লন্ডন অলিম্পিক : শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের
ইলিয়াস খান, লন্ডন থেকে : এবার লন্ডন অলিম্পিকের শুরু থেকেই পদক তালিকায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই নজর ছিল সবার। শীর্ষস্থান নিয়ে দেশ দুটি শুরু থেকেই লড়াই করে যাচ্ছিল। চীন কী পারবে বেইজিং অলিম্পিকের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে? আর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ছিল বিপরীত প্রশ্নটি। চীনকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র কী তাদের হারানো মুকুট ফিরে পাবে? এ দুই প্রশ্নে বিভাজন হয়ে যায় সারা বিশ্বের অগণিত ক্রীড়ামোদী। এ দুই প্রশ্নের মধ্যে দ্বিতীয়টিই সত্যি হলো। চীনকে পেছনে ফেলে অলিম্পিক শ্রেষ্ঠত্বের হারানো গৌরব ফিরে পেল বারাক ওবামার দেশ। এবার নিয়ে ১৬ বার অলিম্পিকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র। অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘শো’ নতুন কিছু নয়। সেই ১৮৯৬ সালে অ্যাথেন্স অলিম্পিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাঝখানে ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করলেও অলিম্পিকে দেশটির আধিপত্য কমাতে পারেনি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বলতে গেলে অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অবশ্য গত বেইজিং অলিম্পিকে মেডেল তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করে চমক দেখায় চীন। বেইজিং অলিম্পিকে ৫১টি স্বর্ণ, ২১টি রুপা এবং ২৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে পদক তালিকার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয় স্বাগতিক চীন। এবারের অলিম্পিকেও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে কথা বলেনি চীন। লন্ডন অলিম্পিকের পর্দা ওঠার পর থেকেই পদক তালিকায় শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। নিজেদের দেশে অলিম্পিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান পাওয়ার পর চীনারা লন্ডনে এসেও সাম্রাজ্য ধরে রাখতে প্রথম থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আজ রোববার আনুষ্ঠানিক পর্দা নামবে লন্ডন অলিম্পিকের। গত রাতই শেষ হয়েছে পদকের লড়াই। গত ২৭ জুলাই থেকে আসর শুরু হওয়ার পর মাঝখানে একদিন বাদে প্রতিটি দিনই পদক তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখে চীনা অ্যাথলেটরা। বুধবার সারাদিন এবং বৃহস্পতিবার দিনের বেশিরভাগ সময় পর্যন্তও অবস্থানটা ধরে রেখেছিল চীন। পদকের লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই হলো অঘটন। একের পর এক স্বর্ণ জিতে চীনকে টপকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।/// দেশটির গোল্ড মেডেলের সংখ্যা ৪১টি স্বর্ণসহ ৯৪টি।///আর চীনের মেডেল সংখ্যা ৩৭টি স্বর্ণসহ ৮২টি। গতরাতে ৪টি ইভেন্টে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বেশ ক’জন অ্যাথলেট স্বর্ণ জয়ের জন্য লড়েছে। এগুলোতে চীন স্বর্ণ পেলেও মোট মেডেলের হিসাবের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে ব্যবধান আছে তা ঘোচাতে যথেষ্ট হবে না। আর যুক্তরাষ্ট্র পদক পেলে তো তারা আরও এগিয়ে যাবে। তৃতীয় কোনো দেশ পদক পেলে দেশ দুটির মধ্যে স্বর্ণের ব্যবধান থেকেই যাবে। যার মানে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত লন্ডন অলিম্পিকে সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারার কোনো সম্ভাবনা নেই মাও সে তুংয়ের দেশের। চীনকে পেছনে ফেলে এক আসর পরই আবারও অলিম্পিক সাম্রাজ্য ফিরে পেল যুক্তরাষ্ট্র। চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈরথ মনে করিয়ে দিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পুরনো যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ের কথা। ১৯২১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হলেও দেশটি প্রথম আধিপত্য দেখায় ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে। এর নেপথ্যের কারণ ছিল এই যে ১৯০৮ সালে লন্ডন অলিম্পিকে এবং ১৯১২ সালে স্টোকহোম অলিম্পিকে অংশগ্রহণের পর ৪০ বছর তারা অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করার নিমন্ত্রণ পায়নি। এরপর যখন ১৯৫২ সালে হেলসিংকি অলিম্পিকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে আবারও সুযোগ দেয়া হলো, তখন থেকেই অলিম্পিকের পদক তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্য একটু একটু করে কমতে থাকে। ১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে অলিম্পিকে সেরা হওয়ার পর ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকেও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে সোভিয়েত ইউনিয়ন। কিন্তু ১৯৬৪ সালে টোকিও অলিম্পিকে আবার অলিম্পিকের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৬৮ সালে ম্যাক্সিকো অলিম্পিকেও সেরার মুকুট ধরে রাখে আব্রাহাম লিংকনের দেশ। এরপর সোভিয়েত ইউনিয়ন আবারও ফিরে আসে পুরনো চেহারায়। ১৯৫২ সালে মিউনিখ অলিম্পিক, ১৯৭৬ সালে মন্ট্রিল অলিম্পিক এবং ১৯৮০ সালে মস্কো অলিম্পিকে পদক তালিকায় টানা তিনবার শ্রেষ্ঠত্ব রাখার মধ্য দিয়ে অলিম্পিকে পরাশক্তিতে পরিণত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে মস্কো অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুগামী দেশগুলো। মাঝে ১৯৮৪ সালে অলিম্পিকের আসর বসে লস অ্যাঞ্জেলসে। এ আসরে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র আর সেরা হওয়ার সুযোগটি হাত ছাড়া করেনি। এখানেও আবার সেই বৈশ্বিক রাজনীতি। অর্থাত্ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র দেশগুলো। এ সুযোগে এ দুই অলিম্পিকে মেডেল তালিকায় দ্বিতীয় স্থান উঠে আসে পশ্চিম জার্মানি ও রোমানিয়া। ১৯৮৮ সালে সিউল অলিম্পিক। পদক তালিকায় সেরা সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর যুক্তরাষ্ট্রকে চলে যেতে হয় তৃতীয় স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে থাকে পূর্ব জার্মানি। এরপর শুরু হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের পালা। ১৯৯১ সালে বৃহত্ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে আবারও জন্ম হলো রাশিয়াসহ ১৫টি স্বাধীন দেশের। ভাঙনের পরও ১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকে সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের রাশিয়াসহ ১২টি দেশ সিআইএস নামে অংশগ্রহণ করে। ওই আসরে পদক তালিকায়ও সেরা হয় সিআইএস। এরপর ১৯৯৬ সালে আটলান্টা, ২০০০ সালের সিডনি এবং ২০০৪ সালে অ্যাথেন্স অলিম্পিকে রাশিয়াকে আর পদক তালিকায় শীর্ষস্থান নিতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আতঙ্ক হিসেবে অলিম্পিক বিশ্বে আবির্ভূত হতে থাকে নতুন এক শক্তি চীন। ২০০৪ সালে অ্যাথেন্স অলিম্পিকে ৩২টি স্বর্ণ জিতে পদক তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে বিশ্বকে চীন জানান দেয় তারা পদক তালিকায় শীর্ষ দেশ হওয়ার যোগ্য। এর জন্য আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি চীনকে। পরের আসরেই বেইজিং অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে পদক তালিকায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে স্বাগতিক চীন। এবার লন্ডন অলিম্পিকেও এ শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পথেই হাঁটছিল বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশটি। আসরের অধিকাংশ সময়ই মেডেল তালিকার শীর্ষের স্থান ধরে রেখেছিল চীন। মাঝে একটি দিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে টপকে শীর্ষে চলে এলেও পরদিন চীন আবারও টপে চলে আসে। তবে শেষের ইভেন্টগুলো চীনের পক্ষে না থাকায় লন্ডন অলিম্পিকে শেষ হাসি হাসল যুক্তরাষ্ট্রই। লন্ডন অলিম্পিকে চীনকে পেছনে ফেলে আবারও অলিম্পিকের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল মাইকেল ফেলপসরা।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








