ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের স্পিনারদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন উইন্ডিজ দলের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। তার ধারণা, খুলনা আবু নাসের স্টেডিয়ামের উইকেটের যে আচরণ, তাতে স্পিনার সহায়তা পাবেন না। সে সঙ্গে নতুন ফিল্ডিং স্টাইল স্বাগতিক স্পিনারদের জন্য বর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও ধারণা ছিল স্যামির। ম্যাচটা কেবল ব্যাটিংনির্ভর হবে বলে মনে করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেই উইন্ডিজ অধিনায়কের এসব সমীকরণ পাল্টে দিলেন বাংলাদেশ দলের স্পিনাররা। ইস্পাতকঠিন ব্যাটিং লাইনআপও বোকা বানাতে পারেনি বাংলাদেশ দলের স্পিনারদের। সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিবলের সামনে যেন মাথা তুলে দাঁড়াবার জো পেলেন না গেইল, ব্রাভো, স্যামুয়েলস ও পোলার্ডরা। স্বাগতিক দলের বোলারদের সামনে নিয়মিত অসহায় আত্মসমর্পণ করেন অতীশ গিবসনের শিষ্যরা। সোহাগ ও রাজ্জাকের ঘূর্ণির সামনে নির্ধারিত ওভারের আগেই ঘুরে যেতে হয়েছে ড্যারেন স্যামি অ্যান্ড কোংকে। দু’ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নিয়মিত দাপট দেখানোর পর পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই উইন্ডিজদের এমন দৈন্যদশা অনেকের নাকি কল্পনারও বাইরে ছিল। ম্যাচটিতে ৭ উইকেটের সহজ জয় নিয়ে টেস্ট সিরিজের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার হতাশা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে মুশফিক বাহিনী। একইসঙ্গে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল তারা। গতকাল খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিকদের বড় একটি টার্গেট বেঁধে দেয়া যাবে—এ চিন্তা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেন উইন্ডিজ দলের অধিনায়ক। কিন্তু তার এ পরিকল্পনার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দলের বোলাররা। তাদের কৌশলী আক্রমণে ইনিংসের অর্ধেক পথেই টালমাটাল হয়ে যায় উইন্ডিজ শিবির। তবে দলটির শুরুটা একেবারে মন্দ ছিল না। ওপেনিং উইকেট জুটিতে ৪৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে মোটামুটি ভালো একটি সূচনা এনে দেন ক্রিস গেইল ও ল্যান্ডল সিমন্স। দলীয় ৪৮ রানেই এই জুটির লাগাম টেনে ধরেন পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনিংসের দশম ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সিমন্সকে (১৩) উইকেটছাড়া করেন মাশরাফি। দলের স্কোরে আর কোনো রান যোগ হওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটির মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া সোহাগ গাজীর বল লং অন দিয়ে খেলতে গেলে তামিম ইকবালের তালুবন্দি হন ক্রিস গেইল। গেইলকে উইকেটছাড়া করার মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে নিজের উইকেটের খাতা খুললেন সোহাগ। সাজঘরের পথ ধরার আগে ৪০ বল খেলে চারটি চার ও দুই ছক্কাসহ ৩৫ রান করেন গেইল। এর আগে ঢাকা টেস্টের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় অফস্পিনার সোহাগের। টেস্টেও তার প্রথম শিকার গেইল। দলীয় ৫০ রানে সোহাগের বলেই মার্লন স্যামুয়েলস (০) স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মাহমুদুল্লাহর হাতে ধরা পড়লে তৃতীয় উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় দলটি। এমন বিপর্যয়ের মুখে চতুর্থ উইকেটে ব্রাভো-পোলার্ড জুটি ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়লে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মারমুখী ভঙ্গিতে অবতীর্ণ হচ্ছিলেন ব্রাভো-পোলার্ড। এমন অবস্থায় এ জুটিতে ফাটল ধরান বাংলাদেশ দলের আরেক স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তার বলে মিড উইকেট দিয়ে পুল করতে গেলে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন পোলার্ড (১৫)। এরপর শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়মিত উইকেট পতন। বাংলাদেশ দলের কৌশলী বোলিং অ্যাটাকের সামনে কেউই বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ১৯ বল আগেই সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলায় ১৯৯ রানেই থেমে যায় ক্যারিবীয়দের রানের চাকা। পরের সারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৯ নম্বরে নেমে সুনীল নারাইন ৪০ বলে ৩৬ রান করেন। ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা রবি রামপালের ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান। স্বাগতিক দলের বোলারদের মধ্যে ৯.৫ ওভার বল করে দুই মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে অভিষেক ওয়ানডেতেই চমক দেখিয়েছেন অফস্পিনার সোহাগ গাজী। ৩৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন আবদুর রাজ্জাক। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫৮ বল অবশিষ্ট থাকতেই সহজ জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এজন্য মাত্র ৩টি উইকেট হারাতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ৮৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে উদ্বোধনী জুটিতে দলকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল-আনামুল হক জুটি। সোহাগ গাজীর মতো আনামুলেরও এটি অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচ। বাংলাদেশ দলের ওপেনিং জুটিতে ফাটল ধরান স্পিনার সুনীল নারাইন। তার বলে পোলার্ডের হাতে তালুবন্দি হন তামিম। উইকেট ছাড়ার আগে ২৫তম ওয়ানডেতে অর্ধশতক (৫৮) পূর্ণ করেন তিনি। ৫১ বলে গড়া তার ইনিংসটিতে আটটি চার ও দুটি ছক্কার মার রয়েছে। দলীয় ১১২ রানে ড্যারেন স্যামির বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন আনামুল। এর আগে ৬২ বলে সাতটি চারসহ ৪১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। স্বাগতিকদের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে দলীয় ১৫৭ রানে। আন্দ্রে রাসেলের বলে পোলার্ডের হাতে ধরা পড়েন নাসির হোসেন (২৮)। জয়ের জন্য বাকি রান সংগ্রহ করতে আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি লাল-সবুজদের। অনবদ্য ৫০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন নাঈম ইসলাম। ৭৯ বলে খেলা তার ইনিংসে ছয়টি চারের মার রয়েছে। ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ম্যাচসেরা বাংলাদেশ দলের অফস্পিনার সোহাগ গাজী।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
- জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
- নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
- নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK