হজ্বযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা

আলহাজ্ব মোহম্মদ হাবীবুর রহমান শুক্রাবাদী: ইসলাম ধর্ম যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—হজ্ব এর অন্যতম একটি। সংসার চালানোর পর মুসলমানদের মধ্যে যার মক্কা-মোয়াজ্জমায় আসা-যাওয়ার খরচ বহন করার সামর্থ্য আছে তার জন্য হজ্ব করা ফরজ। হজ্ব জীবনে একবার মাত্র ফরজ। আর এ ইবাদতটি অত্যন্ত কঠিন এ জন্য যে, এটি পালন করতে শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক অবস্থা একসঙ্গে জড়িত বলে। তাছাড়া মক্কা-মোয়াজ্জমা ৩ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত হওয়ায় আসা-যাওয়ার বিড়ম্বনা তো আছেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন ‘মানুষের উপরে আল্লাহর অধিকার রহিয়াছে যে, যাহারা তাঁহার ঘর পর্যন্ত পৌঁছাবার সামর্থ্য রাখে তাহারা যেন উহার হজ্ব পালন করে’। ৮ জিলহজ্ব যে দিনটির জন্য ব্যাকুল হয়ে মক্কা-মোয়াজ্জমায় অবস্থান করছেন—সেই হজ্বের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। এ জন্য ৮ জিলহজ্ব বাদ মাগরিব পূর্বের ন্যায় ক্ষৌরকর্মসম্পন্ন করে উত্তমরূপে গোসল করবেন। অতঃপর হজ্বের ইহরাম বাঁধার জন্য সেলাইবিহীন একটি সাদা লুঙ্গি পরিধান করে এবং একটি চাদর গায়ে জড়িয়ে মসজিদুল হারামে গিয়ে এশার নামাজ আদায় করবেন। এশার পুরো নামাজ আদায় করার পর পূর্বের ন্যায় ইহরামের দুই রাকায়াত সুন্নত নামাজ আদায় করবেন। এই নামাজেও পূর্বের ন্যায় কুলইয়া এবং কুলহু আল্লাহ মিলিয়ে পড়বেন। এ নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে হজ্বের নিয়ত করবেন এবং বলবেন লাব্বায়েকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক—লাব্বায়েকা লা-শারীকা লাকা লাব্বায়েক-ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা-লাকা ওয়াল মুলক-লা শারীকা লাক।
এখন থেকে সারাক্ষণ এই তালবিয়া মন দিয়ে জোরে জোরে পড়তে থাকবেন। এক্ষণে আপনার হজ্বের ইহরাম বাঁধা হয়ে গেল। ঘরে ফিরে এসে মুয়াল্লিমের নির্ধারিত ব্যবস্থায় মিনা গমন করুন। ৮ জিলহজ্ব মিনায় কোন নির্ধারিত কাজ নেই। খাওয়া-দাওয়া করবেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। সম্ভব হলে জামরা অর্থাত্ শয়তানকে কঙ্কর মারার স্থানগুলো দেখে নিবেন। কারণ স্থানগুলো এখন আর পূর্বের ন্যায় খোলামেলা নেই। হাজিদের সুবিধার্থে সৌদি সরকার হাজার হাজার কোটি রিয়াল ব্যয় করে চলন্ত সিঁড়ি, অত্যাধুনিক বহুতল দালান, শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভগুলোকে বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড বা নৌকার পালের মত বড় করে দিয়েছেন। কঙ্কর মারতে গিয়ে এখন আর হুড়াহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে অথবা ফ্লাইওভারের রেলিং ভেঙ্গে পড়ে মৃত্যু তো দূরের কথা—এখন হাজিদের গায়ে গায়ে লাগার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। ৯ জিলহজ্ব ফজরের নামাজের পরপরই আইয়্যামে তাশরিক শুরু। অর্থাত্ তকবীরে তাশরিক। ফজরের ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ হাজিগণ উচ্চৈঃস্বরে ও মহিলা হাজিগণ মনে মনে তিনবার :আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার— লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার— ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এখন থেকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে ৩ বার তকবীরে তাশরিক ও পরে তিনবার তালবিয়া পাঠ করবেন। অতঃপর মোয়াল্লিমের ব্যবস্থাপনায় আরাফাতে গমন করবেন।
হজ্বের প্রধান রোকন :অকুফে আরাফা বা হজ্ব:৯ জিলহজ্ব অকুফে আরাফার সময় হলো যোহরের নামাজের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। মূলত হজ্ব বলতে এই অকুফে আরাফাকেই বুঝায়। এখানে নিজ নিজ তাঁবুতে আযান একামতসহ জামায়াতে যোহরের নামাজ আদায় করবেন। যোহরের নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ হাজিগণ দাঁড়িয়ে যাবেন। দাঁড়িয়ে অকুফ করা সুন্নত। মহিলা হাজিগণ পুরুষের পিছনে বসে বসে অকুফ করবেন। অতঃপর তিন বার তকবিরে হাশরিক এবং ৩ বার তালবিয়া পড়বেন। অন্য কোন নফল নামাজ পড়বেন না।
অতঃপর সূর্যাস্তের পূর্বে মোয়াল্লিমের বাসে ৩ মাইল দূরের মুজদালেফার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। মুজদালেফায় পৌঁছে অজু ইসতেনজা সেরে জামায়াতের সাথে এক আজান ও এক একামতের সাথে প্রথমে মাগরিবের ৩ রাকায়াত ফরজ নামাজ পড়বেন। এরপর এশার ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজ পড়বেন। অতঃপর মাগরিবের ২ রাকাত সুন্নত ও এশার ২ রাকায়াত সুন্নত ও বেতরের নামাজসহ অন্যান্য নফল নামাজ পড়বেন। নামাজ শেষে কিছু খেয়ে নিয়ে ইবাদতের অভ্যাস থাকলে নফল ইবাদত করবেন নতুবা শুয়ে পড়বেন। শোয়ার আগে এখানের কঙ্কর থেকে ৬৯টি কঙ্কর সংগ্রহ করুন। মিনায় গিয়ে এগুলো ধুয়ে নেবেন।
মুজদালেফায় :হজ্বের ওয়াজিব রোকন
মুজদালেফায় অকুফের সময় হলো ফজরের নামাজের সময় থেকে সূর্য উদয়ের ৮ মিনিট আগ পর্যন্ত। অতএব ফজরের নামাজ পড়ার পর হতে সূর্য উদয়ের ৮ মিনিট আগ পর্যন্ত এখানে আল্লাহতায়ালার নিকট কান্নাকাটি করে দোয়া করতে থাকুন। এটিও দোয়া কবুলের স্থান। অতঃপর সূর্য উদয়ের পূর্বক্ষণে পুনরায় তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনায় রওনা দিন। মুজদালেফার শেষ প্রান্তে ডানে-বাঁয়ে দুটি পাহাড় আপনার পথের দুপাশে পড়বে। এ দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাকে ‘ওয়াদী মুহাসসর’ বলে। অর্থাত্ গজবের স্থান। এখানেই আবরাহা বাদশার বিশাল হস্তি বাহিনীকে আল্লাহতায়ালা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আবাবীল পাখিদ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। এই স্থানটি দ্রুত পার হতে হয়।
১০ জিলহজ্বের করণীয়:১০ জিলহজ্ব জামরা-ই কুবরা অর্থাত্ বড় শয়তানকে যোহরের নামাজের পূর্বে কঙ্কর মারতে হয়। শয়তানকে কঙ্কর মারার জন্য সৌদি সরকার এখন চলন্ত সিঁড়িসহ তিনটি জামরার পাশেই বহুতলবিশিষ্ট দালান নির্মাণ করে দিয়েছেন। এসকেলেটরের সাহায্যে এর যেকোনো তলা থেকে হাজীরা এখন শয়তানকে কঙ্কর মারতে পারবেন। এখানে ১০ জিলহজ্ব পূর্বের ন্যায় দুর্ঘটনা তো দূরের কথা হাজিরা একজন আরেক জনের গায়ে না লেগেও কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবেন। এখন থেকে তালবিয়া শেষ। আপনি বিল্ডিং-এর যেকোনো তলার একটিতে গিয়ে কেবলাকে বাঁ দিকে পিছনে রেখে অন্তরে ঘৃণার সঙ্গে প্রতিবাদ বিসিমল্লাহ আল্লাহু আকবার বলে একটি একটি করে সাতটি কঙ্কর প্রতীকী শয়তানের নৌকার পালের মত স্তম্ভে নিক্ষেপ করুন। কঙ্কর নিক্ষেপ শেষ হলে সেখানে এক মুহূর্তও দেরি না করে তাঁবুতে ফিরে আসুন। তাঁবুতে ফিরে এসে আপনি যদি সরকারিভাবে ব্যাংকে কুরবানির টাকা জমা করে থাকেন—তাহলে আপনাকে যে সময় দেওয়া হয়েছে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কুরবানির নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে তাঁবুর বাইরে রাস্তায় দেখবেন অসংখ্য বাঙ্গালি ছেলে রেজার ব্লেড নিয়ে মাথা মুণ্ডন করছে, তাদের একজনকে দিয়ে আপনিও আপনার মাথা মুণ্ডন করিয়ে নিন। আর যদি কুরবানির টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে থাকেন তাহলে মিনার পূর্বপ্রান্তে কুরবানির শেডে চলে যান। সেখানে গিয়ে নিজের ইচ্ছামত কুরবানি করে এসে মাথা মুণ্ডন করুন।
এই তাওয়াফ করার সময় প্রিয়জনের নিকট থেকে বিদায় নেয়ার সময় হূদয় উথলে যেমন কান্না আসে—সেই রকম হূদয় উথলানো ক্রন্দন করে হয়ে দৌড়ে তাওয়াফটি শেষ করবেন। তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাকায়াত তাওয়াফের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে ও দোয়া করে আল্লাহর ঘরকে পেছন না দিয়ে বরং আল্লাহর ঘরকে দৃষ্টি সীমার মধ্যে রেখে আস্তে আস্তে পিছু হটে হটে মসজিদুল হারাম দিয়ে বের হয়ে আসুন।
আল্লাহ সকল হাজি সাহেবানকে হজ্বে মাবরুর নছিব করুন, আমীন! ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








