বিশ্বের সেরা ১২ উদ্যোক্তার তালিকায় ড. ইউনূস

ডেস্ক: আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। এবার তিনি ঠাঁই পেয়েছেন বিশ্বের সেরা ১২ উদ্যোক্তার তালিকায়। যেসব মানুষ সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে ব্যবসা-উদ্যোগের প্রচলিত ধারাকে পাল্টে দিয়েছেন তাদের সেরা ১২ জনের নাম প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিন। এতে ১২ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক নম্বরে আছেন কম্পিউটার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের স্টিভ জবস, দুই নম্বরে মাইক্রোসফটের বিল গেটস, তিন নম্বরে ফেডএক্স-এর ফ্রেড স্মিথ, চার নম্বরে অনলাইন লাইব্রেরি অ্যামাজনের জেফ বেজোস, পাঁচ নম্বরে ইন্টারনেট বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গুগলের ল্যারি পেগ ও সের্গেই ব্রিন, ছয় নম্বরে স্টারবাকের হাওয়ার্ড শুলটজ, সাত নম্বরে অনলাইন সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ, আট নম্বরে হোল ফুডস-এর জন ম্যাকি, নয় নম্বরে সাউথ ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের হার্ব কেলার, দশ নম্বরে ভারতের ইনফোসিস-এর নারায়ণ মূর্তি এবং ১১ নম্বরে ওয়ালমার্ট স্টোরের স্যাম ওয়াল্টন। এই তালিকায় এবার কোন নারী ঠাঁই পাননি। মোট ১২ সেরা ব্যক্তির মধ্যে এশিয়া মহাদেশ থেকে ঠাঁই পেয়েছেন দু’জন। তার একজন বাংলাদেশী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্যজন ভারতীয় নারায়ণ মূর্তি। বাকি ১০ জনই মার্কিন নাগরিক। ‘দ্য ১২ গ্রেটেস্ট এন্ট্রিপ্রিনিউরস অব আওয়ার টাইম’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে বলা হয়েছে- তিনি ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়াতেন। এর ক্যাম্পাসের বাইরে তিনি অভুক্ত ও দরিদ্র মানুষদের দুর্দিন প্রত্যক্ষ করেছেন। এসব মানুষকে সাহায্য করার জন্য তিনি একটি সাধারণ পন্থা অবলম্বন করলেন, কিন্তু এর ক্ষমতা অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই একটি গ্রামে ঝুড়ি বোনেন এমন দুর্গত মানুষকে মাত্র ২৭ ডলার ঋণ দিলেন। সামান্য এই অর্থ কি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছিল তা তিনি আন্দাজও করতে পারেননি। যেসব মানুষ দিনে মাত্র কয়েক পেনি (১০০ পেনিতে ১ ডলার) আয় যাদের মাত্র কয়েকটি ডলার তাদের জীবনধারা পাল্টে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেছে। এর ফলে তিনি ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা মাথায় নেন এবং গরিবদের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করতে থাকেন। ড. ইউনূসকে বিস্মিত করে ওইসব ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা তাদের ঋণ শোধ করে দেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস একের পর এক গ্রামে যান। অবশেষে ১৯৮৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন গ্রামীণ ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ক্ষুদ্রঋণের ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। বাংলাদেশের ৭৩ হাজার গ্রামের প্রায় ৭০ লাখ দরিদ্র মানুষের কাছে তার এই ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ পৌঁছে দেয়। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো- ৭১ বছর বয়সী ইউনূস বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলন সৃষ্টি করেছেন। সারাবিশ্বের শতাধিক দেশে তার গ্রামীণ ব্যাংক এখন মডেল এবং সেখানেও লাখ লাখ মানুষকে সাহায্য করা হচ্ছে। ফরচুন ম্যাগাজিনের ওই তালিকায় অন্যদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
স্টিভ জবস: বিশ্বসেরা ১২ উদ্যোক্তার শীর্ষস্থানে ঠাঁই পেয়েছেন অ্যাপল-এর প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। তার ছিল দূরদৃষ্টি। তিনি ছিলেন উৎসাহদাতা। মেধাবী। তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত। তার ছিল বাজার গবেষণা ও সেখানে আধিপত্য বিস্তারের চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি যখন আইপ্যাড বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- অ্যাপলকে গাইড দেয়ার জন্য কতটা গবেষণা করতে হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন- কিছুই না। এটা ক্রেতাদের জানার দরকার নেই। ব্যবসায়ে তার অন্যতম পরামর্শ ছিল গ্রুপ বা গোষ্ঠী ও গবেষণাকে প্রাধান্য না দেয়া। অ্যাপলের বার্ষিক পণ্য বিক্রির পরিমাণ ১০ হাজার ৮২০ কোটি ডলার এবং মোট সম্পদমূল্য ৫৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। অ্যাপলে বর্তমানে জনবল ৬৩ হাজার। স্টিভ জবস মাত্র ৫৬ বছর বয়সে গত বছর মারা যান।
বিল গেটস: মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম বিল গেটস (৫৬)। তালিকাটির দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তিনি সেই সব অল্পসংখ্যক অসাধারণ উদ্যোক্তাদের একজন, যারা নিজেদের জীবদ্দশাতেই দু’বার বিশ্বকে বদলে দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার কোম্পানির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৬৯৯০ কোটি ডলার এবং মোট সম্পদমূল্য ২৭ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। মাইক্রোসফটে বর্তমানে ৯০ হাজার লোক কর্মরত। বিল গেটসের ব্যবসায়িক পরামর্শ হলো, প্রতিটি স্মার্ট লোককে খুঁজে বের করুন এবং ছোট ছোট কর্মদল গঠন করুন। তিনি বিশ্বব্যাপী পারসোন্যাল কম্পিউটার (পিসি) ব্যবহারে বিপ্লব বয়ে আনেন। আর বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান জনস্বাস্থ্য ও জনশিক্ষায় যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলায় তিনি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ব্যাপক হারে দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ফ্রেডরিক স্মিথ: বিশ্বের অন্যতম লজিস্টিকস সেবাদানকারী কোম্পানি ফেডারেল এক্সপ্রেসের (ফেডেক্স) প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেডরিক স্মিথ। তার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৩৯৩০ কোটি ডলার ও মোট সম্পদমূল্য তিন হাজার কোটি ডলার। ফেডেক্সে দুনিয়াজুড়ে বর্তমানে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৭৩ জন কর্মী কাজ করছেন। ৬৭ বছরের ফ্রেড স্মিথের ব্যবসায়িক উপদেশ হলো- প্রথম স্তরের ব্যবস্থাপকদের ওপর নির্ভর করুন।
জেফ বেজোস: বসের নির্দেশ অমান্য করে নিউ ইয়র্কে চাকরি ছেড়েছিলেন জেফ বেজোস। তারপর চলে যান সিয়াটলে। ১৯৯৪ সালে গড়ে তোলেন অনলাইন লাইব্রেরি অ্যামাজন। ৬ বছরেরও বেশি সময় পরে তার এ প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখে ই-কমার্স দুনিয়ায়। তবে তিনি লাভের জন্য তখনও না, এখনও মুখিয়ে নেই। তিনি সবসময় চেয়েছেন অ্যামাজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিতে পরিণত করতে। বর্তমানে এই কোম্পানির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৪৮১০ কোটি ডলার ও মোট সম্পদমূল্য ৮৪০০ কোটি ডলার। ৪৮ বছর বয়সী বেজোসের প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫৬ হাজার ২০০ কর্মী কাজ করছেন।
ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন: অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন। তারা ওই তালিকায় যুগ্মভাবে রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। গুগলের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৩৭৯০ কোটি ডলার ও মোট সম্পদমূল্য ২০ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। এই কোম্পানিতে বর্তমানে কর্মরত ৩২ হাজার ৫০০ লোক। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গুগলের মাধ্যমে ২৫০ কোটি সার্চ করা হয়।
হাওয়ার্ড শুলটজ: স্টারবাকসের মালিক হাওয়ার্ড শুলটজ। তার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ১১৭০ কোটি ডলার ও মোট সম্পদের বাজারমূল্য ৪০০০ কোটি ডলার। এই কোম্পানিতে বর্তমানে এক লাখ ৪৯ হাজার লোক কর্মরত।
মার্ক জুকারবার্গ: যোগাযোগের সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুক। এখন বিশ্বে খুব কম লোকই আছেন যাদের ফেসবুকে একটি একাউন্ট নেই। এর মাধ্যমে দূরের দেশের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে বন্ধুত্ব হচ্ছে মানুষের। এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবাগ এক টগবগে যুবক। আগামী মে মাসে পালন করবেন ২৮তম জন্মদিন। তার কোম্পানি ফেসবুকের বয়স মাত্র আট বছর। ফেসবুকের বার্ষিক বাজারমূল্য ৩৭১ কোটি ডলার ও সম্পদের মোট বাজারমূল্য ৭৫০০ কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জন ম্যাকেই: তালিকার অষ্টম স্থানে হোল ফুডসের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকেই। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন বান্ধবী রিনি লসনকে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ১০১০ কোটি ডলার এবং সম্পদের বাজারমূল্য ১৫৫০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫৬ হাজার ২০০ মানুষ কর্মরত।
হার্ব কেলেহার: সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের হার্ব কেলেহার ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তার এ কোম্পানি। এর বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ১৫৬০ কোটি ডলার ও সম্পদের বাজারমূল্য ৬৪০০ কোটি ডলার। হার্ব কেলেহের প্রতিষ্ঠানে বর্তমান কর্মীসংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৯২ জন।
নারায়ণ মূর্তি: নারায়ণ মূর্তির ইনফোসিস-এর বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৬০০ কোটি ডলার ও সম্পদের মোট বাজারমূল্য ৩২০০ কোটি ডলার। তার কোম্পানিতে বর্তমান ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ কর্মরত।
স্যাম ওয়ালটন: ওয়াল-মার্ট স্টোরসের স্যাম ওয়ালটন আছেন একাদশ স্থানে। তার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৪৪ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার ও সম্পদের বাজারমূল্য ৩৬৫০ কোটি ডলার। এ কোম্পানির বর্তমান কর্মীসংখ্যা ২০ লাখ। প্রথম ওয়াল-মার্ট স্টোর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পরে ১৯৯২ সালে মারা যান। মানবজমিন
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes