হার্ভার্ডে পড়া ছেলে ও করোনায় চলে যাওয়া বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ জাফর
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাব-চালক মোহাম্মদ জাফর গত ১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইর্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহী রাজিউন)। ব্রঙ্কসের গান হিল রোডের পাশে ছোট্ট একটি অ্যাপার্টমেন্টে সন্তান মাহতাব সিহাব ও সাবিহাকে নিয়ে বাস করতেন জাফর। ছেলে মাহতাব সিহাব (১৯) পড়াশোনা করছেন বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থনীতি ও ইতিহাস দুই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা তাঁর। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাফর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে থেকে আমেরিকায় আসেন। ২০১৬ সালে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জাফরের স্ত্রী মাহমুদার মৃত্যু হয়। মা হারানো দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান জাফর। এর ঠিক এক বছর পর মাহতাব হার্ভার্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যান। ছোট বোন সাবিহা তখনো ট্রিনিটিতে কিন্ডারগার্টেনে। বাবার চাওয়া অনুযায়ী তাঁদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার পথে।
মাহতাব সিহাব বলেন, ‘বাবা সব সময় চেয়েছেন, আমরা যতটুকু সুবিধা পাই তার যেন পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারি। তিনি চেয়েছেন আমরা যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারি।’ শুরুতে ব্রঙ্কসের পিএস ৯৫ এ জাফরের সন্তানেরা পড়াশোনা শুরু করে। পরে তিনি জানতে পারেন নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াশোনার জন্য প্রিপ ফর প্রিপ নামের একটি সংগঠন সহায়তা করে। অবশেষে সন্তানের জন্য ওই সংগঠনের সহায়তা নেন জাফর। মাহতাব সিহাব সেভেন গ্রেডে ভর্তি হলেন ট্রিনিটি স্কুলে।
গত মার্চ মাসের শুরুতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবরে হার্ভার্ডে ছুটি ঘোষণা করা হয়। মাহতাব সিহাব বাড়ি ফিরে আসেন। এর মধ্যেই তাঁর বাবা জাফর সেলফ কোয়ারেন্টিনে চলে যান। একদিন শুধু অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইরে বেরিয়েছিলেন নিজের ইয়েলো ক্যাব চালানোর চাকরিটা আছে নাকি নেই, তা জানতে। এর কয়েক দিন পরই তাঁর হালকা জ্বর আসে। এর মধ্যেই শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট। সন্তানেরা তাঁকে নগরীর মন্টেফিয়োর মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে এক সপ্তাহ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তাঁর অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্তানদের কাছে জাফরের মৃত্যুসংবাদ আসে। সন্তানদের ছেড়ে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে তাঁকে চলে যেতে হলো।
এবারে মা-বাবাহারা সন্তানেরা কী করবেন? কীভাবে চলবেন? কে দেবেন তাঁদের শিক্ষার ব্যয়? সংসারের ব্যয়? এই চিন্তায় পেয়ে বসে মাহতাব ও সাবিহার। বন্ধুরা জেনে যান খবর। এই পরিস্থিতিতেও এগিয়ে আসে অনেকেই। ছোটবেলার বন্ধু উইল ক্র্যামার তাঁদের জন্য তহবিল সংগ্রহে গোফান্ডমি ক্যাম্পেইন চালু করেন। ছোট ও বড় সব অঙ্কের সাহায্য আসা শুরু করে।
এ বিষয়ে মাহতাব সিহাব বলেন, নিজ দেশসহ প্রায় সব কমিউনিটির মানুষ সাহায্য করছেন। বিশেষ করে এগিয়ে এসেছেন প্রিপ ফর প্রিপ, ট্রনিটি স্কুল ও হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা সত্যিই ভেবেছেন যে, আমরা চরম অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে পড়ে গেছি। ইতিমধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তহবিল সংগ্রহ হয়েছে। করোনার এই সময়ও দূরে থেকে মানুষ মানুষের কত কাছে আসতে পারে, এটাই তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests