Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

হুমায়ূন আহমেদের মতো এমন জনপ্রিয় লেখক এখন পর্যন্ত বাংলা ভাষার ইতিহাসে নেই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 193 বার

প্রকাশিত: August 10, 2012 | 4:20 AM

হুমায়ূন আহমেদ

মাসুদ সিদ্দিকী : বিশ শতকের প্রথম তিন দশকে বাংলা কথাসাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক ছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সম্পর্কে ইংরেজিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লেখেন অধ্যাপক হুমায়ুন কবির। কবির তাঁর মূল্যায়নে উল্লেখ করেন, ভারতবর্ষে শরৎচন্দ্রের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখক থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁর মতো জনপ্রিয় সাহিত্যিকের সন্ধান আর মেলে না। কবিরের এই বিশ্লেষণের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে আমরা বলতে চাইছি, বাংলা ভাষায় হুমায়ূন আহমেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ লেখক হয়তো অনেকে থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁর মতো এমন জনপ্রিয় লেখক এখন পর্যন্ত বাংলা ভাষার ইতিহাসে নেই। হুমায়ূন আহমেদেরে যেকোনো লেখা, গল্প-উপন্যাস, নাটক, আত্মজীবনী—সবকিছুই লক্ষ-কোটি পাঠককে চুম্বকের মতো টানে। তাঁর বই একবার খুললে শেষ না করে আর ওঠা যায় না। পাঠক ধরে রাখার অসাধারণ সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল হুমায়ূন আহমেদের। কম কথায় তিনি বেশি কথা বলতেন। সংলাপ রচনায় তাঁর পরিমিতিবোধ ছিল ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের বাঙালিকে সাহিত্যমুখী করা, আনন্দ-বিনোদনে ভরিয়ে রাখা এবং বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের অস্তিত্বকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। তিনি কিছু নতুন মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে বাঙালি পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিমু, মিসির আলী, শুভ্র ইত্যাদি। ভিন্ন মাত্রার দুটি চরিত্র ‘বাকের ভাই’ ও নান্দাইলের ইউনুস’। তাঁর টেলিভিশন নাটক কোথাও কেউ নেই-এর চরিত্র বাকের ভাইয়ের যেন ফাঁসি না হয়, সে জন্য বাংলাদেশের শহর ও গ্রামগঞ্জে মিছিল হয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বাস্তবতার বিভ্রম সৃষ্টির বড় দৃষ্টান্ত এর চেয়ে আর কী হতে পারে?’ বস্তুত, হুমায়ূন ছিলেন আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম রূপকার স্টিভ জবস মতো সৃষ্টিশীল সাহিত্যজগতের প্রধান জাদুকর। মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার দুর্লভ প্রতিভার অধিকারী। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ভাষায়, জীবনকে দেখার ক্ষেত্রে ‘তাঁর দেখার ভঙ্গি, উপস্থাপনের ভঙ্গির মধ্যে এমন একটা বিশেষত্ব আছে, যাতে এই চেনা জগৎ ও জানা কথার মধ্যে আমরা নতুনত্ব খুঁজে পাই, আনন্দ-বিষাদের দোলায় দুলতে থাকি।’ অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘তাঁর লেখা সুনীল আর শীর্ষেন্দুকে হটিয়ে দিয়েছিল, তার নটকের ছোট সংলাপ সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জন্ম ঘটিয়েছিল। তাঁর চলচ্চিত্র বলিউডের খানদের আর হলিউডের টার্মিনেটরদের থেকে দর্শকদের ফিরিয়ে এনেছিল। সব অর্থে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র মেগাস্টার।’ হুমায়ূন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে দিয়ে সার্বক্ষণিক জীবিকা হিসেবে সাহিত্যকে বেছে নেন। এই দুঃসাহসিকতা বাংলাদেশে একমাত্র তিনিই দেখাতে পেরেছেন। হুমায়ূন বেশি লেখেন এবং তাঁর লেখায় গভীরতা কম—একাডেমিক জগতের কেউ কেউ এমন মৃদু অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তার বিপুল তোড়ে অক্ষম ঈর্ষাকাতর লোকদের দুর্বল কণ্ঠ খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। ১৯২৩ সালে মৈয়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক দীনেশ চন্দ্র সেন বলেছিলেন, পূর্ব ময়মনসিংহের পল্লিগুলো ‘সাহিত্যিক তীর্থ পদবাচ্য’। এমন একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অঞ্চলে অর্থাৎ নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে নানার বাড়িতে ১৯৪৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। তিনি তাঁর সৃজনশীল সাহিত্যে ময়মনসিংহের কৃষিভিত্তিক সমাজে প্রচলিত লোকভাষা, আচার-আচরণ, কথা বলার বাকভঙ্গি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের কাছে নতুন ব্যঞ্জনায় উপস্থাপন করেছেন। তাঁর একটি চরিত্র ‘নিবারণ মাঝি’র মুখে ময়মনসিংহের লোকভাষার প্রয়োগ দেখা যায় এভাবে। যেমন: ‘কর্তা, শইলডা বালা’। হুমায়ূন ছিলেন প্রকৃত অর্থে একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে রাজশাহী বোর্ডে তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি তাঁর কৃতিত্ব ধরে রাখেন। সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডেকোটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিমার রসায়নে একাডেমিক জগতের সর্বোচ্চ ডিগ্রি পিএইচডি লাভ করেন। তারপর যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। হুমায়ূন ছোটবেলায় বিছানায় ফুলওয়ালা মশারির ভেতর দিয়ে চাঁদের আলোর ফুল তৈরির নকশা দেখে শিহরিত হন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সাহিত্যিক। তিনি রাতের বেলায় নির্জন কক্ষে বসে উপন্যাস লিখতেন। ছেলের বিহ্বল অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি বলেন, বড় হয়ে হুমায়ূন চাঁদের ফুল ধরতে পারবে। তার সব উপন্যাসে চাঁদ ও জ্যোৎস্না এক উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। এ বিষয়ে হুমায়ূন নিজে বলেন, ‘জোছনা আমার অতি প্রিয় বিষয়। প্রবল জোছনা আমার মধ্যে একধরনের হাহাকার তৈরি করে। সেই হাহাকারের উৎস অনুসন্ধান করে জীবন পার করে দিলাম।’ বলতে দ্বিধা নেই, এমন সীমাহীন দেশকালে সম্প্রসারিত তাঁর লেখক মন। সুখ-দুঃখবর্জিত তাঁর এই নির্লিপ্ত প্রশান্তি বা যাকে তার নান্দনিক দৃষ্টি বা আনন্দ বলা যায়, তা শুধু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকেরই অধিগম্য হতে পারে। হুমায়ূনের প্রিয় বিষয় ছিল বাংলার শোভাময় প্রকৃতি। চাঁদ, চাঁদের জোছনা, মেঘ ও বৃষ্টি, ফুল ইত্যাদি। তা ছাড়া, জীবনের অব্যক্ত রহস্য, জাদু-বাস্তবতা এবং সামাজিক জীবনের ভেতরের অশেষ জটিলতাকে সরল নিয়মের সূত্রে তিনি প্রকাশ করেছেন। তিনি জগৎ ও জীবনকে সুন্দর ও রহস্যময় বলে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বর্ণনায় আমাদের প্রাত্যহিক জীবন স্বভাবতই আরও সুন্দর ও আনন্দময় হয়ে আমাদের কাছে ধরা দিয়েছে। তাঁর জীবন অন্বেষায় যুক্ত হয়েছে বুদ্ধির সঙ্গে হূদয়, যুক্তির সঙ্গে ইন্দ্রিয়। সংসারজীবনের অশেষ জটিলতাকে তিনি তাঁর সাহিত্যে বাঙ্ময় করেছেন। তাঁর গদ্য সহজ ও ঝরঝরে। তাঁর ভাষা সুন্দর ও স্নিগ্ধ। তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম নন্দিত নরকে। অধ্যাপক আহমদ শরীফ এই বইয়ের ভূমিকা লেখেন। তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমদ বয়সে তরুণ, মনে প্রাচীন দ্রষ্টা, মেজাজে জীবনরসিক, স্বভাবে রূপদর্শী, যোগ্যতায় দক্ষ রূপকার। ভবিষ্যতে তিনি বিশিষ্ট জীবনশিল্পী হবেন—এই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করব।’ হুমায়ূনকে আর অপেক্ষা করতে হয়নি। তিনি বাঙালি জাতিকে বিশেষ করে তরুণ সম্প্রদায়কে সৃষ্টিশীল হতে সাহায্য করেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে বাঙালি জাতি একীভূত হতে পেরেছে। বাঙালি তার দুঃখ-বেদনা, আনন্দকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে। অজস্র রচনাসম্ভারে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি নতুন পাঠকশ্রেণী তৈরি করেছেন। তিনি ছিলেন প্রবল আত্মবিশ্বাসী মানুষ। সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি অবদান রেখেছেন বাংলা চলচ্চিত্রেও, তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছায়াছবি আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন ইত্যাদি। বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জীবনশিল্পীর মতো হুমায়ূন ছিলেন ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সংলগ্ন। অনেক সমালোচক উল্লেখ বরেছেন, তাঁর পড়াশোনার ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। বিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্র হয়েও তিনি বিশ্বের প্রধান লেখকদের বিভিন্ন রচনা নিবিড়ভাবে পাঠ করেছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল বিস্ময়কর। তিনি ধর্মতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস, জ্যোতির্বিদ্যা, ম্যাজিক, পরিবেশ ও জলবায়ু, বৃক্ষ, লোকসাহিত্য, লোকজীবন ও সংস্কৃতি বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। তা ছাড়া, স্পেনের বিখ্যাত কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার কবিতা তিনি অনুবাদ করেছেন এবং নাটকে সুযোগ পেলেই ব্যবহার করেছেন। জন স্টেইনবেক, অ্যালেন পো বিষয়ে তিনি চমৎকার গল্প বলতেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতার পঙিক্ত দিয়ে তিনি উপন্যাসের নামকরণ করেন। যেমন: দারুচিনি দ্বীপ, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ। তবে তাঁর ভুবনের বিশাল অংশজুড়ে ছিল রবীন্দ্রনাথের অবিনাশী গান। রবীন্দ্রনাথের কবিতার পঙিক্ত দিয়ে তিনি অনেক উপন্যাসের নামকরণ করেন। উদাহরণস্বরূপ, আগুনের পরশমণি, আমার আছে জল, তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে, দিনের শেষে, দূরে কোথায়, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, মেঘ বলেছে যাব যাব, শ্যামল ছায়া, সকল কাঁটা ধন্য করে, সবাই গেছে বনে ইত্যাদি। তাঁর ঐতিহ্যসচেতনতার দ্বিতীয় অংশ হলো পূর্ব ময়মনসিংহের কৃষিভিত্তিক জনজীবনের সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় মেলবন্ধন। আগে উল্লেখ করেছি, জন্মসূত্রে পূর্ব ময়মনসিংহের জনজীবনের সংস্কৃতিকে তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরিবেশ পেয়েছিলেন। শ্রাবণ মেঘের দিন ছবিতে তিনি নেত্রকোনা অঞ্চলের মালজোড়া বাউলগানের বিশিষ্ট গায়ক ও গীতিকারদের নতুনভাবে আবিষ্কার করেন। মরমি সাধক রশিদ উদ্দিন, উকিল মুন্সী, জালাল উদ্দিন খাঁ, সিলেট অঞ্চলের হাসন রাজাসহ অনেকের সৃষ্টির সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় সংযোগ। বাউলগানের আসর, হালকা জিকিরের গান, মারফতি, দেহতত্ত্ব, লোককাহিনি, লোকছড়া, লোকসাহিত্য, লোকপ্রবাদ, লোকপ্রবচন—এসব বিষয়ে তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। নন্দিত বংশীবাদক বারী সিদ্দিকীকে তিনি সংগীতজগতে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। কেন্দুয়ার কুদ্দুছ বয়াতি, বাউল গায়ক ইসলাম উদ্দিন হুমায়ূনের নিজস্ব আবিষ্কার। মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কে ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ পল সার্ত্রে বলেছেন, ম্যান ইজ এ ইউজলেস প্যাশন। মানুষ যেই মুহূর্তে চিরদিন বেঁচে থাকার মোহ, মায়া থেকে মুক্ত হবে; তখনই সে উপলব্ধি করবে যে, লাইফ হ্যাজ নো মিনিং। তা ছাড়া, জীবনানন্দ দাশ কী সুন্দর করে বলেছেন: ‘আমরা মৃত্যুর আগে কি বুঝিতে চাই আর? জানি না কি আহা!/ সব রাঙা কামনার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে ধুসর মৃত্যুর মুখ….’ হুমায়ূন ছিলেন জীবনের নিপুণ শিল্পী। মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসতেন। বিচিত্র ধরনের মানুষ নিয়ে তাঁর ‘জম্পেশ আড্ডা’ ছিল অস্তিত্বকে উপলব্ধি করারই একটি মাধ্যম। জীবনের উপান্তে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেওয়া শেষ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি ‘স্টেজ ফোর’ ক্যানসারে আক্রান্ত। এখানে তাঁর কোনো চয়েস নেই। চিকিৎসা না করালে তিনি মারা যাবেন। আর চিকিৎসা করালে তিনি যে বাঁচবেন, তা-ও অনিশ্চিত। অবশেষে একজন অস্তিত্ববাদী মানুষের দৃঢ়তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। তাঁর অনকোলজিস্ট ছিলেন ডা. স্টিফেন আর ভিচ। তাঁর সঙ্গে হুমায়ূনের শেষ কথোপকথন ছিল নিম্নরূপ: হুমায়ূন: ডা. ভিচ! আমি কি মারা যাচ্ছি? ডা. ভিচ : হ্যাঁ। আমরা সবাই মারা যাচ্ছি। হুমায়ূন: আমাদের জন্মই হয়েছে মারা যাওয়ার জন্য। মানবজন্ম সম্পর্কে হুমায়ূনের এমফ নির্মোহ উপলব্ধি শারীরিক ও মানসিক অনন্ত তৃষ্ণায় ভরপুর মানুষের পক্ষে কি খুশিমনে মেনে নেওয়া সম্ভব? হুমায়ূনকে সম্বোধন করে আমার বেদনা-ব্যথিত মন বলে ওঠে, ‘বড়ো বিস্ময় লাগে হেরি তোমারে।’প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV