রোজা ছিল সব ধর্মে ও যুগে
জহির উদ্দিন বাবর : সৃষ্টির প্রায় শুরু থেকেই নানা ধর্মে ও জাতিগোষ্ঠীতে রোজার প্রচলন আছে। রোজা যে শুধু আমাদের ওপরই ফরজ করা হয়নি সে কথা আল্লাহতায়ালা কোরআনেও বলেছেন। হজরত আদমের (আ.) যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার বিধান ছিল। হজরত নুহের (আ.) শরিয়তেও প্রতি মাসে তিনটি রোজা ফরজ ছিল। হজরত মুসা (আ.) জিলকদ ও জিলহজ মাসে ১০ দিন রোজা পালন করে আল্লাহর দরবারে হাজির হন এবং তাওরাত লাভ করেন। তার শরিয়তেও রোজার সন্ধান পাওয়া যায়। হজরত দাউদ (আ.) একদিন পর একদিন রোজা রাখতেন। হাদিসে আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে যে রোজা উত্তম সেই রোজা রাখো, আর সে রোজা হলো দাউদ (আ.) যে রোজা রেখেছেন। হজরত দানিয়েল (আ.) একাধারে এক সপ্তাহ পর্যন্ত রোজা রেখেছেন। হজরত ইলিয়াস (আ.) একাধারে ৪০ দিন পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। হজরত মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে কোরআন শরিফে আছে, তিনি বলেন_ ‘আমি আল্লাহর জন্য রোজার নিয়ত করেছি।’ এভাবে প্রত্যেক নবীর শরিয়তেই রোজার প্রচলন ছিল। অন্যান্য ধর্মেও রোজার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইহুদিদের সপ্তম মাসের ১০ তারিখে কাফফারার রোজা রাখা ওয়াজিব ছিল। প্রাচীন খ্রিস্টানরাও সেই রোজা রাখতেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। খ্রিস্টান পাদ্রিরা স্বতন্ত্রভাবেও রোজা রাখতেন। প্রাচীন চীনা সম্প্রদায় একাধারে কয়েক সপ্তাহ রোজা রাখতেন। তবে সবার রোজার প্রকৃতি ও ধরন এক ছিল না। যেমন হজরত মরিয়ম (আ.) যে রোজা রেখেছিলেন বলে জানা যায় তা ছিল লোকদের সঙ্গে কথা না বলার রোজা। পারসিক ও হিন্দু যোগীরা রোজা রেখে মাছ-গোশত, তরি-তরকারি ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন বটে; কিন্তু ফলমূল এবং কিছু কিছু পানীয় অনায়াসে গ্রহণ করতেন। রোজার বিধানের ক্ষেত্রে ইসলামের বৈশিষ্ট্য স্বতন্ত্র। ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম হিসেবে ইসলামে দীর্ঘ সময় একাধারে রোজা রাখা যেমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্রতি বছর একাধারে এক মাস রোজা রাখার বিধান উম্মতে মোহাম্মদীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। তবে ইসলামে এক মাস রোজা ফরজ হওয়ার আগে রোজা কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করেছে। ইসলামে রোজার বিধান আসার আগে মহররমের ১০ তারিখে আশুরার দিন রোজা ফরজ ছিল। রাসূল (সা.) হিজরত করে মদিনায় আসার পর প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখতেন। সেই সঙ্গে আশুরার রোজাও পালন করতেন। এরপর রোজা ফরজ করা হয়। রোজা ফরজ হয় দ্বিতীয় হিজরিতে। রমজানের রোজা ফরজ করা হলে প্রথম দিকে মুসলমানদের সুযোগ দেওয়া হয়, যার ইচ্ছা রাখবে, যার ইচ্ছা ফিদিয়া বা রোজার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ সদকা দেবে; কিন্তু এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যারা গরিব শুধু তারাই রোজা রাখেন আর যাদের সম্পদ আছে তারা ফিদিয়া দিয়ে দেন। এতে রোজার আদেশের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা দেয় এবং উদ্দেশ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে আল্লাহতায়ালা আয়াত অবতীর্ণ করেন, যারা রমজান মাস পায় তারা অবশ্যই রোজা রাখবে। এ আদেশে মুসাফির ও পীড়িত নয় এমন প্রত্যেক নর-নারীর ওপর রোজা পালন আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। তবে যারা চরম বার্ধক্যে উপনীত তাদের প্রতি রোজার বদলে ফিদিয়া দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে রমজানের রোজা ফরজ হয়। এতে মহান প্রভুর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়। ইসলামের রোজার বিধান সর্বজনীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অন্যান্য ধর্মে ও শরিয়তে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর ওপর খ িতভাবে রোজার বিধান চালু করেছে সে ক্ষেত্রে একমাত্র ইসলামই রোজাকে সবার মুক্তির ধাপ হিসেবে নির্ণয় করেছে। এ জন্য প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো, রোজা দ্বারা আল্লাহর সানি্নধ্যলাভে ধন্য হওয়ার চেষ্টা করা। সমকাল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








