Saturday, 14 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

সিএনএনে অপারেশন হোপ: বাংলাদেশী শিশুর হৃদয়স্পর্শী কাহিনী ‘ফর্ম হরর টু হোপ: বয়’স মিরাকল রিকভারি ফর্ম ব্রুটাল অ্যাটাক’

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 111 বার

প্রকাশিত: December 8, 2012 | 12:44 PM

ডেস্ক: পিতার সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জের ধরে ছেলের ওপর প্রতিশোধ নিতে সাত বছরের এক শিশুকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করতে তার ওপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতকারী। তাদের নির্যাতনে অঙ্গহানি হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় বেঁচে গেলেও শরীরের বেশ কয়েক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বাংলাদেশে আর সারিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। ঘটনাক্রমে হামলার শিকার এ শিশুটিকে মার্কিন এক ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে জোর করে শিশুদের ভিক্ষা করতে বাধ্য করার মতো জঘন্য বিষয় ফুটে উঠেছে। সিএনএন এ বিষয়টি নিয়ে আজ ৮ই ডিসেম্বর বিকাল তিনটায় ‘অপারেশন হোপ’ নামের একটি অনুষ্ঠান সমপ্রচার করছে। নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটিকে নিয়ে গতকাল সিএনএন ওয়েবে ‘ফর্ম হরর টু হোপ: বয়’স মিরাকল রিকভারি ফর্ম ব্রুটাল অ্যাটাক’ শীর্ষক এক হৃদয়স্পর্শী রিপোর্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- তুই মরতে পারিস না! তুমি মরতে পারস না!- এভাবেই রক্তাক্ত, অঙ্গচ্ছেদ করা পুত্রকে কোলে নিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলছিলেন পিতা। ছুরিকাঘাতে চিরে যাওয়া পেট থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অসহায় পিতা হাত দিয়ে রক্তপাত বন্ধের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সন্তানকে রিকশায় করে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজধানী ঢাকার সরু অলি-গলির মধ্য দিয়ে মৃত্যুপথযাত্রী শিশুকে নিয়ে যেতে বাধ্য দরিদ্র পিতা। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ৪ দুর্বৃত্ত ৭ বছরের শিশু অক্ষয়কে (পরিবর্তিত নাম) চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলে। একটি ইট মেরে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। শিশুটিকে রাস্তায় শুইয়ে তার গলায় ধারালো ছুরি চালায়। আড়াআড়িভাবে চিরে ফেলে তার বুক ও পেট। নরপশুরা তাতেও ক্ষান্ত হয় না। শিশুটির গোপনাঙ্গ ও ডান অণ্ডকোষ কেটে ফেলে। এরপর চিরে ফেলে তার গলা। শিশুটি বেঁচে যাওয়ায় চিকিৎসকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক। শিশুটি সেদিন শুধু বেঁচেই যায়নি। আজ সে মামলার প্রধান সাক্ষী। ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করানোর বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে উপেক্ষিত। ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে ২ বছর আগে ২০১০ সালে। অক্ষয়ের শরীরে গভীর ক্ষতের চিহ্নগুলো স্পষ্ট। অন্ধকার হলে এখন বাইরে বেরোতে ভয় পায় অক্ষয়। রাতে চোখের দুটি পাতা এক হলেও, হঠাৎ দুঃস্বপ্ন দেখে আর্তচিৎকার করে ওঠে শিশুটি। পিতা আবেদ (পরিবর্তিত নাম) সন্তানকে বারবার অভয় দেন, আশ্বস্ত করেন। ২০১০ সালের শেষ দিকে হামলাটি হয়। ঈদের মাত্র দিন কয়েক আগে। ওই এলাকার তিন কিশোরের সঙ্গে বাড়ির বাইরে বের হয় অক্ষয়। তাকে আইসক্রিম খাওয়ানোর লোভ দেখায় তারা। এরপর একটি নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটতে থাকে। সন্দেহ হয় শিশু অক্ষয়ের। বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করে সে। কিন্তু পাড়ার একদল ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি গলিতে নিয়ে যায়। অক্ষয় বলতে থাকে, তারা আমাকে বেঁধে ফেলে ও বলে তারা আমাকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করবে। আমি তাদের বলি, আমি তোমাদের প্রত্যেককে চিনি ও আমার পিতাকে আমি সব বলে দেবো। ঠিক তখন এক দুর্বৃত্ত ইট নিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করে। সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায় অক্ষয়। এরপর যা ঘটে তা নিতান্তই বর্বরোচিত, লোমহর্ষক। ওই ৪ নরপিশাচ অক্ষয়কে মৃত মনে করে তাকে একটি গুদামের কাছে ফেলে চলে যায়। পরে ফিরে গিয়ে তারা অক্ষয়কে নদীতে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ৭ বছরের শিশু অক্ষয়ের মা সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পড়ে থাকা রক্তাত্ত সেই শিশুর চেহারাটা চিনতে কষ্ট হয়েছিল তার। শরীরে যত শক্তি ছিল সর্বস্ব দিয়ে পাগলপ্রায় মা অক্ষয়কে কোলে করে প্রধান সড়কের কাছে নিয়ে যান। কে আমার শিশুকে হত্যা করেছে বলে বিলাপ করতে থাকেন তিনি। এক প্রতিবেশী পিতা আবেদকে ঘটনার ইঙ্গিত দেন। ছুটে সেখানে পৌঁছান আবেদ। তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। নিজের সন্তানকে সুরক্ষা দিতে না পারার যন্ত্রণা বোধ হয় সবচেয়ে পীড়াদায়ক। ঢাকার ওই হাসপাতালে ৩ মাস চিকিৎসাধীন ছিল অক্ষয়। তারা তার ক্ষতগুলো সেলাই করে দেন। কিন্তু কাটা লিঙ্গ জোড়া দিতে পারেননি তারা। প্রসঙ্গক্রমে সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে ২০০৮ সালে অস্কার পাওয়া চলচ্চিত্র স্লামডগ মিলিয়নেয়ারের কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের মুম্বইয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে উপার্জন বাড়াতে একটি শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধ করে দেয়ার কাহিনী ওই চলচ্চিত্রের অন্যতম উপজীব্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ‘ভিক্ষুক মাফিয়া’দের দৌরাত্ম্য ও প্রভাব যে লাগামহীন তা স্পষ্ট। ভিক্ষুকদের গ্যাংগুলো শিশুদের অপহরণ করে ও তাদের চিরতরে পঙ্গু করে দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ দিনে ১ ডলারেরও কম উপার্জন করে ও তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা সেখানে বেশ শ্লথ। দারিদ্রের সীমা আকাশছোঁয়া। ২০১২ সালে ট্র্যাফিকিং ইন পার্সনস রিপোর্টে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার প্রথাকে বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ও তা প্রতিরোধে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ৭ বছরের শিশুর অঙ্গহানির এ ঘটনা ফলাও করে প্রকাশিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি সেখানে নিবদ্ধ হবে ও কর্মকর্তারা ভিক্ষাবৃত্তি ইস্যুতে নড়েচড়ে বসবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছে হতভাগ্য অসংখ্য শিশু। কিন্তু সেগুলো লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। অক্ষয়ের পিতা আবেদ যদি মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী এলিনা খানের সঙ্গে দেখা না করতেন, তাহলে এ ঘটনাটিও কারও নজরে আসতো না। আবেদ যখন পুলিশের কাছে রিপোর্ট লেখাতে যান, তখন জানতে পারেন আগেই রিপোর্ট লেখানো হয়ে গেছে। অক্ষয়ের চাচা বলে পরিচয় দেয়া একজন পুলিশকে বলেছিলেন, মাঠে খেলার সময় অপর দুই বালকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে অক্ষয়। পরে সেটাই ঘৃণ্য রূপ নেয়। শিশুটির পিতা এমন মনগড়া বর্ণনাকে চ্যালেঞ্জ করেন। কিন্তু তার কথায় কান দেয়নি পুলিশ। এক বিচারকের কাছে গিয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সেখানেও তাকে পুলিশের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেয়া হয়। আদালতেই বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এলিনা খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আবেদের। তিনি এগিয়ে এলেন। প্রথমেই তিনি যে কাজটি করলেন, তা হলো সবার সামনে বিষয়টি তুলে ধরা। স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশনে যোগাযোগ করলেন তিনি। মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেলেন তিনি। কর্তৃপক্ষকে একটি তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কয়েকদিনের মধ্যে র‌্যাব ৫ সন্দেহভাজন দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করে ও তাদের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ আনে। টেলিভিশন চ্যানেলের সামনে দেয়া স্বীকারোক্তিতে সে অক্ষয়ের মাথায় ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করার কথা বলে। এরপর একে একে তার সহযোগী হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে সে। সে বলে, আমি তাকে মাথায় আঘাত করার পর সে মাটিতে পড়ে যায়। তারপর একজন তার গোপনাঙ্গ কাটতে বলে ও আমি তা কেটে ফেলি। এরপর আরেকজন তার বুক ও পেট চিরে ফেলে। তৃতীয় একজন তার মাথা ধরে গলা চিরে ফেলে। কেন এমনটা ঘটলো? চায়ের দোকানে এক দুষ্কৃতকারীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন আবেদ। তিনি জানান, সে আমাকে বলে কি ঘটে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করো। আমি তোমার ছেলেকে নিয়ে যাব ও আমার জন্য কাজ করতে বাধ্য করাবো। কর্তৃপক্ষ ওই গ্যাংয়ের আরও ৪ সদস্যকে ধরতে অভিযান শুরু করে। এদিকে যে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো অক্ষয়ের ঘটনা টেলিভিশনে সমপ্রচার করেছিল সেগুলোর মধ্যে সিএনএনও ছিল। সিএনএনে ঘটনাটি দেখেছিলেন ওহাইয়োর এক ব্যবসায়ী অ্যারাম কোভাচ। অনুষ্ঠান দেখার কয়েকদিন পর কোচাভ সিএনএনকে একটি ইমেইল পাঠিয়ে এ ব্যাপারে তার সহেযোগিতার কথা জানান। এভাবে তিনি ও তার স্ত্রী অসহায় এ পরিবারটির সহায়তায় এগিয়ে আসেন। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অক্ষয়ের মূত্রনালি বহাল রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। মূত্রত্যাগের ব্যবস্থার জন্য যে অস্ত্রোপচার দরকার সে ধরনের বিশেষ অস্ত্রোপচার বাংলাদেশে সম্ভব নয়। কিন্তু তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ছিল। সরকার কি নিরাপত্তা হেফাজত থেকে এ ধরণের অস্ত্রোপচারের জন্য বের হতে দেবে কিনা? কোথায় তাকে এ ধরনের অস্ত্রোপচার করা হবে? এ জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসকদের ব্যবস্থা কে করবেন?  আর সব ব্যবস্থা হয়ে গেলেও এতে খরচ কেমন হতে পারে? এ সব সমস্যার সময় এগিয়ে আসেন কোভাচের স্ত্রী ব্রাঙ্কা। অক্ষয়ের চিকিৎসার জন্য সিএনএন মেরিল্যান্ডে জন হপকিন্স চিলড্রেন’স সেন্টারের প্যাডিয়াট্রিক ইউরোলজির বিভাগের পরিচালক জন গেয়ারহার্টের শরণাপন্ন হয়। তিনি আরও এমন বেশ কয়েকজন সমমনা বিশেষজ্ঞকে তাদের সময় দেয়ার জন্য রাজি করান। চিকিৎসক প্যানেল রাজি হওয়ার পর সব কাজই বেশ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল কোভাচ দম্পতির কারণে। কাতার এয়ার ওয়েজ অক্ষয়কে বিনা ভাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের কর্মকর্তারা। আর কোচাভ অক্ষয়ের পরিবারের বাকি খরচ মেটাতে সম্মতি দেন। এরপর এক বিকালে আবেদ তার সন্তান ও আদালতের নিয়োগ করা অভিভাবক এলিনা খানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গিয়ে আবেদনের মনের শঙ্কা দূর হয় না। তিনি কেবলই ভাবতেন তার সন্তান কি কখনও সন্তানের বাবা হতে পারবে? অক্ষয়কে অস্ত্রোপচারের আগে তিনি এ প্রশ্নই ডাক্তারদেরকে করেছিলেন। এর জবাবে ডাক্তাররা তাকে জানিয়েছিল বিষয়টি এখনও বলা যাচ্ছে না। অক্ষয়ের সমস্যার অস্ত্রোপচারের বিষয়টি কোন বইয়ে নির্দেশনা মেনে করা সম্ভব হচ্ছে না। ডাক্তারদের বিচক্ষণতার ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করে। ডাক্তাররা আবেদকে জানিয়েছিলেন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তারা অক্ষয়ের কনুই এবং কব্জির মধ্যবর্তী স্থান থেকে টিস্যু নিয়ে সেটাকে জননেন্দ্রীয় হিসেবে স্থাপন করবেন। তবে এক্ষত্রে সবচেয়ে হতাশার বিষয় হচ্ছে সে কখনও সন্তানের বাবা হতে পারবে না। পরিণত বয়সে এজন্য তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এ জন্য আরেকটি ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন। এরপরও অক্ষয়কে সন্তানের বাবা হতে হলে প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। এ খবরে হতাশ হয়ে পড়েন আবেদ। তিনি ভেবেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা শেষে অক্ষয় একেবারে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু এখন তিনি দেখছেন সেটা হচ্ছে না। ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী বাস্তবতার কারণেই আবার তার সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইমপ্ল্যান্ট করা সম্ভব হবে না। অস্ত্রোপচারের দিন বেশ সাহসিকতা নিয়ে অক্ষয় আট থেকে ১০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে ঢোকে। বাইরে অপেক্ষায় থাকে ভীত-সন্ত্রস্ত আবেদ। অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তাররা হঠাৎ যেন আশার আলো দেখতে পান। নির্যাতনের পর জনেন্দ্রীয়ের কিছু অংশ অক্ষয়ের শরীরের ভেতরের অংশে অবশিষ্ট ছিল। সেটাকে তারা বাইরে এনে সেটা দিয়েই নতুন করে অক্ষয়ের জনন্দ্রীয় তৈরি করতে সক্ষম হন। এটি অনুভূতিপ্রবণ হওয়ায় অক্ষয়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সে সন্তানের বাবাও হতে পারবে। ১০ ঘণ্টার বদলে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সমগ্র প্রক্রিয়াটি শেষ করা সম্ভব হয়। এতে নতুন করে আশার আলো জেগে ওঠে অক্ষয়ের বাবা আবেদের চোখে। শিশুরা বেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্তায় ফিরে আসতে সক্ষম। অক্ষয়ও বেশ দ্রুত সেরে উঠছিল। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে আরও তিন সপ্তাহ রাখা হয়। অক্ষয়কে যে কোন ধরনের কায়িক শ্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এলিনা খান চাইছেন অক্ষয়কে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। অক্ষয়কে নিয়ে একই ধরনের স্বপ্ন দেখেন কোভাচ দম্পতি। তাই তারা অক্ষয়ের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে একটি তহবিল করার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের আগে অক্ষয়কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বড় হয়ে সে কি হবে? এতদিন সে বড় হয়ে র‌্যাব সদস্য হতে চাইলেও এবার সে বলেছে বড় হয়ে সে ডাক্তার হবে। মানুষের সেবা করার জন্যই সে ডাক্তার হবে উল্লেখ করে অক্ষয় বলেছে, সেবা করে মানুষের কাছ থেকে সে কোন অর্থ নেবে না। তার কথা শুনে হাসপাতালের এক স্টাফ বলেছেন, একদিন হয়তো ডাক্তার হয়ে অক্ষয়ই ফিরে আসবে জনস হপকিন্সে। এমন হলে সেটা হবে আসলেই মিরাকল। এর জবাবে অক্ষয়ের বাবা আবেদ বলেছেন, আসলে তার সন্তানের চিকিৎসার সম্পূর্ণ বিষয়টিই মিরাকলে পূর্ণ। এক্ষেত্রে আরেকটি মিরাকল যে ঘটবে না সেটা কে বলতে পারে?মানবজমিন

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV