ডেসটিনি’র রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখছেন এনবিআরের ২০ কর্মকর্তা ,দুদক এর অনুসন্ধান জোরদার

সিরাজুল ইসলাম: ডেসটিনির বিষয়ে জানতে দুদক গতকাল চিঠি দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে। অপরদিকে সারা দেশের ১২টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে থেকে ডেসটিনির কার্যক্রম সম্পর্কে যেসব তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছিল সেসব তথ্য ইতিমধ্যেই এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা শুরু হয়েছে। এনবিআর কার্যালয়ের সদস্য এম এ কাদের সরকার মানবজমিনকে জানান, আমরা যেসব রেকর্ডপত্র পেয়েছি তা পুঙ্খানুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। এরা সবাই ডেপুটি কমিশনার থেকে এডিশনাল কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তা। আমরা ডেসটিনির ট্যাক্স, ভ্যাট এবং ডিউটির বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি জানান, আমরা ডেসটিনির ৩৭টি সহযোগী সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব ছাড়াও ২৫ জন পরিচালকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। ডেসটিনি তাদের ১২ জন পরিচালকের কথা জানালেও আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তাদের পরিচালক ২৫ জন। তিনি জানান, ডেসটিনি কর্র্তৃপক্ষের কাছে যেসব রেকর্ডপত্র চেয়েছি এখনও তারা সেসবের কিছুই সরবরাহ করেননি। দুদক পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার তাহিদুল ইসলাম জানান, ডেসটিনি থেকে ইতিমধ্যে আমরা সঙ্ঘ স্মারকসহ বেশ কিছু কাগজপত্র পেয়েছি। আশা করছি রোববার অন্যান্য রেকর্ডপত্র পাবো। এরপর আমাদের অনুসন্ধান কাজ অধিকতর জোরদার করা হবে। তিনি জানান, গতকাল আমরা সরকারের বেশ কয়েকটি দপ্তরে চিঠিপত্র দিয়েছি। এসবের উত্তর পেলে এবং চাহিদা মোতাবেক তথ্য পেলে কাজের অগ্রগতি বাড়বে। অপরদিকে সব ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন বলেন, আমাদের নিয়ে অপপ্রচার চলছে। এক সময় অপপ্রচারকারী মিডিয়াগুলো মিথ্যাবাদী রাখালে পরিণত হবে। তিনি বলেন, একটি পত্রিকায় আজ (গতকাল) রিপোর্ট হয়েছে- আমাদের ৫ জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। প্রকৃত সত্য হলো তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তারা সবাই এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পদোন্নতি নেয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী তারা পদত্যাগ করেন। ইঞ্জিনিয়ার নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস গত বছরের জুনে পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১লা জুলাই থেকে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগ দেন। বাকি ৪ পরিচালক গোফরানুল হক, সায়েদ-উর রহমান, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন এবং ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়েবুর রহমান গত নভেম্বর মাসে পদত্যাগ করেন। নতুন পদে যোগ দেন জানুয়ারি মাসে। কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের এ পদোন্নতি দেয়া হয়। সব ধরনের তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে রফিকুল অমীন বলেন, এ পর্যন্ত আমরা কেবল দুদক এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির চিঠি পেয়েছি। বুধবার তাদের টিম ডেসটিনি অফিসে এসেছে। তথ্য দেয়ার জন্য তারা মাত্র ২ কার্যদিবস সময় দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই আমরা অনেক রেকর্ডপত্র তৈরি করে রেখেছি। আশা করছি রোববারের মধ্যেই তাদের চাহিদাকৃত কাগজপত্র দিতে পারবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন অনিয়ম না পেলে গণমাধ্যমকে উত্ত্যক্ত করবেন না। গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে বলেন, অযথা পাবলিককে উত্ত্যক্ত করবেন না। রফিকুল আমীন বলেন- আমাদেরকে যদি যুবকের মতো ভেঙে দেয়া হয় তাহলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক এবং এনবিআরসহ কারও কোন লাভ হবে না। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, আমাদের কোম্পানি যদি অবৈধ হয় তাহলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সমবায় সমিতি এবং হাউজিং সোসাইটিসহ দেশের ১ লক্ষাধিক কো-অপারেটিভ সোসাইটি অবৈধ। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন খুবই কড়া। দুর্নীতিবাজ কোন কর্মকর্তার ঠাঁই এখানে নেই। দেরিতে অফিসে আসার কারণেও অনেকের বেতন কেটেছি। ২০০ টাকার জালিয়াতির কারণেও ১ জনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কোন প্রভাব পড়ছে না। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট গোফরানুল হক বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমে আমরা এখন পলিসি মেকিংয়ে ভূমিকা রাখতে পারছি। ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবেই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। সায়েদ-উর রহমান জানান, পরিচালক পদে নতুনদেরকে সুযোগ করে দিতেই আমরা পদোন্নতিতে রাজি হয়েছি। মেজবাহ উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিচালক থাকা অবস্থায় আমাদেরকে ডেস্কে বসে থেকে কাজ করতে হতো। এখন আমরা নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালনসহ ফিল্ড ওয়ার্কও করতে পারছি। ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়েবুর রহমান বলেন, আমরা এখনও ডেসটিনির শেয়ার হোল্ডার। কেবল আমাদের পজিশনের পরিবর্তন হয়েছে। পদত্যাগের বিষয়টি সঠিক নয়। ডেসটিনি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আমাদের গ্রুপের শেয়ার হোল্ডার ৪৯ জন। এর মধ্যে পরিচালক ১২ জন। আমাদের ৩৬টি সহযোগী সংগঠনের মালিক ৩টি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক নন। সহযোগী সংগঠনগুলোর ৭০ ভাগ মালিকানা ডেসটিনি মাল্টি পারপাস লিমিটেডের। ২০ ভাগ মালিকানা ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের এবং ১০ ভাগটি প্ল্যান্টেশনের। এ ৩টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা প্রতিনিধিত্ব করেন ৩ জন পরিচালক। এরা হলেন মোহাম্মদ রফিকুল আমীন (ডেসটিনি-২০০০), লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর রশিদ (ট্রি প্ল্যান্টেশন) এবং গোফরানুল হক (ডেসটিনি মাল্টিপারপাস)।মানবজমিনকে
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests