Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

আর্সেনিকের শিকার অর্ধেক বাংলাদেশ!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 22 বার

প্রকাশিত: September 15, 2012 | 6:57 PM

বন্ধ আছে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের মাত্রা পরীক্ষা। নতুন কোন উদ্যোগও নেই সরকারের। পরীক্ষা ছাড়া শহরে-গ্রামে-গঞ্জে টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। এমনকি সরকারি টিউবওয়েলেও পরীক্ষা হয় না। ফলে বাড়ছে আর্সেনিকের মাত্রা। বাড়ছে সংক্রমণ। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিচ্ছে প্রকোপ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে রীতিমতো দুর্যোগ আকার ধারণ করছে। হাওর ও চরাঞ্চলে আর্সেনিকের থাবা লাগছে বেশ জোরেশোরে। রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোর টিউবওয়েলেও আর্সেনিকের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি। দেখার কেউ নেই বলে অবহেলায় পড়ে থাকছে আক্রান্ত অঞ্চলগুলো। দেশের ৬১টি জেলায় আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ততা পাওয়া গেছে। ৬৫ শতাংশ মানুষই এখন আর্সেনিক ঝুঁকির মুখে। এর মধ্যে ২৬৪টি উপজেলার মানুষ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে আক্রান্তের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৪৬,২২৯ জন। এর মধ্যে ৭,৩৯৫ জনই ঢাকা ও তার আশপাশের। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩,০০০-এর সামান্য বেশি।  আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ল্যানসেট’ সাময়িকীর ২০১০-এর জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়, আর্সেনিক আক্রান্তের তালিকায় শিগগিরই বাংলাদেশের ৭ কোটি মানুষের নাম উঠে আসবে। এর আগে সাড়ে ৩ কোটি আক্রান্তের কথা বলা হতো। জরিপে বলা হয়, পানিতে আর্সেনিকের দূষণ বাংলাদেশে এতই ব্যাপক, তা আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যের জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির রসায়ন ও জীব-রসায়নের অধ্যাপক এবং ক্লিন সাসটেইনেবল্‌ ওয়াটার সেন্টারের পরিচালক ডক্টর আবুল হুসামের উদ্ধৃতি দিয়ে সাময়িকী দাবি করে, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীই আর্সেনিক সংক্রমণের আওতায় পড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গরিব মানুষই আর্সেনিকোসিস সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তবে বাংলাদেশের বিশেজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে দেশে আর্সেনিক নিয়ে দুর্যোগের কোন ভয় নেই। যদিও তারা বলছেন, দেশের আর্সেনিকের সন্ধান পাওয়ার দীর্ঘ ১৫ পরও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেকে জানে না- আর্সেনিক কি? তার মানে হলো, যা মাতামাতি হয়েছে তা যথেষ্ঠ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, এ মুহূর্তে সরকার আর্সেনিক বিষয়ে একটু নীরবই রয়েছে। তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দরকার ফুরিয়ে যায়নি। দেশের প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় সচেতনতার অভাব থাকলেও এ বিষয়ে বেশ সাফল্যও এসেছে। খুব কম মানুষই এখন দূষিত পানি খাচ্ছে। তিনি বলেন, আর্সেনিক নিয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা দেশের বাইরেও অনেক কাজ করেছেন। আমারও কয়েকটি গবেষণা আছে। সরকার চাইলে আমাদের অভিজ্ঞতা ও এগুলোকে কাজে লাগাতে পারে।
বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক সংক্রমণের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৬ সালে। এর কয়েক বছর পর স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়-এলজিইডির তত্ত্বাবধানে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের শুরু হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় এখনও কিছু কিছু জায়গায় মাঝে মধ্যে জরিপ চালানো হয়। তবে দেশের হাওর অঞ্চলের সাধারণ লোকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকের পরীক্ষা হচ্ছে না। সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কালাগুজা গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক স্বপন জানান, ৭-৮ বছর থেকে তাদের এলাকার টিউবওয়েলে আর্সেনিক পরীক্ষা হচ্ছে না। নতুন টিউবওয়েলে বসানো হলেও সেগুলোর পরীক্ষা হয় না। কিছুদিন আগে একই জেলার তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামে একটি টিবওলের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বেসরকারি সংস্থা ডাসকোর বসানো টিউবওয়েলে ৫০০ পাস্ট পার বিলিয়ন-পিপিবি মাত্রার আর্সেনিক ধরা পড়ে। অথচ পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ৫০ পিপিবি। সে সময় এনজিওকর্মী লিপিকা তালুকদার ও অনিতা সরকার  গোলাবাড়ী গ্রামে আর্সেনিকে আক্রান্ত ৩৭ জনের রোগীর সন্ধান পাওয়ার কথাও জানান। সামপ্রতিক সময়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ১১টি ইউনিয়নে ১৫,০০০ টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করে ৬,৫০০ টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় অর্ধশতাধিক আর্সেনিক রোগী ধরা পড়ে। ২০১১ সালে খুলনায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী ছিল ৫৫৪। ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩২ জনে। সেখানকার ৫৯,৮২১টি টিউবওয়েলের মধ্যে ২৫,৬৯৩টিতে আর্সেনিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাতেও আর্সেনিকের প্রকোপ ব্যাপক। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সীমান্ত এলাকার জেলাগুলোতে টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা পেয়েছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হওয়ার মতোই। সেখানে কোন উদ্যোগ নেই আর্সেনিক প্রতিরোধে। বর্তমানে ঢাকায় আর্সেনিকের প্রকোপ আশঙ্কাজনক।
কারণ, রাজধানীর আশাপাশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই টিউবওয়েলের পানির উপর নির্ভরশীল। আর এ নির্ভরশীলতা দিনদিন বড়ছে।
দেশের বেশির ভাগ এলাকার লোকজন আর্সেনিক পরীক্ষা হয়নি এমন টিউবওয়েলের পানি পান করছেন। দুর্গম এলাকায় এর হার বেশি। সেখানে আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের সংখ্যা অনেক। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এক সময় অতিমাত্রায় আর্সেনিক দূষণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে নলকূপ বা টিউবওয়েলগুলোর গায়ে রং লাগানোর কর্মসূচি শুরু হয়। আর্সেনিকযুক্ত ও আর্সেনিক মুক্ত বুঝাতে লাল ও সবুজ রঙের ব্যবহার করা হয়। লাল রঙের নলকূপ আর্সেনিক আক্রান্ত এবং সবুজটি ভাল। কিন্তু কিছুদিন এ কর্মসূচি চলার পর তাতে ভাটা পড়ে। বর্তমানে এ উদ্যোগের কোন তৎপরতা নেই। নতুন করে টিউবওয়েল বসলেও আর্সেনিকমুক্ত হচ্ছে কি না তা খুব একটা যাচাই হয় না। সরকারি টিউবওয়েলের বেলায় থাকে দায়সার ভাব। নিয়ম অনুযায়ী এলজিইডি আর্সেনিক আক্রান্ত নলকূপ চিহ্নিত করে তা নষ্ট করার কথা। এটি হচ্ছে না।
এদিকে মানুষের শরীরের পাশাপাশি খাদ্যশস্যেও আর্সেনিক মিলছে। ২০০৮ সালের মাঝামাঝিতে দেশে উৎপাদিত খাদ্যশস্যেও আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ ৪৩টি জেলার মানুষ বোরো ধানের চালের ভাত খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। সে অঞ্চলে বোরো চাষে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেশি। তাই ওই অঞ্চলের ফসলের মাধ্যমে আর্সেনিকের বিষক্রিয় স্বাভাবিকভাবে মানুষের দেহে ঢুকছে। অবশ্য এখনও তা সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ৫০ পিপিবির নিচে। বিশেষজ্ঞরা খাদ্যশস্যের আর্সেনিকের পরিমাণ ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন। যদিও ফসলচাষে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার অব্যাহত বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে শস্যে আর্সেনিকের মাত্রা বাড়তে পারে; এমন আশঙ্কার কথাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্সেনিক হওয়ার মানেই মৃত্যু নয়। তবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য আশঙ্কার বিষয়। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় প্রতিরোধ। বিশুদ্ধ পানি পান করলে রক্ষা পাওয়া যায়। আর আক্রান্ত রোগীরা সেবা নিলে অবশ্যই সুস্থ থাকবেন। বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও চর্মরোগ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ডা. এ এস এম জাকারিয়া বলেন, আক্রান্তদের মাঝে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন তৈরি হয়। যাদের হয়ে গেছে তাদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হবে। ভাল থাকার জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। শাক-সবজি এবং খাবারগুলো ভিটামিন জাতীয় কি না সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, দেশে আর্সেনিকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সরকার বেশ ভালভাবেই করছে Iমানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV