বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন। চোখে মায়ার কাজল মেখে দুরু দুরু বুকে ভালোবাসা প্রকাশের মধুর দিন আজ। রৌদ্রকরোজ্জ্বল শুভ্র সকাল, রূপালী দুপুর, আর মায়াবী রাত- আজকের পুরো সময়টা কেবলই ভালোবাসার ক্ষণ। করতালে সুর তুলে আজ ভালোবাসার গান গাইবার দিন। ‘ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানী’, অথবা ‘আমি ভালোবাসি যারে, সে কী কভু আমা হতে দূরে যেতে পারে…’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘তোমরা যে বল দিবস-রজনী, ভালোবাসা ভালোবাসা সখী ভালোবাসা কারে কয়, সে তো কেবলই যাতনা নয়’। এভাবে নানাভাবে ভালোবাসার বর্ণনা দেয়া হলেও মূলত ভালোবাসার সর্বজনীন কোনো সংজ্ঞা আজও নির্দিষ্ট হয়নি। তবে পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা। এ প্রত্যয়টি নিয়ে পৃথিবীতে যত গল্প, কবিতা, গান, উপন্যাস রচিত হয়েছে, আর কোনো সম্পর্ক নিয়ে তা হয়নি। ভালোবাসার জন্য কেউ সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছে, কেউ জীবন দিয়েছে। সেই ভালোবাসাকে চিরঞ্জীব করে রাখতে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ বা ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। মুহুর্মুহু বেজে উঠবে মোবাইল ফোন। বিনিময় হবে ভালোবাসার বার্তা। হাতে রেখে হাত যুগলবন্দি নারী-পুরুষ ভালোবাসার জানান দেবে নিজের মতো করে, একাকার হয়ে। তবে ভালোবাসা দিবসটি কেবল প্রিয়তম-তমার জন্য নয়। এই দিবসের তাত্পর্য বিশাল ও সর্বজনীন। সন্তানের প্রতি পিতামাতার অপত্য স্নেহ এবং পিতামতার প্রতি সন্তানের আন্তরিক সংবেদন সব মিলিয়েই ভালোবাসার এই দিন। আদরের ছেলেমেয়ের জন্য বাবা-মার থাকবে অসীম মঙ্গল প্রার্থনা। ছেলেমেয়েও শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত করবে বাবা-মাকে। ইতিহাস মতে, তৃতীয় শতকে রোমের যাজক ছিলেন দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস। সে সময় তার ঘোষণা অমান্য করে প্রথম ভ্যালেন্টাইন গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। ২৭০ খ্রিস্টাব্দে বিশপ ভ্যালেন্টাইন ভালোবাসার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন। তৃতীয় ভ্যালেন্টাইন উত্তর আফ্রিকার একটি রোমান সাম্রাজ্য আত্মোত্সর্গ করেন। ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে এই তিন ভ্যালেন্টাইন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার জন্য আত্মাহুতি দেন। সেসব ইতিহাসের পথ ধরে ৪৯৮ সালে প্রথম জেলসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের ঘোষণা দেন। দিবসটি সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা পায় প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতিবছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উত্সব। রোমান পুরাণে বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এদিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ সালের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে, তখন ‘জুনো’ উত্সব আর সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটি একসুতোয় গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ হিসেবে উদযাপন করা শুরু হয়।আমার দেশ/
দেশে দেশে ভ্যালেন্টাইন ডে
আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আজ ভালবাসাময় বিশ্ব। আজ প্রতিটি মানুষ তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে, স্বামী তার স্ত্রীকে, সন্তান তার পিতামাতাকে, পিতামাতা তার সন্তানকে, ছাত্র তার শিক্ষককে, বন্ধু বন্ধুকে, এক মানুষ আরেক মানুষে ভালবাসা বিলাবে আজ। এ উপলক্ষে বিশ্বের দেশে দেশে নেয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী সব আয়োজন। আবার কোন কোন দেশে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। ভারতে শিবসেনা এই ভালবাসা দিবস উদযাপনের বিরোধী। পাকিস্তানে ভালবাসা দিবসকে অনৈসলামিক আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। তবে ভারতে শিবসেনা ভালবাসা দিবসের বিরোধী হলেও এদিনেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন বরিভিলির অভিষেক ঘোষালকার। এ দিনটিকে তার পিতা শুভ মনে করেন না। কিন্তু তা মানতে নারাজ অভিষেক। তিনি এতদিন যে তেজাসবি দারেকারকে মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়েছেন তাকে আজ একান্তে কাছে টেনে নেবেন। স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নেবেন। গতকাল ভারতের একটি অনলাইন ট্যাবলয়েড দৈনিক এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিষেক একজন করপোরেট ব্যবসায়ী। তিনি শিবসেনার এমপি বিনোদ ঘোষালকারের ছেলে। অভিষেক বলেছেন, আমি আজই বিয়ে করতে যাচ্ছি। ওদিকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে মঙ্গলবার ভ্যালেন্টাইস দিবসের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ হয়েছে তার আয়োজক সেখানকার ধর্মভিত্তিক প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী। তাতে যোগ দিয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। তবে এর উল্টো চিত্রও আছে। পাকিস্তানের যুব সমাজ ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করছেন ঘটা করে। তাদের কাছে এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। তারা একে অন্যকে ভ্যালেন্টান কার্ড, চকোলেট, বিভিন্ন উপহার তুলে দিচ্ছেন। ওদিকে অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৬০ ভাগের মতো মানুষ এ দিবসটি পালন করছেন। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন পূর্বাভাস দিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে প্রতিজন মার্কিনি গড়ে ১৩০ দশমিক ৯৭ ডলার খরচ করবেন। সব মিলিয়ে এখাতে খরচ হতে পারে ১৮৬০ কোটি ডলার। এ দিনটি পালন করার বিরোধী অনেক মার্কিনিও। তাদের একজন ক্যাথি ম্যাকব্রিন। তিনি মিলিয়নিয়ার কর্নার নামের ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, আমি মনে করি বর্তমানে ভ্যালেন্টাইনস ডে তার মূল আদর্শ থেকে বাণিজ্যিক রূপ পেয়েছে বেশি। আমরা যে জনপ্রিয়তার কথা শুনি সেটা আসলে হলমার্ক হলিডে। তার ওয়েবসাইটের জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহিত দম্পতিদের শতকরা ১৬ ভাগই এ দিবসটি পালন করেন না। ভ্যালেন্টাইন ডে আসলে এখন থেকে কয়েক শত বছর আগে শুরু হয়েছিল। তার শিক্ষা এখনও আমাদের মধ্যে আছে বলে বিশ্বাস করেন ফ্লোরিডার লংউড কাউন্টির শেরিল কুরল্যান্ড। তিনি বলেন, যখন আপনি প্রেমে পড়েছেন বা বিয়ে করেছেন তখন আপনার প্রতিটি দিন হওয়া উচিত ভ্যালেন্টাইন ডে। তবে বিশ্বের দেশে দেশে এ দিনটিকে পালন করা হয় নানা আনুষ্ঠানিকতায়। যুক্তরাজ্যের নরফোকে এ দিন ‘জ্যাক’ রূপ ধরে এক ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে। শিশুদের উপহার দেয়। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে এ দিনটি ‘ডায়া দেল আমোর ই লা আমিস্তাদ’ নামে পরিচিত।
ভ্যালেন্টাইন ডে’তে একটু অন্যরকম ভালবাসা
ডেস্ক: আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আর এ ভালবাসা যে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য বরাদ্দ তা তো নয়। এটা সার্বজনীন। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার জন্যই আজকের এ বিশেষ দিন। এ দিবসটির বার্তা মূলত সারা বিশ্বে ভালবাসা, শান্তি ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ বিশেষ এ দিনটিতে তাদের পোষা প্রাণীটিকেও ভালবাসায় সিক্ত করতে চান। পোষা বিড়াল কিংবা কুকুরটির জন্য তারা নানা আয়োজন করেছেন। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন মার্কিনি তার পোষা প্রাণীটির জন্য গিফট বা খাবার কিনবেন। আর এ দিনে পোষা প্রাণীদের জন্য সম্মিলিত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আরেকটি জরিপ চালিয়েছে অ্যামেরিকান পেট প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন। তাতে দেখা গেছে, শুধু পোষা বিড়াল বা কুকুর নয়, অ্যাকুরিয়ামের মাছ, পাখি, ঘোড়া ও ছোটখাট অনেক প্রাণীই তাদের মানব বন্ধুটির কাছ থেকে নানা ধরনের খাবার ও উপহারসামগ্রী পাবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউএসএ টুডে। অনেকের কাছে এটা একটু অদ্ভুত ঠেকতে পারে। কিন্তু ঘটছে আদতে সেটাই। এর কারণ তো আছেই। কম্পিউটারের এ যুগে প্রায় সবই যেন ভার্চুয়াল। এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে ভালবাসার আদান-প্রদানটাও অনেক সময় সীমাবদ্ধ থাকছে কম্পিউটার স্ক্রিনের মধ্যেই। কিন্তু পোষা প্রাণীটি সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবেই সুখে-দুখে মনিবের সঙ্গেই কাটায়। তাই তাদেরও তো ভালবাসা প্রাপ্র্য। তারা তো আর ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা নয়। যুক্তিটা সেরকমই।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
- জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
- নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
- নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK