Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

সর্বস্তরে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই কাঙ্খিত বাংলাদেশ পাচ্ছি না , নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশের রাজনীতি : সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে অভিমত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 79 বার

প্রকাশিত: September 4, 2012 | 11:34 AM

নিউইয়র্ক :‘বাংলাদেশের রাজনীতি : সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথি বক্তা ও সুধীবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশপ্রেম আর আইনের শাসনের অভাব, স্বজনপ্রীতি, দূর্নীতি সর্বোপরি রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই আমরা কাঙ্খিত বাংলাদেশ পাচ্ছি না। সেই সাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রকৃত গণতন্ত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে সার্বিকভাবে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সেমিনারে বক্তারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার উপর গুরুত্ত্বারোপ করে বলেন, এই সরকারের বিকল্প ভাবতে হলে দেশের সর্বস্তরের প্রশাসনসহ নির্বাচন কমিশনকে দলীয়মুক্ত করে শক্তিশালী করতে হবে।

ফোরাম ফর ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ আয়োজিত উক্ত সেমিনারে বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সমন্বয়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। এছাড়া প্যানেল আলোচক ছিলেন ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, অধ্যাপক ড. মাহফুজ চৌধুরী, মাসুম মোহাম্মদ মহসীন, গিয়াস উদ্দিন শিকদার, আবু তাহের ও সুব্রত বিশ্বাস। সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ফোরামের অন্যতম সদস্য সাহাব উদ্দিন।

সেমিনারে প্যানেল বক্তাদের মূল বক্তব্যের পর সংক্ষিপ্তাকারে নিজেদের মতামত তুলে ধরে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন অধ্যাপক ড. শওকত আলী, আবু তাহের, আব্দুল মুসাব্বির, আব্দুল মুকিত চৌধুরী, এডভোকেট মজিবুর রহমান, আমান-উদ দৌলা, মুজাহিদ আনসারী, আনোয়ার হোসেন লিটন, হাজী নূরুল ইসলাম, নূরে আলম জিকু, কাশেম আলী, হাসান চৌধুরী, হাকিকুল ইসলাম খোকন, শিবলী সাদেক, তৈয়বুর রহমান হারুন, আমজাদ হোসেন আমান প্রমুখ। সবশেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন এডভোকেট মুজিবুর রহমান।

সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কিছু ভাবতে হলে দেশের সর্বস্তরের প্রশাসনসহ নির্বাচন কমিশনকে দলীয়মুক্ত করে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর কেউই আইন মানতে চায় না। রাজনৈতিক কারণেই বৃটিশদের তৈরী ৫৪ ধারা ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দলীয়, সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানের ‘টাইম লিমিট’ থাকা দরকার। রাজনীতিকদের টাইম লিমিট ছাড়া নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর নয়, চার বছর হওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর দূর্বলতার কথা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের সাড়ে তিন বছর পরও জামায়াতে ইসলামী নিয়মানুযায়ী আজো দলটির নাম পরিবর্তন করেনি, অথচ নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তিনি বলেন, পর পর একই দলের শাসন দেশ ও জনগণের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনেনি।

সেমিনারে প্যানেল বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হ য ব র ল অবস্থা বিরাজ করছে, বহুধা বিভক্তির রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। যার প্রভাব এই প্রবাসেও বিরাজমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দেশে মূলত: অভিভাবক সুলভ এক নায়কতন্ত্র শাসন চলছে। ফলে দেশে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি, প্রতিষ্ঠিত হয়নি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। বক্তরা বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার বড় অভাব, দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পরিচালিত হচ্ছে দুই নেত্রীর কথায়। সেই সাথে দেশের রাজনীতিকরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে নয় নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করছেন। তারা হালুয়া-রুটির ভাগ খাওয়ার জন্য ক্ষমতায় যেতে চান। ফলে দেশে তথাকথিত গণতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র চলছে। বক্তারা বলেন, আমরা বিএনপির দূর্নীতি জেনেছি, এখন আওয়ামী লীগের দূর্নীতি দেখছি। দেশের অবাধ দূর্নীতি বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যেতো। সেমিনারে কোন কোন বক্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের দেশে ৮টি প্রদেশ করার প্রস্তাবের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ করা হলে দেশে দূর্নীতি কমবে। আবার কোন কোন বক্তা ৮টি প্রদেশ করার বিপক্ষে মতামত তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ। এই দেশকে বিভক্ত করা হলে সমস্যা বাড়বে।

সেমিনারে বক্তারা দেশের মানুষকে সুসংগঠিত করে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দূর্নীতমুক্ত, গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করে আরো বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সহজ নয়। আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ‘এক ব্যক্তি একবার বা দুইবারের বেশী প্রধানমন্ত্রী, একই সাথে সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানের সাথে দলীয় প্রধান, সরকার বা দলীয় প্রধানের কোন নিকট আত্বীয় সরকার বা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবেন না‘ এমন দাবী প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

সেমিনারে কোন কোন বক্তা দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ত্বারোপ করে বলেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে আমাদের সমস্যা ও সংকট চিহ্নিত করে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর নয়, চার বছর, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিয়মিত কাউন্সিল, হাততালি দিয়ে নয় ভোটের মাধ্যমে দলীয় নেতা নির্বাচন করতে হবে। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক কর্মকান্ড না থাকায় দলগুলো দেশের জনগণের সাথে দানবের মতো আচরণ করছে। বিগত ৪০ বছর ধরেই দেশে এই অবস্থা চলছে। তিনি বলেন, একদলের কাউন্সিলে ভোটাভুটি ছাড়াই হাত তালির মাধ্যমে মা-ছেলেকে আরেক দলের কাউন্সিলে আরেক নেত্রীকে দলীয় নেতা নির্বাচত করা হয়েছে। খালেদা-হাসিনা নিজেরাই দলের গঠনতন্ত্র আর রাষ্ট্রের সংবিধান মানছেন না। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ আর পতাকা পেয়েছি। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, গণতান্ত্রিক সমাজ আর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ফোরামের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV