হাজার হাজার মানুষ উপভোগ করলেন নিউইয়র্কের চট্টলা মেলা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ব্রুকলীনে ম্যাকডোনাল্ড এভেন্যুর উপর গত রোববার বিশাল ও সুপ্রশস্ত ব্লক জুড়ে বসেছিল পথমেলা চট্টলা মেলা। বিপুল সংখ্যক চট্টগ্রামের প্রবাসী বাস করেন এই এলাকায়। মেলার আয়োজন চট্টগ্রাম সমিতি করলেও সেই মেলা সকলের জন্য অবারিত। তাই দুপুরের রোদের উত্তাপ কমার সাথে সাথে সপরিবারে হাজার হাজার মানুষে ভরে গেল পথমেলা চত্বর। চার্চ এভেন্যুর গা ঘেষে শিশুদের জন্য নানা রাইড। আর এভেন্যু সি ঘেষে বিশাল মঞ্চ। এই সময়ই মঞ্চে উঠলেন নিউইয়র্কে বিপুল জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব। লাল হাওয়াই শার্ট গায়ে শাহ মাহবুব যখন গান ধরলেন, যেন প্রাণ এলো মেলায়। মানুষরা ছুটে এলেন মঞ্চের কাছে। মঞ্চ মাহবুবকে তারা মঞ্চ থেকে নামতে দেবে না। একটার পর একটা গান ধরছেন আর মাতাল করছেন দর্শকদের। শাহ মাহবুুবও পাকা পারফর্মারের মতো মঞ্চ থেকে নেমে এসে যেখানে সমিতির সভাপতি জিয়া হাই সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দাঁড়িয়ে গান শুনছিলেন তাদের নিয়ে গাইতে থাকলেন। গানের তাল এমনই অনিবার্য যে তা শরীরের দোলা দিয়ে যায়। অতএব সকলেই তার গানের তালে নাচতে দ্বিধা করলেন না। মেলা জমিয়ে দিয়ে শাহ মাহবুব ক্ষান্তি দিলেন। এই সময় এসে পৌঁছুলেন ব্রুকলীনের ভারপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি এরিক গঞ্জালেস। তিনি মঞ্চে উঠে ডেকে নিলেন তার বন্ধু এটর্নি পেরি সিলভারকে।
এরিক গঞ্জালেস বললেন, ব্রুকলীনকে নানাভাবে সরব এবং উৎফুল্ল করে রেখেছে বাংলাদেশী কম্যুনিটি। তিনি বলেন, যেমন ব্যবসা বাণিজ্যে, তেমনি মেলা উৎসব, তেমনিই ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা সব কিছুতেই বাংলাদেশীরা অত্যন্ত তৎপর। তিনি বলেন, ব্রুকলীনে বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে ক্রাইম সবচেয়ে কম।
এরিক গঞ্জালেস বলেন, আমি এখন ভারপ্রাপ্ত ডিএ। কারণ ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি দীর্ঘদিন অসুস্থ। আমি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি পদে নির্বাচন করতে চাচ্ছি। আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের প্রাইমারিতে আপনাদের সমর্থন চাই।
এটর্নি পেরি ডি সিলভার বললেন, আমার প্রিয় বন্ধু এরিক গঞ্জালেস। আমি তাকে দীর্ঘদিন থেকে চিনি। তিনি যে অত্যন্ত যোগ্য ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি হবেন, তা তার ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন দেখেই বোঝা যায়। তিনি ১২ সেপ্টেম্বরের প্রাইমারীতে তাকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
এই পর্ব শেষে মঞ্চে আসেন মিরা সিনহা। তিনটি গান গেয়ে মেলাকে উন্মাতাল করলেন আরো একধাপ। তখন আরো কয়েক হাজার প্রবাসী এসে গেছেন মেলায়। এই দৃশ্য দেখে ভারপ্রাপ্ত ডিএ চলে যেতে যেতে ফিরে আসেন। বলেন, এখন যেহেতু ক্রাউড আরো বড় হয়েছে, তাই আমি আবার ফিরে এলাম। এরিক গঞ্জালেস আবার তার বন্ধু পেরি ডি সিলভারকে নিয়ে মঞ্চে উঠলেন এবং দর্শকদের উদ্দেশে তার প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে ভোট চাইলেন। এর পরের শিল্পী বিউটি দাশ গাইলেন দুটি গান। কারণ সময় ফুরিয়ে আসছে। তারপর এলেন শান্তনীল ধর। তার দরাজ কণ্ঠ উজাড় করে দিয়ে গাইলেন দুটি গান। শেষের শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণাতিথি খান। অত্যন্ত শক্তিশালী কণ্ঠের এই শিল্পীকে দুটি গানের পর মঞ্চ থেকে নামতে দিলনা দর্শকরা। গাইতে হলো আরো একটি গান। পাঁচ শিল্পীর চমৎকার পরিবেশনা চট্টগ্রাম পথমেলাকে অন্যস্তরে নিয়ে গেল। এর আগে অবশ্য সঙ্গীত পরিবেশন করেন অপর জনপ্রিয় শিল্পী রোকসানা মির্জা। তাদের পরিবেশিত বেশির ভাগ গানই ছিল চট্টগ্রামের বিপুল জনপ্রিয় সব গান। আর মেলার কর্মকর্তারাও মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের ভাষায় সাচ্ছন্দ্যে কথা বলে চট্টলার মেলার নামের সার্থকতা প্রমাণ করেন।
কিন্তুু শুধু এই শিল্পীর গানই নয়, পম্পি আর মুনের যুগল নৃত্য, পম্পি, নামিয়া, মুন আর নাহরিনের সাম্পান নৃত্য এবং মুনের অনবদ্য আবৃত্তি পথমেলার মান বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য এরা সকলেই বিপার শিল্পী। সেই সাথে ছিল আশরাফুল হাসান বুলবুল আর সাবিনা নাহার নিরুর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা।
গান ও নাচের মাঝে মাঝে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট প্রদান করা হয় ব্রুকলীনের বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কনিষ্ঠতম কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার শাহানা হানিফকে। পথমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা চাঁটগার মোড়ক উন্মোচন করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল হাই জিয়া।
দুপুরে মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি এবং অন্যতম গ্রান্ড স্পন্সর মানবসেবামূলক সংগঠন আবদুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের মিয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দ্বিধা বিভক্তির দিন শেষ। এখন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আমাদের কম্যুনিটির উন্নয়নে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ভাল থাকলে আমরাও ভাল থাকবো। তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠান বেশি আয়োজন করার জন্য উদ্যোক্তাদের অনুরোধ জানান।
এবারের এই চট্টলা মেলার অন্য একটি বিশেষত্ব ছিল উদ্বোধন শেষে চট্টগ্রাম সমিতিরি সভাপতি আবদুল হাই জিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, চট্টলা পথমেলার আহবায়ক পরিমল কান্তি নাথ, সদস্য সচিব ইকবাল হোসাইন, প্রধান সমন্বয়কারী কামাল চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকন, সমন্বয়কারী আলী নূর, এম. এ. লতিফ, মোহাম্মদ বখতিয়ার, যুগ্ম সদস্য সচিব মো: আরিফুল ইসলাম, মো: আশ্রাব আলী খান লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রামের প্রবাসীরা শোভাযাত্রা সহকারে পুরো রাস্তা প্রদক্ষিণ করে মঞ্চের কাছে সমবেত হন। শুরু হয় মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান এম এ লতিফের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। তারপর স্থানীয় পুলিশ প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টে ডেভিড ওয়ানকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও কম্যুনিটিতে এবং সংগঠনে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক ট্রাস্টিবোর্ড কো-চেয়ারম্যান শামসুল আলম চৌধথুরী ও সাবেক সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম প্রমুখকে।
মূল র্যাফেল ড্র পরিচালনা করেন সভাপতি আবদুল হাই জিয়া। তার সাথে মঞ্চে ছিলেন সমিতি ও পথমেলার কর্মকর্তারা। তার আগে অন্যতম গ্রান্ড স্পন্সর উৎসব ডটকম ও উৎসব কুরিয়ার ডটকমের সিইও রায়হান জামান উৎসব কুরিয়ার আয়োজিত পৃথক র্যাফেল ড্রতে বিজয়ীদের হাতে ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি তুলে দেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন মেলার প্রধান সমন্বয়কারী কামাল হোসেন মিঠু।
মেলায় এক ফাঁকে নিউইয়র্কস্থ কনসাল জেনারেল মো: শামীম আহসান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
শেষ পর্যায়ে মেলায় প্রায় ১৫ হাজার দর্শকের সমাগম হয়। যারা স্টল দিয়েছিলেন তারা বেচাবিক্রিতে অত্যন্ত আনন্দিত। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার ঝকঝকে রৌদ্দুরে চট্টগ্রাম সমিতির এই বিশাল পথমেলাটি সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয়ের কারণে বিরতিহীনভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








