ফাইনালে ইতালি

এই জার্মানিই বাছাই পর্বের ১০ ম্যাচের সবগুলো ম্যাচ জিতে এসেছে। এই জার্মানিই চূড়ান্ত পর্বের মৃত্যুকূপ গ্রুপ অব ডেথে পড়েও জিতেছে সবগুলো ম্যাচ। বিশ্ব রেকর্ড টানা ১৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচজয়ী সেই জার্মানিকে বিদায় করে দিল ইতালি। জয়টা ২-১ গোলের। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করে আশা ফিরিয়ে এনেছিলেন মেসুত ওজিল। কিন্তু মারিও বালোতেল্লির জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ফাইনালে তুলে দিল ইতালিকে। জার্মানি পারবে কী করে? তাদের প্রতিপক্ষ যে ইতিহাস! ইউরো কিংবা বিশ্বকাপে ইতালিকে কোনো দিনই হারাতে পারেনি জার্মানি। প্রীতি ম্যাচ হিসেবে নিলেও সর্বশেষ জয়টি ১৭ বছর আগের! ইতালির বিপক্ষে একটি জয়ের জন্য জার্মানদের অপেক্ষা আরও বাড়িয়ে দিলেন বালোতেল্লি, ইতালির ‘ব্যাড বয়’। প্রথমটি ২০ মিনিটে। সেটি আরেক ‘ব্যাড বয়’ আন্তোনিও কাসানোর চিপ থেকে করা জোরালো হেডে। ১৫ মিনিট পরেই জার্মানদের ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে দিয়ে করেন দ্বিতীয় গোল। ‘আধেক জার্মান’ রিকার্ডো মন্তোলিভোর লং বল খুঁজে নিয়েছিল ওত পেতে থাকা বালোতেল্লিকে। দারুণভাবে বল রিসিভ করে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে আগুন ঝরানো শটে লক্ষ্য ভেদ করেন ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। রোববারের ফাইনালে ইতালির প্রতিপক্ষ স্পেন। ওয়েবসাইট।
ফাইনালে সেই ‘টিকি-টাকা’

উচ্ছ্বাসের লাল ঢেউ! সেস ফ্যাব্রিগাসের বল জালে জড়াতেই সেন্টার সার্কেলে দাঁড়িয়ে থাকা স্প্যানিশ খেলোয়াড়েরা ফেটে পড়লেন ফাইনালে ওঠার আনন্দে। ফ্যাব্রিগাস ছুটলেন ক্যাসিয়াসের কোলে
রয়টার্স ও এএফপি

এবার টাইব্রেকারে দুঃসাহসিক চিপ রামোসের -এএফপি
বুক ভরে দুবার শ্বাস নিলেন। যেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে বের করে দিতে চান মনে জমাটবাধা সব উদ্বেগ। বিড়বিড় করে কী যেন বললেনও। জানার উপায় নেই। তবে সংলাপটি অনুমান করে নেওয়াই যায়: ‘পারতে হবে, আমাকে পারতেই হবে।’ শট নিলেন বাঁয়ে। বল লাগল পোস্টে! না, প্রতিহত হলো না, পোস্টে লেগেই বল ঢুকল জালে! ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে এসে সেস ফ্যাব্রিগাস চড়ে বসলেন গোলপোস্টের পাশে দাঁড়ানো ইকার ক্যাসিয়াসের কোলে। একটা শট ঠেকিয়ে ক্যাসিয়াস আর পঞ্চম শটটা জালে পাঠিয়ে ফ্যাব্রিগাস—টাইব্রেকারের লটারিতে এভাবেই নায়ক হয়ে গেলেন দুজন। গোলশূন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-২-এ জিতে শিরোপা ধরে রাখার চূড়ান্ত মঞ্চে উঠে গেল স্পেন। পঞ্চম শটটি নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শট নেওয়ার সুযোগই পেলেন না আর। যে ইউরোটা তাঁর হতে পারত, তাতে শেষ পর্যন্ত রোনালদো ট্র্যাজিক হিরো। গোলশূন্য ম্যাচ হলে যা হয়, সব নাটক জমে থাকে পেনাল্টি শ্যুট-আউটের জন্যই। পরশুর সেমিফাইনালে তা-ই হলো। প্রথম ৯০ মিনিট আর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে হলো স্নায়ুচাপে ভোগা দুই দলের সুযোগ হাতছাড়ার মহড়া। প্রথমার্ধে গোলে শট মাত্র একটি, পুরো ৯০ মিনিটে সব মিলিয়ে দুটি। দুটিই স্পেনের। স্নায়ুচাপের ফলাফল শুধু সুযোগ হাতছাড়া করাই নয়, দুই দল মিলিয়ে মোট নয়টি হলুদ কার্ড পাওয়াও। প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করেছেন আলভারো আরবেলোয়া, নবম মিনিটে বারের ওপর দিয়ে মেরে। এক মিনিট পরেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে বল মেরেছেন বাইরে। দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও স্পেনের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু এর পরই দৃশ্যপটে রোনালদো। ১৩ মিনিটে গতিতে জেরার্ড পিকেকে পরাস্ত করে বাঁ প্রান্ত থেকে দারুণ ক্রস করেছিলেন নানির উদ্দেশে। কিন্তু নানির ঠিকানায় পৌঁছানোর আগেই বল কেড়ে নেন ক্যাসিয়াস। এর পরই মাঝমাঠে স্পেনের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করেছে পর্তুগাল। স্পেনের ‘টিকি-টাকা’কে রীতিমত চেপেই ধরে তখন পর্তুগালের ‘প্রেসিং ফুটবল’। ৩১ মিনিটে ডান পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে রোনালদোর শট। স্প্যানিশ রক্ষণে মাঝেমধ্যেই ত্রাস ছড়িয়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। যদিও আগের দুই ম্যাচের সেই রোনালদো অনুপস্থিত ছিল এদিন। ফ্রি-কিকগুলোও কাজে লাগাতে পারেননি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে পাল্টা-আক্রমণ থেকে রাউল মেইরেলেসের থ্রু পাসে রোনালদো পেয়ে গিয়েছিলেন এক-এক পরিস্থিতিতে। সামনে শুধু ক্যাসিয়াস। কিন্তু বাঁ পায়ে রোনালদো যে শট নিলেন, পর্তুগাল সমর্থকদের মাথায় উঠে গেল হাত। স্পেনের টিকি টাকার লাল ফুটে ওঠে আসলে অতিরিক্ত সময়েই। সেস ফ্যাব্রিগাস আর পেদ্রোর উপস্থিতি আক্রমণের ধার বাড়ায় তাদের। ১০৪ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিলেন ইনিয়েস্তা। জর্ডি আলবার ক্রস খুঁজে নিয়েছিল তাঁকে। মাত্র ৬ গজ দূর থেকে নেওয়া ইনিয়েস্তার শট ঠেকিয়ে দেন রুই প্যাত্রিসিও। টাইব্রেকারের শুরুতেই নায়ক হলেন পর্তুগালের গোলরক্ষক। জাবি আলোনসো শট নিতে যাচ্ছেন দেখে প্যাত্রিসিওকে ডেকে কী যেন পরামর্শ দেন রোনালদো। রিয়ালে একসঙ্গে খেলার সুবাদে হয়তো জানতে পেরেছিলেন, কোন দিকে আলোনসোর শট নেওয়ার প্রবণতা বেশি। রোনালদোর টোটকা দারুণ কাজেও লাগে। বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে শট ঠেকিয়ে দেন প্যাত্রিসিও। কিন্তু হোয়াও মুটিনহোর শটও ঠেকিয়ে দেন ক্যাসিয়াস। স্পেনের হয়ে ইনিয়েস্তা আর পিকে, পর্তুগালের হয়ে পেপে আর নানি ২-২ বানান। ব্রুনো আলভেসকে ফেরত পাঠিয়ে শটটি নিয়েছিলেন নানি। আলভেসকে নার্ভাসও দেখাচ্ছিল খুব। সার্জিও রামোসের ‘পানেনকা’ ৩-২ বানিয়ে দেয়। আরও বেশি নার্ভাস আলভেস শট লাগান ক্রসবারে। স্পেনের শেষ শটটি নিতে আসেন ফ্যাব্রিগাস। গোলে বল পাঠাতে পারলেই ৪-২। রোনালদো শেষ শটটি নিয়েও ব্যবধান হবে ৪-৩। অর্থাৎ ফ্যাব্রিগাসের গোলই স্পেনকে পাঠিয়ে দেবে ফাইনালে। পাহাড়বোঝা চাপ জয় করে, ভাগ্যের পরশ নিয়ে বল জালে জড়ান ফ্যাব্রিগাস। এএফপি, রয়টার্স। টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার উৎসব করছে যখন স্পেন, রোনালদো তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে। নালিশ জানাচ্ছেন ঈশ্বরের কাছে! প্রথম আলো
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং