Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

৯/১১-এ নিহতদের স্মরণ:এখন দেশ গড়ার সময় – মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 37 বার

প্রকাশিত: September 11, 2011 | 8:17 PM

Details

মার্কিনীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে  রবিবার ৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণ করেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসীদের বিমান হামলায় প্রায় তিন হাজার লোক নিহত হয়। সেই হামলার পর একই স্থানে নতুন করে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭নং ভবন চালু হয়েছে। গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর স্মৃতিস্তম্ভ। আগামী বছর উদ্বোধন করা হবে এর জাদুঘরের অংশ। স্মৃতিস্তম্ভে নিহতদের স্মরণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, সেই ভয়াবহ হামলার ১০ বছর পর এখন তাদের দেশ গড়ার সময় এসেছে। ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে চিহ্নিত আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন গত মে মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে পাকিস্তানে নিহত হন। ওবামা একথা উল্লেখ করে স্মরণ অনুষ্ঠানে বলেন, এভাবে সব সন্ত্রাসীকে সব জঙ্গিকে প্রতিহত করা হবে।  বুশ তার ভাষণে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে মার্কিনীদের সমর্থন দানের প্রশংসা করেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার, ভার্জিনিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনে সংঘবদ্ধ আত্মঘাতী হামলা হয়। সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান দিয়ে সন্ত্রাসীরা নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার খ্যাত টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। আঘাত হানার দুই ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায় আমেরিকার গর্ব টুইন টাওয়ার। তৃতীয় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় পেন্টাগনে। আর যাত্রীরা চতুর্থ বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালালে এটি পেনসিলভেনিয়ার শাঙ্কসভিলের একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয়, ওয়াশিংটন ডিসির কোন এক লক্ষ্যবস্তুতে এ বিমানটি দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এই ভয়াল দিনে প্রাণ হারায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই আল-কায়েদাকে দায়ী করে আসছে। আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন প্রাথমিক পর্যায়ে এ হামলার কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে দায়িত্ব স্বীকার করে।

সেই ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করতে বিমান হামলার স্থলগুলোতে নিহতদের স্বজনেরা জড়ো হতে শুরু করে ভোর থেকেই। নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারের স্থলে নিহতদের স্মরণে ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ১১ স্মৃতিসৌধ গতকাল উদ্বোধন করা হয়। দুটি পুলের এ স্মৃতিসৌধের একেকটির  আয়তন ১ একরের মত। ব্রোঞ্জ দিয়ে বাঁধানো পুল দুটির পাড়ে খোদাই করা হয়েছে ২০০১ সালে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের ও ১৯৯৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে বোমা হামলায় নিহত ৬ জনের নাম।

৯/১১ হামলার দশম বার্ষিকীতে আবার আল-কায়েদা হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের (বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র) আশেপাশের রাস্তায় মেটাল ব্যারিয়ারস স্থাপন করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে ব্রিজ ও টানেলে প্রবেশের আগে বড় যানবাহনগুলো থামিয়ে তল্লাশী চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার জন্য আল-কায়েদা কয়েকজন হামলাকারী পাঠিয়েছে বলে গত সপ্তাহে তথ্য পায় সিআইএ। এসব হামলাকারীর মধ্যে মার্কিন নাগরিক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে অবশ্য গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, হামলার তথ্য বিশ্বাসযোগ্য, তবে অনিশ্চিত।

নিউইয়র্কে স্মরণ অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, সৃষ্টিকর্তাই আমাদের আশ্রয় ও শক্তি। সমস্যার সময় তিনিই সহায়। এ কারণে আমরা ভয় পাই না। পায়ের তলা থেকে  মাটি সরে গেলে, পাহাড়-সমুদ্রে গিয়ে পড়লেও এই শহরের (নিউইয়র্ক) ভেতরে একটি নদী প্রবহমান থাকবে যা শহরটিকে বাঁচিয়ে রাখবে।

৯/১১ হামলার পর তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। গত ১০ বছরে আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখনো শেষ হয়নি।

৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্থলে। প্রদর্শনী, কনসার্ট, মানববন্ধন করা হয়েছে। যেখানে টুইন টাওয়ার ছিল সেখানে হাজার হাজার লোক সমবেত হয়। নিউইয়র্কের পুলিশ ও দমকল কর্মীরাও স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। গ্রাউন্ড জিরো নামে পরিচিত বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। এবারও নিহতদের নাম পড়ে শোনানো হয়। নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে সমবেত হয়। টুইন টাওয়ারে যে সময়ে বিমান হামলা হয় সেই সময়েই নিরবতা পালন করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেদিনের হামলার তিন স্থানেই যান। ওবামা বলেছেন, ঐ ঘটনার ১০ বছর পর বিশ্ব আজ বুঝতে পেরেছে যে, যারা সেদিন হামলা চালিয়েছিল তারা মার্কিনীদের শক্তি, দৃঢ়তা ও মূল্যবোধের কাছে তুচ্ছ। সন্ত্রাসীরা ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু মার্কিনীরা ভীত নয়। তবে মনে রাখতে হবে, তারা আবার হামলার চেষ্টা করবে। ঘটনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। এ ঘটনা সম্পর্কে বুশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১১ সেপ্টেম্বর অবিস্মরণীয় দিন। এ ঘটনা তার শাসনামলের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় বিষয়ে। সেখান থেকে তিনি যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্টে পরিণত হন।

১১ সেপ্টেম্বর স্মৃতিসৌধে গতকাল ওবামার সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশও। ছিলেন ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা, নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ওবামা। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে পাঁচ সন্তান হারানো এক মায়ের উদ্দেশে আব্রাহাম লিংকনের লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনান বুশ। প্রথম নিরবতা পালন করা হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে যখন টুইন টাওয়ারের একটি নর্থ টাওয়ারে হামলা হয়। এরপর  নিরবতা পালন করা হয় স্থানীয় সময় সকল ৯টা ৫৯ মিনিটে যখন সাউথ টাওয়ার ধ্বংস হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলার সময় সকাল ৯টা ৩ মিনিটে নিরবতা পালন করা হয়। ওয়াশিংটনে নিরবতা পালন করা হয় সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে। পেনসিলভানিয়ায় নিরবতা পালন করা হয় সকাল ১০টা ৩ মিনিটে।

এখনো সন্ত্রাসীদের হুমকি থাকায় নিউইয়র্কে অনেকে গতকাল বিক্ষোভ করে। এজন্য তারা বুশ ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রামসফেল্ডের ফাঁসি দাবি করে।ইত্তেফাক

 

ট্যাগ:
Situs Streaming JAV