মার্কিন নির্বাচন : বর্ণে বর্ণে বিভাজিত ভোটার!
আলী রীয়াজ : যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণ-বিভাজিত নির্বাচনে পরিণত হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত মাসগুলোতে, বিশেষ করে চলতি মাসে যেসব জনমত জরিপ হয়েছে তার সূত্রে পাওয়া তথ্যে এ রকম আশঙ্কাই অনেকের মনে বাসা বেঁধেছে। জর্জ বুশের আমলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা কলিন পাওয়েল গত সপ্তাহে যখন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বারাক ওবামাকে সমর্থন করলেন, তখন রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনির সমর্থক জন সুনুনু কোনো রকম রাখঢাক না করেই বললেন, তিনি মনে করেন যে ওবামাকে সমর্থন করছেন পাওয়েল, কেননা তাঁরা দুজনই কৃষ্ণাঙ্গ। পাওয়েল ২০০৮ সালেও ওবামাকে সমর্থন করেছিলেন। সুনুনু যেনতেন লোক তো নন যে এ কথা মনে করা যাবে যে এ ধরনের কথার প্রতি রমনি শিবিরের কোনো রকম সমর্থন নেই। জন সুনুনু একসময় নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ছিলেন; ৪১তম প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ক্ষমতায় থাকাকালে সুনুনু দুই বছর হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। তা ছাড়া তিনি এখন মিট রমনির হয়ে বেশ প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু সেটাই নির্বাচনে বর্ণ বা রেসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কারণ নয়। কারণ হলো জনমত জরিপে পাওয়া তথ্য। এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ সমর্থন করেন মিট রমনিকে। নির্বাচনে দেওয়া ভোট যদি ঠিক এভাবেই হয় তবে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে তাঁর সমর্থন হবে ঐতিহাসিক, কারও কারও মতে ১৯৮৪ সালে রোনাল্ড রিগানের পর কোনো প্রার্থীই এত ব্যাপকভাবে শ্বেতাঙ্গদের সমর্থন পাননি। দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে পলিটিকো নামের একটি সংস্থা ও জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির করা জরিপে দেখা যায় যে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং রমনির সমর্থনের পার্থক্য ১৮ পয়েন্ট—রমনি ৫৭, ওবামা ২৯। গ্যালোপের জরিপে বলা হচ্ছে, এই পার্থক্য ২০ পয়েন্টের। ২৬ অক্টোবর ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এবিসি টেলিভিশন চ্যানেলের জরিপে ২১ পয়েন্টের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সহজ ভাষায় বললে, প্রেসিডেন্টের সমর্থন শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে কম। শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ইদানীং যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছিলেন তিনি হলেন মাইকেল ডুকাকিস, ১৯৮৮ সালে তাঁর পাওয়া ভোটের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটন ৩৯ শতাংশ ভোট পেলেও তার কারণ ছিল ভিন্ন; সে সময় প্রার্থী ছিলেন তিনজন: জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, রস পেরো ও বিল ক্লিনটন। ২০০৮ সালে ওবামা ও রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ ভোটের পার্থক্য ছিল মাত্র ১২ পয়েন্ট। শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে সংখ্যালঘুদের এই বিভাজন নতুন না হলেও এটি উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে গত চার বছরে বর্ণগত বিরূপ মনোভাব বা রেসিয়াল প্রেজুডিস বেড়েছে এবং নির্বাচনে একজন প্রার্থী হচ্ছেন অশ্বেতাঙ্গ। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে দেশের ৫১ শতাংশ এখন কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ২০০৮ সালে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ। কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির পরোক্ষ প্রশ্নের উত্তরের বিবেচনায় এই বিরূপ মনোভাব রয়েছে ৪৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তা ছিল ৪৯ শতাংশ। এই গবেষণা করেছে তিনটি খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়: স্ট্যানফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো। ওবামার প্রতি শ্বেতাঙ্গদের এই সমর্থনের হার থেকে কোনো কোনো বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, শেষ পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গদের সমর্থনের অভাবই তাঁর জন্য কাল হবে কি না। কিন্তু এই তথ্যের অপর পিঠ হলো, দেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে মিট রমনির সমর্থন অত্যন্ত কম। কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর সমর্থন ২০ শতাংশের মতো। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে তাঁর সমর্থন মাত্র ৪ শতাংশ। হিস্পানিকদের মধ্যে ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে নির্বাচনে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সংখ্যা কমছে। ১৯৮০ সালে রিগান যে নির্বাচনে বিজয়ী হন তাতে শ্বেতাঙ্গ ভোটার ছিলেন মোট ভোটারের ৮৯ শতাংশ। ১৯৯২ সালে ছিল ৮৭ শতাংশ, ২০০১ সালে ৮১ শতাংশ। সর্বশেষ নির্বাচনে ভোটারদের ৭৪ শতাংশ ছিল শ্বেতাঙ্গ। জাতীয় পর্যায়ের এই চিত্রের পাশাপাশি রাজ্যগুলোর দিকে তাকানো যেতে পারে। ওহাইওতে গত নির্বাচনে ওবামা শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তখন তিনি জেতেন ৫ শতাংশ ভোটে। এবার তাঁকে হারাতে হলে রমনিকে নিশ্চিত করতে হবে যে ওবামার ভোটের পরিমাণ যেন ৪০ শতাংশের কম থাকে। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি যেসব রাজ্যে জোর লড়াই হবে সেখানে একদিকে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা বাড়ছে। যেমন নেভাডা রাজ্যে বেড়েছে ৯ শতাংশ, নর্থ ক্যারোলাইনাতে ৪ শতাংশ, ফ্লোরিডাতে ৪ শতাংশ এবং কলোরাডোতে ৩ শতাংশ। সাধারণভাবে বলা যায় যে এই পরিবর্তন থেকে ওবামা লাভবান হবেন। সেটা তাঁকে বিজয়ী করবে কি না, সেটা আমরা নির্বাচনের পর বুঝতে পারব। আশা করা যায়, নির্বাচনের পর আমাদের এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে না। কিন্তু জনমত জরিপের ধারা ভোট প্রদানে অব্যাহত থাকলে এবং এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বর্ণ-বিভাজিত নির্বাচনে পরিণত হলে তার প্রভাব যে রাজনীতিতেও পড়বে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।প্রথম আলো, আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের