Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

শাওন-মাজহার জানতেন হুমায়ূন মারা যাচ্ছেন! মুখ খুলতে মানা করা হয়েছে রাষ্ট্রদূত ড. মোমেনকে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 120 বার

প্রকাশিত: August 1, 2012 | 6:27 PM

এনা, নিউইয়র্ক : নন্দিত কথা সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের মুকুটহীন সম্রাট এবং কোটি পাঠকের হৃদয় জয় করা লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু ঘিরে রহস্য বেড়েই চলেছে। ১৯ জুলাই দুপুরে মারা যাবার পর ৩১ জুলাই পর্যন্ত তার মৃত্যুর রহস্যের জটতো খোলেইনি রবং তা আরো জটিল হয়ে উঠেছে। মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম। এই দু’জন একের পর এক মনগড়া তথ্য পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি এবং ধুম্রজাল সৃষ্টি করছেন। তাদের রহস্যজনক ভূমিকা অনেক আগেই শুরু হয়েছিলো। হুমায়ূন আহমেদ যখন ম্যাটহাটানের বেলভিউ হাসপাতালের ১০ তলার ৪৩ নম্বর বেডে ( সাউথ) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, ডাক্তারা বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন, কৃত্রিমভাবে লেখককে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে, ৯টি মেশিন দিয়ে শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই সময় থেকেই মেহের আফরোজ শাওন এবং প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম একের পর এক মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছেন। তারা তখন থেকেই কেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন তা নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা আসলে কোন স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করছেন, তাদের আসল উদ্দেশ্য কী- তা নিয়ে দেশে- প্রবাসে নানা গুঞ্জন এবং ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। সমগ্র আমেরিকায় হুমায়ূনের মৃত্যু নিয়ে সৃষ্ট ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বাজারে আসা সাপ্তাহিক ঠিকানা আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত ‘ঠিকানা’ এ নিয়ে টানা ৩ সপ্তাহ লীড স্টোরি করলো হুমায়ূনের পরিস্থিতি নিয়ে। সর্বশেষ ১ আগস্ট বাজারে আসা ঠিকানায় যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তাতে রয়েছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংবাদটি এখানে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শাওন এবং মাজরুল ইসলাম তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ আর বাঁচবেন না, তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন, লাইফ সাপোর্ট দিয়ে তাকে রাখা হয়েছে- এই সংবাদ ১৮ জুলাই ঠিকানায় প্রকাশিত হবার পর ঐ দিনই ঠিকানার রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে মেহের আফরোজ শাওন এবং মাজহারুল ইসলামের স্টেটমেন্ট ঢাকার টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়। যাতে তারা বলেন, যে হুমায়ূন আহমেদ ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করছেন। অথচ সে সময় সবাই নিশ্চিত হয়ে গেছেন তার পরিণতি সম্পর্কে। ঠিকানার রিপোর্টকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করে নিজেরাই মিথ্যুকে পরিণত হয়েছেন।

এমন কি ১৯ জুলাই দুপুর ১টা ২২ মিনিটে যখন হুমায়ূন আহমেদ মারা যান ঐ দিন দুপুর ১২টার সময় ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে মেহের আফরোজ শাওন হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্ক বলেছেন, তিনি ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করছেন। হুমায়ূন আহমেদকে লাইফ সাপোর্ট দেয়ার বিষয়টিও শাওন অস্বীকার করেন। যতদিন মেহের আফরোজ শাওন এবং মাজহারুল ইসলাম নিউইয়র্কে ছিলেন ততদিন তারা মিডিয়াকে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন এবং সঠিক তথ্য সব সময় আড়াল করে গেছেন। মেহের আফরোজ শাওনতো প্রবাসে মিডিয়াকে বলা যায় একেবারেই এড়িয়ে গেছেন। দেশে গিয়েও শাওন এবং মাজহারুল ইসলাম মিথ্যা তথ্য পরিবেশন অব্যাহত রেখেছেন। এখনো তারা সত্য বলছেন না এমন অভিযোগ লেখকের বাসায় বা সাথে যারা ছিলেন তারা করছেন। তারা চাচ্ছেন শাওন এবং মাজহারুল ইসলামই সত্য বলুক এবং হুমায়ূন আহমেদের অবহেলা বা গাফিলতিতে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করুক। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে ২৭ জুলাই ঠিকানা রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো ‘শাওন- মাজহারকে নিয়ে রহস্য, নূহাশ পল্লীতে হুমায়ূনের শেষ শয্যা, অবহেলায় মৃত্যু দায়ী কারা?’ শিরোনামে। এরপর মিডিয়ায় প্রশ্নের সম্মুখীন হন মেহের আফরোজ শাওন এবং মাজহারুল ইসলাম।

ঠিকানায় প্রকাশিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশে এবং প্রবাসে হুমায়ূন ভক্তরা জানতে পারে, সর্বোপরি সারা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে। তাদের প্রিয় লেখকের মৃত্যুতে কিছু রহস্য আছে। ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে বিষয়টি। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শাওন এবং মাজহারুল ইসলাম মিডিয়ায় জবাবদিহি করতে বাধ্য হন। তবে তারা হুমায়ূনের মৃত্যু নিয়ে আগের মতই সেখানে একই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। রিপোর্টে উল্লেখ ছিলো হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে পায়ে হেঁটে ১৯ জুন বাসায় আসার পর পারিবারিক পার্টিও দেয়া হয়েছিলো। অবহেলার কারণে হুমায়ূন আহমেদ ২০ জুন একটি প্লাস্টিকের চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েই তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। সারা রাত ব্যাথায় এবং যন্ত্রণায় ছটফট করলেও হুমায়ূন আহমেদকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। অবস্থা বেগতিক হলে তাকে ২১ জুন জ্যামাইকা হাসপাতালে নেয়া হয়। অথচ তার অপারেশন করা হয়েছিলো বেলভিউ হাসপাতালে। জ্যামাইকা হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদের সাথে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন যাননি। হুমায়ূনকে নিয়ে গিয়েছেন প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম। ঠিকানার বরাত দিয়ে ঢাকায় এ রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর মাজহারুল ইসলাম এবং শাওন প্রথমে চেয়ার থেকে পড়ার বিষয়টি অ¯ী^কার করেছিলেন। পরে অবশ্য মাহজারুল ইসলাম বলেছিলেন চেয়ারের খুটি ডেবে গিয়েছিলো। এখানেও মাজহারুল ইসলাম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদকে যে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসানো হয়েছিলো সেই প্লাস্টিকের চেয়ার ছিলো তাদের বেড রুমে। আমেরিকায় এমন কোন মাটির বাসা নেই যেখানে চেয়ার ডেবে যেতে পারে! আমেরিকার বাসাগুলোতে মাটির কোন ফ্লোর নেই। হয় কাঠের ফ্লোর না হয় টাইলস দিয়ে বানানো। এই সব ফ্লোরে চেয়ার ডাবার কোন প্রশ্নই ওঠে না। কেন মিথ্যার আশ্রয় নিলের মাজহারুল সেটা তিনিই ভাল বলতে পারেন বা কি লুকানোর চেষ্টা করছেন সেটাও তিনি জানেন ।

হাসপাতাল পরিবর্তনের ব্যাপারে মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, হাসপাতাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি ছিলো লেখকের পরিবারের। চেয়ার থেকে পড়ে যাবার বিষয়টি মেহের আফরোজ শাওন অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ‘চেয়ার থেকে কখনো পড়ে যাননি বরং চেয়ার থেকে পিছলে যান। তিনি যখন পিছলে যান তখন আমি তার হাত মালিশ করছিলাম। চিকিৎসকরাও অপারেশনের পর বলেছিলেন, তিনি যদি পড়ে যান তাতে কোন ক্ষতি হবে না।’ একটি টিভি চ্যানেলকে এই হাস্যকর সাক্ষাতকার দেন মেহের আফরোজ শাওন। হুমায়ূন আহমেদ যে পড়ে যান এ কথা সত্যি। তার পড়ে যাবার ঘটনাটি দেখেছিলো কাজের মেয়ে। তিনি তার বাসার দ্বিতীয় তলায় দুটো খাটের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় লিভিং রুমে ছিলেন শাওন, সেজুতি, বাথ রুমে ছিলেন মাহজারুল ইসলাম, কাজের মেয়ে শোভা ছিলো কিচেনে। হুমায়ূন আহমেদ পড়ে যাওয়ার শব্দে তারা সবাই দৌড়ে তার রুমে যান। তাকে উঠিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। হুমায়ূন আহমেদ চেয়ার থেকে পেছনের দিকে উল্টে পড়ে যাবার পর তার শরীরের অবস্থা ছিলো ইংরেজি শব্দ ’এল’ -এর মত। অপারেশনের কারণে তিনি সোজা হতে পারছিলেন না। যে চেয়ার থেকে হুমায়ূন আহমেদ পড়ে গিয়েছিলেন সেই চেয়ারটি এখনো সযতনে একজন হুমায়ূন ভক্ত রেখে দিয়েছেন। যে মানুষটি অবহেলা, অযতœ এবং গাফিলতির কারণে প্লাস্টিকের চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর দুয়ারে চলে গেলেন, সেই ঘটনাকেই অস্বীকার করছেন শাওন। কিন্তু কেন? এর রহস্য কী? চেয়ার থেকে যদি পড়েই না যান তাহলে হুমায়ূন আহমেদকে অন্য হাসপাতালে নেয়া হলো কেন? সত্য লুকানোর জন্য হুমায়ূন আহমেদকে কি জ্যামাইকা হাসাপাতালে নেয়া হলো? হুমায়ূন আহমেদের অপারেশন হয়েছিলো ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতালে। তার কোন অসুবিধা হলে তাকে বেলভিউ হাসপাতালেই নেয়ার কথা। তা না করে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেয়ার রহস্য কী? আরো হাস্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন শাওন।

ডাক্তারের বরাত দিয়ে বলেছেন, ’চেয়ার থেকে যদি তিনি (হুমায়ূন) পড়েও যান তাতে কোন ক্ষতি হবে না।’ যে মানুষটি এত বড় অপারেশন করে বাসায় আসলেন, তিনি যদি চেয়ার থেকে পড়ে যান তার ক্ষতি হবে না এমন কথা মনে হয় বেয়াকুফ বা আহাম্মকও বিশ্বাস করবে না। হুমায়ূন আহমেদ যদি চেয়ার থেকে না পড়েন তবে এ প্রসঙ্গটিই বা আনবেন কেন শাওন? শাওনের মিথ্যাচার এখানেই শেষ নয়, তিনি বলেছেন, হার্ট এ্যাটাকে মারা গিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। বিষয়টি পূরবী বসুকে উদ্ধৃত করে। ডাহা মিথ্যা কথা বলেছেন শাওন। কারণ পূরবী বসূ ডাক্তার নন, তিনি কখনো ডাক্তার ছিলেন না। তিনি হচ্ছেন পুষ্টিবিদ। তাই তিনি কারো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেন না। তিনি যে ডাক্তার নন সে কথা তার স্বামী জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ঠিকানাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পূরবী বসু অবশ্য কোন কথা বলতে চাননি। আর পূরবী বসু যে সত্যি সত্যি শাওনকে বলেছেন তা নিয়েও প্রবাসীদের সন্দেহ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০ জুন সকাল ১১টায় চেয়ার থেকে পড়ে যাবার পর প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সারাদিন সারা রাত ব্যাথায় ভোগায় অবস্থা বেগতিক দেখে পরদিন সকালে ফানসু মন্ডলের গাড়িতে করে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। সকালে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেয়ার পূর্বে হুমায়ূন আহমেদ রাতে কয়েকবার বমি করেছিলেন। সেই বমিও পরিষ্কার করেছিলো কাজের মেয়ে শোভা। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তার সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। ফানসু মন্ডলের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়ার মাঝপথে এ্যাম্বুলেন্স কল করা হয়। বার বার বমি এবং পড়ার কারণে সেলাই খুলে যেতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। জ্যামাইকা হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হুমায়ূন আহমেদকে নেয়া হয় বেলভিউ হাসপাতালে। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, হুমায়ূন আহমেদের ইনফেকশন হয়েছে। সেখানে দ্বিতীয় বারের মত তাকে অপারেশন করা হয়। দ্বিতীয়বার অপারেশেনের পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বার যখন হুমায়ূন আহমেদকে সার্জারি করা হয়, সেই স্থানটি ওপেন রাখা হয়েছিলো। যাতে করে ভিতর থেকে পানি এবং পূঁজ বের করতে পারে। অবশেষে ডাক্তারদের সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করে হুমায়ূন আহমেদ গত ১৯ জুলাই দুপুর ১টা ২২ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্ট নানা রহস্য নিয়ে প্রবাসে এখনো তুমুল আলোচনা চলছে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি। মেহের আফরোজ শাওন জানিয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদ হার্ট এ্যাটাকে মারা গিয়েছেন।

হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই ড. জাফর ইকবাল জানিয়েছেন, ক্যান্সারে নয় ইনফেকশনে মারা গিয়েছেন তার ভাই। ডাক্তার মিলার জানিয়েছেন শ্বাস- প্রশ্বাসে জটিলতা, হৃদযন্ত্রের বৈকল্য এবং কিডনির ক্রম ব্যর্থতার কারণে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনজন তিন ধরনের কথা উল্লেখ করেছেন। এখন কার কথা সত্যি? তবে সব কথাই সত্য হোক- তাদের কারো কথার সঙ্গেই শাওন বা মাজহারের স্টেটমেন্টের কোন মিল নেই। এ নিয়েও কম্যুনিটিতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, হুমায়ূনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা প্রমাণের জন্য হাসপাতালের রিপোর্টটি প্রকাশ করা উচিত। তাহলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। হুমায়ূন আহমেদ চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় এসেছিলেন ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রথমে তার চিকিৎসা দেয়া হয় ক্যান্সারের চিটিৎসার জন্য বিখ্যাত হাসপাতাল স্লোয়ান মেরিয়্যাল ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে। সেখানে তার ৩টি ক্যামোথেরাপি দেয়া হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যানহাটানের বেলভিউ হাসপাতালে। সেখানেই তার বাকি ক্যামোথেরাপি দেয়া হয়। ১২টি ক্যামোথেরাপি শেষে হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। তবে বড় প্রশ্ন ছিলো কেন ে ায়ান ক্যাটারিং বাদ দিয়ে তাকে বেলভিউতে নেয়া হয়?

মাজহার বলেছেন, এটা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেনও বলেছেন, স্লোয়ান ক্যাটারিং হাসপাতাল ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত কিন্তু তাকে কেন বেলভিউতে নেয়া হয়েছে তা তার পরিবারের সদস্যরাই জানেন। হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন এমন ২ জন বলেছেন, অর্থ সংক্রান্ত কারণেই হুমায়ূন আহমেদকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্লোয়ান ক্যাটারিং-এ প্রতিরাতের জন্য ৫ হাজার ডলার চার্জ করা হতো। এই অর্থ দেয়া সম্ভব হয়নি। যদিও এই বিষয়টি শাওন বা মাজহার কেউ মিডিয়াকে জানাননি। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তাহলে কী অর্থাভাবেই হুমায়ূন আহমেদের সুচিকিৎসা হয়নি? অর্থের কারণে বিখ্যাত ক্যান্সার হাসপাতাল ত্যাগ করে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়েছে। হাসপাতাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই বা কে নিয়েছেন? শাওন না অন্য কেউ? স্লোয়ান ক্যাটারিং হাসপাতাল ত্যাগের পূর্বে দেয়া কেমোথেরাপির ব্যাপারে স্টিফেন আর ভিস একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে। সেই রিপোর্টেই ভিস উল্লেখ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ কত দিন বাঁচবেন, তার শরীরের অবস্থা কী।

সূত্র জানায়, হুমায়ূন আহমেদকে যখন ে ্ন ক্যাটারিং এ নিয়ে আসা হয় সেই সময় চতুর্থ ধাপে ছিলো তার ক্যান্সার। এই ধরনের ক্যান্সার রোগীরা কতদিন বাঁচতে পারেন তা ডাক্তাররা বলে দেন। ডাক্তার ভিসও হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি ৩ থেকে ৪ বছর বাঁচতে পারেন। অপারেশন করে সমস্ত কিছু সরানো সম্ভব হলে আরো কয়েক বছর বেশি বাঁচতে পারেন। এ রিপোর্টটি সম্পর্কে জানতেন পূরবী বসু, প্রকাশক মাজহারসহ আরো কয়েকজন। পূরবী বসু এবং মাহজার এ ঘটনাটি প্রথমে হুমায়ূন আহমেদ এবং মেহের আফরোজ শাওনকে জানাননি। তারা জানতে পেরেছিলেন মার্চ মাসের দিকে। মোটামুটি সবাই জানতেন হুমায়ূন আহমেদ কতদিন বাঁচবেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, চেয়ার থেকে না পড়লে, অথবা পড়ার সাথে সাথে যদি বেলভিউ হাসপাতালে নেয়া হতো তাহলে তিনি মারা নাও যেতে পারতেন। ডাক্তার ভিসের দেয়া সময়ের আগেই হুমায়ূন আহমেদ চলে গেলেন অবহেলার কারণে। হুমায়ূন আহমেদেকে যারা প্রথম থেকেই বিভিন্নভাবে সাহায্য- সহযোগিতা করে আসছিলেন, শেষ দিকে তাদেরকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা, রুমা সাহা, জামাল আবেদীনসহ অন্য যারা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। আর এ কাজটি করেছেন প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম কৌশলে। তাকে সহযোগিতা করেছেন শাওন। এক সময় যারা নিয়মিত হাসপাতালে যেতেন তাদের যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেন শাওন- মাজহার। এমন কি বাসায় পড়ে যাবার খবরটিও এ সব লোকদের প্রথমে দেয়া হয়নি। জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর তাদের জানানো হয়। মাজহার কয়েকজনকে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন। মাজহার হুমায়ূনের কাছের লোকদের সরিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিতজনদের হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এক সময় হাসপাতালে ১০ জন লোকের লিস্ট দেয়া হয়। এই ১০ জন ছাড়া অন্য কারো যাওয়ার অনুমতি ছিলো না।

এই ১০ জন হচ্ছেন মেহের আফরোজ শাওন, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, তহুরা আলী এমপি, ড. জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমীন হক, ফানসু মন্ডল, আসাদুজ্জামান নূর, রুবেল, পূরবী বসু এবং উদ্দিন। আরো যোগ করা হয় পারভেজ ও মুুনিয়া মাহমুদকে। বাদ দেয়া হয় গাজী কাশেম, বিশ্বজিৎ সাহা, রুমা সাহা, জামাল আবেদীন এবং জলিকে। এর মধ্যে রুবেল, উদ্দিন এবং পারভেজ মাজহারের আত্মীয় বা পরিচিত। এর মধ্যে একজন মাজহারের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ফটো তুলতে বাধা দিয়েছিলেন। ড. জাফর ইকবাল, ইয়াসমীন হক, বিশ্বজিৎ সাহা, গাজী কাশেম সবাই সহযোগিতা করছেন আর মাজহারের ভাগিনা সাংবাদিকদের ফটো তুলতে বাধা দিচ্ছে। ভাড়াটিয়া সিকিউরিটির মত আচরণ করা মাজহারের ভাগিনার কাজ ছিলো শাওনকে সংবাদিকদের কাছ থেকে গার্ড দিয়ে দূরে রাখা এবং ছবি তুলতে বারণ করা ও বাধা দেয়া। মেহের আফরোজ শাওনের ভূমিকা নিয়ে আরো প্রশ্ন উঠেছে। হুমায়ূন আহমেদ যে বাসায় ছিলেন সেখানে রান্না বান্নার জন্য রাখা হয়েছিলো কাজের লোক। এমন কি শেষ দিকে হাসপাতালেও রাতের বেলায় শাওন যেতেন না, স্বামীর শয্যা পাশে থাকতেন না। সেখানে বাংলাদেশ মিশনের লোকদের বাইরোটেশনে রাখা হতো। এই তথ্য জানিয়েছেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আমার কাছে অনুরোধ এসেছে আমি যেন হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে মিডিয়ায় কিছু না বলি। আমরা আর এর মধ্যে যেতে চাই না।’ মেহের আফরোজ শাওনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা মিথ্যাচারের এখানেই শেষ নয়। হুমায়ূন আহমেদের দাফন নিয়ে তিনি বাংলাদেশে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন নূহাশ পল্লীতে কবর দেয়ার কথা হুমায়ূন বলেছিলেন। অথচ নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের যে ডেথ সার্টিফিকেট রয়েছে সেখানে হুমায়ূন আহমেদের কবর দেয়ার কথা রয়েছে ঢাকার গুলশান। নূহাশ পল্লীতে নয়। গত ১৯জুলাই নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা এই সাটির্ফিকেটের নম্বর হচ্ছে ১৫৬-১২-০২০১৪।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV