Tuesday, 9 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

সিলেটের দুই কিংবদন্তী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 183 বার

প্রকাশিত: January 29, 2020 | 1:46 PM

বদরুল আলম : সিলেটের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিবার হিসেবে জানি মুক্তিযোদ্ধা ডা: তোফাজ্জল আলীর পরিবার। আমরা যাকে বলি’আইডল ফ্যামিলি’। মা মিসেস রহিমা আলী আদশর্ মা হিসেবে সুনাম অনেক শুনেছি। রত্নাগভর্া মা হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছেন । ভূষিত হয়েছেন নানা খেতাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য প্রতিষ্ঠিত এবং সফল। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সবাই প্রশংসার দাবীদার। খ্যাতির দৌড়ে কেউ পিছিয়ে ও নেই। সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে এই পরিবারের আত্মীয়তা ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। আমরা অহংকার করে এই পরিবারের কথা বলি। খবরের কাগজে এই সফল মানুষের কথা লিখে গর্ববোধ করি। 

এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন ড.আহমদ আল কবির।  ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সিলেটের অন্যতম আলোকিত পরিবারের সন্তান । মেধা বা যোগ্যতা ছাড়া দলের জন্য মাঠে ঘাটে রাজপথে জীবন যৌবন উৎসর্গ করে শীর্ষে যাওয়ার দিন বাস্তবতার আলোকেই ফুরিয়ে আসছে। অসম্ভব মেধাবী এক মানুষ তিনি। সরকারের বিভিন্ন দ্বায়িত্ব পালন করে ইত:পূবর্ে বেশ সুনাম কুডিয়েছেন। “আনন্দভুবন” পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে ( ১ সেপ্টেম্বর ,২০১০ ) জানতে চাওয়া হয়েছিল, স্যার আপনার জন্ম এবং বেড়ে উঠার কথা বলেন। শুনা যাক স্যারের জবানিতে-“আমার জন্ম সিলেটের জকিগঞ্জে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ইছামতি হাইস্কুল থেকে লেটারমার্কসসহ ম্যাট্রিক পাশ করি। আমিই আমার স্কুলে প্রথম লেটার মার্কসসহ ম্যাট্রিক পাশ করি। তারপর ভতর্ি হই সিলেটের মুরারীচাঁদ কলেজে। আসলে আমার কথা বলতে গেলে আগে আমার পরিবারের কথা বলতে হয়। কারণ আমাদের পরিবার বিশেষ করে আমার বাবা ও মা ছিলেন স্বাধীনচেতা মুক্তমনের মানুষ । বাবার কাছ থেকে আমি এমন কিছু গুণ  পেয়েছি যা আমার চলার পথে এখনো সহায়ক।”
১৯৭১ সালে ড. কবির একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্যে। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ বর্নাঢ্যময়। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন।  ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনের সর্ব দলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জকিগঞ্জ উপজেলার আহবায়ক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সামরিক আদালতে যে কয়েকজনের বিচার হয় তার মধ্যে ড. আহমদ আল কবির অন্যতম একজন।  ১৯৭১ সালে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘটিত করেন এবংশিলচরের লোহারবন্দ এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে এসে সরাসরি মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।  ড. আহমদ আল কবির স্যারের পিতা ডা: তোফাজ্জল আলী মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় পাকিস্তানের সরকারি চাকুরী ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধার সংঘঠক হিসাবে কাজ করেণ এবং ২১ নভেম্বর জকিগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর জকিগঞ্জে স্বাস্থ্য প্রসাসকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের এম সি কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ১৯৭২ সালে গঠিত সর্ব দলীয় ছাত্র পরিষদের যুগ্ন সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সর্ব প্রথম সিলেটে  এম সি কলেজে যে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ সভা (পুকুর পাড়ে) ও মিছিলে  নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, ও দিলদার হোসেন সেলিম (বর্তমান বি এন পি নেতা) । জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের বতর্মান সাংসদ আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মুজুমদার এর চার বার নির্বাচনি সমন্নয়কের দ্বায়িত্ব পালন করেন ড. আহমদ আল কবির ও আলহাজ্ব লোকমান উদ্দীন চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ । ২০০৮ এর আওয়ামীলীগের নির্বাচনি ইসতেহারে ভিশন ২০২১ এর অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত এর নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনা কমিটির অর্থনীতিবিদ হিসেবে সদস্য ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত ও ড. আহমদ আল কবির।  ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা ,ভ্যাকসিন হিরো মাননীয় শেখ হাসিনা ,ড. আহমদ আল কবির স্যারকে রুপালী ব্যাংক এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেন। ২০১২ সালে বংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন । ২০২০ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় শেখ হাসিনা ,ড.আহমদ আল কবির স্যারকে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ‘র সিনেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ দান করেন।  আজ পযর্ন্ত দেশের উন্নয়নের নিমিত্তে বঙ্গঁবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জাতীর জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজে নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বরেণ্য অথর্নীতিবিদ কে আগামী বাংলাদেশের একজন স্বাপ্নিক অথর্মন্ত্রী হিসেবে নিবর্াচিত করে আমাদের চিরকৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ রাখবেন। 
 একই পরিবারের সহোদর ড.আহমদ আল ওয়ালী। ( কানাডা’র স্থায়ী নাগরিক হওয়া সত্তেও নিয়মিত থাকছেন বাংলাদেশে ) । ১১ অক্টোবর ১৯৭০ সালে এই সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই খ্যাতিমান প্রিয় মানুষ। ইছামতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশুনার শুরু। ১৯৮৮ সালে তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা থেকে কৃতিত্বের সাথে কলেজ জীবন সমাপ্ত করেন। ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে বিদেশে পাড়ি জমান। ২০০৮ সালে কৃতিত্বের সাথে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। খ্যাতিমান এই মানুষটি “RTM International Ltd. এর Managing Director & CEO এবং SHIMANTIK এর President হিসেবে কৃতিত্বের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আমাদের কাছে নিজ পরিচয়ে পরিচিত । বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত এই খ্যাতিমান মানুষটি একজন শ্রেষ্ঠ অন্যতম সংগঠক। সমাজসেবক হিসেবে যার সুনামের কোন কমতি নেই। নিভৃতচারী ড.আহমদ আল ওয়ালী সমাজে অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করে চলছেন নিরবে। বেশ প্রশংসনীয় । গণ-মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা করে। এই পরিবারের জন্যও বিনম্র শ্রদ্ধা। 
“সীমান্তিক”সিলেটের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত এক নাম। উল্লেখ্য, দেশের বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা সীমান্তিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র বিমোচন ও মানব উন্নয়নসহ দেশের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে ছয়টি খাতে কাজ করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, সচেতনতা এবং পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। কবির স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই সংস্থা। অসাধারণ শক্তিশালী এবং প্রশংসনীয় ভুমিকা রেখে চলেছেন ড.আহমেদ আল ওয়ালী স্যার ।  ‘Life Member’ হিসেবে কাজ করছেন নিরবে। অত্যন্ত সজ্জন এই মানুষটি দেশ প্রেমের এক জ্বলন্ত প্রমাণ ও বটে। কানাডায় আস্তা প্রতিষ্টিত এই প্রিয় মানুষ দেশের স্বাস্থ্য খাতে ভুমিকা  রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আপনাদের দ্বারা আমরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছি। জকিগঞ্জ-কানাইঘাট’র মানুষের আস্থার ঠিকানা আপনারা-ই  । প্রিয় দুই স্যারের জন্য সীমাহীন ভলোবাসা। খুব ফ্রাংকলি বলি, ভালোবাসি স্যার । আপনাদের স্যালুট।।

– লেখক: বদরুল আলম

গবেষক ও প্রভাষক, তাজপুর ডিগ্রি কলেজ। সিলেট।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV