেমন যাচ্ছে? এখন তুমি কি করছো? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই ধরা পড়লেন আবু আহমেদ। তার জবাবটা ছিল অস্পষ্ট। তিনি বললেন- আগে যাদের সঙ্গে ছিলাম, তাদের কাছেই ফিরে এসেছি আমি। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দেয়া হয়। যেন বন্ধুকে বোঝাতে চাইছিলেন- তিনি ওসামা বিন লাদেনের দলে আবার ফিরে গিয়েছেন। বন্ধুটির জবাব এলো- খোদা সহায় হোন। তাদের কথোপকথনের সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বুঝতে পারে, এক দশক ধরে যাকে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হচ্ছে সেই ওসামাকে ধরার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা। এর তদন্ত করেই গোয়েন্দারা পাকিস্তানের রাজধানী থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে আবোতাবাদে ওসামার গোপন আস্তানায় পৌঁছে যায়, যেখানে গত ১লা মে রাতে অভিযানে নিহত হন আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা। ওদিকে বিডি নিউজ জানায়, আবু আল কুয়েতিকে যেহেতু ওসামার বার্তা বাহক হিসেবে মনে করা হতো, তাই তাকে অনুসরণ করে আবোতাবাদের ওই ভবন শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। তবে ওসামা আদতে সেখানে ছিলেন কি না, তা অভিযানের সময়ও পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তিন তলাবিশিষ্ট ওই ভবনে কোন টেলিফোন অথবা ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। ফলে ফোন কল ট্রেস বা ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে কোন তথ্য পাওয়ার সুযোগ ছিল না। গোয়েন্দারা আরও হতভম্ব হয় যখন দেখতে পায়, কুয়েতি বা অন্য কেউ মোবাইল থেকে একটি ফোন কল করার জন্য বাড়ি থেকে অন্তত ৯০ মিনিটের পথ গাড়ি করে যায়। তারপর সেটে ব্যাটারি ঢুকিয়ে তবেই ফোন করে। ভবনটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী গোয়েন্দাদেরও নজরের বাইরে রাখতে এ কাজ করতো তারা। গোয়েন্দা সংস্থা স্যাটেলাইট ছবি পর্যবেক্ষণ করে একজনকে দেখতে পায়, যিনি প্রাঙ্গণের উঠানে এক থেকে দুই ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করেন। ছবিতে তার মুখাবয়ব স্পষ্ট ছিল না, তাকে পেসার বলে ডাকতো গোয়েন্দারা। এই পেসার কখনোই বাড়ির বাইরে আসতেন না। তার জীবনাচারণ দেখে তাকে বন্দি মানুষের মতোই মনে হতো গোয়েন্দাদের কাছে। ওসামা বিন লাদেনের উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি বলে জানতো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। পেসারের উচ্চতাও ছিল সে রকমই। এত সবের পরই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন অভিযানের। তবে তখনো তারা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না, তারা ওসামাকেই ওই ভবনে পাচ্ছেন কি না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরাসরি গোয়েন্দা পাঠানোও ঝুঁকি মনে হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৈঠকে বসেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে। কি ধরনের অভিযান হবে, তা ঠিক করতে পারছিলেন না তারা। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তাবও ওঠে, কিন্তু পরে নাকচ হয় তা। কারণ তাতে কে নিহত হলেন, ভস্ম হয়ে তার পরিচয়ও অজানা থেকে যেতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, বৈঠকে মোটামুটি ৬০ থেকে ৮০ ভাগ নিশ্চিত হন যে, ওই ভবনেই ওসামা রয়েছেন। তার পরই ঠিক হয়, অভিযান হবে। সায় পাওয়া যায় প্রেসিডেন্ট ওবামারও। সিআইএ প্রধান লিও প্যানেট্রা নকশায় ভবনটির স্থানে আঙুল রেখে বললেন- এখান থেকেই ওসামা বিন লাদেন অনুসন্ধানের কাহিনীচিত্র শুরু করছি আমরা। শুরু হয় অভিযান, মারা পড়েন ওসামা বিন লাদেন। আর পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে সহযোগীদের নিয়ে দেখেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








