Tuesday, 9 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 173 বার

প্রকাশিত: July 31, 2012 | 3:46 PM

Details

তরিকুর রহমান সজীব : সামাজিক যোগাযোগের সাইট হিসেবে বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় ফেসবুক। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই সাইটটিতে এখন যুক্ত রয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার বাজারে প্রবেশ করা ছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা, মোবাইল ফোন তৈরি করাসহ নানান বিষয় নিয়ে আলোচনায় রয়েছে ফেসবুক। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে সামনে নানান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে ফেসবুক। বিবিসি’র আহ্বানে কয়েকজন প্রযুক্তি বিশ্লেষক সেই বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জন্য সেগুলো এই লেখায় জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব

২০০৫ সাল থেকে শুরু। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনলাইনে একটি নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু তার। আর ৭ বছর পর এসে এখন বিশ্বব্যাপী প্রায় শতকোটি মানুষ জড়িত এই ওয়েবসাইটে। হ্যাঁ, ফেসবুকের কথাই বলা হচ্ছে। সময়ের বিবর্তনে এখন ফেসবুক গোটা বিশ্বে অন্যতম জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে এই সোস্যাল নেটওয়ার্ক জায়ান্ট। সামাজিক যোগাযোগের সাইট হিসেবে তৈরি হলেও এখন ফেসবুক পরিণত হয়েছে গোটা বিশ্বের বিকল্প মিডিয়ায়। জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ফেসবুক এখন বৃহত্ একটি প্রতিষ্ঠান। কিছুদিন আগে শেয়ার বাজারেও প্রবেশ করে তারা।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ফেসবুকের এসব সাফল্য থাকলেও সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ। সাড়া জাগিয়ে শেয়ার বাজারে প্রবেশ করলেও শেয়ার বাজারে দরপতনের মুখ দেখেছে তারা। এখনও পর্যন্ত শেয়ার বাজারে আশার মুখ দেখেনি তারা। আবার ফেসবুকের নিজস্ব ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন নিয়ে আসার প্রকল্পও চালু রয়েছে। সেক্ষেত্রেও তারা সফল হতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকেরই। আর তথ্যের গোপনীয়তা বা সুরক্ষার বিষয়গুলোও রয়েছে আলোচনায়। এসব বিষয়েই সম্প্রতি বিবিসি’র সাথে কথা বলেছেন প্রযুক্তি বিশ্বের কিছু বিশেষজ্ঞ। ফেসবুকের সামনের দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ আর করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন তারা। বিবিসি’র এই আয়োজন অবলম্বনে ফেসবুকের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরা হলো এখানে।

তথ্যের গোপনীয়তা

তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে, এমন একটি সংগঠন ইলেকট্রনিক্স ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন। এই সংগঠনের স্টাফ অ্যাটর্নি জেনিফার লিঞ্চ ফেসবুকে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুক কিনে নিয়েছে ফেস ডটকম নামের চেহারা সনাক্ত করার একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি কিনে নেওয়ায় ফেসবুককে তথ্যের গোপনীয়তায় দুই দিক থেকে প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন লিঞ্চ।

তার মতে, প্রথমত ফেস ডটকম কর্তৃক সংগৃহীত চেহারা সনাক্তকরণের তথ্যগুলো নিয়ে ফেসবুক কী করতে চায়, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ফেসডটকমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ডাটাবেজে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মানুষের চেহারার তথ্য রয়েছে। আর ফেসবুকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ছবি আপলোড হয়ে থাকে। ফেস ডটকমের ডাটাবেজের সাথে যদি প্রতিদিন ফেসবুকে আপলোড করা ছবিগুলো যুক্ত হতে থাকে, তাহলে এটি হবে পৃথিবীর সর্ববৃহত্ একটি ডাটাবেজ। সমস্যা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে চাইলে ফেসবুকে ওই ব্যক্তিকে ট্যাগ করা যত ছবি আছে, তার কপি সংগ্রহ করে ফেসবুক থেকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সরকারি সংস্থাগুলোরও এসব ছবিতে আগ্রহ রয়েছে। ফেসবুক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই বিপুল পরিমাণ ছবি অরক্ষিত হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয়ত, ফেস ডটকমের কার্যক্রমকে ফেসবুক মোবাইল ডিভাইসের জন্যও উন্মুক্ত করছে। ফলে এদের নিরাপত্তা একটি গরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই বিপুল পরিমাণ ছবির সংগ্রহকে সুরক্ষিত রাখাটা ফেসবুকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বটে।

মোবাইলের আগ্রাসন

ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিপুল একটি অংশ এখন মোবাইলের মাধ্যমে যুক্ত থাকেন। মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে ফেসবুকের আয় অনেক কম। সময়ের সাথে সাথে এটি ফেসবুকের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার ম্যালকম বার্কলে।

তিনি জানিয়েছেন, মোবাইল ডিভাইসগুলোর জন্য ফেসবুকের বিদ্যমান অ্যাপ্লিকেশনটিতে রয়েছে বেশকিছু সমস্যা। পেজ লোড হতে সময় নেওয়া, ধীর গতির রিফ্রেশ—সব মিলিয়ে এটি এখনকার সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর তাই মোবাইল ডিভাইসগুলোর জন্য ফেসবুকের প্রয়োজন আধুনিক কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে তৈরি অ্যাপ্লিকেশন। ‘অবজেকটিভ-সি’ এ ক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন বার্কলে। তিনি বলেছেন, অবজেকটিভ-সি মূলত ডেস্কটপ ব্রাউজারের জন্য বেশি উপযোগী হলেও এটি কার্যকরী একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। আইফোনের জন্য এটি ন্যাটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ। গতিতেও এটি অনেক দ্রুত। তবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমর্থন এবং স্বল্প খরচের জন্য এখনো ফেসবুক এইচটিএমএল ৫ ব্যবহার করে যাচ্ছে। বার্কলে মনে করেন, সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গেলে একে বদলাতে হবে। সম্প্রতি ফেসবুক তাদের অ্যাপ্লিকেশনকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ডিজাইন করার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বার্কলে জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে আধুনিকতাকে রপ্ত না করতে পারলে কঠিন সময়ের মুখে পড়তে হবে ফেসবুককে।

তথ্যের নিরাপত্তা

তথ্যের নিরাপত্তা গবেষক এবং ব্লগার হিসেবে কাজ করছেন গ্রাহাম ক্লুলে। তথ্যের নিরাপত্তায় থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশনগুলো নিয়ন্ত্রণ ফেসবুকের জন্য বড় একটি ইস্যু বলে মনে করেন তিনি।

ফেসবুকের জনপ্রিয়তার ফলে এখন বিভিন্ন কাজের জন্য ফেসবুকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন। কিন্তু এসব অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনার জন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অ্যাকসেসের অনুমতি প্রয়োজন হয়। এই সুযোগে চটকদার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে হ্যাকাররা প্রস্তুত হয়ে গেছে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নিতে। ফলে অনেক সময় ফেসবুক ব্যবহারকারীর অজান্তেই তথ্য চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে। গ্রাহাম জানান, ফেসবুকে এমন অনেক থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশনই রয়েছে, যেগুলো নিজে থেকেই ব্যবহারকারীর নামে পোস্ট করতে সক্ষম। এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলো বেশ ভয়ঙ্কর। এসব স্ক্যাম থেকে দূরে থাকটা ফেসবুকের জন্য চ্যালেঞ্জ বটে। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল’র দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন গ্রাহাম। উন্মুক্ত ইন্টারনেট ধারণার বিপরীতে এর অবস্থান হলেও বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

নিজস্ব ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন

এর আগে একাধিকবার নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন নিয়ে কাজ করেছে ফেসবুক। তবে তাদের উদ্যোগ সফল হতে পারেনি। এখনও এইচটিসি’র সাথে ‘বাফি’ নামের একটি ফোন নিয়ে কাজ করছে ফেসবুক। নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন নিয়ে ফেসবুকের ভাবনার প্রেক্ষিত নিয়ে জানিয়েছেন গার্টনারের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই ফেসবুক ফোনের স্পেসিফিকেশন নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। এর আগে এইচটিসি নিয়ে এসেছে সালসা এবং চাচা মডেলের স্মার্টফোন, যাতে ছিল ডেডিকেটেড ফেসবুক বাটন। তবে এগুলো সেই অর্থে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। ক্যারোলিনার মতে, এখনকার স্মার্টফোনগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান কাজ সোস্যাল নেটওয়ার্কিং হলেও কেবল সোস্যাল নেটওয়ার্কিং নিয়েই ফোন তৈরি হওয়াটা ফোনের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে বলে অনেকেই ভাবেন। তা ছাড়া স্মার্টফোন হিসেবে গ্রাহকরা অন্যান্য হাই-এন্ড স্মার্টফোনের মানকেই ভেবে থাকেন। আর এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ গ্রাহকেরা তাদের স্মার্টফোনে ফেসবুকের অ্যাপ্লিকেশন নিয়েই বেশ সন্তুষ্ট। এ দিকে উইন্ডোজ ৮ বা অ্যাপল’র মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণ আইওএস ৬-এ ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন আরও উন্নত হবে বলেই জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে নিজস্ব ব্র্যান্ডের আলাদ একটি স্মার্টফোন বাহুল্য মনে হতে পারে বলেই ধারণা ক্যারোলিনোর।

আর কিছুদিনের মধ্যেই ফেসবুক ১০০ কোটি গ্রাহকের ল্যান্ডমার্কে পৌঁছাতে যাচ্ছে। তবে আকারে ফেসবুক যত বাড়ছে, এর সামনে এসে পড়ছে তত চ্যালেঞ্জ। সময়ই বলে দেবে, ফেসবুক এসব চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারবে কি না।ইত্তেফাক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV