
বাংলাদেশ : ১৬৮/৭ (২০.০ ওভারে) , জিম্বাবুয়ে : ১৩৪/৯ (২০.০ ওভারে) ,ফল : বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী। সিরিজের ফল : ১-১ বিশেষ সংবাদদাতা : এগিয়ে থেকে ওয়ানডে সিরিজ হেরে কি কষ্টই না পেয়েছিলেন মুশফিকুর। অভিমানে অধিনায়ক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পেছনে অনেকগুলো কারনের মধ্যে একটি ছিল টি-২০ সিরিজ জয়ে টিমমেটদের মধ্যে জিদ চাপিয়ে দেয়া। তাতেও কাজ হয়নি, প্রথম টি-২০ ম্যাচে হেরে মুখ লুকিয়ে যখন দেশে ফেরার শংকা ভর করেছে, তখন সান্ত¦না নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তনের উপায় খুঁজে পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। টেস্টের ট্রফিতে ভাগ বসাতে পেরেছেন, টি-২০ ট্রফিতেও বসিয়েছেন টেলরের সঙ্গে ভাগ। দু’দলের মধ্যে শক্তির তারতম্য নির্ণয় করতে সফরের শেষ ম্যাচকে যেনো একটু বেশিই বেছে নিয়েছিল মুশফিকুরের দল। স্পিন আক্রমণের পরিচিত চেহারা ফিরে পাওয়ায় শেষ ম্যাচে ৩৪ রানে জিতে বড় ভাই এর পরিচয় মেলে ধরতে পেরেছে মুশফিকুররা বুলাওয়েতে। জিম্বাবুয়ে সফরে হারিয়েছেন টেস্ট এবং ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান, টি-২০ সিরিজে নিজের চেনা ফর্মই যেনো ফিরে পেয়েছেন সাকিব। তার অল রাউন্ড পারফরমেন্সেই (২৮ বলে ৪০ রান এবং ৪/২২) বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জিততে পেরেছে। কাকতালীয়ই বটে, প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে করেছে ১৬৮, সিরিজের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশও একই স্কোর করেছে! অথচ, এই ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরটা আরো বড় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। প্রথম পাওয়ার প্লে পর্বে গতকালই আশ্বস্ত করতে পেরেছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৫৭/১, বড় স্কোরের সম্ভাবনাই জাগিয়ে তুলেছিল। ১০ ওভার পর্যন্ত ওভারপ্রতি গড় রান ১০, এমন সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও শেষ ৫ ওভার হতাশ করেছে বাংলাদেশকে। ৪২’র বেশি তুলতে পারেনি ওই ৫ ওভারে। বুলাওয়েতে যে উইকেট এতোদিন প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ, সেই উইকেটই পেয়েছে গতকাল। দু’দলই স্পিনে নির্ভর করেছে। জিম্বাবুয়ে শুরু করেছে স্পিন আক্রমণ দিয়ে, বাংলাদেশও তাই। ইনিংসের ৪র্থ বলে সামছুর রহমান শুভ সুইপ করতে যেয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসার পর বন্ধু তামীমের সঙ্গে ৪৯ বলে ৮২ রানের ঝড়ো পার্টনারশিপ,দু’জনের দারুণ বোঝাপড়ার পুরনো চিত্রই ফিরিয়ে এনেছে। ভিটরিকে মিড উইকেটে সিঙ্গল দিয়ে রানের খাতা খুলে সিংহি মাসাকাদজাকে পর পর তিনটি চার এ মাঠ মাতিয়েছেন সাকিব। ৮ রানের মাথায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন, ডিপ মিড উইকেটে বেঁচে যাওয়া ওই শটটি সিবান্দার হাত থেকে ফসকে ছক্কা! এতেই কপাল খুলেছে সাকিবের। মুসাঙ্গেরর ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ডিপ স্কোয়ার লেগে ধরা পড়ে নিজে শুধু ফিরে আসেননি, ছন্দ ফিরে পাওয়া ব্যাটসম্যান তামীমও বঞ্চিত হয়েছেন ফিফটি থেকে (৪৩)। ৫ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া তামীম পানিয়াঙ্গারাকে পর পর ২টি চার মেরে অন্যরকম এক দিনের আভাস দিয়েছিলেন, মুসাঙ্গেকে পর পর ২ বলে মিড উইকেটে চার এবং লং অনে ছক্কা মেরে উতসিয়ার বলে সেই লং অনে পড়েছেন ধরা। সাকিব,তামীমের ফিরে যাওয়ার পর মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জিং স্কোর নিয়ে যে দুর্ভাবনা বাসা বেধেছিল, তা কাটিয়েছেন নাসির-মমিনুল, ৬ষ্ঠ জুটিতে ২২ বলে ৩৬ রানের পার্টনারশিপে। তবে কৃতিত্বটা একক ভাবে দিতে হবে নাসিরকে, তার ২৭ রানেই সম্ভব হয়েছে তা। এই পুঁজি নিয়ে ম্যাচে হাসতে পেরেছে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সেরা দুই ব্যাটসম্যান মাসাকাদজা, টেলরকে ঝটপট ফিরিয়ে দেয়ায়। আগের ম্যাচের ম্যাচ উইনার মাসাকাদজাকে (২) প্রথম বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে। টেলরকে (১৫) ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাকিব প্রথম ওভারেই। সেট ব্যাটসম্যান সিবান্দাকে( ৩২) শফিউল ফিরিয়ে দিলে ম্যাচটা পুরোপুরি হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। টেস্টে উইকেট পেলেও রান খরচা করেছেন যথেষ্ট, ওয়ানডে ম্যাচে দেশ সেরা বোলার সাকিবকে সেভাবে চেনা যায়নি। ছন্দে ফিরেছেন শেষ ম্যাচে প্রথম স্পেলে টেলরকে ফিরিয়ে দেয়া সাকিবের শেষ স্পেলটি ছিল ভয়ংকর (২-০-৮-৩)। টি-২০ ক্যারিয়ারে ইতোপূর্বে তার একমাত্র ৪ উইকেটের ইনিংস ছিল ২০০৭এ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (৪/৩৪)। টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একমাত্র জয়ও সেই ম্যাচে। গতকাল তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ( ৪/২২)ও হাসল বাংলাদেশ। বাঁ হাতি স্পিনার রাজের সঙ্গে পাল্লাটা তার ভালই চলছে টি-২০তে। রাজ যেখানে ২৭ ম্যাচে ৩৮ উইকেট শিকার করেছেন, সেখানে ২৬ ম্যাচে সাকিবের উইকেট সংখ্যা ৩৩। গতকাল রাজ অবশ্য সাকিবের চেয়ে ইকোনমি বোলিং করেছেন, ২ উইকেটের বিপরীতে খরচা তার মাত্র ১৮ ! ঘোষণা অনুযায়ী এটাই মুশফিকুরের শেষ ক্যাপ্টেনসি। এমন ম্যাচে দলের জয়ে উচ্ছ্বসিত তিনিও। সান্তনার জয়ে দেশে ফেরার উপায় খুঁজে পেয়ে কৃতিত্ব দিয়েছেন পারফরমারদের-‘ টানা ৩ ম্যাচ (২টি ওয়ানডে, একটি টি-২০) হারের পর জয় পেলাম। এর জন্য অনেক কস্ট করতে হয়েছে। সবাই নিজেদেরকে মেলে ধরেছে এই ম্যাচে। বোলাররা অসাধারণ কাজ করেছে। ফিট সাকিব ছন্দ ফিরে পাওয়ায় এই জয়টি পেয়েছি।’ এই জয়ে বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিয়েছেন টেলর-‘সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের। আমরা আমাদেরকে নিয়ে আনন্দিত হতে পারি। কারন আজ আমরা তাদেরকে ১৬৮ রানে আটকে রাখতে পেরেছি।’ইনকিলাব