সাংবাদিকতার নীতিমালাও মাঝেমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে কিছু পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের কারণে:আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় বক্তারা
![]() |
নিউইয়র্ক : আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘কমিউনিটি বিনির্মাণে গণ মাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, কয়েক দশক আগেও নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে হাতে গোনা কিছু মানুষ ছিল৷ ৯০ দশকের পর থেকে বাংলাদেশিদের আগমন বাড়তে থাকে৷ যত দিন যাচ্ছে, বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিধি তত বাড়ছে৷ আর এই কমিউনিটির গোড়াপত্তন হয়েছে বাংলা ভাষার পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে৷ ১৯৮৭ সালে প্রবাসী পত্রিকার আত্মপ্রকাশ এবং এরপর সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন রচনা হয়৷ পর্যায়ক্রমে পত্রিকা বেড়েছে, সেসঙ্গে বেড়েছে কমিউনিটির কার্যক্রমও৷ তবে পত্রিকাগুলোর পেশাগত মান তেমন বাড়েনি৷ সাংবাদিকতার নীতিমালাও মাঝেমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে কিছু পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের কারণে৷ কমিউনিটি বিনির্মাণে যেমন গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে, তেমনি গণ মাধ্যমের কমীদেরও মধ্যে পেশাদারিত্বের প্রতিযোগিতা থাকা প্রয়োজন৷ বিজ্ঞাপন বা নগদ অর্থের কাছে সাংবাদিকরা যেন নিজেদের বিকিয়ে না দেন, এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে৷ এদিনের আলোচনা সভায় একাধিক বক্তার বক্তব্যে উপরোলেস্নখিত কথা বেরিয়ে আসে৷ আলোচনা সভায় প্রশ্ন-উত্তর পর্ব থাকায় পুরো অনুষ্ঠানটি বক্তব্য এবং পাল্টা বক্তব্যে প্রাণবনত্ম হয়ে উঠে৷
৩১ জুলাই (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডস্থ গুলশান টেরেসে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী শামসুল হক এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মীর শিবলী ও পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান৷ অনুষ্ঠানে সংশিস্নষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. এম.আব্দুল মোমেন, কন্সাল জেনারেল শাব্বির আহমেদ চৌধুরী, নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও মুজিব উর রহমান, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ ও বদরম্নন্নাহার খান মিতা, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উলস্নাহ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী শহীদ হাসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাংবাদিক শরিফ শাহাবুদ্দিন, মাহমুদ খান তাসের ও দর্পণ কবীর, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক দিদারম্নল ইসলাম দিদার, উত্তরবঙ্গ সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা’র সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান, কমিউনিটি নেতা বেদারম্নল ইসলাম বাবলা, বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সোলেমান ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী হোসেন জব্বার শৈবাল প্রমুখ৷
কমিউনিটি নেতা, সুধী, পেশাজীবী এবং সংবাদ কর্মীদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার নির্মল পাল, এটিএন বাংলা ইউএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরম্নল আলম, দৈনিক ইত্তেফাক এবং বাঙালী’র বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যৰ রিজু মোহাম্মদ, এনটিভি’র সাংবাদিক তৌহিদ ইসলাম, রেডিও টুডে’র সাংবাদিক মুজিবুর রহমান, আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ ও বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ ওয়ালিউল আলম, মশিউর রহমান ডা. মাসুদ হাসান, টিপু আলম, এটিএন বাংলা’র পরিচালক গাফাফার আহমেদ কিরণ, আজাদ ভিশনের আজাদ আহমেদ, ব্যবসায়ী শহিদুল হক টুটু, শ্রমিক লীগ নেতা সামসুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, শিৰাবিদ ড. মনসুর খান ও নাঈমা খান, আনিসুল কবীর জাসীর, এমদাদুল হক কামাল, আজাদ বাকীর, আবুল কাশেম, আশরাফুল হাসান বুলবুল, আকবর হায়দার কিরণ, তৌফিক কাদের, শারমিন রেজা ইভা, আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ মান্নান, ফারহানা চৌধুরী, ওমর চৌধুরী প্রমুখ৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর শিবলী এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নাজমুল আহসান৷ প্রথম বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নার্গিস আহমেদ বলেন, কমিউনিটি বিনির্মাণে গণ মাধ্যমের অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে৷ প্রবাসে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি পত্রিকাও বাড়ছে৷ ছাতার মত সংগঠন বাড়লেও আমি মনে করি, সংগঠন বাড়ে বলে সামাজিক কার্যক্রমও বাড়ে৷ সংগঠন আছে বলে ইফতার পার্টি হয়, বনভোজন হয় এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়৷ এর মধ্য দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন যায়, কেনাকাটা হয়৷ তিনি প্রবাসের পত্রিকাগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকায় ব্যক্তিগত আক্রমণ, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ ছাপা, তথ্য বিকৃত করে সংবাদ ছাপা, এক পত্রিকায় এক রমক সংবাদ ছাপা হলে অন্য পত্রিকায় এর ভিন্নরকম সংবাদ ছাপা হচ্ছে৷ ঈষা, বিরোধ, কোন্দল আমাদের মধ্যে লেগেই আছে৷ তিনি কমিউনিটি বিনির্মাণে মন-মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া জরম্নরি বলে অভিমত প্রকাশ করেন৷ তিনি আরো বলেন, এখানে যিনি সাংবাদিকতা জানেন না বা তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিৰা বা অভিজ্ঞতা না থাকলেও অর্থের জোরে পত্রিকার মালিক সেজে যাচ্ছেন৷ সাংবাদিকতা না শিখে এ পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন৷ এতে কমিউনিটিতে খারাপ প্রভাব পড়ছে৷ তিনি কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান৷ মুজিব-উর রহমান বলেন, বিকৃত সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা দেখি পত্রিকাগুলোতে৷ সাৰাত্কারে যা বলি, ছাপা হলে দেখি ভিন্ন৷
সৈয়দ মোহাম্মদ উলস্নাহ বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে৷ আমাদের মূল্যবোধ তুলে ধরতে হবে তাদের সামনে৷ কমিউনিটির বিনির্মাণে মিডিয়ার ভূমিকা গুরম্নত্বপূর্ণ৷ মিডিয়ার প্রতি কমিউনিটি নেতাদের আস্থা রাখতে হবে৷ আমরা একে অন্যের সহযোগিতা না পেলে কার্যত কমিউনিটি এগুতে পারবে না৷
রতন তালুকদার বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির গোড়াপত্তন বাংলা ভাষার পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে৷ ১৯৮৭ সালে প্রবীণ সাংবাদিক প্রবাসী পত্রিকা বের করেছিলেন৷ এরপর ঠিকানা বের হয়৷ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে কমিউনিটিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি অধ্যায় রচিত হয়৷ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে কমিউনিটির অস্থিত্ব সৃষ্টি হয়৷ কিন্তু মিডিয়া বা সাংবাদিকরা কমিউনিটির কাছ থেকে এর স্বীকৃতি পায়নি৷ বরং দেখছি, সাংবাদিকদের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ এবং ৰোভ প্রকাশ করছেন কমিউনিটি নেতারা৷ কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মিডিয়াকে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি৷
শরিফ শাহাবুদ্দিন বলেন, নিউইয়র্কেও সাংবাদিকরাও হুমকি পান৷ কখনও কখনও অপ্রীতিকর পরিস্থির শিকার হচ্ছেন৷ এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের পাশে কিন্তু কমিউনিটির নেতারা দাঁড়ান না৷ একটি সমাজ বা কমিউনিটি গঠন করতে হলে সাংবাদিক এবং সুধীজনদের মধ্যে সৌাহার্দ্য এবং শ্রদ্ধার সেতুবন্ধন রচনা করতে হবে৷ একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে৷
বদরম্নন্নাহার খান মিতা বলেন, সাংবাদিকদের সত্যের অনুসন্ধান করা উচিত৷ কোন অভিযোগ পেলে এর সত্যতা যাচাই করা দরকার৷ কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রয়োজন৷ মিডিয়া ছাড়া কমিউনিটির বিনির্মাণ সম্ভব নয়৷ আলহাজ্ব সোলেমান ভূঁইয়া বলেন, কমিউনিটিতে পত্রিকা বের হোক, তবে মিথ্যা সংবাদ যেন প্রচার না হয়৷ আমাদের কাছে মিডিয়া অর্থাত্ সাংবাদিকরা অত্যনত্ম শ্রদ্ধার পাত্র৷ তারা সত্য কথা লিখবেন-এটাই সকলে আশা করে৷ তাদের সংবাদ সকলে বিশ্বাস করে৷ লৰ্য রাখতে হবে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে যেন কারো বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়৷
বেদারম্নল ইসলাম বাবলা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি দেখলে তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলি৷ তিনি আরো বলেন, শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে বা লিখতে পারে না, এমন ব্যক্তি নিউইয়র্কে পত্রিকার সম্পাদক হয়ে যাচ্ছেন৷ এটা কমিউনিটির জন্য মঙ্গলজনক নয়৷ হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, সাংবাদিকরা কমিউনিটিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন৷ তারা অনেক কষ্ট করছেন, তবু এ পেশায় নিযুক্ত থাকছেন৷ তাদের ত্যাগকে আমরা দেখার চেষ্টা করি না৷ সময়ের স্বল্পতার কারণে কন্সাল জেনারেল তার বক্তব্যে সকলকে শুভেচ্ছা জানান৷ ড. মোমেন সংৰিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করলেই কমিউনিট তথা সমাজ তথা রাষ্ট্র এগিয়ে যায়৷ প্রবাসেও সাংবাদিকরা কমিউনিটি বিনির্মাণে ভূমিকা রাখছেন-এ কথা স্বীকার্য৷ আলোচনা শেষে সমবেত সকলে ইফতার পার্টিতে অংশ নেন৷ ইফতারপূর্বক দোয়া পরিচালনা করেন রাষ্ট্রদূত এবং স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন৷
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল









