Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

‘একটি কবিতা সন্ধ্যা’য় কবি শহীদ কাদরী ”কবিতার মনন দিয়ে মরণাস্ত্র রুখে দিতে হবে”

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 102 বার

প্রকাশিত: June 10, 2014 | 1:43 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম :কবি শহীদ কাদরী বলেছেন, সময় এসেছে আমাদের দায় মুক্তির। আমাদেরকে প্রকৃতির কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিশুদ্ধ হতে হবে।
বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরী বলেন, কবিতা শেষ পর্যন্ত মানুষের নান্দনিক তৃষ্ণা মিটিয়ে যায়।তিনি বলেন, অনেক কবি আছেন যারা লেখালেখিকে নিজের স্বার্থের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন। তবে তা খুবই ক্ষুদ্র বিষয়। এসব কর্মকাণ্ড প্রকৃত সাহিত্যের পথে কোনো অন্তরায় নয়।
৮ জুন ২০১৪ রোববার বিকেলে ছিল কবি শহীদ কাদরী আয়োজিত ‘একটি কবিতা সন্ধ্যা’র আয়োজন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান তিন বছর পার করলো। নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে প্রথমেই ছিল আড্ডাপর্ব।
এটি পরিচালনা করেন প্রবাসের অন্যতম আবৃত্তিকার জি এইচ আরজু। আড্ডায় কবি শহীদ কাদরীর সাথে অংশ নেন কবি তমিজ উদদীন লোদী ও কবি ফকির ইলিয়াস।
এক প্রশ্নের জবাবে কবি তমিজ উদদীন লোদী বলেন, কবিতা কবিকে তস্কর করে না। কবি কক্ষচ্যুত হতে পারেন।তবে তা তার পুরো কাব্য সাধনাকে খারিজ করে দেয় না। তিনি বলেন, সকল কবি তস্কর নন। কবি সাময়িক ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 
আরেক প্রশ্নের জবাবে তমিজ উদদীন লোদী বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের
আগামী প্রজন্ম সকল আঁধার রুখে দাঁড়াবেই। এরাই আনবে আমাদের জন্য একটি
সুন্দর ভবিষ্যত।
প্রশ্ন-উত্তর পর্বে কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, যে চেতনা নিয়ে আমরা ১৯৭১ সালে
মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম-সেই ফসল আপামর মানুষের ঘরে উঠেনি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা চরমভাবে সমাজে নিগৃহীত। তিনি বলেন- আমি আমার সামাজিক, রাষ্ট্রিক,জাতিসাত্তিক দায় থেকেই কবিতা লিখি। ফকির ইলিয়াস বলেন, আমাদের চারপাশে রক্তের হোলিখেলা। তা আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ, আফ্রিকা থেকে ইউরোপ
পর্যন্ত বিস্তৃত। এটা আমাদের জন্য শংকার বিষয়।মানুষ তার স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করবেই। এবং তাতে জয়ী হবেই।
ফকির ইলিয়াস বলেন, আমাদের চারপাশে রক্ত ঝরছে। অথচ ক্ষমতাবানরা অন্ধত্বের
ভান করছেন। এটা প্রজন্মের জন্য খুবই ভয়াবহ সংবাদ।যেন জল পড়ছে, অথচ পাতা বড়ছে না।
আড্ডার মধ্যমণি কবি শহীদ কাদরী বলেন, আমার কোনো কোনো বন্ধুও সামরিক
জান্তার সাথে হাত মিলিয়ে সুবিধা নিয়েছিলেন। এটাও এক ধরনের তস্করবৃত্তি। আমি
চাই, এমন ঘটনাবলীর পুনরাবৃত্তি বিশ্বের কোনো কবিই যেন না করেন। তিনি বলেন, কবিতার প্রভাব যদি বিশ্বে স্থায়ী হতো, তাহলে পৃথিবীই স্বর্গসমান শান্তিময় হয়ে উঠতো।কিন্তু তা হচ্ছে না। বিশ্বের একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে গণমানুষ জিম্মি।তা আমেরিকায় হোক আর বাংলাদেশেই হোক। শোষক সবখানেই সমান।
 শহীদ কাদরী বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর কা’দের ভাগ্য রাতারাতি বদলেছে তা ভাবতে হবে। গণমানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি। কেন আসেনি- এর কারণ খুঁজতে হবে। তিনি বলেন- আমি সকল কবিকে বলি, আপনারা
নৈতিক শক্তি নিয়ে সংগ্রাম অব্যাহত রাখুন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আপামর মানুষের
অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যুদ্ধ করা। তা যে- যেভাবে পারেন।
  কবি শহীদ কাদরী বলেন, আমার মনে হচ্ছে প্রাযুক্তিক কলকৌশল যত বাড়ছে
আমরা ততোই মানসিকভাবে দরিদ্র হয়ে যাচ্ছি।
তাঁর কবিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শহীদ কাদরী সহাস্যে বলেন,কবিতা ব্যাখ‌্যা করা উচিৎ নয়। তিনি বলেন, আমি কোনো হত্যাতেই বিশ্বাস করি না। এমন কি
বাঘকেও নয়। আজ সময় এসেছে অরণ‌্যের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার।
কবি শহীদ কাদরী বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন- মানুষ যখন নতুন অস্ত্র তৈরি করে,
তখন তা ব্যবহার না করে থাকতে পারে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, অনেকেই
এখন সে মারাত্মক মরণাস্ত্র ব্যবহার করতে তৎপর হতে পারে। তা, যে করবে না
এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা আমাদের জন্য খুব খারাপ সংবাদ।
  এর পরের পর্বে ছিল বাংলাদেশের কবিদের কবিতা পাঠ। এই পর্বে-কবি রুবী
রহমানের কবিতা আবৃত্তি করেন পারভীন সুলতানা ও ক্লারা রোজারিও।
 কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতা আবৃত্তি করেন- মিজানুর রহমান প্রধান। কবি শিহাব সরকারের কবিতা আবৃত্তি করেন-এজাজ আলম । কবি আবিদ
আজাদের কবিতা আবৃত্তি করেন- ইভান চৌধুরী।

এই অনুষ্ঠানের মুখ্য কবি ছিলেন উত্তর আমেরিকার সুপরিচিত কবি ফকির ইলিয়াস। তার কবিতা আবৃত্তি করেন প্রবাসের চারজন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার- ক্রিস্টিনা রোজারিও, হাসান শাহরিয়ার তৈমুর, সেমন্তি ওয়াহেদ ও মিজানুর রহমান বিপ্লব।

এরপরে কবি ফকির ইলিয়াস পড়েন তার নিজের সদ‌্য লেখা একগুচ্ছ কবিতা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল স্বরচিত কবিতা পাঠ। এই পর্বে কবিতা পড়েন- কাজী
জহিরুল ইসলাম, চারু হক, বদিউজ্জামান নাসিম ও কবি তমিজ উদদীন লোদী।
একগুচ্ছ ছড়া পাঠ করেন মনজুর কাদের।
শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন শাহেদ চৌধুরী। আলোক চিত্রে এজাজ আলম। অনুষ্ঠানটির
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- নীরা কাদরী। পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে শেষ
হয় উত্তর আমেরিকার এমনি একটি নান্দনিক সৃজনশীল প্রয়াস। আগামী অনুষ্ঠান হবে আসছে সেপ্টেম্বর মাসে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ