
হরহামেশা কত কাজেই তো আমাদেরকে পিন নম্বর ব্যবহার করতে হয়। আর এই পিন নম্বর মন্দ কারও হাতে চলে যাওয়া মানেই নানা ক্ষতির আশঙ্কা। বিশেষ করে যেসব মানুষ তাদের এটিএম কার্ডের পিন নম্বরটি পরিবর্তন করে নিজের মতো করে সেটি বসিয়ে নেন তাদের জন্য এই পিন নম্বরটি মহা-মূল্যবানই বটে। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তাহলো ইন্টারনেট বা ওয়েবভিত্তিক অনেক পাসওয়ার্ডে যেখানে পাসওয়ার্ডকে দুর্বোধ্য করে তুলতে নানা ধরনের অক্ষর ও সংখ্যার মিশেল ঘটানো যায় এটিএম কার্ডের ক্ষেত্রে সেটি সম্ভব নয়। আর এটিএম-এর পাসওয়ার্ড বা পিন শুধুমাত্র সংখ্যা নির্ভর বলেই জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া মন্দ লোকদের জন্য এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড চুরি করাটাও সহজ হয়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি গ্রাহকদেরকে সচেতন করে দিতে মানুষের বহুল ব্যবহূত ও চুরি করা সহজ দশটি পিন নম্বরের কথা প্রকাশ করেছে ডাটা জেনেটিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বেশ অনেকদিন ধরে এটিএম কার্ডের পিন নম্বর নিয়ে গবেষণা চালানো এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের এক সমীক্ষার ফলাফল হিসেবে সবচেয়ে সহজ যে দশটি পিন নম্বরের কথা বলেছে সেগুলো হলো- ১২৩৪, ১১১১, ০০০০, ১২১২, ৭৭৭৭, ১০০৪, ২০০০, ৪৪৪৪, ২২২২ এবং ৬৯৬৯। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পিন নম্বর হলো ১২৩৪। আর গবেষণায় প্রাপ্ত সবচেয়ে কম ব্যবহূত পাসওয়ার্ড বা পিন নম্বরটি ছিল ৮০৬৮। ডাটা জেনেটিক্সের গবেষণায় আরও জানা যায় যে, অধিকাংশ এটিএম কার্ডের পিন নম্বরই এটিএম কার্ড চোরেরা কমবেশি বিশ বারের প্রচেষ্টায় বের করতে সক্ষম হয়। উল্লে¬খ্য, আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় দশ শতাংশ আমেরিকান ক্রেডিট কার্ড প্রতারণার শিকার হন এবং শতকরা সাত ভাগ ডেবিট কার্ড প্রতারণার সম্মুখীন হন। আর এভাবে ফি বছর প্রতারণার মাধ্যমে হাতবদল হয় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।ইত্তেফাক