Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

৩৭ মিনিট কাটে যেভাবে, ফোনালাপের পূর্ণ বিবরণ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 131 বার

প্রকাশিত: October 29, 2013 | 6:04 PM

৩৭ মিনিট কাটে যেভাবে, ফোনালাপের পূর্ণ বিবরণ
বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৩
 

স্টাফ রিপোর্টার: চার বছর আগে কুশল বিনিময়। তারপর ২৬শে অক্টোবর দু’জনের ফোনালাপ। একজন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা দিলেন। অন্যজন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আলটিমেটাম। অনেকদিন থেকেই রাজনীতিতে চাউর ছিল যে কোন সময় দু’নেত্রীর কথা হতে পারে। আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। চলমান সঙ্কট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে গণভবনে নৈশভোজের দাওয়াত করলেন। বিরোধী নেতা দাওয়াত কবুলও করলেন। বিরোধী নেত্রী ২৯শে অক্টোবরের পর যে কোন দিন গণভবনে নৈশভোজের দাওয়াত কবুল করলেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর বর্তমান সঙ্কট নিরসনে দু’নেত্রীর এই ফোনালাপ নিয়ে রাজনীতিতে বইছে ঝড়ো হাওয়া। ৩৭ মিনিটের ফোনালাপে কি কথা হয়েছিল দু’জনের। শুধুই কি কুশল বিনিময়? এ কৌতূহল বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের। বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরে প্রচারিত অডিও থেকে ধারণকৃত সেই কথোপকথন বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-  
খালেদা: হ্যালো, হ্যালো। 
হাসিনা: হ্যালো। কেমন আছেন? 
খালেদা: ভাল। 
হাসিনা: দুপুর থেকে ফোন করছি। 
খালেদা: দুপুরে কোন ফোন আসেনি। 
হাসিনা: ফোন করেছি তো। 
খালেদা: এই কথাটি যে বলেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য নয়। দীর্ঘদিন ধরেই টেলিফোনটি বিকল। দেশ চালান, সব খবর রাখেন, এ খবর রাখেন না। লোক পাঠান। এখনই লোক পাঠিয়ে দেখে যান। 
হাসিনা: আপনি তো জানেন, রেড ফোন বিকল থাকে না। 
খালেদা: ভাল থাকে, কিন্তু আমারটা ভাল নেই। 
হাসিনা: আমি ফোন করেছি। রিং বেজেছে। 
খালেদা: দীর্ঘদিন ধরে ফোন ডেড। মৃত ফোন কি হঠাৎ জেগে উঠবে? 
হাসিনা: যে কোন কারণে ফোন ধরতে পারেন নি। 
খালেদা: না ফোন বাজেনি। আমি ফোনের কাছেই থাকি। ছোট একটু জায়গা। ফোন বাজলে না ধরার কোন কারণ নেই। 
হাসিনা: ডেড ছিল, নাকি ডেড করে রাখা হয়েছে!
খালেদা: ডেড ছিল, বহু লোক আপনাদের কাছে গেছে। 
হাসিনা: ফোন বেজেছে, ধরেন নি। আমি আগামীকাল দেখবো কেন ফোন ডেড ছিল। 
খালেদা: এটা ভাল কথা। 
হাসিনা: আমি ফোন করলাম। ২৮ তারিখ (২৮শে অক্টোবর) আপনাকে দাওয়াত দিচ্ছি। জানেন তো, আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছি। গণভবনে সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে বসে একটু খাবার খাবেন। 
খালেদা: দাওয়াত কেন দিচ্ছেন? সেটা তো আগে বলবেন। 
হাসিনা: আমার সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন। 
খালেদা: ২৮ তারিখ আমি যেতে পারবো না। ওই দিন আমাদের হরতাল আছে। ২৯শে অক্টোবর হরতাল শেষ হবে। 
হাসিনা: আপনি বলেছেন, দুইদিনের মধ্যে।
খালেদা: বলেছি। আমার আন্তরিকতা আছে। আমি একা যাবো না। 
হাসিনা: যাকে ইচ্ছা আনেন, যতজন ইচ্ছা আনেন। 
খালেদা: যতজন না। আমার দলের প্রয়োজনীয় নেতাদের নেবো। 
হাসিনা: দেশ ও জাতির স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার করুন। 
খালেদা: হরতাল প্রত্যাহার করতে পারবো না। 
হাসিনা: মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। 
খালেদা: মানুষ হত্যা আপনারা করছেন। আপনারা গান পাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। এসব হত্যার নির্দেশ আপনার মুখ থেকেই বেরিয়েছে। এর দায় আপনাদের। 
হাসিনা: জনগণের স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার করুন। 
খালেদা: জনগণের স্বার্থে হরতাল দিয়েছি। 
হাসিনা: আমরা আলোচনা করতে চাই। 
খালেদা: আপনার মন্ত্রীরা তো বলেছেন, আলোচনা হবে না। আলোচনা হতে পারে, হরতালের পর। 
হাসিনা: আপনি তো দুই দিনের কথা বলেছিলেন। 
খালেদা: আপনি একদিন পর ফোন করেছেন। তখন সুযোগ ছিল না। 
হাসিনা: আমি তো ব্যস্ত। 
খালেদা: আপনার মতো অত ব্যস্ত না হলেও আমরাও ব্যস্ত। ইচ্ছা করলে উপায় বের করা যায়। আপনারা সেটা করেননি। 
হাসিনা: আমি যে সবার সঙ্গে আলাপ করবো, সেটা তো আগেই বলেছি…
খালেদা: কাল আমাদের সমাবেশের এত দেরি করে অনুমতি দিলেন কেন? অনুমতি দিলেন মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিলেন না কেন? লোকজন আমাদের বক্তব্য শুনতে পায়নি। অতীতে আপনাদের তো এমন করিনি। 
হাসিনা: আমি বলেছি, আলোচনার কথা। 
খালেদা: সমাবেশে মাইকের অনুমতি কেন দিলেন না? 
হাসিনা: অনুমতি তো দিয়েছি। 
খালেদা: আমরা সমাবেশ করতে গেলে আপনারা ১৪৪ ধারা জারি করেন। দেশে কি ইমার্জেন্সি জারি হয়েছে? দেশে কি যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে?
হাসিনা: এব্যাপারে কথা বলতে চাই না। 
খালেদা: কথা তো আপনাকে বলতে হবে। মিটিং করতে চাইলে মাইকের অনুমতি দেবেন না। আপনারা আগে মিটিং করেননি?
হাসিনা: আমাদের গ্রেনেড হামলার কথা মনে আছে। 
খালেদা: আমরা নই, আপনারা করিয়েছেন গ্রেনেড হামলা। 
হাসিনা: আপনারাও কিন্তু রাত ১১টায় অনুমতি দিয়েছিলেন। 
খালেদা: আপনার দলের নেতারা ভেন্যু পরিবর্তন করেছিল। 
হাসিনা: আপনি মুক্তাঙ্গনে অনুমতি… 
খালেদা: অনুমতি দিয়েছি, রেকর্ড আছে। সে রেকর্ড দেখেন না। 
এখন বলছি, সত্যিকার আন্তরিক হন। তবে ২৯ তারিখের পর বলেন, আমি যাবো। 
হাসিনা: আমি ঝগড়া করতে চাই না। আপনি একতরফা কথা বলছেন। 
খালেদা: কথা আপনিও বলছেন। 
হাসিনা: হরতাল প্রত্যাহার করেন। আসেন।
খালেদা: হরতালের পর। 
হাসিনা: হরতালের মাধ্যমে মানুষ খুন করছেন।  
খালেদা: আপনারা মানুষ খুন করছেন। আপনার ছাত্রলীগ, যুবলীগ মানুষ খুন করছে। 
হাসিনা: খুনের রাজনীতি আমরা করি না। 
খালেদা: খুনের  রাজনীতি আপনার পুরনো অভ্যাস। আপনাদের পুরনো অভ্যাস। 
১৯৭১-এর পরও ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষ খুন করেছেন। সেটা কি ভুলে গেছেন।
হাসিনা: ৭১-এ মানুষ খুন করেছি। 
খালেদা: ৭১-এর পর ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষ খুন করেছেন। 
হাসিনা: যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করছেন। 
খালেদা: সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে আমরা সমর্থন দিতাম। কিন্তু আপনি তা করছেন না। আপনার দলেও অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে। 
হাসিনা: সত্যিকার বিচার হচ্ছে। 
খালেদা: আপনি তো প্রধানমন্ত্রী নন। আপনি তো দলীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন। আমার দলীয় কার্যালয়ে যে আচরণ করেছেন। 
হাসিনা: আপনি জবাব দিতে পারেন। অসাংবিধানিক সরকার…
খালেদা: আপনারাই অসাংবিধানিক সরকারকে স্বাগত জানান। আপনিই এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর বলেছিলেন, আই এ্যাম নট আনহ্যাপি। 
হাসিনা: বলিনি। 
খালেদা: আপনি মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে আপনাদের আন্দোলনের ফসল বলেছেন। 
হাসিনা: না। 
খালেদা: আপনি তাদের শপথ অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, আপনাদের আন্দোলনের ফসল। মানুষ সে কথা ভোলেনি। 
হাসিনা: আপনি ৯ জনকে ডিঙিয়ে মইন উদ্দিনকে প্রধান বানিয়েছিলেন। 
খালেদা: আপনি অনেককে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ কথা বইলেন না। অনেককে বাড়ি পাঠিয়েছেন। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সাংবিধানিক সরকার ছিল না। কিন্তু আপনি তাদের শপথ অনুষ্ঠানে গেলেন। সেদিন তো আমরা দুই দলই ক্ষমতার বাইরে ছিলাম। আমি যাইনি, আপনি শপথ অনুষ্ঠানে গেছেন। 
হাসিনা: আমি আগুনে বসে হাসি পুষ্পের হাসি। আমার বাবা-ভাই মারা গিয়েছিল। 
খালেদা: আপনি অতীতের দিকে নয়, সামনের দিকে আগান। সৎ উদ্দেশ্য থাকলে সামনে আগান। 
হাসিনা: আপনারা ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যাকাণ্ড করেছেন। 
খালেদা: হত্যা আমরা করিনি। আপনি যতদিন থাকবেন, ততই আমাদের লাভ। আপনি যতই অশ্লীল কথা বলবেন ততই আমাদের লাভ। 
হাসিনা: ১৫ই আগস্ট আপনি কেন কেক কাটেন? 
খালেদা: ওইদিন কি কোন মানুষ জন্ম নেবে না? আপনারা জিয়াউর রহমানের কথা বলেন। জিয়াউর রহমান তো আপনাদের আওয়ামী লীগকে জন্ম দিয়েছেন। আপনারা তো বাকশাল ছিলেন। জিয়াউর রহমানের বদৌলতে আওয়ামী লীগ হতে পেরেছেন। 
হাসিনা: রাসেলকে তো এই বাসায় ঘুরতেও দেখেছেন…
খালেদা: এ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসেন। আসুন নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করি। 
হাসিনা: আপনি হরতাল প্রত্যাহার করবেন না? 
খালেদা: হরতাল প্রত্যাহার করতে পারবো না। এটা ১৮ দলের সিদ্ধান্তে ঘোষণা করা হয়েছে। 
হাসিনা: আপনি ১৮ দলকে ডেকে নিয়ে বলেন…
খালেদা: তাদের তো পুলিশ তাড়াচ্ছে। 
হাসিনা: পুলিশ ধরবে না। বলে দেন। 
খালেদা: পুলিশ কি আমাদের কথায় চলে? 
হাসিনা: বোমা ব্রার্স্ট হবে… 
খালেদা: বোমা বার্স্ট আপনারা করেন। আপনি ২৯ তারিখের পর বলেন, আমরা আসবো। 
হাসিনা: আপনি দুই দিনের আলটিমেটাম দিলেন। এর মধ্যেই তো ফোন করলাম। 
খালেদা: বলেছি তো, আপনি দেরি করেছেন। আমরা বলেছি, সংলাপ ও আন্দোলন একসঙ্গে চলবে।
হাসিনা: শোনেন আমার কথা, আমার এখানে ক্যামেরা নাই … 
খালেদা: আমাদের এখানে ক্যামেরা নেই। আমরা ক্যামেরা ছাড়া কথা বলছি। অফিসে থাকলেই বরং ক্যামেরা থাকতো। আপনারা সম্ভবত ক্যামেরাই দেখাচ্ছেন… 
হাসিনা: ফোন করেছি। ফোন তো ঠিক আছে। 
খালেদা: লোক পাঠান। 
হাসিনা: ১০-১২ বার ফোন করেছি। 
খালেদা: আমরা শুনিনি, আপনি কেবল শুনেছেন। 
হাসিনা: আমি কিভাবে শুনবো। আমার তো এক কান নষ্ট। ফোন আমি নিজেই করেছি। 
খালেদা: ডেড ফোনে কথা বলেছেন। 
হাসিনা: রিং হচ্ছিল। 
খালেদা: ঠিক নয়। আমরা অনেকবার লোক ডেকেছি। আপনার লোকজন আমাদের তো মানুষই মনে করে না। 
হাসিনা: ফোন দিয়েছি। 
খালেদা: আপনি চাইলে মোবাইলে কথা বলতে পারতেন। মৃত কে তো মৃত বলতেই হবে। 
হাসিনা: (…নাম্বার বলে যান) 
খালেদা: আপনার মুখস্ত থাকতেই পারে। 
হাসিনা: কাল খবর নেবো। 
খালেদা: গুলশান এক্সচেঞ্জের লোক মিথ্যা বলেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে সত্য কথা বলেনি। 
হাসিনা: আলাদা এক্সচেঞ্জ। 
খালেদা: টেলিভিশনে স্ক্রল দেখাচ্ছে… 
হাসিনা: গণভবনে আমরা কথা বলছি, এখানে কোন টেলিভিশন নেই। 
খালেদা: তাহলে কেন এটা বলা হচ্ছে…
হাসিনা: তাহলে কি কথা বলবেন না।
খালেদা: আমি আধা ঘণ্টা ধরেই বসে আছি। আপনার ফোন আসবে এ জন্য। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। কথা বলেছি। এখন কেন কথা বলবো না?
হাসিনা: ২৮ তারিখে আসেন। 
খালেদা: সত্যিই আন্তরিক হলে ২৯ তারিখের পর বলেন। 
হাসিনা: কাল বলেছেন… 
খালেদা: আমরা তো হরতাল দিয়েছি। 
হাসিনা: আমি তো ফোন করেছি। 
খালেদা: আগে কেন করেননি। পরে করছেন কেন? 
হাসিনা: আমি দুঃখিত। 
খালেদা: বাংলাদেশের মানুষ… 
হাসিনা: আপনি দুইদিনের কথা বলেছেন… 
খালেদা: বলেছি, কিন্তু হরতালও দিয়েছি। 
হাসিনা: কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। 
খালেদা: ১৮ দলকে এখন কই পাবো। 
হাসিনা: হুকুম করেন, পাবেন। 
খালেদা: কই পাবো? তারা তো … 
হাসিনা: মিথ্যা বলছেন। 
খালেদা: আপনি কাল রাতে ফোন করতে পারতেন। 
হাসিনা: আমি রাত জাগি না। আমি সকালে নামাজ পড়ি। 
খালেদা: নামাজ পড়েন। কোরআন পড়েন।
পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১
 নামাজিদের গুলি করে হত্যা- সবই করেন। 
হাসিনা: আমি নামাজ পড়ি, নিয়মিত কোরআন পড়ি। 
খালেদা: আপনি ২৯ তারিখের পর (দাওয়াত) করেন। 
হাসিনা: আপনি আপনার বক্তব্য থেকে সরে যাচ্ছেন। 
খালেদা: আমার দলের নেতারা এখন নেই। ১৮ দল নেই। আমি একা কিভাবে সিদ্ধান্ত নেবো। 
হাসিনা: হুকুম দেন। এটা হয় নাকি।
খালেদা: আপনার ডিবি-এসবি তো আমাদের ঘেরাও করে রেখেছে, কিভাবে আসবে?
হাসিনা: আপনারা তো দা-কুড়াল নিয়ে মানুষ হত্যার কথা বলছেন। 
খালেদা: বিশ্বজিৎকে আপনারা হত্যা করেছেন। 
হাসিনা: তারা আগেই ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ছিল। 
খালেদা: আমরা এ রকম আরও উদাহরণ দিতে পারবো। আপনারা আমাদের বক্তব্য টেলিভিশনে প্রচার করতে দেননি। নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছেন। আল্লাহ আপনাদের বিচার করবে। 
হাসিনা: ধরা পড়ার পর দেখা গেছে তাদের বাবা-মা জামায়াত-বিএনপি করে। 
খালেদা: না তারা ছাত্রলীগই করে। আমি আপনাকে অনুরোধ করি, সদিচ্ছা থাকলে ২৯ তারিখের পর ডাকেন। 
হাসিনা: এ কথাটি রাখেন।
খালেদা: ২৯ তারিখের পর ডাকেন। অন্য কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে। আমরা কর্মসূচি দেবো না। 
হাসিনা: দিনের কথা বলেছিলেন। 
খালেদা: ৩০ তারিখ হলে আমি রাজি আছি। 
হাসিনা: আপনার তো ভারপ্রাপ্ত আছে। যদিও প্রটোকলে মিলে না। তারপরও আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ কথা বলবেন। তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে… 
খালেদা: কাল রাতে কেন ফোন দিলেন না? তাহলে আমি দলের নেতাদের সঙ্গে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। আমি তো ৭টায় অফিসে গিয়েছিলাম। ফোন করলেই পেয়ে যেতেন। 
হাসিনা: তখন তো রাত। 
খালেদা: ৭টা রাত নয় সন্ধ্যা। 
হাসিনা: আমার তো নেতাদের সঙ্গে কথা বলে… 
খালেদা: আমারও তো নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। 
হাসিনা: আমাদের কিন্তু ’৯৬-এর কথা মনে আছে। 
খালেদা: ১৭৩ দিন হরতাল করেননি? 
হাসিনা: ’৯৬তে আপনারাও করেছেন। 
খালেদা: ১৯৯১ সালে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। একসঙ্গে কাজ করতাম। কিন্তু আপনি প্রথম দিনেই সংসদে বললেন, একদিনও শান্তিতে থাকতে দিবেন না। 
হাসিনা: নো। 
খালেদা: আপনি একবার তত্ত্বাবধায়কের কথা বলবেন, একবার সংবিধানের কথা বলবেন। 
হাসিনা: নির্বাচনের পর যে সিচুয়েশন হয়েছিল। 
খালেদা: ৩০ তারিখের পর হলে আমরা রাজি আছি। 
হাসিনা: আমার পার্টি স্ট্রং। আমাদের ভোট আছে। আমরা সংগ্রাম করেই এটা অর্জন করেছি। 
খালেদা: আমার দলও অনেক সংগ্রাম করে ক্ষমতায় এসেছিল। 
হাসিনা: দুঃখিত। 
খালেদা: সময়মতো ফোন করেননি। আমি দুঃখিত। কাল ফোন করলে পরিবেশ পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। 
হাসিনা: আমার এডিসি দেড়টা থেকে চেষ্টা করেছে। 
খালেদা: ফোন না বাজলে ধরার উপায় নেই। 
হাসিনা: শিমুল বিশ্বাসের ফোনেও অনেক চেষ্টা করেছে। 
খালেদা: আপনি বসেছিলেন ৬টার জন্য। 
হাসিনা:  আপনি জানেন আমাদের মিটিং ছিল। আমি মিটিংয়ে দেরি করতে পছন্দ করি না। 
খালেদা: মিটিং জরুরি না এটা জরুরি ছিল। 
হাসিনা: সিদ্ধান্ত নেন। 
খালেদা: কিভাবে নেবো। 
হাসিনা: জাতির কাছে বলেন। 
খালেদা: আপনি নির্দলীয় সরকার মেনে নিন। আমি হরতাল প্রত্যাহার করবো। 
হাসিনা: আমাদের ৯০ ভাগ সিট … 
খালেদা: আপনি বলেন, নির্দলীয় সরকার মেনে নেবেন, আমি হরতাল তুলে নেবো। 
হাসিনা: যারা মাইনাস-টু করতে চেয়েছিল আপনি তাদের আনতে চাইছেন। 
খালেদা: আমি না, আপনি। আপনি যে ভাষায় কথা বলেন… 
হাসিনা: আপনি তো মধুর ভাষায় কথা বলেন। আমরা সংসদে আছি। একসঙ্গে কাজ করবো… আপনি দলের নেতাদের মিটিং করেন। 
খালেদা: পুলিশকে বলে দেন। তত্ত্বাবধায়ক মানেন। সবাইকে ডাকি। 
হাসিনা: হরতাল তুলে নেন। 
খালেদা: নির্দলীয় সরকার মানার ঘোষণা দেন। 
হাসিনা: আপনার দলের লোকের ওপর ভরসা নেই? 
খালেদা: আমার দলের লোকের ওপর ভরসা আছে। 
হাসিনা: তাদের ডাকেন। 
খালেদা: আপনি দাবি মানেন, হরতাল… 
হাসিনা: আপনি সর্বদলীয় মানেন। 
খালেদা: সর্বদলীয় মানা যায় না। 
হাসিনা: আবার কাকে আনবেন, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের মতো!
খালেদা: আপনিই আনেন। 
হাসিনা: ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সৃষ্টি করবেন না। 
খালেদা: কি বলেন… 
হাসিনা: আসেন। হরতাল তুলে নেন। 
খালেদা: ২৮ তারিখের আগে পারবো না। হবে না। 
হাসিনা: ধন্যবাদ… 

মানবজমিন

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV