কেট মিডলটনের ছবি প্রিন্সেস ডায়ানার পরিণতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে

ডেস্ক: সাধারণ ঘরের মেয়ে থেকে ডাচেচ অব ক্যামব্রিজে (বৃটিশ রাজবধূর উপাধি) পরিণত হয়েছেন কেট মিডলটন। প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তার বিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেলিব্রেটি বিয়ে অনুষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। এর আগে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না কেট। বিয়ের পর রাতারাতি তারকায় পরিণত হয়েছেন এই বৃটিশ সুন্দরী। তারপরই তার পিছু নিয়েছে পাপারাজ্জিরা। জখমি স্থানে মাছি বসার মতো প্রতি পদক্ষেপে লেগে আছে তার পেছনে। যেভাবে তার টপলেস ফটো নিয়ে ফরাসি ম্যাগাজিন ক্লোজারে প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে প্রশ্ন উঠেছে সেলিব্রেটি হলে কি কারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলে কিছু থাকবে না। এই ঘটনার পর রাজকীয় পরিবার ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছে মিডিয়া’। তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এই ঘটনা দ্বিগুণ বেদনাদায়ক। কারণ, কেটেরই শাশুড়ি প্রিন্সেস ডায়ানার করুণ ট্রাজেডির সঙ্গে যে মিলে যাচ্ছে তার হিসাব নিকাশ। ডায়ানার সঙ্গেও এমনই সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল মিডিয়ার। যার ফলশ্রুতিতে পাপারাজ্জিরা ছবি তুলতে ধাওয়া করলে নির্মম গাড়ি দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান প্রিন্সেস ডায়ানা। সেন্ট জেমস প্রাসাদ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, কেটের ঘটনা প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানার জীবদ্দশায় মিডিয়া ও পাপারাজ্জিদের নিকৃষ্টতম বাড়াবাড়ির ঘটনাকে স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে। ডিউক ও ডাচেচ অব ক্যামব্রিজের বেলায়ও একই বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিবৃতিতে কেটের ছবি প্রকাশ করাকে অন্যায্য, অদভুত ও কিমভূতকিমাকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উইলিয়াম ও কেট ফ্রান্সে বৃটিশ রানির ভাতিজা লর্ড লাইনলির একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে সূর্যস্নান করার সময় ফটোগুলো তোলা হয়। এখন অনেকে প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে কেট মিডলটনের ফ্যাশনকে তুলনা করছেন। ১৯৮১ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে জড়িত হওয়ার আগে একজন লাজুক কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষিকা ছিলেন। কিন্তু প্রিন্সের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে রাতারাতি প্রাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছিলেন তিনি। মিডিয়াগুলো ও পাপারাজ্জিরা পিছু নেয় চার্লস-ডায়ানা দম্পতির। তখন ডায়ানা বলেছিলেন, প্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারাটা রাজ পরিবারের অংশ হওয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৯৫ সালে বিবিসিকে ডায়ানা বলেছিলেন, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়টি হচ্ছে মিডিয়ার মনোভাব। আমরা (চার্লস-ডায়ানা) স্বামী-স্ত্রী প্রেমে পড়ার পর মিডিয়াকে বিষয়টি বলেছিলাম যেন তারা শান্ত থাকে। কিন্তু সেটা তারা থাকেনি। তারা (মিডিয়াম্যান) বলেছিল বিয়ের পরে এসব মাতামাতি শীতল হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। রবং আমার ওপর ফোকাস আরও বেড়ে গেল। বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়ালো যে প্রতিদিন মিডিয়াগুলো আমাকে সামনের পাতায় জায়গা দিতে লাগলো। যেটা ছিল আমার জন্য বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা। আর মিডিয়া যত ওপরে তুলবে, জায়গা দেবে, ততই ধপাস করে পড়তে হবে। এভাবে বার বার মিডিয়া ও পাপারাজ্জিদের তাড়ার শিকার হয়ে এক সময় মিডিয়াকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন ডায়ানা। মিডিয়াও তাকে ‘আনস্টেবল’সহ ভিবিন্ন উপাধি দেয়। অবশেষে পাপারাজ্জিদের পিছু ধাওয়া থেকে বাঁচতেই তাড়াহুড়ো করে গাড়ি চারানোর সময় ফ্রান্সে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ১৯৯৭ সালে মারা যান প্রিন্সেস ডায়ানা। ইয়াহু ব্লগে বলা হয়, যেভাবে কেট মিডলটনের পিছু নিয়েছে ও তার ছবি ছেপেছে মিডিয়া। তিনিও মামলা করেছেন ক্লোজার নামক ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে। ম্যাগাজিনটির প্রধান সম্পাদক লরেন্স পিয়েয়ু বলেছেন, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরা একটি তরুণ প্রেমিক জুটিকে দেখাতে চেয়েছি। এতে যেমন বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। অনেকটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে লরেন্স বলেছেন, তাদের কাছে আরও কুশ্রী ছবিও রয়েছে কেটের। ফলে তার শাশুড়ি লক্ষ হৃদয়ের স্বপ্নের রানির ডায়ানার স্মৃতিই আবারও বাতাসে ভেসে আসছে।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests