Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

আমার এক ধমকে দশ হাজার টাকা শেষ – হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 27 বার

প্রকাশিত: August 3, 2012 | 12:47 PM

গাজী কাশেম, নিউ ইয়র্ক  : ২৭ অক্টোবর ২০১১। গাছে গাছে সোনালি পাতা টুপটাপ করে ঝরছে। ঝরা পাতাগুলো দামাল ছেলের মতো ফুটপাতে আর রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। দৃশ্যটি বড়ই অপরূপ। এসবই শীতের দোয়া। শীতের সানাই চারদিকে বাজছে। দিনের সাথে রাত টেক্কা দিয়ে কূল পাচ্ছে না। সূর্য ফুটুস-ফাটুস করে অন্ধকারে চলে যাচ্ছে।

সন্ধ্যা ৯টা। সঙ্গে আমার স্ত্রী নাসরিন পারভিন কাশেম। বাসায় পৌঁছার পূর্বে শাওনকে ফোন করলাম, কিছু লাগবে কিনা। সে খানিকটা চিন্তা করে বলল, না, আজ আর কিছু দরকার হবে না, আপনি চলে আসুন। ছুটে গেলাম সেই পরিচিত বাড়িতে।

গৃহে প্রবেশ।

: স্যার কেমন আছেন?

: এখনো আল্লাহর ইচ্ছায় বেঁচে আছি। তোমরা বসো।

জাপানের (রিক্কিও) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নাসের জাপান থেকে দু-সপ্তাহের ছুটি নিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে সঙ্গ দিতে এসেছেন। সেই দিনগুলোতে তিনি হরেক রকম জাপানি খাবার রান্না করতেন।

যা-ই হোক, আমি আর আমার স্ত্রী হুমায়ূন আহমেদের পাশে বসলাম। মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ আর তাঁর স্ত্রী রুমা সাহাও এসে উপস্থিত। বিশ্বজিৎ বেশ কিছু বই আর রান্না করা কয়েক পদের খাবার এনেছেন। স্যারকে তখন খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। বিশ্বজিৎ আর রুমা সাহাও বসলেন। এমপি তহুরা আলী নিষাদকে খাওয়াতে নিয়ে রিতিমতো যুদ্ধ করছেন। প্রফেসর নাসের রান্না শেষ করে আমাদের সথে যোগ দিলেন।

গল্প শুরু হল। হুমায়ূন আহমেদ বেশ উৎফুল্ল চিত্তে বলতে শুরু করলেন, শোনো। এক মজার কাহিনী। তখন আমার ‘চন্দ্রকথা’ ছবির শুটিং চলছে। শিক্ষামূলক সফরে প্রফেসর নাসেরের নেতৃত্বে ৮ জন জাপানি ছাত্রী তখন বাংলাদেশে। নাসের নুহাশ পল্লীতে তার ছাত্রীদের নিয়ে বেড়াতে এলো। নাসেরকে বললাম, নাসের, আমার নুহাশ পল্লীর পুকুর ঘাটটি ‘চন্দ্রকথা’ ছবিতে শত বছরের পুরনো দেখাতে হবে। ইট দিয়ে ঘষে ঘাটটি পুরনো করা দরকার। নাসের বলল, ঠিক আছে, আমি তা দেখছি। মুহূর্তেই জাপানি ছাত্রীরা ইট ও বালতি হাতে নেমে পড়ল। চমৎকার তাদের কাজ। কোনো অলসতা নেই। বিশ্রাম নেই। ইট দিয়ে ঘষে ঘাটটিকে পুরনো বানিয়ে ফেলল। মজার ব্যাপার হলো, আমার এক গৃহপরিচারিকা হুমড়ি খেয়ে এসে আমাকে জানালো, ‘স্যার ঘটনা বড়ই ডেঞ্জারাল এবং প্যাতিটিক।’ আমি বললাম, কী হলো? পরিচারিকা বলল, সুজন ভাই (আসল নামটি প্রকাশ করা হল না) একটা জাপানি চেমরিকে রোজ কিচ (কিস) করতে দেখেছি। আমি কথাটা আমলে নিলাম না। তাকে বললাম, তুমি এখন যাও।

সুজন মেধাবী এবং হ্যান্ডসাম। আমার কাজ করত, সেবা-যতœ করত, ঘর সাজাতো, অতি সুন্দর করে খাবারগুলো টেবিলে সাজাতো, আমি তাকে খুবই পছন্দ করতাম।

যা-ই হোক, সেই দল তাদের শিক্ষা সফর শেষ করে জাপানে চলে গেল।

এর কিছুদিন পর আমার কাছে একটা চিঠি এলো। সেই চিঠিতে জাপানি তরুণী লিখেছে, সুজনের সাথে তার প্রেম হয়েছে, সে সুজনকে বিয়ে করে জাপানে নিয়ে যেতে চায়। আমার মাথায় হাত, এ কী!

আমি সুজনকে ডাকলাম এবং জোরে একটা ধমক দিলাম।

তার শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল, দাঁত-মুখ খিচে সে মাটিতে পড়ে গেল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। ইসিজি থেকে শুরু করে অনেকগুলো মেডিকেল টেস্ট করানো হল। দশ হাজার টাকা বিল এলো। আমি দশ হাজার টাকার বিল দিয়ে দিলাম। আমার এক ধমকে দশ হাজার টাকা শেষ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV