সফল ব্যক্তিরা যে আট বিষয় এড়িয়ে চলেন
সফল ব্যক্তিদের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি নির্ণয় করা যায়। এ লেখায় থাকছে সফল ব্যক্তিরা যে আটটি বিষয় এড়িয়ে চলেন।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে এ বিষয়ে প্রভাবশালী ফোর্বস ম্যাগাজিনে লিখেছেন ক্যাথে ক্যাপ্রিনো।
১. নেতিবাচক চিন্তা
এ ধরনের চিন্তার মধ্যে রয়েছে ‘বিলো দি লাইন’ বা নিজের আশপাশে যা ঘটছে, তার সবই নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মনে হওয়া আর সব ঘটনার জন্য অন্য সবার দোষ খোঁজা। এতে অর্থনীতি, আপনার কাজ, আপনার বস, আপনার সঙ্গী ইত্যাদি সব বিষয়কেই নেতিবাচক বলে মনে হতে পারে। যেসব চিন্তার মাধ্যমে নিজের পৃথিবী আচ্ছন্ন হয়ে যেতে পারে। নেতিবাচক চিন্তা বলবে, ‘যা ঘটছে তা উচিত নয়। আর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পদ্ধতিও আমার হাতে নেই। আমি এটা আশা করিনি আর এটা সামলাতেও পারবো না।’
অন্যদিকে সফল ব্যক্তিরা এ ধরনের চিন্তা বাদ দেন। তারা চিন্তা করেন, ‘আমি সামনের বাধা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি এবং সেগুলোর উপর ভালোভাবে নজর রেখেছি। আমি আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের প্রতি দায়িত্বশীল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও আমি জানি। বিফল হলেও আগামীকাল আবার আমি শুরু করবো এবং বড় কিছু শিখবো।’
২. অবাস্তব ইচ্ছা
সফল পেশাজীবীরা সাফল্যের পেছনে দৌড়ান, যা তাদের রক্তে প্রাকৃতিকভাবেই বহমান। অন্যদিকে অসফল ব্যক্তিরা কোনো কল্পজগতে বিচরণ করেন, যা তাদের বর্তমান পরিস্থিতি ভুলে থাকতে সাহায্য করে। তবে তাতে কোনো বাস্তবতা থাকে না।
যেমন, অনেকের কাছ থেকে শোনা যায়, ‘আমি আমার কাজ ঘৃণা করি এবং এটা ত্যাগ করতে চাই। এর বদলে আমি একটা বই লেখার কথা ভাবছি গত কয়েক বছর ধরে।’ এর জবাবে বলতেই হয়, লেখালেখির অভিজ্ঞতা না থাকলে সে কাজ হঠাৎ শুরু করা সহজ নয়। নিজের কাজের বাইরে গিয়ে হঠাৎ করে কোনো বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ এতে অসফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সফল ব্যক্তিরা বড় কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলোকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নেন। যেগুলো অর্জন করা অনেক সহজ হয়।
৩. শক্তি ও কথাবিহীন থাকা
সফল ব্যক্তিরা সবসময় শক্তির সংস্পর্শে থাকেন। তারা নিজের ও অন্যের জন্য সবসময় চেষ্টা করেন। নিজের পক্ষপাত সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলতে তারা লজ্জা পান না। তারা জানেন, কীভাবে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে হয় এবং এর মূল্য কীভাবে আদায় করতে হয়। এছাড়া তারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন এবং এ বিষয়ে খোলাখুলি আলাপ করেন। সমস্যা দেখলে তারা পালিয়ে যান না।
৪. অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নেওয়া
এ বিষয়টা বহু অসফল ব্যক্তির মধ্যেই দেখা যায়। কোনো কাজে অসফল হলে তারা এর কারণ নির্ণয়ে সময়, অর্থ ও উদ্যম ব্যয় করতে চান না।
অসফলরা অন্যের চেয়ে নিজের প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা গেলে তখনই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তারা যে কোনো সময়েই পুরনো অভিজ্ঞতা বা অসফলতার বিষয়ে তদন্ত না করার কারণ বের করেন।
অন্যদিকে সফল ব্যক্তিরা অপেক্ষা না করেই অতীত থেকে শিক্ষা নেন। নিজ স্বার্থেই তারা অর্থ, সময় ও উদ্যম ব্যয় করে অভিজ্ঞতা থেকে ভালো কিছুর অনুসন্ধান করেন।
৫. পরিবর্তনে বাধা দেওয়া
সফল ব্যক্তিরা কখনোই পরিবর্তনের বিপক্ষে দাঁড়ায় না। তারা সবসময় পরিবর্তনের স্রোতের পক্ষেই থাকে। তারা বর্তমান প্রবণতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন। এসব বিষয়ে তারা সবসময় নমনীয় ও ক্ষিপ্র থাকেন।
৬. অন্যের পছন্দে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া
সফল ব্যক্তিরা জানেন অন্যদের কোথায় গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া অন্যের মূল্য, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা থাকে তাদের। তারা কোনো সাগরে অনিশ্চিতভাবে ঘুরে বেড়ান না। তারা নিজেরাই নিজের জাহাজের ক্যাপ্টেন। তাদের খুব পরিষ্কার সীমারেখা থাকে। ফলে তাদের গুরুত্ব কোথায় দেয়া লাগবে, তা তাদের জানা থাকে। ফলে অন্যের পছন্দ অনুযায়ী তারা চলেন না। নিজস্ব পছন্দেই চলেন।
৭. নিজের প্রচেষ্টা সম্পর্কে সংশয়
যারা নিজের সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেন ও নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তারা যেখানে যেতে চান তা থেকে ক্রমে দূরে চলে যান। সফল পেশাজীবীরা নিজের সামর্থের উপর আস্থা রাখেন। সফলরাও অবশ্যই তাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও কালো বিন্দু সম্পর্কে ধারণা রাখেন। তারা জানেন কোথায় উন্নয়ন করতে হবে। তবে নিজের দোষ-ত্রুটিকে তারা ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখেন এবং তা থেকে এগিয়ে যাওয়ার পথ সন্ধান করেন।
৮. সহজ সমাধানের সন্ধান
অনেক ব্যক্তিই বহু কঠিন সমস্যার সহজ সমাধান খোঁজেন। অনেক নতুন উদ্যোক্তাই ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য বা ক্যারিয়ার সফলতার জন্য সহজ রাস্তার সন্ধান করেন।
অনেকে প্রশ্ন করেন, ‘নতুন ব্যবসা শুরু করেছি, সফল হওয়ার জন্য পরামর্শ চাই।’ কিন্তু কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমন পরামর্শ নিয়ে তা দিয়ে সফল হওয়ার উপযুক্ত নয়। কারণ, এ ধরনের পরামর্শ চাওয়ার বদলে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় উল্লেখ করে পরামর্শ চাইতে হবে।কালের কণ্ঠ
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








