তবুও ওবামাতেই আস্থা বিশ্ববাসীর

ডেস্ক : ওবামার প্রথম শাসনামল নিয়ে বিশ্ববাসী কিছুটা হতাশ হলেও এখনও জনপ্রিয়তায় বিস্তর এগিয়ে তিনি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত মার্কিনিরা কাকে বিজয়ী করে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বারাক ওবামা বিপুল ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থী ম্যাককেইনকে পরাজিত করে প্রথম মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। পরিবর্তনের গান শুনিয়ে মার্কিন সিংহাসনে আরোহণ ওবামার। শুধু মার্কিন নয়, বিশ্ববাসীরও অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল ওবামার প্রতি। ওবামার জয়ের পর বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের অনেককেই বলতে শোনা গেছে, আর যাই হোক, বুশ প্রশাসনের তো অবসান ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সফরে কায়রো যান তিনি। সেখানে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতা শেষের প্রাক্কালে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী মানুষ বলছে, কথা দিয়ে কথা রাখেননি ওবামা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় গুয়ানতানামো বে বন্দি শিবির বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতায় মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নির্বাচনের আগে জলবায়ু পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন, সেটারও কোনো বাস্তবায়ন নেই। এ ছাড়া আটলান্টিকের পাড়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দায় ওবামা প্রশাসনের কৌশলে হতাশ ইউরোপীয়রা।
মোগাদিসুর এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়ায় অস্ত্র কমিয়ে এনে বেশি করে অর্থনৈতিক সহায়তা দেবেন তিনি। অথচ এখানে ড্রোন পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সহায়তা নয়। আমাদের ড্রোনের দরকার নেই, বোমার দরকার নেই, সহায়তা দরকার।’ প্রত্যাশার পারদ বাড়িয়ে ২০০৮ সালে নোবেল পেলেন তিনি। কিন্তু সবক্ষেত্রে হতাশ হতে হয়েছে সবাইকে। তারপরও বিশ্বব্যাপী ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেশি রয়েছে। যার অন্যতম কারণ প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্লউ বুশের শাসনামল। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনিকে পরাজিত করবেন ওবামা। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের এক কর্মী বলেন, এখনও তার কাছ থেকে অনেক কিছুই আশা করি আমরা। কিন্তু ইউরোপীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সবচেয়ে বড় হতাশার নাম গুয়ানতানামো। এ বিষয়ে জার্মানি কাউন্সিলের পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ জোসেফ বার্মল বলেন, ইউরোপীয়রা ওবামার ওপর বিশাল প্রত্যাশা করেছে। কিন্তু তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করেনি। এ ছাড়া ইউরোপে অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে ওবামা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ায়ও হতাশ ইউরোপীয়রা। আঙ্কারাভিত্তিক তুর্কি-আমেরিকা সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মেহমেত ইয়েগিন বলেন, মুসলিমরা এখনও ওবামাকে সমর্থন করেন। কারণ রমনির কথা এলেই তাদের বুশ প্রশাসনের স্মৃতি ফিরে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেকের চাওয়া, আবার নির্বাচিত হোক ওবামা। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সহযোগী মোহাম্মেদ ইশতায়েহ বলেন, আমরা চাই ওবামা আবারও বিজয়ী হোক। কারণ তিনি ফিলিস্তিন নিয়ে ইসরায়েলকে চাপ দিয়েছেন। সে কারণে তাকে বেশ বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। ইরাকিদের কাছে ঘৃণ্য ব্যক্তি ছিলেন বুশ। অন্যদিকে সেনা প্রত্যাহার করে ইরাকিদের মন জয় করেছেন ওবামা। জাপানিরাও ওবামাকে পছন্দ করে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক কোইচ নাকানো বলেন, জাপানে বেশ জনপ্রিয় ওবামা। তার সম্পর্কে খুব বেশি না জানলেও জাপানিরা মনে করে, তিনি একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতা। বিশ্ববাসী ওবামার প্রথম শাসনামল নিয়ে কিছুটা হতাশ হলেও এখনও জনপ্রিয়তায় বিস্তর এগিয়ে তিনি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত মার্কিনরা কাকে বিজয়ী করে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে। সমকাল
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং