সামাল সামাল রব, লন্ডন আসছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিডিয়া সংস্থা নিউজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মার্ডক
ইউএসএ নিউজ ডেস্ক:গণ্ডগোল, বিস্তর গণ্ডগোল! এতটাই যে, বৃদ্ধ ‘ভগবান’ নিজেই ছুটে আসছেন লন্ডনে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিডিয়া সংস্থা ‘নিউজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রুপার্ট কিথ মার্ডক। মার্ডক-সাম্রাজ্য এতটা দুর্দিন এর আগে কখনও দেখেছে কি? বন্ধ করে দিতে হচ্ছে সর্বাধিক প্রচারিত ট্যাবলয়েড, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বৃটিশ স্কাই ব্রডকাস্টিং (বিস্কাইবি)-এর ৬১ শতাংশ শেয়ার দখলের সোনালি সম্ভাবনা, পুলিশি জেরা আর তদন্ত গ্রাস করতে চলেছে সংস্থার একের পর এক রাঘব বোয়ালকে। ‘ফোন-কেলেঙ্কারি’কে ইতিমধ্যেই কিন্তু ‘মার্ডকদের ওয়াটারগেট’ বলে বর্ণনা করা শুরু হয়ে গেছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গতকালই দু’ দু’টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ ঘোষণা করেছেন। একটি ফোনে আড়ি পাতা এবং পুলিশকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত, অন্যটি সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা সংক্রান্ত। তবে কি শেষ অবধি জেরার মুখে পড়তে হতে পারে খোদ মার্ডকদের?উদ্বেগ আর আশঙ্কায় দুলতে দুলতে লন্ডনে এ দিন শেষবারের মতো কর্মব্যস্ত নিউজরুম। তৈরি হচ্ছে রোববারের সংস্করণ। শেষ বার। মার্ডক-পুত্র জেমস তো বৃহস্পতিবারেই বলে দিয়েছেন, ‘নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ (এনওডব্লিউ) বন্ধ করে দিচ্ছেন তারা! খবর জোগাড় করার তাগিদে ফোনে আড়ি পাতা, পুলিশকে ঘুষ দেয়ার মতো মারাত্মক সব অভিযোগের আঁতুড়ঘর বৃটেনের এই পয়লা নম্বর রবিবাসরীয? ট্যাবলয়েডের নিউজরুমই তো! অভিযোগ, সেই সব কীর্তিকলাপ ধামাচাপা দিতে নাকি লাখ লাখ ই-মেল নথি এর মধ্যেই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে! কর্তৃপক্ষ অবশ্য তা মানছেন না। তাদের দাবি, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতাই করছেন তারা।অবশ্য এমন দাবি না করেই বা উপায়? কী? ইতিমধ্যেই পুলিশ আটকে দিয়েছে অফিসের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগ, ই-মেল অ্যাকাউন্ট। ২০০ কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। জট যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে, বৃটেনের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি, রাজনৈতিক কেষ্টবিষ্টু মায় রাজপরিবার সুদ্ধ জড়িয়ে গেছে।রুপার্ট কিথ মার্ডক। এএফপি এনওডব্লিউ-এর আডি পাতার জালে পড়েননি কে? প্রিন্স উইলিয়াম, অভিনেতা হিউ গ্রান্ট, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত বৃটিশ সেনাদের পরিবার, খুন হয়ে যাওয়াস্কুলছাত্রী…তালিকা অনন্ত। তথ্য বের করার জন্য পুলিশকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগ কার বিরুদ্ধে? কোন ছোটখাটো, অতি-বেপরোয়া রিপোর্টার নয়। গ্রেপ্তার হয়েছেন ট্যাবলয়েডের রাজপরিবার বিষয়ক বিভাগের প্রাক্তন সম্পাদক ক্লাইভ গুডম্যান। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন সম্পাদক অ্যান্ডি কুলসন, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের মুখ্য জনসংযোগ অফিসার হিসেবে এক সময় কাজ করেছেন যিনি। ২০০৭-এই রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠদের ফোনে আড়ি পাতার অপরাধ প্রমাণিত হয় কুলসনের অধীনস্থ এক রিপোর্টারের নামে। এনওডব্লিউ থেকে তখন ইস্তফা দেন কুলসন। তার পরেই তাকে নিয়োগ করেন ক্যামেরন। ক্যামেরন বলছেন, সিদ্ধান্তটা তারই ছিল, ভুল ছিল। ক্যামেরন এখন নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার খাতিরেই এই তদন্তে সর্বতোভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ নিচ্ছেন।আর মার্ডক? অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে একটি সংবাদপত্রের মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। বৃটেনে সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু করলেন ১৯৬৯-এ। প্রথমে ‘নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’, তারপর কিনলেন দৈনিক ‘দ্য সান’, তাকে দিলেন ট্যাবলয়েডের রূপ। ১৯৮১-তে ‘দ্য টাইমস’ এবং ‘সানডে টাইমস’ মার্ডকের দখলে এলো। ১৯৭৬ সালেই আমেরিকায় কেনা হয়েছে ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’। একে একে আসবে ‘টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফঙ’, শুরু হবে ২৪ ঘণ্টার কেবল-সংবাদ চ্যানেল ‘ফঙ নিউজ’। ‘ওয়াল স্টিট জার্নাল’-এর সিংহভাগও আসবে মার্ডকদের হাতে। বৃটেন এবং আমেরিকার রাজনীতি ও সংবাদ মাধ্যমে মার্ডকের সমতুল্য প্রভাবশালী আর কেউ ছিলেন না। আর, আজ মার্ডকের অন্যতম প্রিয় ‘সন্তান’ এনওডব্লিউ-কে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে মান বাঁচানোর তাড়নায়! আকস্মিক এই দুর্বিপাক ঘনিয়ে এলো কিসে?সংবাদ জগতের একটা বড় অংশ কিন্তু মনে করছে, এই দুর্বিপাক আসলে অমোঘ নিয়তি। রীতি-নীতির তোয়াক্কা না করে যেনতেন প্রকারে গরমাগরম মুচমুচে মসলাদার খবর পরিবেশনই ছিল মার্ডক-সাম্রাজ্যের তুরুপের তাস। খবরকে বিনোদনের মোড়কে হাজির করায় মার্ডকের জুড়ি ছিল না। সংবাদ মাধ্যমের একাংশের মতে, আজ নিজের জালেই নিজে জডিয়েছেন মার্ডক। সংবাদ সংগ্রহের তাড়নায় কোন কিছু পরোয়া না করে ক্রমাগত যেসব গর্ত খুঁড়ে গেছেন, আজ তারাই হাঁ করে তাকে গিলতে আসছে। বলা হচ্ছে, ‘এনওডব্লিউ’ নিজে আজ যে মাপের হেডলাইন হয়ে গেল, তত বড় খবর তারা নিজেরাও কোনও দিন ‘ব্রেক’ করতে পারেনি।উঁকি দিচ্ছে আর একটি সম্ভাবনাও। এনওডব্লিউ-এর অবসান কি এক অর্থে মার্ডক-সাম্রাজ্যের ভার রুপার্টের হাত থেকে জেমসের হাতে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত? কেউ কেউ বলছেন, সিদ্ধান্তটা চার মাস ধরেই ঝুলছিল। জেমস চাইছিলেন, কিছু কর্মী ছাঁটাই করে, কিছু টাকা জমিয়ে বিস্কাইবি-তে ঢালতে। তার মধ্যখানে এই ফোন-কেলেঙ্কারি মাথাচাড়া দেয়ায় তিনি তড়িঘড়িই সিদ্ধান্তটা ঘোষণা করে দিয়েছেন! ২০০৭ থেকে ফোন-কেলেঙ্কারি তাদের পিছু নিয়েছে। এনওডব্লিউ বন্ধ করে দিয়ে কি জেমস আদৌ ভাবমূর্তি বাঁচাতে পারবেন? লন্ডনের বাতাসে প্রশ্নগুলো ঘুরছে। সঙ্কটকালে জেমস কি আবির্ভূত হবেন নতুন ক্যাপ্টেন হিসেবে? অথবা থেকে যাবেন এক দাগি সন্তান হয়ে, যে শুধু জটিলতাই বাড়ায়? দিকনির্দেশ এখনও স্পষ্ট নয়। তাই বৃদ্ধ ‘ভগবান’ এবার নিজেই ছুটে আসছেন। লন্ডনে।
সূত্র : আনন্দবাজার,মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








