‘সাইবার পার্ল হারবার’ হামলার আশু হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র -মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ডেস্ক: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেয়ন প্যানেট্টা বলেছেন, ভয়াবহ পার্ল হারবারে হামলার ন্যায় ‘সাইবার পার্ল হারবার’ হামলার আশু হুমকির মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, এ হামলার ফলে মারাত্মক ভৌত অবকাঠামো ধ্বংস এবং প্রাণহানির পাশাপাশি গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দেবে। এ হামলা ভয়াবহতা সম্পর্কে নতুন ধারণার সৃষ্টি করবে। সাইবার স্পেস নিয়ে নীতিনির্ধারণী এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাশিয়া এবং চীনের সাইবার ক্ষমতাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানও একইভাবে সাইবার স্পেসকে ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। এর পাশাপাশি অরাষ্ট্রীয় অনেক বিষয়ও সম্পৃক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্যানেট্টা বলেন, এসব সাইবার হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিউ ইয়র্কে ইন্টারপিড সি, এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে বৃহস্পতিবার দেয়া বক্তব্যে প্যানেট্টা বলেন, কোন আগ্রাসী রাষ্ট্র বা উগ্রপন্থী সংগঠন স্পর্শকাতর কোন সুইচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভয়াবহ রাসায়নিক অস্ত্রবাহী ট্রেন বা যাত্রীবাহী ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, তারা বড় কোন শহরের পানি সরবরাহ বিষাক্ত করতে পারে বা দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। প্যানেট্টা বলেন, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার ও সাইবার হামলার মাধ্যমে উগ্রপন্থীরা একই সঙ্গে আমাদের স্পর্শকাতর স্থাপনাতে হামলা চালিয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। হামলাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিস্টেম এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অকার্যকর করার প্রচেষ্টাও চালাতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্যানেট্টা বলেন, এ ধরনের হামলার সমন্বিত ফলাফল হতে পারে ‘সাইবার পার্ল হারবার’। এ হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটিয়ে সমগ্র জাতিকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে প্যানেট্টা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য বেশ কয়েকটি দেশে সাইবার হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার কারণে সাইবার হামলার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের হামলার ভয়াবহতা আরও ব্যাপক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিদেশী সাইবার হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নেটওয়ার্কে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা আমাদের পরমাণু, বিদ্যুৎ, পানি শোধন কেন্দ্র এবং সারা দেশের যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাকারী কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিস্টেমে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে শত্রুদের অনুপ্রবেশের সফলতার কথাও জানি। তিনি বলেন, আমরা আরও জানি যে, তারা এমন কিছু আধুনিক সরঞ্জাম তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে এসব সিস্টেমে হামলা করে ত্রাস, ধ্বংস বা প্রাণহানি ঘটাতে পারে। প্যানেট্টা বলেন, এ ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন অস্ত্র তৈরি করছে। এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে নতুন নীতি প্রণয়ন এবং সংস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে। তিনি বলেন, সাইবার শক্তিতে রাশিয়া এবং চীন এগিয়ে আছে এটা এখন আর কোন গোপন বিষয় নয়। ইরানও এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তাই অন্য দেশের তুলনায় এগিয়ে থাকার লক্ষ্যে আমরা সবচেয়ে মেধাবী এবং উত্তমদের নিয়োগ দিয়ে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests