হুমায়ূন আহমেদের বিয়েটা ভাঙল কেমন করে?
গাজী কাশেম, নিউ ইয়র্ক : মার্চ মাস। রাত ৯-৩০ মিনিট। নিঃশব্দে অন্য দিনের মতো আমার গৃহে প্রবেশ। শাওন মোবাইল ফোনে হুমায়ূন আহমেদের রোগ নিয়ে পূরবী বসুর সঙ্গে কথা বলছেন। হুমায়ূন আহমেদ ভেতরের বেড রুমে। দরজা আবজানো। তাঁর চোখে আমার চোখ পড়ল। আমাকে হাতের ইশারায় ভেতরে আসতে বললেন। তিনি বাথরুমের পথে ফেলে রাখা ম্যাটে বসে আছেন। দুচোখ ভরে কান্না। অঝোর ধারায় কাঁদছেন তিনি। চোখ দুটি জবা ফুলের মতো হয়ে আছে। ‘স্যার, কেমন আছেন?’ নীরব। আমি পাশে বসে পড়লাম। কান্না থামছে না। নিনিত হুমায়ূন এসে তাঁর হাত ধরে টানছে, কান্না বন্ধ করার জন্য। তারপর নিনিত তাঁর কোলে বসে পড়ল। মাঝে মাঝে মাগরিব শেষে জায়নামাজে বসে কাঁদতেন।
আমি বললাম, স্যার আমি কিন্তু ভালো বোধ করছি না। আমি খুব বিব্রতবোধ করছি। আমার কান্না এসে গেল। আমিও কাঁদলাম। নিনিত খুব বিমর্ষ। তিনি তখন কান্না থামালেন। শাওন রান্না করছে।
আমি বললাম, স্যার।
মাথার ইশারায় বললেন, বল।
: আপনার মেয়েরা কি আপনার সাথে ফোনে কথা বলে?
: না।
: আপনার ভাইরা?
: না।
: বোনেরা?
: না।
ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, স্যার, আপনার বিয়েটা ভাঙল কেমন করে?
: সে অনেক কষ্টের কাহিনী।
: স্যার প্লিজ বলুন।
: শোন, আমি যখনই প্রসিদ্ধ হতে লাগলাম। তখনই অনেক ভক্তের চিঠি পেতে লাগলাম। এমনি এক ভক্তের চিঠি আমার টেবিলে পেপারওয়েট দিয়ে চাপা ছিল। গুলতেকিন হঠাৎ আমার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। বিধি বাম! পেপারওয়েট দিয়ে ঢাকা চিঠিটা সে উঠিয়ে নেয়। এটা ছিল কোনো এক প্রসিদ্ধ টিভি অভিনেত্রীর চিঠি। প্রেমের কথা। আমার জন্য তার জীবন উৎসর্গ করতে চায়। এমন অসংখ্য চিঠি আসত। মেয়েদের চিঠি বেশি আসত। আমাকে যেন তারা রসগোল্লা পেয়ে বসল। একেবারে খোলা রসগোল্লা, মাছি আর মৌমাছির ভন ভন। মা হাওয়ার কারণে আদমও গেল। আমারও তাই হল।
আমি বললাম, স্যার সেটা শাওন?
: না, সেটা শাওন ছিল না। সে তখন অভিনয়ে নেই। অন্য টিভি অভিনেত্রী। নাম তার এই ঃ। শোন, সেই থেকে গুলতেকিনের সাথে শুরু হয় আমার এক বিভীষিকাময় অধ্যায়, এটা অনেকটা বিষ পান পর্যন্ত গড়ায়। তার অবদানের কথা আমি কখনো ভুলব না। যখন আমি নর্থ ডাকোটায় থাকতাম তখন সে বেবি-সিটিং করে সংসারের ব্যয়ভারে সাহায্য করত। তার খুবই ইচ্ছা ছিল আমি যেন আমেরিকায় থেকে যাই। কিন্তু বিদেশ থাকা আমার পছন্দ না।
হুমায়ুন আহমেদ বলতে থাকেন, যাই হোক, কোনো অবস্থাতেই সে তা মেনে নিতে পারছে না, শুরু হল আমাকে বুলিং করা, শুরু হল হ্যারাস করা, লেখক তলস্তয় বউয়ের যন্ত্রণায় এক শীতের রাতে রেল স্টেশনে মারা গেল। আমি তো কিছুই না। আমাকে বলত, তুমি বিষ খেয়ে মরো। তা আর কতদিন সহ্য করা যায় বল, সেই নিয়ে তিন বছর বাইরেও ছিলাম। নুহাশ বেশ বাবাভক্ত। খবর নেয়। মেয়েগুলো ফোন করে না, বিপাশা একটু-আধটু খবর নেয়, এই মেয়েটা শিশিতে করে আমার গায়ের গন্ধ নিয়ে যেত, আমার গায়ের গন্ধ না নিলে তার ভালো লাগত না, ঘুমাতে পারত না। আরে! তোদের সাথে আমার কী? নিনিত নিষাদ যেমন, তোরাও তেমন। এমন দুর্ঘটনা হাজারো লোকের ঘটে গেছে, আমিও না হয় তাদের মাঝে অপরাধী একজন। এটা আমার ভুল হোক, সঠিক হোক, আর অন্যায় হোক, আমি তো তোদের বাপ। বোনেরা ফোন করে না। বোনদের বিপদে আমি অনেক সাহায্য করেছি। শুধু আমার বৃদ্ধা মাতা দিনরাত ফোন করে। আহারে! কী না বিচিত্র সময়ের ভেতর দিয়ে আমরা চলছি।
শেষ করে বললেন, চল এবার আড্ডা হবে, ফানসু আসছে।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests