কিংবদন্তির কথা : নিনিতের ছবিটি আঁকা হলো না হুমায়ূনের
নওশাদ জামিল : শিল্প-সাহিত্যের যে শাখায় হাত দিয়েছেন, সোনা ফলেছে। কথাসাহিত্যে সাফল্য আকাশছোঁয়া। পরবর্তী সময়ে বানান টেলিভিশনের জন্য নাটক। তৈরি করেন চলচ্চিত্র। বাদ যায়নি বিজ্ঞাপনচিত্রও। সব ক্ষেত্রেই সাফল্য এসেছে ডালা ভরে। একসময় ভাবনায় এলো গান লিখবেন। লিখলেন, সুরও করলেন। সেখানেও সাফল্য। আর কী বাকি থাকল! শেষ পর্যায়ে হাত দিলেন আঁকিবুঁকিতে। অনেক ছবি আঁকলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি প্রদর্শনীও হয়ে গেল। এবার দেশের মাটিতে একটি প্রদর্শনী আয়োজনের ভাবনা। কিন্তু ইচ্ছাটা পূরণ হলো না। তার আগেই চলে যেতে হলো না-ফেরার দেশে। বহুমাত্রিক শিল্পী হুমায়ূন আহমেদের নিজ দেশে নিজ সৃষ্টকর্মের প্রদর্শনী আয়োজনের ইচ্ছাটা অপূর্ণই থেকে গেল। সদ্যপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ লেখালেখির পাশাপাশি ছবিও আঁকতেন। কিন্তু তা বন্ধুমহল ছাড়া অন্য কাউকে বলতেন না। লেখকের বন্ধুরা জানান, চিত্রকলা নিয়ে তাঁর ছিল বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের ছবি তিনি দেখতেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। অবসর পেলে মাঝেমধ্যেই বসতেন রং-তুলি নিয়ে। নিউ ইয়র্কে চলতি বছরের জুনে হুমায়ূন আহমেদের ছবির একটি ছোটখাটো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪টির মতো ছবি এঁকেছিলেন তিনি। এর মধ্যে প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত হয়েছিল ২২টি ছবি। উত্তর আমেরিকায় বইমেলা উপলক্ষে সে প্রদর্শনীতে প্রথম স্বাক্ষর করা তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয়। বইমেলার তিন দিন ২৯ ও ৩০ জুন এবং ১ জুলাই নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় ১৮২ স্ট্রিট এবং হিলসাইড এভিনিউতে অবস্থিত স্যুসান বি অ্যান্থনি হাই স্কুলের এক্সিবিট হলে এই প্রদর্শনী হয়েছিল। লেখক বন্ধু ও অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রদর্শনীতে ছবিগুলো শুধু প্রদর্শিত হয়েছিল। কিন্তু হুমায়ূন ভাইয়ের অনুরোধে কোনো ছবি বিক্রি করা হয়নি। তিনি ছবি বিক্রি করা পছন্দ করতেন না।’ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলে নিষাদের একটি ছবি আঁকা শেষ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। হাসিমাখা শাওনের স্কেচও করেছিলেন। ইচ্ছা ছিল নিনিতের স্কেচ আঁকবেন। কিন্তু তাঁর সে ইচ্ছাও অপূর্ণই থেকে গেল। সাহিত্যিক, শিল্পী ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর নিভৃতে লেখালেখির জন্য প্রায় এক যুগ আগে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দখিন হাওয়া নামের বাড়িটি করেন হুমায়ূন আহমেদ। দখিন হাওয়ার ষষ্ঠ তলায় দরজা পেরিয়ে অতিথিদের বসার জায়গা। এর পরে একদিকে ডাইনিং টেবিল, অন্যদিকে হুমায়ূনের বৈঠকখানা। এখানে রয়েছে তিন ভাঁজে মোড়ানো মাদুর, বাঁয়ে হুমায়ূনের আঁকা নিষাদের একটি ছবি। সামনে নিচু একটি টেবিল, দুই পাশে বইয়ের আলমারি আর নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আরো কিছু ছবি। দেয়ালে ঝোলানো ফ্রেমে বাঁধানো কিছু আলোকচিত্রের মধ্যে কানে ফুল গুঁজে তোলা মেহের আফরোজ শাওনের হাসিমাখা একটি ছবিও দেখা যায় সেখানে। এর নিচেই ছিল ‘চিত্রকর’ হুমায়ূনের আঁকা স্ত্রীর স্কেচ। মাজহারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল বলেন, ‘এখানে বসেই হুমায়ূন আহমেদ অনেক সময় লেখালেখি করতেন, ছবি আঁকতেন। তিনি জানান, গত মে মাসে নিউ ইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে নিষাদের ছবিটি এঁকেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। আঁকা শেষ হওয়ার পর ছবিটি হুমায়ূনের মাদুর-আসনের বাম পাশে টানিয়ে দেওয়া হয়। এর পরই শাওনের ছবিটি আঁকা শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। প্রায় শেষ করে আনলেও শাওনের ছবিতে শেষ আঁচড়টি আর দেওয়া হয়নি। এর আগেই চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে যান লেখক। সেখান থেকে আর ফেরা হয়নি।কালের কণ্ঠ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests