
বিশ্বজিৎ সাহা,নিউ ইয়র্ক : বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ মা এবং মাতৃভূমিকে দেখতে তিন সপ্তাহের জন্য গত ৯ই মে রাত ৯টায় কুয়েত এয়ারওয়েজযোগে বাংলাদেশে রওয়ানা হয়েছেন। সঙ্গে গেছেন স্ত্রী অভিনেত্রী এবং গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন ও দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত হুমায়ূন। বন্ধু-বান্ধব পরিবেষ্টিত হাস্যোজ্বল হুমায়ূন আহমেদকে এয়ারপোর্টে বাঙালিরা ঘিরে ধরেন। সকলেই এই বরেণ্য লেখকের শারীরিক অবস্থার খবর নেন এবং ছবি তোলার জন্য ভিড় করেন। এয়ারপোর্টে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ূন বলেন, মা, মাতৃভূমি এবং বন্ধুবান্ধবকে দেখতে এবং নুহাশ পল্লীর বৃক্ষদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেশে যাচ্ছেন এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকায় ফিরে আসবেন। তিনি আরও জানান, এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তার প্রিয় নুহাশপল্লীতে যাবেন। সেখানে তার মা অপেক্ষা করছেন। এয়ারপোর্টে লেখককে বিদায় জানাতে যান লেখকের ছোটবেলার বন্ধু ফাংশু মণ্ডল, রুমা সাহা, গাজী কাশেম ও রুবেল দম্পতি। উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদ মাধ্যমের কয়েক জন সাংবাদিক ও সম্পাদক। উল্লেখ্য, ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে হুমায়ূন আহমেদ কর্কট রোগের চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্ক আসেন। প্রথমে মেমোরিয়াল সোলান ক্যাটারিং হাসপাতালে ড. স্টিফেন আর ভিচ-এর তত্ত্বাবধানে তিনটি ক্যামোথেরাপি নেন। পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের বেলভ্যু হাসপাতালে অঙ্কলজি বিভাগের ডা. জেইন-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করাচ্ছেন। প্রথম পর্যায়ে ৮টি ক্যামোথেরাপি দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ক্যান্সারের নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা নেয়ায় সর্বমোট ১২টি ক্যামোথেরাপি দেয়া হয়। বেলভ্যু হাসপাতালের চিকিৎসক ড. জেইন পরবর্তীতে এমআরআই, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ক্যান্সার বিভাগের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একটি টিম গঠন করেন। সার্জিক্যাল অঙ্কলজি বিভাগের ডাক্তার জর্জ মিলার সমস্ত রিপোর্ট দেখে গত ৭ই জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সার রোগ নিরাময় হওয়া সম্ভব বলে মত পোষণ করেন এবং আগামী ১২ই জুন অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করেন। বর্তমানে হুমায়ূন আহমেদ সুস্থ হয়ে উঠছেন। এরই মাঝে বাংলাদেশ ঘুরে আসার অনুমতি চাইলে চিকিৎসকরা লেখককে অনুমতি দেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লেখক বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের ১০ দিন আগে লেখককে আমেরিকায় সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য পরামর্শ দেন। বিশেষ করে কোন হাঁচি, কাশি থেকে শুরু করে কোনরকম ভাইরাস, ইনফেকশন যাতে সংক্রমণ না হয় সে ব্যাপারে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আমেরিকায় চিকিৎসারত অবস্থায় এই বরেণ্য লেখকের লেখা ‘নিউ ইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ’, ‘মেঘের ওপর বাড়ি’ এবং ‘পায়ের তলার খড়ম’সহ মোট ৫টি গ্রন্থ একুশের বইমেলায় প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি জাপানি ভাষায়ও তার একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। লিখছেন ‘বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে উপন্যাস ‘দেয়াল’। এই লেখার পাশাপাশি বহুমাত্রিক এই লেখক সম্প্রতি ডুবে আছেন ছবি আঁকায়। প্রায় প্রতিদিনই জ্যামাইকার বাসভবনে ছবি আঁকছেন। ইতিমধ্যে ২১টি ছবি আঁকা ও বাঁধাই শেষ। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯শে জুন আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব বইমেলায় লেখকের প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। এর ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন মুক্তধারা নিউ ইয়র্ক-এর পরিচালক রুমা সাহা। বিখ্যাত আলোকচিত্র শিল্পী নাসির আলী মামুন তুলেছেন গতকাল হুমায়ূন আহমেদের বিশেষ মুহূর্তের দুর্লভ কিছু আলোকচিত্র। দেশে যাবার আগের দিন লেখক তার আঁকা ছবিগুলোর নামকরণ করেছেন। নামকরণ করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের চিত্রকরদের ছবিতেই দেখা যায় ইংরেজি নামকরণ। আমি বাংলাতেই রাখলাম ছবিগুলোর নাম। ছবি আঁকা নিয়ে বলেন, আমি আঁকাআঁকি খেলা করছি। তবে ছবি আঁকার শুরু কবে থেকে জানতে চাইলে অবশ্য বলেন, পারিবারিক সূত্রেই পাওয়া। মেট্রিক পরীক্ষা দেয়ার পরও কিছু সময় ছবি আঁকতেন বলে লেখক বললেন। জ্যামাইকার বাড়ি থেকে লেখক ওজানপার্কের নতুন বাড়িতে স্থানান্তর হন গত সপ্তাহে। অনেক খোলামেলা এবং বড় পরিসরের ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে লেখক পত্নী লেখকের জন্য লেখার ও আঁকার একটি ঘর রেখেছেন। তবে যেভাবে লেখক পুত্র নিষাদ হুমায়ূন পিতার মতো ছবি আঁকায় ডুবে আছে, তার জন্য আর একটি ঘর লাগবে বললে রসিকতায় হাসির রোল উঠে দেশে যাবার আগের দিন মধ্যরাতে লেখকের ওজানপার্কের বাড়িতে। হাস্যোজ্জ্বল হুমায়ূন আহমেদ দেশে যাচ্ছেন মাতৃভূমির টানে আবার আমেরিকায় হুমায়ূন আহমেদের নিত্যদিনের সঙ্গীরা কামনা করছেন সুস্থভাবে এই হাসিমাখা মুখ নিয়ে ফিরে আসুন তাদের প্রিয় মানুষটি।

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আজ ভোরে দেশে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নুহাশ পল্লীতে যাবেন। হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠজন অন্যপ্রকাশের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে একথা জানিয়ে বলেন, শুক্রবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে তার বিমান অবতরণ করবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তিনি বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে দেখা করতেই জন্মভূমিতে ফিরছেন হুমায়ূন স্যার। আনুমানিক ৩ সপ্তাহের জন্য দেশে আসছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে অপারেশন করাবেন।’ গত ৯ মে রাতে কুয়েত এয়ারওয়েজে বাংলাদেশে রওনা হন হুমায়ূন আহমেদ। তার সঙ্গে আছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত হুমায়ূন।
এদিকে বিমানে ওঠার আগে হুমায়ূন বলেন, মা, মাতৃভূমি এবং বন্ধু-বান্ধবকে দেখতে এবং নুহাশ পল্লীর বৃক্ষদের সাথে সময় কাটাতে দেশে যাচ্ছেন এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকায় ফিরে আসবেন। তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তার প্রাণপ্রিয় নুহাশ পল্লীতে যাবেন। সেখানে তার মা অপেক্ষা করছেন। কীর্তিমান এই পুরুষ যুক্তরাষ্ট্রে চিকিত্সাধীন অবস্থাতেও লেখালেখি চালিয়ে গেছেন সমানতালে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হুমায়ূন আহমেদ কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সার জন্য নিউইয়র্ক আসেন। প্রথম পর্যায়ে ৮টি ক্যামোথেরাপি দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী সময় মোট ১২টি ক্যামোথেরাপি দেয়া হয়। বেলভ্যু হাসপাতালের চিকিত্সক ড. জেইন এমআরআই, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম গঠন করেন। সার্জিকাল অনকোলজি বিভাগের ডাক্তার জর্জ মিলার সমস্ত রিপোর্ট দেখে গত ৭ জুন অপারেশনের মাধ্যমে হুমায়ুন আহমেদের ক্যান্সার নিরাময় হওয়া সম্ভব বলে মত দেন। আগামী ১২ জুন অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করেন চিকিত্সক। চিকিত্সকদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ঘুরে আসার অনুমতি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। চিকিত্সকরা অস্ত্রোপচারের ১০ দিন আগে লেখককে আমেরিকায় ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। হাঁচি, কাশি থেকে শুরু করে কোনরকম ভাইরাস সংক্রমণ যেন না হয় সে ব্যাপারে তাকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।ইত্তেফাক