জ্ঞানের রাজ্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

শরিফুজ্জামান |: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু সম্পর্কে স্বচ্ছ কোনো ইতিহাস নেই। তবে এটাকে বলা হয়, ‘ইংলিশ স্পিকিং ওয়ার্ল্ড’-এর সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়। ধারণা করা হয়, ১০৯৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বললে যেমন একটি প্রতিষ্ঠানের অবয়ব ফুটে ওঠে, অক্সফোর্ড তেমনটি নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে ৩৮টি কলেজ। প্রতিটি কলেজই নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুঠোফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি নকিয়ার এক সম্মেলনে অংশ নিতে লন্ডন যাওয়ার সুযোগেই অক্সফোর্ড ঘুরে দেখা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন প্রায় ২১ হাজার। এঁদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ১১ হাজার ৭২৩ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নয় হাজার ৩২৭। বিদেশি শিক্ষার্থীও নেহাত কম নয়। বিশ্বের ১৪০টি দেশের প্রায় আট হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজে গ্রন্থাগারের সংখ্যা প্রায় ১০০। বিশ্বের নামকরা নেতাদের অনেকেই পড়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ ২৬ জন প্রধানমন্ত্রী অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন। ব্রিটেনে ২০১০ সালে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৭ জন এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের ১৪০ জন সদস্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্বনেতাদের মধ্যে বিল ক্লিনটন, মনমোহন সিং, বেনজির ভুট্টো, ইমরান খান, অং সান সু চিসহ ৩০ জন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন। নেহরু পরিবারের প্রায় সবাই—ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে রাজীব গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধী অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থী ছিলেন। সামারভিল কলেজে গিয়ে জানলাম ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন সেখানকার শিক্ষার্থী। ওই কলেজে পড়াশোনা করেছেন মার্গারেট থ্যাচার ও বেনজির ভুট্টো। মার্গারেট থ্যাচারের নামে একটি সম্মেলনকেন্দ্র দেখা গেল সামারভিল কলেজে। বিশ্ববিদ্যালয়চত্বর ঘুরতে ঘুরতে একের পর এক নাম শুনে মনে হচ্ছিল বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে কে পড়েননি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে! স্টিফেন হকিং, উইলিয়াম ফুলব্রাইট, এমিলিয়া ফক্স, বিক্রম শেঠ, অলিভার স্মিথ, স্যার বেকহাম, টিএস এলিয়ট, ভি এস নাইপল, স্যামুয়েল জনসন, রবার্ট হুক, রজার বেকনসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী ও বিশ্ব নাগরিককে গড়ে তুলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরে যাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা ৪৭। বিশ্বজুড়ে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় অক্সফোর্ডের অবস্থান সব সময় শীর্ষে— কখনো প্রথম, কখনোবা দ্বিতীয় স্থানে। গত বছর টাইমস গুড ইউনিভার্সিটি গাইডে বলা হয়েছে, এক দশক ধরে ব্রিটেনে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে অক্সফোর্ড। অক্সফোর্ড শহরে হাঁটতে হাঁটতে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগারের সামনে এসে পড়ি। এটি ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রন্থাগার। নাম ‘বডলিয়েন লাইব্রেরি’, প্রতিষ্ঠা ১৬০২ সালে। ভূগর্ভে এবং ওপরে বিশাল এলাকাজুড়ে এর অবস্থান। বইয়ের শেলফগুলো ১১৭ মাইল লম্বা। গ্রন্থাগারটিতে রয়েছে এক কোটি ১০ লাখ বই-পুস্তক। গ্রন্থাগরিক ও কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪০০। বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু গ্রন্থাগারের কলেবর বাড়ানোর জায়গা আর নেই। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাখা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ বই। হাঁটতে হাঁটতে একসময় থেমে যাই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের সাইনবোর্ড দেখে। বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত অক্সফোর্ড ডিকশনারি এখান থেকে তৈরি হয়। অক্সফোর্ড প্রেসের কর্মীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার, বিশ্বের ৫০টি দেশে রয়েছে এর শাখা অফিস। হাঁটাহাঁটির ক্লান্তি দূর হয়ে গেল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কে গিয়ে। অজস্র গাছপালা, ফুল ও ফলে ঠাসা বিশাল আয়তনের পার্ক। ঢুকতেই চোখ জুড়িয়ে যায়, মন ভরে ওঠে। পার্কের কাছেই ‘চেরওয়েল’ নদী। একটু কাছে কেবেল কলেজ, যেখানে পড়াশোনা করেছেন ইমরান খান। আরেকটু দূরে সামারভিল কলেজ। এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন বাঙালি শিবান আকবর। লেডি মার্গারেট থ্যাচার হলের সামনে গিয়ে শিবান বললেন, ওই হলে থাকতেন তিনি। নিচ থেকে একটি কক্ষ দেখিয়ে বললেন, জানালা খোলা ওই কক্ষটি ছিল তাঁর। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সবচেয়ে পুরোনো তিনটি কলেজ হচ্ছে ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ’, ‘বেলিওল কলেজ’ ও ‘মার্টন কলেজ’। এগুলো ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন সেন্ট ক্যাথারিনস কলেজে, সংখ্যা ৭৮৮। ২০০৮ সালে ‘গ্রিন কলেজ’ ও ‘টেম্পলেটন কলেজ’ সমন্বয়ে তৈরি হয় ‘গ্রিন টেম্পলেটন কলেজ’। এ ছাড়া অক্সফোর্ডের অল সোলস কলেজ, ক্রাইস্ট চার্চ কলেজ, হার্টফোর্ড কলেজ, নিউ কলেজ, দ্য কুইন্স কলেজ, সেন্ট অ্যান্টনিস কলেজ, সেন্ট বেনেটস কলেজ, সেন্ট ক্যাথারিনস কলেজ, ট্রিনিটি কলেজ, ম্যাগডালেন কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ ঘুরে দেখি আমরা। কীভাবে চলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সে ধারণাও পাওয়া গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট খরচের ২৩ শতাংশ জোগান দেয় ‘হায়ার এডুকেশন ফান্ডিং কাউন্সিল ফর ইংল্যান্ড’। শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফি থেকে আসে ১৫ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও বিনিয়োগ থেকে আসে আয়ের ২১ শতাংশ। বাকি প্রায় ৪১ শতাংশ আয় আসে বাইরের গবেষণা ও অনুদান থেকে। অক্সফোর্ডের আয়ের চিত্র জানার পর চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র। ২০১০-১১ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেট ছিল ২৪৯ কোটি টাকা, এর মধ্যে নিজস্ব আয় ছিল মাত্র ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বাকি ২১৮ কোটি টাকারও বেশি অনুদান দিয়েছে সরকার। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অক্সফোর্ড শহর। এর অলিগলিতে একেকটি কলেজ, শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রাবাস। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর থাকে ওই এলাকা। শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় লন্ডনের চেয়ে বেশি। জিনিসপত্রের দামও বেশি। এর কারণ পর্যটকদের ভিড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও ঐতিহাসিক স্থান দেখতে হয় দর্শনীর বিনিময়ে। বলতে দ্বিধা নেই মাত্র অল্প সময়ে অক্সফোর্ডের মতো বিশাল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা অন্ধকারে হাতি দেখার মতোই।প্রথম আলো [email protected]
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং