৮টি কেমোথেরাপি দিতে হবে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক-নাট্যকার-চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদকে:ভর্তি করানো হবে মানহাটনে
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার সকাল সাতটায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক-নাট্যকার-চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই সন্তান নিষাদ হুমায়ূন, নিনিত হুমায়ূন এবং পারিবারিক বন্ধু অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। আজ দিনের কোন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পৌঁছেই হুমায়ূন আহমেদকে ভর্তি করানো হবে মানহাটনে অবস্থিত মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারে। এ প্রসঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব মানবজমিনকে জানান, কোলন ক্যান্সারের বিষয়টি একরকম নিশ্চিত। এখন প্রয়োজন এর যথাযথ চিকিৎসা। সে লক্ষ্যেই কালবিলম্ব না করে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করা। তাছাড়া মানহাটনের যে হাসপাতালটিতে তিনি ভর্তি হচ্ছেন সেটাও বিশ্বের এক নম্বর ক্যান্সার চিকিৎসা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃত। সব মিলিয়ে আমরা তো শতভাগ আশাবাদী। আমাদের বিশ্বাস তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন। হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ধরাপড়া কোলন ক্যান্সার এবং এর চিকিৎসা সময় প্রসঙ্গে আহসান হাবীব আরও জানান, সহসা দেশে ফিরতে পারছেন না হুমায়ূন আহমেদ। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাপ করে আহসান হাবীব জানতে পেরেছেন, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিতে হলে সেখানে টানা প্রায় এক বছর থাকতে হচ্ছে তাকে। প্রাথমিক চেকআপ এবং ক্যান্সারের রকম ও পরিধি যাচাই-বাছাই এরপর অন্তত আট মাসে আটটি কেমোথেরাপি দিতে হবে তাকে। সব মিলিয়ে এক বছর কিংবা তারও অধিক সময় লাগবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা শেষ হতে। আহসান হাবীব আরও বলেন, অবশ্য এর মধ্যে হাসপাতালের অনুমতি নিয়ে তিনি ক’দিনের জন্য দেশে এলেও আসতে পারেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সেখানে গিয়ে প্রাথমিক চেকআপ এবং ডাক্তারি সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে কোলনে ক্যান্সার ধরা পড়ার খবরে তার কোটি ভক্ত-অনুরাগী-শুভানুধ্যায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও এ নিয়ে বেশ স্বাভাবিক রয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার প্রধান সহকারী জুয়েল রানা মানবজমিনকে বলেন, দেশ ছাড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সবার দোয়ায় স্যার খুবই স্বাভাবিক ছিলেন। দেশ ছাড়ার আগেও তিনি শক্ত কণ্ঠে বলেছেন, আমার জন্য টেনশন করো না। আমি একদম ঠিক আছি। জুয়েল রানা আরও বলেন, স্যারের তেমন কোন সমস্যাই ছিল না। চলতি মাসের এক তারিখে পরিবারের সব সদস্যের নিয়মিত শরীর চেকআপ করাতে স্যার সিঙ্গাপুর যান। সেখানকার মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্যার শরীর চেকআপ করান ৮ই সেপ্টেম্বর। এরপর সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার স্যারের রিপোর্ট দেখে তার কোলনে টিউমার ধরা পড়ার কথা জানান। প্রাথমিকভাবে তারা এটিকে ক্যান্সার বলে সন্দেহ করছেন। তবে নিশ্চিত করে ক্যান্সারের কথা বলেননি। সঙ্গে এটাও বলছেন, এতে খুব বেশি আতঙ্কের কিছু নেই। সঠিক চিকিৎসা হলে সেরে উঠবেন তিনি। এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল ভোরে দেশ ছাড়ার আগেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বেশ স্বাভাবিক এবং প্রাণচঞ্চল। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর না হয় চিকিৎসা হবে। কিন্তু পৌঁছানো পর্যন্ত তো আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। এমন বক্তব্যের কারণ হিসেবে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, হুমায়ূন আহমেদের উচ্চতাভীতি মারাত্মক। বিশেষ করে বিমানে উঠলে তিনি খানিকটা আতঙ্কিত বোধ করেন। সে জন্য দীর্ঘ বিমান জার্নি তার খুব একটা পছন্দ না।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








