Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

হাসপাতালের নথিতে লেখক হুমায়ূন আহমেদের হঠাৎ অসুস্থ হবার কারণ গোপন করেছেন শাওন?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 61 বার

প্রকাশিত: August 12, 2012 | 11:05 AM

এনা,নিউইয়র্ক : প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসার একটি বিবরনী পাওয়া গেছে। জ্যামাইকা হাসপাতাল, বেলভ্যু হাসপাতাল এবং স্লোয়ান মেমরিয়্যাল ক্যান্সার হাসপাতালে কবে কী চিকিৎসা হয়েছে ইত্যাদির বিবরণে সর্বশেষ লেখকের গুরুতর আহত হবার তথ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের ৮ দিন পর ১৯ জুন সকালে তিনি বেলভ্যু হাসপাতাল থেকে অত্যন্ত ভাল মানুষ হিসেবে রিলিজ পেয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে পায়ে হেঁটে বাইরে গাড়িতে উঠেছেন। গাড়িতে উঠার সময় তিনি কয়েকজনকে সন্ধ্যায় তার বাসায় এক পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। এর পরদিনই তার অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করে। তারও পরদিন অর্থাৎ ২১ জুন সকালে তাকে নেয়া হয় জ্যামাইকা হাসপাতালে। সে সময় জরুরী বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন যে হুমায়ূন আহমেদ চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। এ তথ্য পাওয়া গেছে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় ৮৯০০ ভ্যানউইক এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থিত জ্যামাইকা হাসপাতাল মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক আলফ্রেডো ওয়াং-এর লিখিত বিবৃতিতে।

এ হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় আনা হয় ২১ জুন সকাল সোয়া ১১টায়। সে সময় সাথে ছিলেন না,লেখকের পতিœ মেহের আফরোজ শাওন। অপরাহ্ন ৫টায় এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা উপলব্ধি করেন যে, যেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে সেই বেলভ্যু হাসপাতালে পাঠানা উচিত। সে সময় ফোন করা হয় মেহের আফরোজ শাওনকে। শাওন আসার পর হুমায়ূন আহমেদকে রিলিজ করা হয় বেলভ্যু হাসপাতালে নেয়ার জন্যে। এরপর প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সে লেখককে বেলভ্যু হাসপাতালে নেয়ার পর মেহের আফরোজ শাওন চিকিৎসকদের জানান যে, রাতভর তিনি ঘুমাতে পারেননি পেটের প্রচন্ড ব্যাথায়। প্রস্রাব-পায়খানাও হয়নি লেখকের। শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এজন্যেই তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। বেলভ্যু হাসপাতালের ডক্যুমেন্ট অনুযায়ী হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন ৩৪৭৭৬৩০ নম্বরের রোগী। এ সময় মেহের আফরোজ শাওন বেমালোম চেপে গেছেন হুমায়ূন আহমেদের চেয়ার থেকে পড়ে যাবার কথা। এ সত্যটি ঢেকে রাখায় চিকিৎসকরা হুমায়ূণের আকস্মিক এ পরিস্থিতির সঠিক কারণ উপলব্ধিতে সক্ষম হননি এবং সে কারণে হতো তাকে সঠিক চিকিৎসাও প্রদান করা যায়নি-মন্তব্য নিউইয়র্কের বাংলাদেশী একজন চিকিৎসকের।

৬২ বছর বয়েসী হুমায়ূন আহমেদ ১৯ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাসায় নেশার আসর বসিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মদের সাথে গরুর মাংসও খেয়েছিলেন। অথচ তা ছিল একেবারেই নিষিদ্ধ। কিন্তু তার স্ত্রী কিংবা অন্যেরা তাকে বারন করেননি। ঐ আসরে অংশ নেয়া প্রবাসীদের একজন বলেন, এতবড় একটি অস্ত্রোপচারের ৮ দিনের মাথায় হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেই গরুর মাংস এবং মদ খাবার ব্যবস্থা যারা করেছেন তাদের মতলব নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। সম্ভবত: এ কারণেই মেহের আফরোজ শাওন চিকিৎসকদের কাছে সত্য গোপন করেছেন।

এ সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুকে কেউই স্বাভাবিক মনে করছেন না। এ নিয়ে প্রবাসে প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে। এ ক্ষোভের মধ্যেই নিউইয়র্ক হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকার গাজিপুর থেকে জানিয়েছেন চাঞ্চল্যকর আরেকটি তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, গাজিপুরে ৪০ বিঘা জমির ওপর প্রয়াত নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ গড়ে তুলেছিলেন নুহাশ পল্লী। এই সম্পত্তির মালিকানা পেতে চান হুমায়ূনের দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। হুমায়ূন আহমেদকে দাফন করার তিন দিন পরই তিনি নিজস্ব লোক মারফত গাজীপুর ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নেন কীভাবে এই সম্পত্তি তার নামে নামজারি করা যায়। গাজীপুরের হোতাপাড়া মৌজার পিরুজালিতে ২০ বিঘা জমি কিনে হুমায়ূন আহমেদ গড়ে তোলেন নন্দনকানন নুহাশ পল্লী। আরও ২০ বিঘা জমি লীজ নেন সরকারের কাছ থেকে। সরকারি খাস জমি নামমাত্র মূল্যে কেনা হয়। নিজের কেনা ও তার পাশের লীজ নেওয়া জমি নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের নুহাশ পল্লী। মৃত্যুর পর হুমায়ূন আহমেদের অন্য সব বিষয়সম্পদ, অর্থের মধ্যে এই জমিরও মালিকানা ভাগ হবে। দুই সংসারে তার সাত সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শাওন। মায়ের অংশীদারিও রয়েছে। সবার অগোচরে শাওন নুহাশ পল্লীর পুরো ৪০ বিঘা জমি তার নামে নামজারি করার প্রক্রিয়া করছেন। ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীকে হাত করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে চেষ্টা করছেন।

কিন্তু বাদ সেধেছেন হুমায়ূনের দুই ভাই ড. জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব। তারা বলছেন, বড় ভাইয়ের বিষয়সম্পদ যদি ভাগাভাগি করতেই হয়, ন্যায়সঙ্গতভাবে আইন অনুযায়ী করতে হবে। কারো ইচ্ছায় কেউ এককভাবে মালিকানা নিতে পারে না। গাজীপুর ভূমি অফিসে সশরীরের উপস্থিত হয়ে হুমায়ূনের ছোট ভাই আহসান হাবীব প্রবল আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। নুহাশ পল্লীর নামজারি শাওন বা কারো নামে না করার জন্য তিনি লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছেন। সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর, সিলযুক্ত অনুলিপিও নিয়ে এসেছেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে। সাব-রেজিস্ট্রার শাওনের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি এককভাবে কাউকে দেওয়া যাবে না। তার উত্তরাধিকার সবাইকে লাগবে। তাদের লিখিত সম্মতিতেই নামজারি করা যাবে। শাওন এতে হতাশ হয়েছেন। কয়েকজন কর্মচারীর মাধ্যমে তার প্রতিনিধি তার নামে নামজারির যে প্রক্রিয়া করছিলেন, তা ভেস্তে যেতে বসেছে। নুহাশ পল্লীতে এখন কর্মচারীরা ছাড়া কেউ থাকেন না।

শাওন থাকেন হুমায়ূনের ধানমন্ডির দখিনা হাওয়ায়। দখিনা হাওয়া হুমায়ূন আহমেদের কেনা ফ্ল্যাট নয়। এটি তার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের বাবার। বাবা পেয়েছেন তার পিতা প্রখ্যাত কথাশিল্পী প্রয়াত প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁর কাছ থেকে। দুই বিঘার বেশি জমির ওপর বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করা হয় এখানে। প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁ সপরিবারে গ্রামের বাড়ি ভুয়াপুর আর ঢাকায় এখানে থাকতেন। বাড়ির নাম ‘দখিন হাওয়া’। নামকরণ করেছিলেন ইবরাহিম খাঁ নিজেই। তার মৃত্যুর পর পুত্র, কন্যারা জমি ভাগ না করে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি করেন। শ্বশুরের পরিবারের পক্ষ থেকে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের সামগ্রিক দায়িত্ব দেওয়া হয় হুমায়ূন আহমেদকে। হুমায়ূন স্বাচ্ছন্দ্যে সে দায়িত্ব পালন করেন। দাদা শ্বশুর ইবরাহিম খাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে সবচেয়ে উন্নত, ১৬০০ বর্গফুট আয়তনের সবচেয়ে বড়, সুবিধাজনক ফ্ল্যাটটি দান করেন। গুলতেকিন ও সন্তানদের নিয়ে সেই ফ্ল্যাটেই থাকতেন হুমায়ূন। কিন্তু গুলতেতিকনের বাবার বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য হয়নি।

হুমায়ূন শাওনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগেই গুলতেকিন সন্তানদের নিয়ে তার স্বামীসঙ্গ ত্যাগ করেন। পিতার কাছে আশ্রয় নেন। উচ্চশিক্ষিতা গুলতেকিন স্কলাসটিকা স্কুলে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। পুত্র নুহাশ, নোভা, শীলা, বিপাশাকে নিয়ে আপন সংসার গড়ে তোলেন। ২৭ বছর হুমায়ূনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর গুলতেকিন হুমায়ুনকে ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। পরিবার থেকে বলাও হয়েছিল। পরমা সুন্দরী গুলতেকিনকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ইঞ্জিনিয়ার বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী গুলতেকিনকে তার মতো জীবনযাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিয়ের পর হুমায়ূনের সঙ্গে গুলতেকিনের সন্তানেরাও সশরীরে যোগাযোগ রাখতেন না। দাদি, চাচাদের সঙ্গেই ছিল তাদের সব রকম যোগাযোগ, সম্পর্ক। পারিবারিক বাঁধন ছিল দাদি আয়েশা ফয়েজকে ঘিরেই। পিতার মৃত্যুর পর তারা দাদির কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন। মা আয়েশা ফয়েজও নাতি-নাতনিদের নিয়েই পুত্রশোক ভোলার চেষ্টা করছেন। শাওনের সঙ্গে তারও সম্পর্ক ছিল না। পুত্র হুমায়ূনকে নুহাশ পল্লীতে সমাহিত করার বিপক্ষে ছিলেন তিনি। শাওনের বাড়াবাড়ির কারণে মৃত্যুর পরও পুত্রের লাশকে কষ্ট না দিতে তিনি এবং প্রথম ঘরের নাতি-নাতনিরা শাওনের দাবি মেনে নেন। তাদের আপত্তি ছিল প্রধানত: দূরত্বের কারণে। এত দূরে সব সময় গিয়ে তাদের এবং হুমায়ূন ভক্তদের কবর জেয়ারত করা সম্ভব নয়। কিন্তু শাওন এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণ, যত দূর জানা যায় বাণিজ্যিক। নন্দনকানন নুহাশ পল্লী আনন্দ-উল্লাস করার উপযোগী বিশালাকার বাগানবাড়ি। এখানে নাটক, চলচ্চিত্রের শুটিং হয়। প্রতিদিন ভাড়া দিয়ে পাওয়া যায় ৫০ হাজার টাকা। মাসের কমপক্ষে ১৫ দিন নুহাশ পল্লী ভাড়া হয়। মোটা অঙ্কের এই অর্থ এখন যাবে শাওনের হাতে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV