৯০ বছরের অধ্যাপক গ্যুন্টার ব্যোম

মাথায় আঁচড়ানো সাদা চুল, পরনে জ্যাকেট। প্রায় চোখ বন্ধ করেই পশ্চিমা দর্শনের উত্থান নিয়ে বক্তৃতা দেন তিনি। তার নাম গ্যুন্টার ব্যোম। বয়স ৯০। সামনে বসা ৩০০ ছাত্রছাত্রী মুগ্ধ হয়ে শোনেন তার কথা, যারা অধিকাংশ নিজেরাই প্রবীণ। গ্যুন্টার ব্যোম মনপ্রাণে একজন শিক্ষক। সুদূর অতীতের চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের সম্পর্কে তিনি এমনভাবে কথা বলেন, যেন তারা তার পরিচিত জন। গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান থেকে শুরু করে কান্টের দর্শন, সব বিষয়েই তার স্বচ্ছন্দ গতিবিধি। মাঝে মাঝে গ্যাটের ‘ফাউস্ট’ থেকেও উদ্ধৃতি দেন। কিংবা ছোটখাটো রসিকতা করে ছাত্রছাত্রীদের হাসান। গ্যুন্টার ব্যোমের ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই তার মতোই অবসরভোগী প্রবীণ। ফ্রাঙ্কফুর্টের গ্যাটে ইউনি-ভার্সিটিতে প্রবীণদের জন্য খোলা বিশেষ একটি বিভাগে পড়তে আসেন তারা, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘জীবনের তৃতীয় অধ্যায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়।’ ১৯৮২ সালে গ্যুন্টার ব্যোমের উদ্যোগে গড়ে ওঠে বিভাগটি। যখন অন্যরা অবসর জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে থাকে, তখন তিনি নতুন কিছু শুরু করার উদ্যোগ নেন। এই প্রসঙ্গে গ্যুন্টার ব্যোম জানান, আমার শিক্ষক আমার সঙ্গে জীবনের মূলমন্ত্র দিয়ে দিয়েছিলেন, আর তা হলো, জীবনের সময় মানে জীবনের কাজের সময়। গ্যুন্টার ব্যোমের মতে, এই কাজটা হলো, নিজের শিক্ষা ও জ্ঞান অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়া। ১৯২৩ সালে ড্রেসডেন শহরে জন্ম হয় গ্যুন্টার ব্যোমের। বাবা ছিলেন শ্রমিক। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ হয়নি তার, কিন্তু ছেলেকে শিক্ষার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন। পাঠিয়েছিলেন হাইস্কুলে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় ১৮ বছর বয়সে যুদ্ধে যোগ দিতে হয় গ্যুন্টার ব্যোমকে। সে সময়ের কথা বলতে গেলে এখনও কণ্ঠ রোধ হয়ে আসে বর্ষীয়ান এই ব্যক্তির। যুদ্ধের পর এর্লাংগেন ও মিউনিখে দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন ব্যোম। কয়েক বছর এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ১৯৬৪ সালে ফ্রাংকফুর্টের গ্যাটে ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষাদর্শন বিভাগে গবেষণা সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন। মানবতাবাদী শিক্ষার মূলমন্ত্র, ধৈর্য ও মানবতা তার জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। ব্যোমের ভাষায়, আমি মনে করি, নিজের ভাষাকে সংযত করা, ঐতিহাসিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও বিনয়ী হওয়া মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বিশ্ববিদ্যালয় জগতে এসব মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। কিন্তু প্রবীণদের জন্য খোলা নিজস্ব বিভাগে তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে পারেন গ্যুন্টার ব্যোম। তিনি বলেন, আমার সেমিনারে অল্পবয়সীরাও যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তারা এই সুযোগটা প্রায় নিতেই পারেন না। আঁটসাট পাঠ্যক্রমের বাইরে কিছু করার মতো সময় তাদের থাকে না। দর্শনের প্রফেসর গ্যুন্টার ব্যোম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা কোর্স উঠিয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রবর্তন করাকে সমালোচনার চোখে দেখেন। এতে ছাত্রছাত্রীদের সময়ের চাপের মধ্যে থাকতে হয়। ফলে জ্ঞানের প্রসার ঠিকমতো হয় না। ব্যক্তিত্বের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়, জানান তিনি। তাই প্রবীণরাই হলেন ব্যোমের বিশ্বস্ত ছাত্রছাত্রী। যেমন ব্রিগিটে রেমি। ৬৭ বছরের ব্রিগিটে নিয়মিত ব্যোমের ক্লাসে দর্শনের লেকচার শুনতে আসেন। কেননা তার বক্তৃতা থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারি। বয়স, মৃত্যু ও নশ্বরতা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে পারি। জানান ব্রিগিটে রেমি। গ্যুন্টার ব্যোম তার কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক পান না। ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসাই তার কাছে অনেক। কাজটা তিনি চালিয়ে যেতে চান, যতদিন শক্তিতে কুলোয়। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests