লিবিয়াতে ১৫২ বাংলাদেশী শ্রমিক কাঁদছেন ,অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে
দীন ইসলাম: লিবিয়ার বানিওয়ালিদ শহরে ১৫২ বাংলাদেশী শ্রমিক কাঁদছেন। গেল এক সপ্তাহ ধরে চারতলা একটি ভবনে গাদাগাদি করে বন্দিত্ব জীবন যাপন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় খাবারের অভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। পানি সরবরাহের একমাত্র লাইনটিও বোমা হামলায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে শ্রমিকদের আর্তনাদে বাতাস ভারি হচ্ছে। বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, সুদান, চাঁদ ও তুরস্কের শ্রমিকদের কান্নাও থামছে না। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের পাশাপাশি তাদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের অবস্থা ও সর্বশেষ অবস্থান জানতে ০০২১৮৯১৩ ৭৭৬৯১৪, ০০২১৮৯২ ৪১৯৬৯০৭ ও ০০২১৮৯১৭৭ ৭২৭৪৪ নম্বরে ফোন করতে পারবেন বাংলাদেশের যে কেউ। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, শ্রমিকদের উদ্ধারে কয়েকটি দূতাবাস মিলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এখন আমি বানিওয়ালিদের পথে রয়েছি। আশা করছি শ্রমিকদের উদ্ধার করতে পারব। বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বানিওয়ালিদ শহরে ২২০ জন বাংলাদেশী কর্মী কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে দুইজন মহিলা ও দুইজন পুরুষ নার্স হাসপাতালে কর্মরত। গেল ১৬ই অক্টোবরের পর বানিওয়ালিদ শহরে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এজন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই শহরের বাংলাদেশী কর্মী অধ্যুষিত একটি কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয় করে সব বাংলাদেশী শ্রমিককে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী ইলেক্ট্রনিক নামক স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে একটি চারতলা ভবনে ১৫২ জন বাংলাদেশী কর্মী বসবাস করছে। বাকি ৬৪ জন বাংলাদেশী কর্মী নিজ ব্যবস্থাপনায় দূরবর্তী অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। ইলেক্ট্রনিক এলাকায় বাংলাদেশী নাগরিকদের সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, সুদান, চাঁদ ও তুরস্কের আরও পাঁচ শ’ নাগরিক অবস্থান করছে। ওদিকে ইলেক্ট্রনিক নামক স্থানটিকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মনে করছে দূতাবাস। এ বিষয়ে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) জানিয়েছেন, সরজমিনে বানিওয়ালিদ এলাকার কাছাকাছি থেকে জানতে পারছি এ এলাকাগুলোতেও মিসাইল আক্রমণ ও ভারি গোলাবর্ষণ হচ্ছে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ার বানিওয়ালিদ শহরে গত ১৬ই অক্টোবর থেকে নতুন করে লিবিয়াতে আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে মিলিশিয়াদের সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক সমঝোতার সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। তাই বানিওয়ালিদ শহর দখল ও গাদ্দাফিপন্থি মিলিশিয়াদের গ্রেপ্তারের জন্য ১৬ই অক্টোবর থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এজন্য সরকারি বাহিনীসহ আঞ্চলিক মিসুরাতা, জাওয়াইয়া ও অন্য কয়েকটি ব্রিগেড সর্বাত্মক আক্রমণ করেছে। এ আক্রমণে স্বল্প পাল্লার মিসাইল, ট্যাংকসহ ভারি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে লিবিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ আল মাগারিফ ওই অঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টার অস্ত্র বিরতি ঘোষণা করলেও সর্বাত্মক আক্রমণ ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আক্রমণকারী আঞ্চলিক ব্রিগেডগুলোর ওপর সরকারি বাহিনীর কার্যত কোন কমান্ড নেই। তাই রাজনৈতিক ইস্যুর বাইরে আঞ্চলিক ইস্যুতে বিষয়টি যাওয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ওদিকে আঞ্চলিক ব্রিগেডগুলোতে ত্রিপোলি থেকে বানিওয়ালিদে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে কাউকেই বানিওয়ালিদ ত্যাগ করতে দেয়া হচ্ছে না। দূতাবাসগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওই এলাকা থেকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাহার করার কোন প্রত্যক্ষ উদ্যোগ বর্তমান পরিস্থিতিতে নিতে পারছে না বাংলাদেশ দূতাবাস। যদিও গতকাল লিবিয়ান সরকারের তত্ত্বাবধানে প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশীসহ বিদেশী নাগরিকদের বানিওয়ালিদ থেকে নিরাপদে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ভারত ও পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং। শ্রম উইং লিবিয়ার ওই অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব দেশের নাগরিকরা বানিওয়ালিদে আটকা পড়েছে ওই সব দেশের দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। উদ্ধারের পর দূতাবাসগুলোর ব্যবস্থাপনা ও আশ্রয়ে রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বানিওয়ালিদ শহরের সহিংসতার জের ধরে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে রাজধানী ত্রিপোলিসহ অন্যান্য এলাকায় পানি সরবরাহের একমাত্র পাইপলাইনটি বোমা হামলায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ফলে ত্রিপোলি শহরে ও আশপাশের এলাকায় গত দুই দিন ধরে পানি সরবরাহ নেই। যে কোন মুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লিবিয়াতে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাসগুলো আশঙ্কা করছে, লিবিয়ার জনগোষ্ঠীর মধ্যে বানিওয়ালিদ অঞ্চলে বসবাসরত গোত্র ‘ওয়ারফলা ট্রাইব’- এর সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এ আঞ্চলিক বিরোধ লিবিয়ার অন্যত্র সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী নাগরিকদের সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নিয়োগ কর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ান সরকারসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।মানবজমিন
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests