Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

স্বাগত রমজান মোবারক : বিভিন্ন ধর্মে রোজার বর্ণনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 117 বার

প্রকাশিত: July 16, 2012 | 11:36 AM

মাওলানা মুফাজ্জল হুসাইন খান  : স্বাগতম মাহে রমজান, খোশ আমদেদ রমজান মুবারক। ইসলাম ও মুসলিম উন্মাহ্র জন্য এ মাস অপরিসীম গুরুত্ব ও তাত্পর্যের অধিকারী। মহান আল্লাহ্র নিকট দিন, ক্ষণ, মাস ও তারিখের মর্যাদা সমান হলেও কিছুকিছু বিশেষ ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ফলে সেগুলোর মর্যাদা আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বেড়ে যায়। এরই একটি উল্লেখযোগ্য মাস হচ্ছে রমজান মুবারকের মাস। এ মাস মহিমান্বিত হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলা এ মাসের কদরের রাতে বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ আল-কুরআন নাযিল করেছেন। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সালমান ফারেসী (রা.) বলেন, নবী করীম (স.) শাবান মাসের শেষ তারিখে সকল সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, তোমাদের ওপর শীঘ্রই এমন এক বরকতপূর্ণ ও মহিমান্বিত মাস ছায়া বিস্তার করতে যাচ্ছে যার মধ্যে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত রাত রয়েছে। ফযীলত,রহমত ও বরকতের দিক থেকে এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

আল্লাহ্ তাআলা এ মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা বা রোজা পালন ফরজ করেছেন এবং এ মাসের রাত জেগে তাঁর ইবাদত করাকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে রাত জেগে কোন সুন্নত বা নফল ইবাদত করবে তাকে অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোন ফরজ ইবাদত করবে তাকে অন্য মাসে আদায়কৃত সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব প্রদান করা হবে। রমজানের এ মাস সবর, ধৈর্য, ত্যাগ ও তিতিক্ষা এবং সংযম সাধনের মাস। যার প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। এ মাস সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার মাস। এ মাসে মুমিনের রিজিক বাড়িয়ে দেয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে প্রতিদান স্বরূপ তার গুণাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে। আর তাকে আসল রোজাদারের সমান সওয়াব দেয়া হবে এবং এ জন্য আসল রোজাদারের সওয়াব প্রাপ্তিতে কোন ঘাটতি হবে না। এ পর্যায়ে কোন কোন সাহাবা আরজ করলেন, ইয়ারাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজাদারকে ইফতার করানোর ক্ষমতা রাখেন না। তাদের কী হবে? তিনি বললেন,যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে একটি খেজুর, অল্প একটু দুধ কিংবা নিদেন পক্ষে একটু পানি দিয়ে ইফতার করাবে তাকেও আল্লাহ্ তা’আলা সমপরিমাণ সওয়াবই দিবেন আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পেটভরে আহার করাবেন আল্লাহ তাকে হাউজে কাওসার হতে এমন পানীয় পান করাবেন যার ফলে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত সে আর পিপাসিত হবে না। এ মাস এমন একটি মাস যার প্রথম দশদিন রহমতের দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশদিন জাহান্নাম হতে মুক্তির। আর যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধীনস্ত কর্মচারীদের কাজের বোঝা বা চাপ কমিয়ে দিবে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি দিবেন।

রামজান মাসকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নবী করীম (স.)-এর এই ঐতিহাসিক মূল্যবান ভাষণে রমাজান মাসকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস বলে ঘোষণা করা হয়েছে যার প্রাতিধ্বনি আলকুরআনেও পাওয়া যায়। বলা হয়েছে, “রমজান মাস এমন একটি মাস যাতে আলকুরআন নাযিল হয়েছে।” (আলকুরআন ২: ১৮৫) বর্ণিত আয়াত হতে বুঝা যায় এ মাস মহিমান্বিত হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে এ মাসে আলকুরআন নাযিল হওয়া। তাছাড়া এ মাসে অন্যান্য আসমানী কি তাবসমূহও নাযিল হয়েছিল। যেমন রমজান মাসের প্রথম রাতে হযরত ইবরাহীম(আ.)-এর ওপর সহীফাসমূহ নাযিল হয়েছিল। রমজান মাসের ছয় তারিখে হযরত মুসা (আ.)-এর ওপর নাযিল হয়েছিল তওরাত এবং তের রমজানে হযরত ঈসা (আ.) এর ওপর নাযিল হয়েছিল ইন্জীল। (মুসনাদে আহমদ, তাবারাণী)

প্রকৃত পক্ষে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আলকুরআন শুধুমাত্র নিছক কিছু উপদেশ সম্বলিত ধর্মগ্রন্থ নয়। বরং এটি বিশ্বমানবতার একমাত্র মুক্তি সনদ। একে বাস্তবভাবে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হলে বছরে অন্তত একটি মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অনুশীলন প্রয়োজন। তাই আল্লাহ্ তাআলা রমজানের এ মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা আমাদের ওপর ফরজ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, “যে ব্যক্তি এ মাসটি (রমজান) পাবে সে যেন  অবশ্যই এ মাসে রোজা পালন করে। (আলকুরআন ২:১৮৫)

হযরত সালমান ফারেসী(রা.)বর্ণিত  হাদীসে রমজান মাস মহিমান্বিত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হয়েছে যে, এ মাসে  এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়ে ‘উত্তম’ আর সে রাত হচ্ছে রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোন রাত বিশেষত:বেজোড় রাত। যার নাম লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত। কেননা এ রাতেই আল্লাহ্ তাআলা আলকুরআন নাযিল করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, “নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ)এ রাতে আলকুরআন নাযিল করেছি। (হেনবী:) তোমাকে কিসে জানাবে লাইলাতুল কদর কী? কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা বিশেষত: জিব্রাইল(আ.)তাদের রবের অনুমতিক্রমে সফল কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। আর তাতে শান্তিই শান্তিময়— ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (আলকুরআন ৯৭:১-৩) রমজান  মাস মহিমান্বিত হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে এ মাসে সিয়াম সাধানা করার মাধ্যমে মানুষের দেহ-মন ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করার সুবাদে মানব জীবনের শ্রেষ্ঠগুণ তাক্ওয়া তথা আল্লাহ্ভীতিজনক সাবধানতা অর্জন। অতএব আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রমজানের পূর্ণাঙ্গ হক পালন করার তাওফীক দান করুন, আমীন। [লেখক :সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ]

Details

গাজী আব্দুল হাদী : রোজা রাখার নিয়ম পৃথিবী সৃষ্টি থেকেই ছিল। নবী করীম (স.)সহ সব নবী- রাসূলের প্রতিও রোজা ফরজ করা হয়েছিল। হযরত আদম (আ.) থেকে হযরত নূহ (আ.) পর্যন্ত চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পর্যন্ত রোজা ফরজ ছিল। হযরত মুসা (আ.) ‘তাওরাত’ প্রাপ্তির আগে ৪০ দিন ও হযরত ইসা (আ.) ইনজিল প্রাপ্তির ৪০ দিন পূর্বে রোজা রেখেছিলেন। ইহুদিদের ওপর শনিবার ও প্রতি বছরে মহররমের ১০ তারিখে আশুরার দিন ও অন্যান্য সময়েও রোজা আবশ্যক ছিল। খ্রীস্টানরা মুসলমানদের মতো রোজা ফরজ হিসাবে পালন করতো। হিন্দুদের হিন্দু শাস্ত্রে উপবাসেরও নিয়ম আছে। সুতরাং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার মধ্যে রোজা পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। বৌদ্ধ, হিন্দু এবং খ্রীস্টান ধর্মের বিভিন্ন অনুসারীগণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপবাস পালন করে থাকেন। তাদের ধর্মগ্রন্থে এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে রোজা : রমজান মাস ত্যাগ স্বীকারের মাস। সংযমের মাস। ধৈর্য ধারণের মাস। ইসলাম ধর্মের অনুসারিগণ রমজান মাসে সুবহে সাদেক থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাদ্য-পানীয় গ্রহণে বিরত থাকেন। এ সময় সব পাপচিন্তা ও পাপকর্ম থেকে বিরত থাকেন। রোজার মাসে ইফতারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য, সাম্য, সমবেদনা ও ত্যাগ স্বীকারের মত মানবীয় গুণাবলী পরিলক্ষিত হয়। মুসলমানদের রোজার মাসে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বাকি এগার মাস কাজে লাগানো উচিত। আল্লাহ পাক বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা-১৮৩)। আল্লাহ পাক আরো বলেন, রোজা আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দেব। এছাড়া রোজা সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে বিস্তারিত রয়েছে।

খ্রীস্টান ধর্মে উপবাস : খ্রীস্টান ধর্মের উপবাস সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের যিশাইয়া ভাববাদী পুস্তকের ৫৮ অনুচ্ছেদের পদ ৩-৯ উল্লেখ আছে: তারা বলে, ‘আমরা উপবাস করেছি আর তুমি তা চেয়ে দেখলে না কেন? আমরা কষ্ট স্বীকার করেছি আর তুমি তা লক্ষ্য করলে না কেন?’ কিন্তু দেখ, তোমাদের উপবাসের দিনে তোমরা তো নিজেদের সন্তুষ্ট করে থাক, আর তোমাদের সব কর্মচারীর ওপর অত্যাচার করে থাক। উপবাস করবার ফলে তোমরা ঝগড়া আর বিবাদ করে থাক এবং ঘুষি মেরে একে অন্যকে আঘাত করে থাক। তোমরা এভাবে উপবাস করলে আশা করতে পারবে না যে, আমি তোমাদের কথা শুনব। আমি কি এই রকম উপবাস চেয়েছি? তোমাদের উপবাস তো কেবল নিজেদের কষ্ট দেয়া; তা কেবল নল-খাগড়ার মত মাথা নোয়ানো আর ছালার চটের ও ছাইয়ের ওপর শুয়ে থাকা। এটাকেই কি তোমরা উপবাস আর সদাপ্রভুর দয়া দেখাবার দিন বল?

আসলে আমি এ রকম উপবাস চাই: তোমরা অবিচারের শিকল আর জোয়ালের দড়ি খুলে দাও, অত্যাচারিতদের মুক্তি দাও আর প্রত্যেকটি জোয়াল ভেঙ্গে ফেল, খিদে পাওয়া লোকদের তোমাদের খাবার ভাগ করে দাও, ঘুরে বেড়ানো গরীব লোককে নিজের ঘরে আশ্রয় দাও, উলঙ্গকে দেখলে তাকে কাপড় পরাও, আর নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। এ সব কাজ করাই হল আসল উপবাস।  তাহলে তোমাদের আলো ভোরের মত প্রকাশ পাবে আর শীঘ্রই তোমরা সুস্থতা লাভ করবে; তোমাদের সততা তোমাদের আগে আগে যাবে আর আমার গৌরব তোমাদের পিছন দিকের রক্ষক হবে। তখন তোমরা প্রার্থনা করলে আমি উত্তর দেব; তোমরা সাহায্যের জন্য ডাকলে আমি বলব, ‘এই যে আমি।’ পবিত্র বাইবেলের মথি রচিত মঙ্গলসমাচার ৬ অধ্যায় ১৬-১৮ পদে উল্লেখ আছে:তোমরা যখন উপোস কর,  তখন ভণ্ডদের মতো বিষণ্ন ভাব  দেখিয়ো না। তারা যে উপোস করছে, সেটা লোকদের দেখাবার জন্যেই তো তারা মুখখানা অমন শুকনো করে রাখে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তাদের পুরস্কার তারা পেয়েই গেছে। যখন তুমি উপোস কর, তুমি বরং তখন মাথায় তেল মেখো, চোখমুখ ধুয়ো, যাতে তুমি যে উপোস করেছো, মানুষ যেন তা জানতে না পারে, যেন জানতে পারেন শুধু তোমার পিতা, গোপনেই থাকেন যিনি। তাহলে তোমার পিতা, যিনি গোপন সব কিছু দেখতে পান, তিনি তোমাকে পুরস্কৃতই করবেন।

উপবাসের সময় ও নিয়ম : উপবাস হলো তিন বেলার যে কোন এক বেলা না খেয়ে গরিবদেরকে খাদ্য বিতরণ করা। অথবা তিন বেলা কম কম খেয়ে অতিরিক্ত খাবারগুলো গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা।

নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ বেঞ্জামিন কস্তা  বলেন, মুসলমানের রোজার মূল বৈশিষ্ট্য বা শিক্ষা হল ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য, সাম্য ও সমবেদনা এবং সহানুভূতিশীল হওয়া-রোজার মাসের এ শিক্ষাটা মুসলমানদের ধরে রাখা উচিত। রোজার মাসে বাস, লঞ্চ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন জায়গায় একত্রে বসে ইফতারির পরিবেশ খুব ভাল লাগে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রোজার মাসে তুলনামূলক জিনিসপত্রের দাম কম থাকলেও বাংলাদেশে সব জিনিসপত্রের দাম দুই/ তিন গুণ বৃদ্ধি পায়। অতি মুনাফালোভীর মত এই নিন্দনীয় ও ঘৃণিত কাজটা সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ত্যাগ করা উচিত।

বৌদ্ধ ধর্মে উপবাস সময় ও নিয়ম: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যারা উপবাস গ্রহণ করেন, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শ্রমণ এবং যারা ভাবসাধনায় অংশগ্রহণ করেন তারাই উপবাস পালন করেন। প্রতিদিন দিনের ১২টা থেকে পরের দিন সূর্য উদয় পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। উপবাস অবস্থায় পানি জাতীয় ও ক্ষুদ্র ফলের রস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা যাবে না।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া বলেন, মুসলমানদের রোজাকে আমরা স্বাগত জানাই। রোজার সাথে খাদ্যের সম্পর্ক। রোজা রাখার ফলে মানুষ উপোস থাকে। এটা দেহ ও মনের জন্য অনেক ভাল। মুসলমানদের রোজার শিক্ষা হল সংযম,  ধৈর্য ধারণ, ত্যাগ স্বীকার ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করা। মুসলমানের এ শিক্ষাটা বাকি ১১ মাস ধরে রাখা উচিত। মুসলমানদের ইফতারিতে ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্য, মানবপ্রেমের বিশেষদিকটি ফুটে উঠে।। প্রত্যেকটা মুসলমানকে তাদের রাসূলের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়া উচিত।

বৌদ্ধ ধর্মের বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী বধির কান্তি বড়ুয়া বলেন, বোখারী শরীফ আমার কাছে আছে। মুসলমানদের রোজার বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। ভারত, পাকিস্তান, সৌদী আরবসহ সব মুসলিম বিশ্বে রোজার মাসে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম থাকে। আর বাংলাদেশে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়।  ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফালোভী ভাবটা ত্যাগ করা উচিত। এটা কোন ধর্মেই সমর্থন করে না। এ কাজটা অত্যন্ত ঘৃণার ও নিন্দনীয়।

হিন্দু ধর্মের উপবাস সময় ও নিয়ম: হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা সাধারণত সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, একাদশী তিথিতে অথবা অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে বিশেষ পূজা-অর্চনাদির সময়েও উপবাস পালন করে থাকেন। উপবাস শব্দটির মধ্যে দুটি বিষয়ের দ্যোতনা আছে: একটি হলো খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং অপরটি কায়মনোবাক্যে ইস্টদেবতার সান্নিধ্য অনুভব করা। কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহ এগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও উপবাস বিশেষ ভূমিকা রাখে। কেউ কেউ দেহ ও মনকে সুস্থ এবং নীরোগ রাখতেও উপবাস পালন করে। কেউ চব্বিশ ঘণ্টা আবার কেউ ক্রমাগত দুই, তিন, চার, পাঁচ দিনব্যাপী উপবাস পালন করে থাকেন।

শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের পুরোহিত  গোপাল চন্দ্র বলেন, মুসলমানদের রোজা মানে হল পাপ কাজ, মিথ্যা কথা, ঘুষ খাওয়া চুরি করা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু এদেশের মুসলমানদের অনেকেই রোজা রেখেও এ পাপ কাজগুলো করে যাচ্ছে। এটা মুসলমানদের রোজার লক্ষ্য ও উদ্দশ্যকে ব্যাহত করে।

সব ধর্মের রোজা বা উপবাসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যখন একই তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য, সাম্য, ত্যাগ স্বীকার ও  ধৈর্য ধারণ এবং মানবপ্রেমের মত মহান গুণাবলীতে উজ্জীবিত হয়ে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসা দরকার। তথ্য সূত্র: কুরআন, হাদিস, বাইবেল,তাওরাত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।ইত্তেফাক

 

 

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV