আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট তদন্তে ৯ খলনায়ক
ইশতিয়াক পারভেজ: অবশেষে প্রকাশ করা হলো আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট আকসু’র তদন্ত রিপোর্ট। তবে রিপোর্টে ৯ জনের নাম থাকার পরও শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানানো হয় আকসু’র পক্ষ থেকে। তবে ৯ জনের মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। তবে এই ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত সবাই ক্রিকেটার নন বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়, ওই ৭ জন হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক, বর্তমান ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল, মাহবুবুল আলম রবিন, মোহাম্মদ মিঠুন এবং ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স-এর কর্ণধার সেলিম চৌধুরী ও তার ছেলে শিহাব চৌধুরী। অন্যদিকে বিপিএল-এ ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করে নেয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের শাস্তির বিষয়ে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়। এছাড়াও আকসু’র এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে গঠন করা হবে বিসিবি’র তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। আর বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের অ্যান্টিকরাপশন কোড অনুযায়ী তারাই বিচার কাজ পরিচালনা করবেন। গতকাল হোটেল রেডিসনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট এডহক কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তার পাশে উপস্থিত ছিলেন। তবে এখন বিপিএল-এ ফিক্সিংয়ে জড়িতদের শাস্তির দায়িত্ব ভার পুরোটাই বিসিবি’র ট্রাইব্যুনালের ওপর নির্ভর করবে।
এই রিপোর্ট নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে আতঙ্ক আর অশুভ কিছুর আশঙ্কা এখনও কাটেনি। গতকাল সকাল থেকেই হোটেল রেডিসনে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন সংবাদকর্মীরা। এছাড়াও সারা দেশের চোখ আটকে ছিল হোটেল রেডিসনের দিকে। সংবাদ সম্মেলনে রিচার্ডসন বলেন, ‘বিসিবি’র দুর্নীতি বিরোধী কোড অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত এই ৯ জনের নাম প্রকাশ করা হবে না। আর বিসিবি’র ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আওতায় এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।’
এই অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে, বিপিএল-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এর দলে ম্যাচ পাতানোর ষড়যন্ত্র, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করা এবং ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ সম্পর্কে না জানানো। অভিযোগগুলো এরই মধ্যেই অভিযুক্তদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে রিচার্ডসন জানান। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরপরাধ দেখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রিচার্ডসন আরও বলেন, ‘নয় জনের মধ্যে সাত জনের বিরুদ্ধে ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের ওপর বিসিবি’র নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী ৫ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ম্যাচ ফিক্সিংয়ে প্রস্তাব পাওয়া বা জানা সত্ত্বেও তারা নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে জানাননি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা ২ থেকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।’ তবে আকসু’র এই তদন্ত রিপোর্ট শুধু বিপিএল-এর ম্যাচ নিয়েই দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এই বিষয়ে রিচার্ডসন বলেন, ‘আমরা এখানে শুধু বিপিএল-এর ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে কাজ করেছি। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিক্সিং নিয়ে যে কথা হয়েছে সেই বিষয়ে আরও তদন্তের পরই জানানো হবে।’ অভিযুক্ত ৯ জনকে গতকাল সকালে চিঠি দিয়েছে আকসু ও বিসিবি। তাদেরকে ১৪ দিনের সময় দেয়া হয়েছে, এই ১৪ দিনের মধ্যে তারা যদি নিজের দোষ স্বীকার করে না নেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেবে ট্রাইব্যুনাল।
কারা এই ৯ জন
‘আমরা শুনেছি চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এখনও তা আমরা পাইনি। যেহেতু আমাদের বাবা-আর পূত্রকে এর আগে আকসু ডেকেছিল তাই বলতে পারি যদি চিঠি দিয়ে থাকে হয়তো আমাদের দু’জনকেও দিয়েছে। কিন্তু এমন কোন চিঠি আমরা পাইনি।’ -অভিযুক্ত হিসেবে আকসুর চিঠি পাওয়া নিয়ে এমন মন্তব্য করেন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক সেলিম চৌধুরী। বিপিএল ফিক্সিংয়ে জড়িত ৯ জন! এর মধ্যে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ ৭ জনের বিরুদ্ধে। তবে এই ৯ জন অভিযুক্তের সবাই ক্রিকেটার নন। গতকাল আকসুর রিপোর্টে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন এমনটাই উল্লেখ করেন। তবে এ রিপোর্টে আকসু বা বিসিবি কারও নাম এখনও প্রকাশ করেনি। আর সেই থেকে এখন বড় প্রশ্ন এই ৯ জন ব্যক্তি কে? এর মধ্যে নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়া আশরাফুল ছাড়া আর কার কার নাম আছে?
গুঞ্জন রয়েছে, আশরাফুল ছাড়াও ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক সেলিম চৌধুরী, তার ছেলে শিহাব চৌধুরী, ঢাকার কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের সাবেক তারকা স্পিনার মোহাম্মদ রফিক, পেস বোলার মাহবুবুল আলম রবিন, স্পিনার মোশারাফ হোসেন রুরেল। এছাড়াও উঠে এসেছে ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুনের নামও। তবে এ বিষয়ে কোনভাবেই মুখ খুলতে রাজি হননি মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাকে অন্য কোন নাম বলেনি আকসু তাই বলতে পারছি না।’ তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ৯ জনের মধ্যে প্রায় ৭-৮ জনই ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের। গ্লাডিয়েটর্সের মালিক সেলিম চৌধুরী বলেছেন, ‘যে পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ না হচ্ছে সে পর্যন্ত কারও নাম বলা ঠিক না। এখানে আশরাফুল ছাড়া অন্য কোন ক্রিকেটার বা কর্মকর্তা যেহেতু স্বীকার করেননি তাহলে কাউকে দোষী বলা ঠিক না। এখন বিচার হবে, সেখানেই দেখা যাবে কে দোষী আর কে দোষী নয়।’ অন্যদিকে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি আইসিসি ও আকসু বিসিবির উপর এ তদন্ত চাপিয়ে দিয়েছে। আমি বলতে চাই- এটা একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।’ তবে গুঞ্জনে আসা নামগুলোর মধ্যে আশরাফুল, সেলিম চৌধুরী ও মিঠুন ছাড়া কাউকেই মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি। আর বরাবরের মতোই আশরাফুল ছাড়া এ অভিযোগ সবাই অস্বীকার করেছেন।
যেভাবে শুরু আকসু’র
বিপিএল তদন্ত
এ বছর বিপিএল’র দ্বিতীয় আসর শুরু হয় ১৮ই জানুয়ারি। তবে প্রথম আসরে ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন থাকায় বিপিএল-এর দ্বিতীয় আসরকে বাজিকরদের কালো থাবা থেকে বাঁচাতে আকসুকে তলব করে বিসিবি। তবে আকসু এবারের ফাইনালের পরদিনই কয়েকটি ম্যাচ এবং ক্রিকেটারসহ কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। বিশেষ করে ২রা ফ্রেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও চিটাগং কিংস-এর ম্যাচ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও বরিশাল বার্নার্সের ম্যাচ নিয়ে সন্দেহ দেখায় আকসু। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় অধিকতর তদন্তের জন্য আকসু’র সঙ্গে চুক্তি করে বিসিবি। আকসু তদন্ত শুরু করলে এই বছর ২৩শে মে আকসু বাংলাদেশে এসে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন। তখনই আশরাফুল আকসু’র কাছে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে গুঞ্জন ওঠে। ২৪শে মে তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এরপর ৩০শে মে সংবাদপত্রে আশরাফুলের বরাত দিয়ে শুধু বিপিএলই না আন্তর্জাতিক ম্যাচেও আশরাফুল জড়িত ছিলেন এমন সংবাদ প্রকাশ পায়। তার নামের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও সাবেক দুই অধিনায়ক খালেদ মাসুদ ও খালেদ মাহমুদ এবং স্পিনার মো. রফিকেরও নাম উঠে আসে। তবে তদন্ত শেষে আকসু’র প্রতিবেদন দেয়ার সময়সীমা বেশ ক’বার বাড়ানো হয়। নতুন নাম যোগ হওয়ায় বাড়ে তদন্তের ব্যাপ্তিও। তদন্তের জন্য অন্তত ছ’বার বাংলাদেশ সফর করে আকসু’র প্রতিনিধিদল। আইসিসি’র বোর্ড সভায়ও অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দেয়া হয়। বিসিবি তদন্ত অব্যাহত রাখার কথা জানালে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে আকসু। দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। গত ৪ঠা জুলাই আশরাফুলকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। সেদিনই ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চান বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। অবশেষে গতকাল অনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি ও আইসিসি এই রিপোর্ট প্রকাশ করে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে হোটেল রেডিসনে।
রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য অংশ
* আকসু’র তদন্ত রিপোর্টে ৯ ক্রিকেটার অভিযুক্ত। তবে বিচারের স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করেননি তারা, তবে ৯ জনের মধ্যে সবাই খেলোয়াড় নন। এদের মধ্যে ৭ জন্য সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে আকসু।
* আশরাফুলের শাস্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি, জড়িতরা ২ থেকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারে বলে আকসু’র আভাস।
* বিসিবি’র পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালে কারা থাকছেন তা প্রকাশ করা হয়নি।
* অভিযুক্ত ৯ জনকে গতকাল সকালে চিঠি দিয়েছে আকসু এবং বিসিবি। তাদেরকে ১৪ দিনের সময় বেধে দেয়া হয়েছে। এই ১৪ দিনের মধ্যে তারা যদি নিজের দোষ স্বীকার করে না নেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেবে ট্রাইব্যুনাল।
* টানা দুই বিপিএল-এর চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স দলের শিরোপা কেড়ে নেয়া হবে কিনা- সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








