Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল : ক্রিকেট-বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 36 বার

প্রকাশিত: March 22, 2012 | 6:05 PM

সাকিবকে জড়িয়ে কাঁদছেন অধিনায়ক মুশফিক ছবি: শাহীন কাওসার

তালহা বিন নজরুল: কাঁদলো মুশফিক, কাঁদলো দেশ। দুর্দান্ত লড়াই করেও স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশের। গোটা দেশকে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় কাঁপিয়ে তোলা ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ। হাতের মুঠো থেকে ফসকে গেল ইতিহাস। প্রথম কোন বড় ধরনের ফাইনালে জয় হলো না বাংলাদেশের। গোটা দেশ যখন আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছিল তখনই হরিষে বিষাদ। চোখের জলে শেষ হলো স্বপ্ন। শেষ বলটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙে পড়েন লড়াকু খেলোয়াড়েরা। সাকিবকে জড়িয়ে শিশুর মতো কাঁদতে থাকেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে বাধ্য হলো বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর দল। ১৬ কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে বাংলাদেশ থেকে কাপ নিয়ে গেল পাকিস্তান। ২০০০ সালে বাংলাদেশ থেকেই প্রথম এশিয়া  কাপ জয় করেছিল পাকিস্তান। মাত্র দু’টি রানের আক্ষেপে পুড়তে হলো বাংলাদেশকে। অসাধারণ লড়াই করেও হার মানতে হলো স্বাগতিকদের। রুদ্ধশ্বাস লড়াই। মাঠজুড়ে পিনপতন নীরবতা। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান। ক্রিজে তখন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও রাজ্জাক। পেশাদারিত্বে অনেক এগিয়ে থাকা পাকিস্তানও তখন কাঁপছে। মিসবাহ বল তুলে দেন পেসার আইজাজ চিমার হাতে।  প্রথম ৬ ওভারে ৪২ রান দেয়া চিমা অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন। তিনি খুব ধীরে বুদ্ধি খাটিয়ে আটকে রাখেন রিয়াদ ও রাজ্জাককে। প্রথম তিন বলে দেন ২ রান। চতুর্থ বলে মিস ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ রান পেয়ে যায় তিনটি। টার্গেট চলে আসে দুই বলে চার। মোটেও অর্জনদুরূহ নয়। কিন্তু পঞ্চম বলে রাজ্জাককে বোল্ড করে দেন চিমা। শেষ বলে চারের মধ্যে এক রান নিতে সক্ষম হন শাহাদাত। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের শেষ ওভারে দেয়া শাহাদাতের ১৯ রানই সবাইকে পুড়িয়ে মারে। পাকিস্তানের ২৩৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ তোলে ৮ উইকেটে ২৩৪ রান। এত কম ব্যবধানে বাংলাদেশ এই প্রথম কোন ম্যাচ হারলো। টাইট বোলিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরা হন আফ্রিদি। আর ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন সাকিব আল হাসান। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় আফ্রিদি ও মিসবাহ দু’জনই বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ যেন নতুন এক বাংলাদেশ। ২৩৭ রানের টার্গেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শুরু করেন দারুণভাবে। পাকিস্তানের স্কোরকে এমনভাবে তাড়া শুরু করেন যে মনে হয় ৩০-৩৫ ওভারে খেলা শেষ করার টার্গেট তাদের। বিশেষ করে আগের ম্যাচগুলোতে সংযত ব্যাটিং করা ওপেনার তামিম ইকবাল আবির্ভূত হন স্বমূর্তিতে। পাকিস্তানের বিশ্বসেরা বোলারদের তুলাধুনা করতে থাকেন তিনি। বিশেষ করে পেসার উমর গুলকে। যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসীই মনে হচ্ছিল তামিমকে।  অন্যান্য দল শুরুতে দু’দিক থেকে পেস আক্রমণ চালালেও পাকিস্তান কালও বোলিং ওপেন করান স্পিনার মোহাম্মদ হাফিজকে দিয়ে। হাফিজও তার ওপর আস্থার প্রতিদান দেন ভালভাবেই। অপর প্রান্তে হাত গুটিয়ে থাকেন আগের দু’ম্যাচে ব্যর্থ ওপেনার নাজিমুদ্দিন। অষ্টম ওভারেই পাকিস্তান সাঈদ আজমলকে এনে দু’দিক থেকে স্পিন আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে সফলতাও পান তারা, রানের চাকা গতি হারাতে থাকে। একাদশ ওভারে মিসবাহ বল তুলে দেন আফ্রিদির হাতে। স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় পাকিস্তান। তামিম-নাজিম দু’জনই ব্যাটে করতে পারছিলেন না। টি-২০ খেলোয়াড়খ্যাত নাজিম অস্বাভাবিক ধীরে খেলতে থাকেন। ৫০ বলে রান তোলেন ১৫। অবশ্য চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারছিলেন না।  তার অধৈর্যের সুবিধা নিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পায় পাকিস্তান।  লেগ স্পিনার আফ্রিদির বল তুলে মারতে গিয়ে আউট হন নাজিম। ৫২ বলে ১৬ রান করেন তিনি। তারপরও ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়তে তার অবদান প্রশংসা পেতেই পারে। তার আউটের পর জহুরুল ইসলাম ৫ বলে কোন রান পাওয়ার আগেই সাঈদ আজমলের শিকার হন। ৮১ রানের মাথায় তামিম বিদায় নেন উমর গুলের বলে। তবে বিদায়ের আগে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার ম্যাচে ফিফটি উপহার দেন। মজার ব্যাপার, প্রথম তিন উইকেটের পতনে ক্যাচ লুফেন বয়সী ক্রিকেটার ইউনুস খান। ৬৮ বলে ৬০ রান করার পথে ৮টি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি। তামিমের বিদায়ের পর নাসির ও সাকিব হাল ধরেন। খুব ধীরে উইকেট আগলে তারা পাকিস্তানের স্পিনারদের মোকাবিলা করতে থাকেন। এদের এই টিকে থাকার স্ট্র্যাটেজি বাংলাদেশকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। বলের চেয়ে রান অনেক বেশি থাকলেও বাংলাদেশ শিবিরে সমুজ্জ্বল থাকে আশা। প্রায় ২০ ওভারে এ জুটি রান তোলে মাত্র ৮৯। নাসির স্বভাববিরুদ্ধ খেলে আউট হওয়ার আগে ২৮ রান করেন ৬৩ বলে। তার ইনিংসে সীমানা পার করা মার মাত্র একটি। অপর প্রান্তে সাকিব তার দায়িত্ব পালন করে যান ঠিকমতোই। তিনি এত চাপের মধ্যেও তার অর্ধশতক আদায় করে দলকে কক্ষপথেই রাখেন। ৭২ বলে ৬৮ রান করার পথে বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটিও হাঁকান তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রানের চাপ কমাতে টেইলএন্ডাররা খেই হারিয়ে ফেলেন। ফলে  তীরে এসে ডুবে যায় তরী।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শুরু থেকেই। দেহের ভাষাই বলে দিচ্ছিল কিছু করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বোলাররা ছিলেন উজ্জীবিত। মাশরাফি-নাজমুলের পেস আর সাকিব-রাজ্জাকের স্পিন বলে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফলতা পেয়ে যান বোলাররা। ১০০ রান ওঠার আগেই তাদের চার উইকেটের পতন ঘটে। জহুরুলের একটি ক্যাচ মিস ও শাহাদাতের খরুচে বোলিং বাদ দিলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। খর্ব শক্তির দুর্বল দল হিসেবে নয় বাংলাদশ খেলেছে সমান শক্তির দল হিসেবেই। মুশফিকের অধিনায়কত্বও প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্ববরেণ্য ধারাভাষ্যকারদের। বিশেষ করে ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার বারবার তার ফিল্ড সাজানোর প্রশংসা করেন। প্রথমে আঘাত হানেন মাশরাফি। প্রথম ওভারে নাসির জামশেদের কাছে দু’টি চারের মার হজমের পর তার উইকেটটিই নেন তিনি। এরপর নাজমুল বিদায় করেন অভিজ্ঞ ইউনুস খানকে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে পাকিস্তানের। ৭০ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর উমর আকমল ও হাম্মাদ আজম থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জুটিটিকে সাকিব আল হাসান স্থায়ী হতে দেননি। বল খেলতে না পেরে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন হাম্মাদ। উঁচিয়ে মারতে গিয়ে বল তুলে দেন উপরে। সাকিব নিজেই ক্যাচটি লুফে নেন। জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ৫৯ রানে। পরের ওভারেই উমর আকমলকে বিদায় করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। স্কোর তখন ৬ উইকেটে ১৩৩। এরপর শহিদ আফ্রিদি  এসে বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন। মাত্র ২২ বলে ৩২ রান তুলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বোলারদের মনে। কিন্তু স্পিনারের বদলা স্পিনারই নেন। আফ্রিদির উইকেটটিও তুলে নেন সাকিব। ৭ম উইকেট পড়ে ১৭৮ রানে। অপর প্রান্তে থাকা উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদ লড়াই চালিয়ে পাকিস্তানের স্কোর খানিকটা সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যান। এর মধ্যে শেষ ওভারে শাহাদাতকে বল করতে দেয়ার মাশুল দেয় বাংলাদেশ। দু’টি নো বলসহ ওই ওভারে পাকিস্তান রান পায় ১৯টি। শাহাদাত ছাড়া সব বোলারই উইকেট পান- দু’টি করে সাকিব, রাজ্জাক ও মাশরাফি আর ১টি করে নাজমুল ও মাহমুদ। সেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন ম্যাচে পাকিস্তানের কেউ অর্ধশতক রান করতে ব্যর্থ হন। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ