Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারের নেতৃত্বে এশিয়া!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 128 বার

প্রকাশিত: August 7, 2012 | 12:47 PM

জিয়া মনজুর : এশিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাদের উদ্ভাবনী শক্তি ও যুগান্তকারী পণ্যের মাধ্যমে বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে নেতৃত্ব দেয়ার উদ্দেশে এগিয়ে চলেছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন মার্কেটে কম্পিউটার বিষয়ক প্রযুক্তি ও অন্যান্য পণ্যের বিপুল চাহিদা বৃদ্ধিই এসব এশিয়ান কোম্পানির অগ্রযাত্রার মূল কারণ। এসব পরিবর্তন ঘটার কারণ বুঝতে হলে প্রথমে এশিয়া সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত বেশ কিছু ভুল ধারণার অবসান ঘটানো প্রয়োজন।
এশিয়া এখন অনেক এগিয়ে এশিয়া সম্পর্কে যে মিথটি সর্বপ্রথম ভাঙা প্রয়োজন তা হলো, এশিয়াকে উদ্ভাবনী কার্যক্রম নয়; উত্পাদন কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে মনে করা। বহু বছর ধরে এশিয়ার প্রযুক্তি সেবাদানকারী কোম্পানিগুলো বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন কোম্পানির কারখানা হিসেবে কাজ করেছে—যার মূল কাজ ছিল প্রতি বছর লাখ লাখ কম্পিউটার, সার্ভার ও স্মার্টফোন তৈরি করা। তবে বর্তমানে প্রযুক্তিগত গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এশিয়ান কোম্পানিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের তৈরি পণ্য এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে ব্র্যান্ড নামধারী কোম্পানিগুলোর পণ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
চমক দেখিয়েছে ‘আল্ট্রাবুক’ এশিয়ার কোম্পানিগুলো কীভাবে বিশ্বের প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ সাধনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে সম্প্রতি বাজারে আসা ‘আল্ট্রাবুক’। আল্ট্রাবুক হচ্ছে নতুন এক ধরনের কম্পিউটার—যার মধ্যে সর্বোচ্চ গুণ ও মানসম্পন্ন প্রযুক্তির পাশাপাশি পাতলা, আকর্ষণীয় ও সহজে বহনযোগ্য নানা ডিজাইনের চমত্কার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ইন্টেল আল্ট্রাবুকে নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য আপসহীন ও সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। আল্ট্রাবুকগুলো ল্যাপটপের তুলনায় শুধু পাতলাই নয়, যথেষ্ট আধুনিকও। একই সঙ্গে এগুলো অধিকতর সংবেদনশীল এবং নিরাপদ। এগুলোর মাধ্যমে মিডিয়া ও গ্রাফিক্সের কার্যকারিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাটারিও অধিকতর দীর্ঘস্থায়ী হবে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ার বিভিন্ন মার্কেটে আল্ট্রাবুকের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং এর পর থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে এর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
৬০টিরও বেশি আল্ট্রাবুকের ডিজাইন ও উত্পাদন এশিয়াতেই যেসব কোম্পানি সর্বপ্রথম আলট্রাবুক বাজারে এনেছে, তার সবই এশিয়ার। এসার, আসুস, লেনোভো এবং তোশিবার মতো কোম্পানিই প্রথম আল্ট্রাবুকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি উপলব্ধি করে। ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তিসংবলিত আলট্রাবুকের নানা সংস্করণের ক্ষেত্রেও এশিয়ার কোম্পানিগুলোই নেতৃত্ব দেবে। আগামী বছর বাজারে আনার জন্য এরই মধ্যে ৬০টিরও বেশি আল্ট্রাবুকের নতুন ডিজাইন পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এর প্রায় সবক’টির ডিজাইন ও উত্পাদনের কাজ এশিয়াতেই সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই বোঝা যায়, বর্তমানে এশিয়া বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারের সরবরাহ চেইনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করছে।
ডিভাইসগুলো বাংলাদেশেও দারুণভাবে সমাদৃত হয়েছে এশিয়া সম্পর্কে অন্য যে মিথটি ভাঙা প্রয়োজন তা হলো, উন্নয়নশীল মার্কেটের ক্রেতারা উচ্চমানসম্পন্ন পণ্য নয়, শুধু সস্তা পণ্য কিনতে আগ্রহী। ক্রমে উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক অবস্থা, মানুষের আয়বৃদ্ধি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার ইচ্ছার কারণে উন্নয়নশীল মার্কেটগুলো বর্তমানে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এসব দেশের ক্রেতা বিশ্ববাজারে সহজলভ্য সর্বোচ্চ গুণ ও মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে আগ্রহী। প্রথম আল্ট্রাবুকটি হাতে পাওয়ার জন্য মালয়েশিয়ায় ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বাংলাদেশের বাজারেও নতুন এ ডিভাইসগুলো দারুণভাবে সমাদৃত হচ্ছে। এখানে আল্ট্রাবুকের জন্য দৃশ্যমান চাহিদা রয়েছে এবং এ চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মূলত উচ্চমান প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারকারী ও উচ্চ আয়ের লোকজন নতুন এ প্রযুক্তি পণ্য (আল্ট্রাবুক) কেনা ও ব্যবহারে অধিকতর আগ্রহ দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে এইচপি, এসার, তোশিবা এবং স্যামসাং বাংলাদেশে আল্ট্রাবুক নিয়ে আসছে। এছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডের আল্ট্রাবুক শিগগিরই বাজারে আসবে এবং গ্রাহক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।
দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা দখলে নেবে এশিয়া আগামী কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়া, চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল মার্কেটগুলো সারাবিশ্বের কম্পিউটার মার্কেটের বৃৃদ্ধি প্রক্রিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে নেবে। এ অঞ্চলের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে প্রযুক্তিগত পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাই এর মূল কারণ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরেরও কম সময় অর্থাত্ ২০১৫ সালের মধ্যে এশিয়ায় মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যা ২০১১ সালের ৫৭ কোটির চেয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়ে গিয়ে ৯৪ কোটি ৫ লাখে দাঁড়াবে। ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নের কারণ এশিয়ার দেশগুলো এ মুহূর্তে বিশ্ববাজারে মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৪৪ শতাংশই এশিয়ায় বসবাস করে এবং এ অঞ্চলে ৯০ কোটিরও বেশি মানুষ অনলাইন সেবা গ্রহণ করে। বলা যায়, যে গতি ও ক্ষিপ্রতা এবং এশিয়ার মার্কেট সম্পর্কে সম্যক ধারণার সমন্বয়ের কারণে এশিয়ার কোম্পানিগুলো আল্ট্রাবুক উত্পাদনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সে বিশেষ ক্ষমতাই তাদের এশিয়ার ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।
অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনস প্রস্তুতকারীরাও সুবিধাজনক অবস্থানে এই অঞ্চলজুড়ে প্রযুক্তিগত নানা পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার নানা অ্যাপ্লিকেশনস প্রস্তুতকারীরাও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার ক্রেতারা ইউরোপ বা আমেরিকার ক্রেতাদের জন্য তৈরি পণ্যের স্থানীয় সংস্করণ চায় না; তারা চায় এমন পণ্য—যা স্থানীয়ভাবে শুধু তাদের কথা চিন্তা করেই তৈরি করা হবে। এনিমোকা নামে হংকংভিত্তিক একটি কোম্পানি এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কোম্পানিটি এ বছর একশ’টিরও বেশি নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশনস বাজারে এনেছে—যার মধ্যে ‘সিন্ডারেলা ক্যাফে’ নামে একটি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রি অ্যাপ্লিকেশনসের র্যাংকিংয়ে ২৯তম স্থানে রয়েছে।
বড় স্ক্রিন ও উন্নত পরিসেবা চায় এশিয়ানরা চলতি বছর ও তার পরবর্তী সময়ে যতই এশিয়ার বিভিন্ন মার্কেটে উন্নততর অ্যাপ্লিকেশনস সহজলভ্য হবে, ততই এশিয়ান এবং আন্তর্জাতিক কম্পিউটার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো লাভবান হবে। ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার অনেক দেশেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ইচ্ছার কারণে এশিয়ায় কম্পিটার বিক্রি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে এবং এই হার আগামী বেশ কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত থাকবে। এশিয়ার ক্রেতারা বুঝতে শিখেছে, চার ইঞ্চি স্ক্রিনে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে কোনোমতেই স্থানীয়ভাবে তৈরি নানা অ্যাপ্লিকেশনস ও কনটেন্টের সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। আর তাই তারা আরও বড় স্ক্রিন ও উন্নত পরিসেবা চায়—যা কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার বা আল্ট্রাবুক দিতে পারে। আর এখানেই পাওয়া যাবে এশিয়া সম্পর্কে চলমান তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিথটি—যা অবিলম্বে ভাঙা প্রয়োজন। এশিয়ার ক্রেতারা যখন কোনো পণ্য কেনার কথা চিন্তা করে, তখন তারা আল্ট্রাবুক না স্মার্টফোন কিনবে, বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না। কারণ তারা দুটিই কিনবে। ক্রমবর্ধমান আয়ের ফলে এশিয়ার ক্রেতারা একই সঙ্গে একাধিক পণ্য কিনতে সক্ষম হবে এবং এ বিষয়ই ২০১২ সালে মার্কেট আরও বাড়ানোর জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এশিয়ার প্রযুক্তি সেবাদানকারী কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের উচিত, এ সুযোগ যতটা সম্ভব বেশি করে কাজে লাগানো।
ইন্টেল সম্পর্কে বিশ্বের সর্ববৃহত্ কম্পিউটার প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল। প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি তৈরি করছে—যা বিশ্বের কম্পিউটিং ডিভাইসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।জিয়া মনজুর, বাংলাদেশে ইন্টেলের কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার, বিস্তারিত : newsroom.intel.com, blogs.intel.com
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ