স্মৃতিতর্পণ : ‘হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের চরিত্র’

ভিকারুননিসা নূন কলেজে ভর্তির সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পেছনে দাঁড়ানো মেয়েটি আমার নাম জিজ্ঞাসা করল। বললাম, ‘অপলা হায়দার।’ শুনে ও বলল: ‘বাহ্, সুন্দর তো! হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের চরিত্রের নাম! তোমার মা কি তাঁর বই পড়ে তোমার নাম রেখেছেন?’ আমি উত্তরে হেসে বললাম: ‘নাহ্, তিনিই আমার নামটা তাঁর বইয়ে ব্যবহার করেছেন।’ অচেনা মেয়েটি আমার কথাটা ঠাট্টা ভেবে বলল, ‘ভালোই বলেছ!’ বাস্তব কিন্তু তাই! আমার মা বাংলার শিক্ষক দেখেই আমাদের তিন বোনের নাম বাংলায় রেখেছে। আমার অপলা নামটি বড় মামার অনেক ভালো লাগত, তাই হয়তো তার বইয়ের চরিত্রের নাম দিয়েছে অপলা। এই নাম নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলেই আমি হাসিমুখে এই উত্তরটি দিই। সবাই ভাবে মজা করছি। আমরা যখন ছোট তখন কিছু হলেই বড় মামা আমাদের সবাইকে ঘুরতে নিয়ে যেত। কখনো গাড়ি কখনো বা বাসে আমরা যেতাম। গাড়িতে উঠলেই আমার বমি পেয়ে যেত। কখনো কখনো বমিও করে ফেলতাম। বড় মামা একদিন বের করল আমার ডাক নামটার জন্যই আমি বমি করি। ‘যেহেতু নাম অমি, তাই করি বমি!’ ছোটবেলা থেকেই দেখতাম, বড় মামাকে কেউ দেখলেই ছবি তোলে, অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমার তখন রীতিমতো হাসি পেত…ভাবতাম নিজের মামার আবার অটোগ্রাফ নেব কী, ছবি তোলারও বা কী আছে! আর আজ সেই আমি ব্যাকুল হয়ে খুঁজি বড় মামার সঙ্গে আমার একা কোনো ছবি আছে কি না…কই সব তো গ্রুপ ছবি! একটা ছবিও নেই কেন? বড় মামা যখন ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় মা তখন প্রায়ই জিজ্ঞাসা করত, ‘দাদা ভাই ভালো হয়ে যাবে, তাই না?’ প্রশ্নটার মাঝেই উত্তর থাকত। আমি তবু বলতাম, ‘বড় মামার ক্যানসারের চিকিৎসা সবচেয়ে দামি জায়গাতে হচ্ছে, বডি কেমোথেরাপি নিতে পারছে, কাজেই সুস্থ হয়ে আসবেই।’ বড় মামা যেদিন চলে গেল সেই ১৯ জুলাই রাতে, মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল: ‘তুমি না বলেছিলে দাদা ভাই ঠিক হয়ে যাবে?’ আচ্ছা, আমি এর উত্তরে কী বলব? আসলেই তো! কখনো ভুলেও যে মনে হয়নি বড় মামা আর আসবে না…তা হলে এমন কেন হলো? বড় মামার মরদেহ যেদিন দেশে আনা হলো, আমরা সবাই বারডেমে দেখতে গেলাম। হিমঘরে ট্রেতে কাফনের কাপড় পরা বড় মামা শুয়ে আছে। কী অবলীলায় আমি কাফনের কাপড় শব্দটা লিখলাম! বড় মামার মুখটা খুলে দেওয়া হলো…আমার সেই বড় মামা!! পরিষ্কার, নিটল একটা মুখ। আমরা সবাই কাঁদছি। এত কষ্ট ঈশ্বর আমাদের জন্য রেখেছিল? আমরা সবাই ঘিরে বড় মামাকে দেখছি। আমার মনে হলো, এখনই বড় মামা তাঁর স্বভাবমতো কপাল কুঁচকে বলে উঠবে, ‘কী হলো সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে কেন?’ কই এমন কিছু তো হলো না…কেন হলো না? নানু বড় মামার গালে গাল লাগিয়ে কাঁদছেন, শীলা আপু কপালে চুমু খাচ্ছে, মা, শাহীন মামা সবাই বড় মামার হাত-পা ছুঁয়ে দেখছে আর আমরা সবাই আমাদের প্রিয় মামাকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখছি…। আমি বড় মামার পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। বিয়ের পর যখন বড় মামার সঙ্গে দেখা হয়েছিল তখন করেছিলাম, আর সেদিন শেষ সালাম করলাম! এই শেষ আমাদের বড় মামার সঙ্গে দেখা? আর কোনোদিন বড় মামা আমাদের সবাইকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাবে না? আর কোনোদিন লটারি হবে না? আর কোনোদিন ঈদে ডাবল সালামি পেয়ে আমরা বিজয়ের হাসি হাসব না?…আচ্ছা এমন কেন হলো? ও বড় মামা, আমরা যে প্রতিনিয়ত তোমাকে মিস করি তুমি বোঝ? নানু যে ড্রয়িংরুমের তোমার ছবি জড়িয়ে ধরে রোজ কাঁদে তুমি টের পাও? মা যে তোমার কথা সারা দিন মনে করে তা বুঝতে পার? এত তাড়াতাড়ি তুমি কেন চলে গেলে বড় মামা? অপলা হায়দার: হুমায়ূন আহমেদের ভাগনি।প্রথম আলো
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests