Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

ওয়াশিংটন: আনফরগেটবল মোমেন্ট উইথ হুমায়ুন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 92 বার

প্রকাশিত: August 9, 2012 | 12:00 PM

 শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি, ৯ আগষ্ট : বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ তার কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে মাত্র ৬৪ বছর বয়সে গত ১৯ জুলাই বেলা ১টা ২২ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সাহিত্যের প্রানপুরুষ শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়কে ছাড়িয়ে গিয়ে যে বিজ্ঞানী বাংলা সাহিত্যকে নিয়ে গিয়েছিলেন আকাশ সমান তিনি কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ। কি বিজ্ঞান চর্চা, কি সাহিত্য চর্চা, কি গীত রচনা, চলচ্চিত্র নির্মান, ছবি আকাঁ শিল্প সাহিত্যের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তিনি তার কর্মের স্বাক্ষর রেখে যাননি।

বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তী প্রবাদ পুরুষ হুমায়ূন আহমেদ বৃহদন্ত্রের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ চিকিৎসার জন্য তিনি নিউইয়র্কে আসেন। সেখানে মেমোরিয়াল স্লোয়ান – কেটরিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনপ্রিয় এই কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে সর্বমোট ১২টি কেমো থেরাপি দেয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে স্স্থ্যু হতে শুরু করেন। কেমো নেয়ার পর কিছুটা সুস্থ্য হয়ে এলে হাসপতালের ডাক্তারগন চুড়ান্ত পর্বে হুমায়ুন আহমেদ এর দেহে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ নিউইয়র্কের যান্ত্রিক পরিবেশ থেকে যখন একটু খোলামেলা হাওয়ায় বুক ভরে নি:শ্বাস নিতে চাচ্ছিলেন ঠিক তখনই নিউইয়র্কে গিয়ে হাজির হন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বসবাসরত হুমায়ুন আহমেদ এর তিন ভক্ত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, মাল্টিমিডিয়া বিশেষজ্ঞ সিনেমেশন মাল্টিমিডিয়ার সিইও সাইফুল ইসলাম ও গায়ক অভিনেতা সোহলে আনোয়ার লিটু। হুমায়ুন আহমেদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু শাহজাহান কবিরের সহযোগীতায় এবং এই তিন ভক্তের আমন্ত্রনে হুমায়ুন আহমেদ গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বপরিবারে মেরিল্যান্ডে আসেন। প্রথমে তিনি স্বপরিবারে মেরিল্যান্ড এর একটি হোটেলে উঠলেও দুদির পরেই তিনি তার ভক্ত নজরুল সাইফুলের বাসভবনে স্বপরিবারে উঠে আসেন।

প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, বাংলা সংস্কৃতির মধ্যে বসবাসকারী নজরুল সাইফুল লিটু বাংলা সাহিত্যের প্রানপুরুষ হুমায়ুন আহমেদ আর তার পুরো পরিবারকে কাছে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন। ব্যাস্ত ছিলেন হুমায়ুন স্যারকে নিয়ে পুরো পাঁচটি দিন। হুমায়ুর স্যার কি পছন্দ করেন, কোথায় বেড়াতে পছন্দ করেন, কি খেতে চান, কিভাবে সময় পার করতে চান এই নিয়ে কেটে গেছে এই হুমায়ুন ভক্তদের পুরো পাঁচটি স্মরণীয় দিন। আজীবন না ভুলে যাবার এই মুহুর্তগুলোতে হুমায়ুন আহমেদ আর তার পরিবারের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ছিলেন মেরিল্যান্ড প্রবাসী নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ কাজল, সাইফুল ইসলাম, নুর ইসলাম, তানিয়া ইসলাম, নুরুজ্জামান মন্ডল, মুনিয়া মাহমুদসহ আরো অনেকে।
মেরিল্যান্ডের ইলিকোট সিটির শ্যামল সবুজ ছায়াঘেরা খোলামেলা পরিবেশ আর মুক্ত বাতাশে নি:শ্বাস নিয়ে হুমায়ুন আহমেদ তার ভক্তদের কাছে মেরিল্যান্ডে একটি বাড়ী কিনে মেরিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হবার ইচ্ছা পোষন করেছিলেন। হুমায়ুন আহমেদ এর ভক্ত নজরুল বলেন, স্যার আমাদের এলাকাটা খুব পছন্দ করেছিলেন। তিনি এখানে একটি বাড়ী কিনে বসবাস করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্যান্সার ভালো হবার পর ছয় মাস আমি দেশে থাকব, প্রয়োজনীয় কাজ সারব এবং বাকী ছয় মাস আমি মেরিল্যান্ডে থাকব। এখানের মুক্ত বাতাশে বসে লিখব আর ছবি দেখব।

মাল্টিমিডিয়া বিশেষজ্ঞ সাইফুল বলেন, হুমায়ুন স্যারের মত এমন একজন মানুষকে এত কাছে পেয়ে আমরা অভিভুত হয়ে পড়ি। প্রথম দিকে কি করব বুঝতেই পারছিলামনা। এমনিতেই স্যার অসুস্থ্য ছিলেন। ভয়ে ভয়ে ছিলাম সারাক্ষন। কিন্তু তিনি আমাদের সাথে এমনভাবে আচরন করতেন যেন ওনার কিছুই হয়নি। দিব্যি একজন সুস্থ্য মানুষের মত তিনি আচরন করেছেন। স্ত্রী শাওন সন্তান নিনিত নিষাদকে নিয়ে তিনি দিনরাত আনন্দে মেতে ছিলেন। আমাদের এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারে এক বসাতেই তিনি দুই তিনটি ছবি দেখে ফেলতেন। আর আমাদের বাসার ফায়ার প্লেসটা ছিল স্যারের খুব প্রিয়। সেখানে বসেই তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতে, গান শুনতেন মজার মজার গল্প করতেন।
গায়ক অভিনেতা সোহেল আনোয়ার লিটু বলেন, স্যার এত প্রানবন্ত ছিলেন যেন কোন ক্লান্তিই স্যারের ধারে কাছে ভিড়তে পারতনা। ভার্জিনিয়ার লরে ক্যাভার্ন এর যাবার কথা বলতেই স্যার রাজি হয়ে গেলেন। প্রায় চার ঘন্টার জার্নী তিনি অত্যন্ত হাসি খুশি আর আড্ডার মধ্যেই কাটিয়ে দিলেন। লরে ক্যাভার্ন এ গিয়ে তিনি ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখলেন নিজ হাতে ছবি তুললেন। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে শপিং করলেন। পরেরদিন তিনি গেলেন বাল্টিমোর ইনার হার্ভর দেখতে। সবাই মিলে সেখানে ডলফিন শো দেখলেন। তার পরেরদনি তিনি গ্রেট ফলস্ ঘুরতে গেলেন এবং গ্রেট ফলস্ স্যারের এত ভালো লেগে গেল যে সেখানে তিনি তার পরবর্তি ছবির স্যুটিং করবেন বলেও মনস্থির করে ফেললেন।

হুমায়ুন ভক্ত নজরুল বলেন, আমার এতদিন হুমায়ুন স্যারের লেখা বই এর মাধ্যমে মিসির আলী চরিত্রটি জানতাম একটি কাল্পনিক চরত্রি। কিন্তু আদতে তা সত্য নয়। হুমায়ুন স্যারের সেই মিসির আলী বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন। বাল্টিমোর ইনার হার্ভর ঘুরে দেখার পর আমরা স্যারকে নিয়ে একটি জাপানী রেষ্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে খেতে বসেই তিনি ফোনে মিসির আলীর সাথে কথা বলেন এবং সুস্থ্য হলেই মিসির আলীর কাছে যাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।
কেমো থেরাপীর ফলে কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের মাথার চুল প্রায় পড়ে গিয়েছিল। যা কিছু চুল ছিল সেগুলোও ধবধবে সাদা হয়ে গিয়েছিল। সেজন্য তিনি মাঝে মধ্যে উইগ বা হেট পরতেন। বাল্টিমোর ইনার হার্ভরে ঘুরতে গিয়ে তিনি আলগা দাড়ীও কিনে ছিলেন এবং সেটাও তিনি কয়েকবার পরে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন।


মেরিল্যান্ডে অবস্থানকালে হুমায়ুন আহমেদ তার ভক্তদের আদর আপ্যায়নে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে সাইফুলের মাল্টিমিডিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি তারঁ লেখা ”এ্যান্ট এন্ড আদার্স” নামক একটি গল্প সাইফুলকে দিয়ে বলেন, তুমি এই গল্পটি দিয়ে একটি নাটক তৈরী কর। হুমায়ুন স্যারের গল্প নিয়ে নাটক তৈরী করার সুযোগ পেয়ে সাইফুলের চোখে পানি এসে যায়। জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ অস্ত্রোপচারের আগে পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাতে গত ১১ মে দেশে যান। ২০ দিন দেশে অবস্থানের পুরোটা সময় গাজীপুরে নিজের গড়া নুহাশ পল্লীতে কাটিয়েছেন। এইসময় সাইফুলও দেশে যান। নুহাশ পল্লীতে বসে মাত্র দুদিনে হুমায়ুন আহমেদ তার গল্পের চিত্রনাট্য তৈরি করে সাইফুলের হাতে তুলে দেন। চিত্রনাট্য হাতে পেয়েই সাইফুল নুহাশ পল্লীতে নাটকটির শ্যুটিং শুরু করেন। হুমায়ুন আহমেদ দেশে থাকা অবস্থায় নুহাশ চলচ্চিত্রের ব্যানারে ’’পিপিলিকা” নামের এই নাটকটির শ্যুটিং শেষ করে সাইফুল যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। বর্তমানে সাইফুল নাটকটির এডিটিং, অ্যানিমেশন এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এর কাজ করছেন। নাটকটি আগামী রমজানের ঈদের রাতে চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে।

২০ দিন নুহাশ পল্লীতে কাটিয়ে জুনের প্রথম সপ্তাহে হুমায়ুন আহমেদ অস্ত্রোপচারের জন্য নিউইয়র্কে ফিরে আসেন এবং গত ১২ জুন বেলভিউ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. জেইন এবং ক্যান্সার সার্জন জজ মিলারের নেতৃত্বে হুমায়ূন আহমেদের দেহে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর ১৯ জুন লেখক তার নিউইর্কের ভাড়া করা বাসায় ফিরে আসেন। স্ত্রী শাওনসহ সন্তানদের নিয়ে কুইন্সের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাট বাড়িতে উঠেছিলেন।
বাসায় ফিরলেও দু’দিন পরেই তার অবস্থার অবনতি ঘটলে পুনরায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২১ জুন তার দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার হয়। এতেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটতে থাকে। এরপর থেকেই তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জীবন সচল কাখা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে এবং সারা বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষী অগণিত ভক্ত অনুরক্তকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ১৯ জুলাই বেলা ১টা ২২ মিনিটে তিনি চলে যান, না- ফেরার দেশে।

প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদকে হারিয়ে কান্না ভারাক্রান্ত চোখে সাইফুল বলেন, এতবড় একজন মানুষকে এত কাছে পেয়েও এত তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলব ভাবতে পারিনি। স্যারের কথা বার্তাতেও কখনও মনে হয়নি তিনি এত তাড়াতাড়ি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবেন। স্যার যে কয়টা দিন আমাদের কাছে ছিলেন তা কখনো ভুলতে পারবনা। আমার মত একজন ছোট মানুষকে তিনি তার নাটক নির্মান করার জন্য যোগ্য ভেবেছেন এটা আমার জীবনের সবচাইতে বড় প্রাপ্তী। আমিই হয়ত স্যারের সর্বশেষ নাটক ’’পিপিলিকা” নাটকটি তৈরী করলাম। কিন্তু স্যার নাটকটি দেখে যেতে পারলেননা।
এদিকে হুমায়ুন আহমেদ এর ওয়াশিংটন ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড অবস্থানকালের বিভিন্ন অডিও ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সাইফুল তৈরী করেছেন ’’ আনফরগটেবল মোমেন্ট উইথ হুমায়ুন আহমেদ” নামক একটি ডকুমেন্টারী। এই ডকুমেন্টারী ছবিটিও ঈদের আগে চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে বলে জানিয়েছেন সিনেমেশন মাল্টিমিডিয়ার সিই সাইফুল ইসলাম।

তরুণ প্রজন্মের মাঝে পাঠাভ্যাস সৃষ্টিকারী বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর জন্ম ১৯৪৮ সালে ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায় মোহনগঞ্জের কুতুবপুর গ্রামে নানা বাড়িতে। তার ডাকনাম কাজল। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। মা আয়েশা ফয়েজ এখন পুত্র শোকে কাতর। হুমায়ূন আহমেদ প্রথম বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে গুলতেকিনকে। তাদের চার সন্তান। তিন মেয়ে নোভা, শীলা ও বিপাশা এবং পুত্র নুহাশ। ২০০৫ সালে গুলতেকিনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী শাওনকে। এই দম্পতির দুই সšতান নিষাদ ও নিনিত। ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পর একুশে পদকজয়ী এই লেখককে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিল সরকার।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তার লেখালেখি শুরু। নন্দিত নরকে তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এর মাধ্যমেই তিনি সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। এরপর শঙ্খনীল কারাগার, রজনী, এপিটাফ, পাখি আমার একলা পাখি, ফেরা, নিষাদ, দারুচিনি দ্বীপ, নির্বাসন, অমানুষ, রূপালী দ্বীপ, শুভ্র, দূরে কোথাও, মন্দ্রসপ্তক, আমার আছে জল, বাদশাহ নামদার, সাজঘর, বাসর, কাঠ পেন্সিল, আমার ছেলেবেলা, নৃপতির মতো পাঠক হৃদয় জয় করা উপন্যাস আসে তার লেখনীতে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তিনি লিখেছেন জোৎস্না ও জননীর গল্প, ১৯৭১, সূর্য্যরে দিনের মতো উপন্যাস। হুমায়ূন সৃষ্ট মিসির আলী ও হিমু হয়ে উঠে পাঠকদের প্রিয় দু’টি চরিত্র। অনন্ত নক্ষত্র বীথি, ইরিনার মতো কয়েকটি কল্পবিজ্ঞান কাহিনীও লিখেছেন তিনি। প্রায় আড়াইশ গল্প-উপন্যাসের জনক তিনি।

সাহিত্য সমালোচকদের অভিমত প্রধানত সংলাপ নির্ভর সহজ সরল ভাষায় তার লেখনীতে নিখুঁতভাবে উঠে এসেছে মধ্যবিত্তের জীবনের নিস্পন্দদিক ও রোমান্টিকতা। আর এটাই তাকে এনে দিয়েছে পাঠকপ্রিয়তা। এ কারণে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে আরও বেশি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।

উপন্যাসের পর নাটকেও তার জনপ্রিয়তা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। গতানুগতিক নাট্যধারায় তিনি নিয়ে আসন পরিবর্তন। হাস্য-কৌতুকের মাধ্যমে তিনি সমাজের নানা অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছেন সাবলীলভাবে। তার লেখা ও নাট্যরূপ দেয়া প্রথম নাটক ‘প্রথম প্রহর’। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় ১৯ শতকের আশির দশকে। এরপর ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ দিয়ে তিনি পৌঁছে যান জনপ্রিয়তার শিখরে। বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত এর মতো বহু জনপ্রিয় নাটক আসে তার হাত দিয়ে।

৫০টির বেশি নাটক লিখেছেন তিনি। তার নাটকেরই একটি মাস্তান চরিত্র ‘বাকের ভাই’র ফাঁসি প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকার রাজপথসহ সারাদেশের দর্শকরা মিছিল করেছে ও লাগিয়েছে পোস্টার। নাটকের পর তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসেন। ৮টি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। আগুনের পরশমনি দিয়ে শুরু করে শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়ার মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আগুনের পরশমনি কয়েকটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV