Thursday, 11 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
সব ক্যাটাগরি

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে মুক্তিযুদ্ধের ১২ নং সেক্টর ঘোষনা করার দাবী নিউইয়র্কের গাঙচিল আসরের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 36 বার

প্রকাশিত: December 7, 2019 | 7:48 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : প্রবাসের অন্যতম সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক সংগঠন গাঙচিল সাহিত সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজিত ১০৪তম নিয়মিত আসরটি মহান বিজয় দিবসের উপর অনুষ্ঠিত হয়। গত ১লা ডিসেম্বর এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড: প্রদীপ রঞ্জন কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড: এস আই শেলী। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি নিখিল কুমার রায়। বিজয় দিবসের উপর আলোচনা করেন গাঙচিল এর প্রধান উপদেষ্টা মো: আখতার হোসেন, লিয়াকত হোসেন, এলিজা বাহার, এমাদ উদ্দীন এবং প্রবীর গুন। কবিতা পাঠ করেন: মমতাজ বেগম আলো, নিখিল কুমার রায়, মো: ইউসুফ আলী, লুৎফুন নেসা, কানিজ আয়শা, জালালুদ্দীন জলিল, এস আলম এবং শাহীন মহাজন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গাঙচিল এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাট্যকার ও কবি খান শওকত। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১টি সেক্টর রয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে ১২ নং সেক্টরের মর্যাদা প্রদান এর দাবী জানানো হয় এ আসর থেকে। আসরে খান শওকত রচিত ৪০টি নাটকের গ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র’ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথি ড: প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন: জনশ্রুতি আছে জিয়াকে ডিঙ্গীয়ে শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান করায় বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৯ দিন পর ১৯৭৫ এর ২৪ আগষ্ট তারিখে জিয়াকে সেনা প্রধান করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ১৯৭৪ সালে কুমিল¬া সেনা-নিবাসে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় ২২ জন সেনা-সদস্যকে চাকুরী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টে তারাই ঘটিয়েছিলো নারকীয় হত্যাকান্ড। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারী ১৭জন সেনা কর্মকর্তাকে ১৯৭৫ এর ৩রা নভেম্বরে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ দেয়া হয় মোশতাক আমলে। ১৯৭৭ এর মে মাসে মেজর নূর চৌধূরী, মেজর ডালিম, মেজর শাহরিয়ার, মেজর রাশেদ চৌধূরী সহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদেরকে সেনা-বাহিনীর চাকুরীতে ফিরিয়ে আনা হয় জিয়া আমলে। বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধের জন্য ১৯৭৯ সালের ৯ই জুলাই তারিখে ইনডেমনিটি বিলটি সংবিধানে সংযুক্ত করা হয় জিয়া আমলে। অশান্ত সময়ের সেনা রাজনীতির এমন অনেক অজানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে খান শওকত রচিত ৪০টি নাটকের গ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র’ নাটকে। ১৯৭৫ এর পর দীর্ঘ ২১ বছর এদেশে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলার সুযোগ ছিলোনা। ১৯৯৬ সালে যাদের বয়স ৩০ এর নীচে ছিলো, তারা ইতিহাসের অনেক সত্য বিষয় জানবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এজন্য নতুন প্রজন্মের সামনে এ নাটকগুলো তুলে ধরা দরকার।

বিশেষ অতিথি ড: এস আই শেলী বলেন: বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতোনা। তার ঋন আমরা কোনদিনই শোধ করতে পারবোনা। তার মতো বিশ্বনন্দিত নেতাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে বা জেলখানায় আটকে রেখে, কারো পক্ষেই নির্বিঘেœ দেশ পরিচালনা সম্ভব ছিলনা। তাই নিজেদেরকে রক্ষার জন্যই ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
গাঙচিল এর প্রধান উপদেষ্টা মো: আখতার হোসেন বলেন: বাকশাল চালু হয়ে গেলে বঙ্গবন্ধুকে এভাবে হত্যা করা সম্ভব হতোনা। কারন দেশের মানুষ বিনামূল্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানসহ সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে গেলে তাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বললে কাজ হতোনা। তাই, বাকশাল চালু হওয়ার আগেই খুনীচক্র বঙ্গবন্ধুকে এবং জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং বাকশাল সম্পর্কে মিথ্যা কুৎসা প্রচার করে।
গাঙচিল এর সভাপতি কবি নিখিল কুমার রায় বলেন: বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রচুর কবিতা-গান-প্রবন্ধ রচিত হয়েছে কিন্তু তাকে নিয়ে তথ্যভিত্তিক নাটক খুব একটা রচিত হয়নি। কারন তাকে নিয়ে নাটক রচনা এবং মঞ্চায়ন অতটা সহজ নয়। বিষয়টা লেখকের জীবনের জন্য হুমকী স্বরূপ হতে পারে। সাহসী নাট্যকার খান শওকতকে অভিনন্দন।

গাঙচিল এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাট্যকার খান শওকত বলেন: ১৯৮৫ থেকে ২০১৯, দীর্ঘ ২৪ বছরের ধারাবাহিক কষ্টের ফসল আমার এ নাট্যগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র’। এটি ইতিহাস আশ্রিত নাটকের গ্রন্থ। নাটকে বিশুদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরা যায়না। এতে কল্পনা, আবেগ, কাব্য, সাহিত্য ও অভিনয় তুলে ধরতে হয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: “কাব্য হিসাবে সর্বাঙ্গ সুন্দর করিতে হইলে সমগ্র ইতিহাসকে অবিকৃতভাবে গ্রহণ করা যায় না। নাটক ইতিহাস নয়, নাটক সাহিত্য। সাহিত্যের সত্য আর ইতিহাসের সত্য এক নয়”। আমার নাটকগুলিও সেই একই নিয়মে রচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে কল্পনা মিলিয়ে কিছু সত্য চরিত্র ও কিছু কাল্পনিক চরিত্র এনে এ নাটকগুলো রচিত হয়েছে।

দর্শকরা মুগ্ধ চিত্তে পিন-পতন নীরবতায় আলোচনা উপভোগ করেন এবং করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করেন। সবশেষে সভাপতি কবি নিখিল কুমার রায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। বরাবরের মতো প্রতিমাসের ১ম রোববার হিসেবে ১০৫তম আসরটি আগামী ৫ই জানুয়ারী ৫ ঘটিকায় গাঙচিল কার্য্যালয়ে (৭১-২৪ রুজাভেল্ট এভিন্যু, দোতলা) অনুষ্ঠিত হবে। এবিষয়ে আগ্রহীদের ৯১৭-৮৩৪-৮৫৬৬, ৩৪৭-৮১৯৫৬২৯ অথবা ৩৪৭-৪৭১-৭৫৮৯ নং এ যোগাযোগের আহবান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV