এইচআইভি প্রতিরোধে সহায়ক গাভীর দুধ!

গাভীর দুধ পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উত্স—এটা সবার জানা। কিন্তু এই দুধের আরেক উপকারিতার কথা এবার বেরিয়ে এসেছে গবেষণায়। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা বলছেন, এইচআইভি ভাইরাস প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে গাভীর দুধ। এইচআইভি/এইডস নিয়ে মানুষের চিন্তার অন্ত নেই। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এইচআইভি সংক্রমণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইপিএস। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার কম থাকলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এটি ধীরে ধীরে চুপিসারে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আশার কথা হচ্ছে, এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার কমাতে বিজ্ঞানীদের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে গবেষণা চলছে। আসছে সফলতাও। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, অ্যান্টিবডি উত্পাদনে গাভীর দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সহায়ক হবে। অ্যান্টিবডি হচ্ছে রক্তে উত্পন্ন পদার্থবিশেষ, যা ক্ষতিকর জীবাণু ইত্যাদিকে প্রতিরোধ বা ধ্বংস করে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একপাল গর্ভবতী গাভীর ওপর তাদের গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তারা গাভীর ‘শালদুধ’ পরীক্ষা করেছেন। স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং নারীর গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে এই দুধ উত্পন্ন হয়। গবেষক দলের প্রধান এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডামিয়ান পার্সেল এ বিষয়ে বলেন, শালদুধে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা গর্ভবতী গাভীর রয়েছে। তবে শালদুধের পর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে যে দুধ গাভী উত্পন্ন করে, তাতে অ্যান্টিবডির মাত্রা কম থাকে। পার্সেল বলেন, বাছুর যদি জন্মের পরপরই এই শালদুধ না পায়, তাহলে সেটি সংক্রমণের ঝুঁঁকিতে থাকে এবং সাধারণত মারা যায়। সমস্যা হচ্ছে, এইচআইভি ভাইরাসের বিভিন্ন গোত্র রয়েছে। পার্সেলের কথায়, প্রত্যেকটি গোত্রের এইচআইভি ভাইরাসের এত জিনগত রূপান্তর আছে, যা এ পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, খুব কম মানুষের দেহই এসব গোত্র শনাক্ত এবং প্রতিরোধে সক্ষম অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। তবে গাভী এটি করতে পারে। বিজ্ঞানীদের ভাষ্য হচ্ছে, গাভীর দেহে এইচআইভি সংক্রমণ সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা তাই গাভীর শালদুধ ব্যবহার করে এইচআইভি প্রতিরোধক তৈরি করতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইমিউরনের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আপাতত বিজ্ঞানীদের যে আবিষ্কার, তা দিয়ে ক্রিম বা জেল তৈরির দিকেই মনোযোগী হচ্ছেন তারা। এই ক্রিম ব্যবহারের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ আরও সহজ হবে। এছাড়া গর্ভনিরোধক রিংয়েও এটি যোগ করা যেতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে এইচআইভি প্রতিরোধক প্রোটিন মানবদেহে সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। গাভীর শালদুধ ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরিতে খরচও হবে কম। পার্সেলের দলের এক সদস্য মারিট ক্রামস্কি এ বিষয়ে বলেন, গাভীর শালদুধে থাকা অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে সত্যিকার অর্থেই খুব কম খরচে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিরোধক তৈরি সম্ভব। আমরা আশা করছি, সবশেষে আমরা এমন একটি পণ্য তৈরিতে সক্ষম হবো যেটি দামে সস্তা হবে। প্রসঙ্গত, গোটা বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ মিলিয়ন। গরুর দুধ গবেষণার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে এটি হবে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
- জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
- নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
- নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK