Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

ঢাকায় হুমায়ুন আহমেদ এর নামে সড়ক নামাকরণের দাবি : নিউইয়র্ক ও নিউজার্সী শোক সভা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 60 বার

প্রকাশিত: July 23, 2012 | 1:03 PM

ইউএসএ নিউজ অনলাইন : নিউইয়র্কে নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর শোক সভায়  হুমায়ুন আহমেদের সকল শিল্পকর্ম-সাহিত্য-উপন্যাস যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ  ও ঢাকায় হুমায়ুন আহমেদ এর নামে সড়ক নামাকরণের দাবি জানানো হয়েছে।  ২২ জুলাই, রোববার জ্যাকসন হাইটসে নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ সভায় তার ভক্ত অনুরাগীরা এ দাবি জানান। শোক সভায় অনেকে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক আবেগ ঘন মুহুর্তের।

হুমায়ুন ছিলেন চুম্বক আমরা লৌহ খণ্ড, হুমায়ুন প্রয়ানে আমরা চৌম্বকত্ব হারালাম- সাহিত্য একাডেমী আয়োজিত আলোচনায় ডঃ মনসুর আলী

মনজুর কাদের : কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ স্মরণে সাহিত্য একাডেমী আয়োজিত আলোচনায় তিলধারণের স্থান ছিলনা জ্যাকসন হাইটস এর ইস্ট ওয়েস্ট টিউটোরিং মিলনায়তনে। হুমায়ুনের জন্য অঢেল ভালোবাসা নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত হয়েছিলেন প্রবাসের প্রায় সকল সাহিত্যানুরাগী। অনেকের চোখের কোনে ছিল প্রিয় লেখকের জন্য ভালবাসার অশ্রু ।যে ঘাতক ব্যাধি বাসা বেঁধেছিল হুমায়ুনের দেহে তাতে তাঁর ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল সামান্যই অথচ যেটুকু অলৌকিক সম্ভাবনা ছিল সেটুকুই আঁকড়ে ধরে আশার স্বপ্ন যারা লালন করেছিলেন তাদের আকুতির তারল্য অভ্যাগতদের চোখের কোন বারবারই ভিজিয়ে দিচ্ছিল ।

মনজুর কাদের এর সুচনা বক্তব্যের পর সঞ্চালনের দায়িত্ব নেন এবিএম সালেহ উদ্দিন। একে একে আলোচনা করেন বেলাল বেগ, মুত্তালিব বিশ্বাস, ফাহিম রেজা নুর, আকবর হায়দার কিরন, এনায়েত করিম বাবুল, শাহ আলম দুলাল, আবু রায়হান, প্রতীপ দাসগুপ্ত, স্বপন বসু, মিনহাজ আহমেদ, শামিম আরা আফিয়া, সাকিনা ডেনী, মমতাজ আলো, মেহের চৌধুরী, আদনান সৈয়দ , শীতেশ ধর, হাকিকুল ইসলাম খোকন , জি এইচ আরজু, নাসরিন চৌধুরী ,মনিকা রায়, সবিতা দাস, তানভীর রাব্বানী, তামান্না ঝুমু, মিজানুর রহমান বিপ্লব, সাহিত্য একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

বেলাল বেগ বলেন, হুমায়ুন আমাদের নিরানন্দ জিবনে আনন্দের বন্যা উপহার দিয়েছেন। মুত্তালিব বিশ্বাস হুমায়ুনের সাহিত্যে সংগীতের ব্যবহারে মুন্সিয়ানার দিকগুলো উপস্থাপন করেন ।ফাহিম রেজা নুর ইতিহাস বিকৃতির সংকট সময়ে হুমায়ুন  নাটক উপন্যাস চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের মহিমান্বিত দিকগুলো যে পারঙ্গমতায় আলোকপাত করেন তার চিত্র তুলে ধরেন। সাহিত্য একাডেমীর সদস্যরা হুমায়ুন আহমেদ কে নিয়ে তাদের লেখা কবিতা পড়ে শোনান ।

সভাপতির বক্তব্যে ডঃ মনসুর আলী কোলন , প্যানক্রিয়াস এবং পিত্তথলির ক্যান্সারের ভয়াবহতা তুলে ধরে চল্লিশোর্ধ সবাইকে কোলনস্কপি, লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ধূমপান ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি সাহিত্যানুরাগী কাউকে যেন অকালে যেতে না হয় সেজন্য এই আবেগঘন আকুতি জানান ।

ঢাকায় হুমায়ুন আহমেদ এর নামে সড়ক নামাকরণের দাবি  নেত্রকোনা প্রবাসীদের

যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত হুমায়ুন আহমদের নিজ জেলা  নেত্রকোনার প্রবাসীরা জ্যাকসন হাইটসে আয়োজন করে আরেকটি শোকসভার। সভায়  নন্দিত এ কথা সাহিত্যিকের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি ম্বরূপ ঢাকায় হুমায়ুন আহমেদ এর নামে একটি সড়কের নামাকরনের দাবি জানান হয়। আশ্রারাফুল তালুকদার লিটনের সভাপতিত্বে এ শোক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবুল বাসার, প্রমদ রঞ্জণ সরকার,ইন্দ্রজিত সিংহ, পার্থ তালুকদার, মো: বজলুর রহমান, জাহাঙ্গীর হায়দার শামীম, সঞ্চিতা দত্ত, মোস্তাফিজুর রহমান, আসলাম আহমেদ খান প্রমুখ্।

বক্তারা বলেন এই নন্দিত বাংলা সাহিত্যের মহানায়কের অকাল মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালীরা গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকাহত। তার অকাল মৃত্যুতে দেশ এক বরেণ্য সন্তানকে হারাল, যা কোনদিন পূরণ হবার নয়।  বক্তারা হুমায়ুন আহমদের অনবদ্য লেখার উপর আলোকপাত করে বলেন, তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙ্গালী জাতির মন ও মননে। তারা বলেন, জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আহমদ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিলেন। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননার উল্লেখ করে বলেন, কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।

গ্রেটার কুমিল্লা ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত দোওয়া ও ইফতার  মাহফিলে হুমায়ুন আহমদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত

গ্রেটার কুমিল্লা ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত দোওয়া ও ইফতার  মাহফিলে হুমায়ুন আহমদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। গ্রেটার কুমিল্লা ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান মিঠুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতি সংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবদুল ওয়াহিদ টুপন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এস এম জাহাঙ্গির প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা অলি উল্লাহ মো: আতিকুর রহমান।

নিউজার্সীর পেটারসনে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল  : হুমায়ুন আহমেদের সকল শিল্পকর্ম-সাহিত্য-উপন্যাস যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান

বিশ্বজিৎ দে বাবলু : নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের স্বরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউজার্সীর পেটারসনে। প্রবাসী বাঙ্গালী কল্যান সমতি প্রবাকস এর উদ্যোগে  প্রিকনেস  এভিনিউর  অস্থায়ী কার্যালয়ে সভাপতি নেছারুল হক চৌধুরীর সভাপতিতে¦ আয়োজিত এই শোক সভায় বিপুল সংখক প্রবাসী বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে বক্তাগন বলেন বরেন্য কথাশিল্পী হুমায়ুুন আহমেদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক দেশপ্রেমিক সাহিত্যিক, লেখক, চিত্র পরিচালক ও চিত্রশিল্পীকে হারাল । তারা  হুমায়ুন আহমেদের সকল শিল্পকর্ম-সাহিত্য-উপন্যাস যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান বজলুর পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল মালিক চুন্নু,শামীম আহমেদ,বিশ্বজিৎ দে বাবলু,  জুবায়ের মতিন ও এ কে মজুমদার সহ আরও অনেক ।

হুমায়ূন আহমদ স্মরণে উদীচীর শ্রদ্ধঞ্জলি

নিউইয়র্ক : স্বনামধন্য নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমদ স্মরণে উদীচী যুক্তরাষ্ট্র ও উদীচী স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস-এর উদ্যোগে উদীচী স্কুলে বিকেল চারটায় এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী স্কুলের বাংলা বিভাগের প্রধান এক সময়ের টিভি প্রযোজক এবং প্রখ্যাত কলাম লেখক হুমায়ূন আহমদের একান্ত ঘনিষ্ট জনাব বেলাল বেগ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এম এ মোমেন। মাত্র একদিনের প্রস্তুতিতে শোকসভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ যথেষ্ট সংখ্যক হুমায়ূন ভক্তের উপস্থিতি ছিল। শোকসভায় স্মৃতিচারণ ও লেখকের বিভিন্ন গুণাবলী তুলে ধরে

বক্তব্য রাখেন- উদীচীর সিনিয়র সহসভাপতি সুব্রত বিশ্বাস, প্রবাসী পত্রিকার সাবেক সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রদ্ধেয় সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ উদীচী স্কুলের গানের শিক্ষক মুত্তালিব বিশ্বাস, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, ফাহিম রেজা নূর, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, বাঙালী পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমদ, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দী, প্রধান অতিথি ড. এম এ মোমেন এবং সভাপতি জনাব বেলাল বেগ।

শোকসভার শুরুতে লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। তারপর উদীচীর কর্মকর্তা সাবিনা হাই উর্বি লেখকের জীবনের বিভিন্ন প্রাপ্তি ও উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, হুমায়ূন আহমদের শেষ ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে একটি ক্যানসার হাসপাতাল নির্মান করা। কিন্তু তার অন্তিম ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হাজার হাজার লোক ক্যান্সারে মারা যান। বিত্তবানরা কলিকাতা, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ল-ন, আমেরিকা চিকিৎসা করাতে পারেন। কিন্তু সাধারণ ও গরীব মানুষের সেই সামর্থ নেই। আমাদের দেশের হাজার মানুষ বিদেশে থাকেন। আমরা একটু উদ্যোগী হলে এবং সরকারের খানিকটা সদিচ্ছা সংযোজন করলে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল করা কোন বিরাট বিষয় নয়। আমরা যদি করতে পারি সেটা দেশের জন্য যেমন মঙ্গলজনক একই সাথে লেখক হুমায়ূন আহমদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মুত্তালিব বিশ্বাস হুমায়ূন আহমদের সাথে কোন এক সময়ের একটি স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। একই ভাবে অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, ফাহিম রেজা নূর স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন নিউইয়র্কে বিভিন্ন হাসপাতাল রয়েছে। সব হাসপাতালে সমান চিকিৎসা হয় না। হুমায়ূন আহমদ ক্যান্সারে মারা যাননি। তিনি ব্লাড ইনফেকশনে মারা গেছেন এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। সাংবাদিক কৌশিক আহমদ বলেন, হুমায়ূন আহমদ বিরাট মাপের লেখক। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, শরৎ চন্দ্রের পর এত খ্যাতি হুমায়ূনই পেয়েছেন। তার লেখায় যুবক যুবতি ভীষণ আলোড়িত হয়েছেন। কিন্তু হুমায়ূন আহমদ সবই করেছেন টাকার জন্য। তিনি দেশের যুব সমাজের জন্য অনেক কিছু করতে পারতেন কিন্তু তিনি তার করেননি। ইচ্ছা করলে তার প্রতি মানুষের যে মোহ শক্তি ছিল তিনি অনেক কিছুই করতে পারতেন। তারপরও তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন নন্দিত পুরুষ।

ড. মোমেন তার চিকিৎসায় সরকার ও তার সাহায্য সহযোগিতার বিভিন্ন ঘটনা ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন হুমায়ূন আহমদ একজন বিরাট মাপের লেখক ছিলেন যিনি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আরো বলেন হুমায়ূন আহমদ যখন চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্ক আসেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে তাকে জাতিসংঘ মিশনের একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। তিনি তাকে বলেছিলেন, জাতিসংঘে কি হয়, আমরা কি করি তা নিয়ে লেখেন। তিনি তার চিকিৎসা ও চলে যাওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সুব্রত বিশ্বাস বলেন, হুমায়ূন আহমদ চলে গেলেন মাত্র ৬৪ বছর বয়সে। এটা নিতান্তই অপূর্ণ বয়সে বলা যায়। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘মরিতে চাহিনা আমি এই সুন্দর ভুবনে’। হুমায়য়ন আহমদের বেলায় পংক্তিটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কেননা শুনেছি এবং পত্রপত্রিকায় দেখেছি লেখক হুমায়ূন বাঁচার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। অপরদিকে মৃত্যু ভয়ে ভীষণ আতঙ্কিত ছিলেন। তারপরও বাস্তব সত্য হলো মরণব্যাধি ক্যান্সার তার জীবন কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, নন্দিত এই লেখক ৭২ সালে ‘নন্দিত নরকে’ লেখা বই দিয়ে তার লেখার যাত্রা শুরু। তার পর তর তর করে এগিয়ে গেছেন অপ্রতিরোধ গতিতে। একদিকে বইছের পর বই লিখেছেন, অপরদিকে তার পাঠক সৃষ্টি করেছেন। তার বই বিক্রির কাটতি ছিল শতকার ৭৫ ভাগ। কোন লেখকের ১ হাজার বই বিক্রি হলে হুমায়ূন আজাদের বই বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার। প্রকাশকরা তার দ্বারে ভিড় জমিয়ে থাকতেন যেকোন ধরণের একটি পা-ুলিপির জন্য। এভাবেই তিনি তার খ্যাতি শীর্ষে নিয়ে গেছেন। তিনি নিজে নিজেকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন তিনি অত্যন্ত স্বাবলীল ভাবে সাহিত্য, নাটক ও চলচ্ছিত্রে বিচরণ করেছেন। তার সৃজনশীল সৃষ্টি কালজয়ী হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের বিরাট ক্ষতি হয়েছে এটা নির্দিধায় বলা চলে। তিনি উদীচীর পক্ষ থেকে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

ফারুক আযম একটি কবিতা পাঠ করেন এবং জীবন বিশ্বাস তার সাথে কবিতাটি গান গেয়ে শোনান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক ও উদীচী স্কুলের অধ্যক্ষ জীবন বিশ্বাস। জীবন বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার কিন্তু হুমায়ূন আহমদের এই অকাল-প্রয়াণ শুধুই বেদনার নয়, তাঁর এই চলে যাওয়া বাংলার সাহিত্যাকাশে এক গভীর শূণ্যতার সৃষ্টি করবে। তিনি আরো বলেন তাঁর কর্মময় জীবনের সব সৃষ্টিই যে সবার কাছে সমাদৃত হয়েছে সে দাবী ছেড়ে দিলেও একথা আজ অস্বীকার করার উপায় নেই যে তরুনসমাজকে পকড়তে এবং শিখতে অনুপ্রাণিত কওে সাহিত্যাভিমুখী করে গেছেন। সভাপতি বেলাল বেগ হুমায়ূন আহমদের সাথে দীর্ঘ কর্মকা-ের স্মৃতিচারণ করে বলেন হুমায়ূন অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখকই নয় ‘ওরা রাজাকার’ ইত্যাদি নানাবিধ লেখার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার প্রতিভার কোন অন্ত ছিল না। তিনি বলেন বহুমাত্রিক প্রতিভাধর হুমায়ূন তার সৃজনশীল কাজের মধ্যেই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তিনি হুমায়ূন আহমদের সাথে বিভিন্ন কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এক পর্যায় আবেগে আপ্লোত হয়ে পড়েন।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর অকাল মৃত্যুতে

 যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের তাৎখানিক শোক সভা

তৈয়বুর রহমান টনি, নিউইর্য়ক : স্বনামধন্য নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমদের জন্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে তাৎখানিক এক শোকসভার আয়োজন করেন গত শক্রবার সন্ধাঁয় জ্যাকসন হাইটসে পালকি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান শোকসভায় পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ।

দোয়া পাঠকরেন কাজী কাইয়ুম শোকসভায় আরও যারা উপস্হিত ছিলেন উপদেষ্টা ডাঃ মাসুদুর রহমান, সহ সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, হাজী

 এনাম, আশরাফুজ্জামান, এম এ করিম জাহাঙ্গীর, তৈয়বুর রহমান টনি, শাহানারা রহমান, ইকবাল কবির, জসীমউদ্দন মিঠু, খোরশেদ খন্দকার, আনোয়ার হোসেন, আলী হোসেন গজনবী, জেড এ জয়, জাহাঙ্গীর মিয়া, মুর্শেদা জামান, মুর্শেদা আক্তার কাকন, তানভীর শাহীন, সাখায়ৎ বিশ্বাস ও প্রমূখ।

ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আহমদের বুদ্ধিমত্তা, তার পড়াশোনা ও অনবদ্য লেখার উপর আলোকপাত করে বলেন, তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙ্গালী জাতির মন ও জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আহমদ শরৎচন্দ্র ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিলেন। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা উল্লেখ করে বলেন, কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে জান্নাতবাসী করুন। উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বক্তব্যে হুমায়ুন আহমদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং পরম করুণাময়ের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে। মরহুমের স্বজন, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু বান্ধবদের প্রতি জানানো হয় আন্তরিক সমবেদনা জানান।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV